শুভ জন্মদিন
“এই আঙুল ঝড়ের হাওয়ায়” কাব্যগ্রন্থের কবি বিদ্যুৎ কুমার দাশ। ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৪ এ প্রকাশিত তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ উপমহাদেশের সাহিত্যভুবনে আলোচিত। প্রথম বইয়ের অনেক কবিতা বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিতার সমান। তিনি গত ৪০ বৎসর ধরে উপমহাদেশের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় শত শত লেখা লিখেছেন। “ঝঈজঅচ-ইঙঙক” নামে বিশাল ৫টি খাতায় ‘পত্র-পত্রিকার কাটিং’ সহ সাজিয়ে রেখেছেন প্রকাশিত সমস্ত লেখা। বহু সৃজনশীল কর্মে তার সফলতা।
বিদ্যুৎ কুমার দাশ এর বিভিন্ন বিষয়ে ২৪টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। শিশু-কিশোর বয়স থেকে লিখেছেন-কিশোর কবিতা, ছড়া, কবিতা, ‘কথাসাহিত্য’, ‘প্রবন্ধ-গবেষণামূলক প্রবন্ধ’, এবং ‘আত্মজীবনী/স্মৃতিকথা/ভ্রমণ কাহিনী’। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে তিনি জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। কবি, সাহিত্যিক, লেখক, ছোটকাগজ, ‘পান্থ’ সম্পাদক সরকারের জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এর বাইরে শিশু সাহিত্য, স্বরচিত গান, পত্রিকা সম্পাদনা ইত্যাদি বিবিধ কাজও বিদ্যুৎ করেছেন। উপমহাদেশের বেশ কজন শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বের হাত থেকে বহু পুরস্কার পেয়ে সম্মানিত হয়েছেন। যেমন স্বাক্ষরিত পুরস্কার সনদ পেয়েছেনÑ বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী জামাল নজরুল ইসলাম, কথাশিল্পী মহাশ্বেতা দেবী, কবি নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কথা সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।

‘ঈর্ষনীয় কবিকণ্ঠ’, ‘মানবতার কবি’ স্বীকৃতি পাওয়া কবি বিদ্যুৎ কুমার দাশ একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বও বটে। আবৃত্তি, উপস্থাপনা, বক্তৃতা, টেলিভিশন আলোচনা প্রতিটা পর্বে বিদ্যুৎ সুনামধন্য। নাচে গানে আনন্দে ভরপুর এই সুদর্শন যুবক সদা স্বত:স্ফূর্ত। কোন শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যুৎ কুমার দাশ অসংখ্য প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।
মানবকল্যাণ ও সমাজসেবায় দেশের এক ব্যতিক্রম ব্যক্তিত্ব কবি বিদ্যুৎ কুমার দাশ। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মানবকল্যাণ, সমাজসেবার কর্মের মতোই বিদ্যুতের কাজ। হিন্দু ধর্মের বর্ণ বৈষম্য ভাঙার, বিপ্লবে গবেষণা এবং বহু কবিতা লিখেছেন। ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছেন কুসংস্কার হিংস্রতার বিরুদ্ধে, মৃত্যু ও জীবনের টানাপোড়েনে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে। নিজের ব্যক্তি জীবনেও এ বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে ধারণ করেছেন। হাজার বছরের না হওয়া রাস্তা মানবকল্যাণের জন্যে সরকারের সহায়তায় স্ব-অর্থে বিশাল অর্থে ‘জ্ঞান শৈল সড়ক’ নামকরণ ও নির্মাণ করেছেন। জীবনে কোনদিন বগুড়া জেলায় না গিয়েও বহু কষ্টে বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় ‘আমড়াতলি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন বিদ্যালয়’-এর নির্মাণের মূল কারিগর বিদ্যুৎ কুমার দাশ। প্রতিবন্ধীদের এই বিশেষায়িত সরকারের নিবন্ধন পাওয়া স্কুলের উপদেষ্টা এবং পরিচালক কবি বিদ্যুৎ কুমার দাশ।
দীর্ঘ এক দশক ধরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের ব্যক্তিত্বদের কাছে ছুটেছেন ‘প্রতিবন্ধীদের জন্যে আলাদা শিক্ষা বোর্ড’ গঠন করার জন্যে। ‘ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র হোক বাংলাদেশ’ এই জন্যে বিদ্যুৎ লিখেছেন-দেশের জাতীয় পত্র পত্রিকায়। এরপর বই প্রকাশ করে এই বিষয়ের জন্যে মানবকল্যাণে লক্ষ মানুষের নজর কেড়েছেন। বহু মানবকল্যাণে বিদ্যুৎ কুমার দাশ-এর অবদান সারা দেশে ব্যতিক্রম এক যুদ্ধ। বহু সফলতার পর বিদ্যুৎ-এর ভাগ্যে ব্যর্থতা ও গ্লানির অবস্থানও কম নেই। শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা, মানবসেবায় এক সদা উদ্যোমী সৈনিক-বিদ্যুৎ।

১৯৮৬ সালে বিদ্যুৎ কুমার দাশ ‘শপথ’ নামে একটি ছোট কাগজ প্রকাশ করে প্রথম নিজের লেখা নিজে ছাপেন। এরপর প্রকাশ করেন ছোট কাগজ ‘লালচিঠি’। দেশে যখন কম্পিউটার আসে তখন ‘রক্তে রাঙা রাজপথ’ ছোট কাগজ প্রকাশ করেন। সেই থেকে হয়ে ওঠেন কবি। ১৯৮৮ তে প্রকাশিত ছোট কাগজ ‘রক্তে রাঙা রাজপথ’-এর ৩/৪টি কবিতা বিদ্যুৎ কুমার দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এর আগে ১৯৯৪ সালে প্রকাশিত প্রথম বই (কাব্যগ্রন্থ) ‘এই আঙুল ঝড়ের হাওয়ায়’ কবিতাগুলো প্রকাশিত হয়েছিল।
বিদ্যুৎ কুমার দাশ অর্থনৈতিকভাবে জীবনযুদ্ধে বার বার হেরে গেছেন। সম্মানিত অবস্থানের অনেক বড় বড় চাকুরি ছেড়ে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন-সৃজনশীলতায় এবং মানবকল্যাণে। অতিমাত্রায় সরল ও সৎ মানুষ বিদ্যুৎ পদে পদে ঘরে বাইরে ঠকেছেন। জীবন পথের দিশা হারিয়ে গুমড়ে গুমড়ে কেঁদেছেন। সর্বশেষে অলৌকিক এক শক্তি বিদ্যুৎ-এর চালিকা শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তার কাব্যগ্রন্থের নাম ‘রাতগুলো সব মৃত্যু’। বিদ্যুৎ কুমার দাশ-এর ২৪ তম এই বই ১০ম কাব্যগ্রন্থ। তার কাব্যশক্তিমান প্রয়োগের সাম্প্রতিক উদাহরণ এ কাব্যগ্রন্থ। এই কাব্যগ্রন্থে কাব্যশক্তিতে, বিভিধ ছন্দের খেলায় কবি দেখিয়েছেন কবিতার কারিশমা। অনিবার্যভাবে নিরপেক্ষ দৃষ্টিতে বিবেচনা করলে এটি বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাব্যগ্রন্থ হবে বলে আমার বিশ্বাস।
আজ ৮ আগস্ট কবির জন্মদিন। তাঁকে শুভেচ্ছা ভালোবাসা।
বিদ্যুৎ কুমার দাশের কবিতা
চোরা পথ
না জানি তোমার চোরা পথ কারা
চেনে!
এই পথে আলোকের তেজে আগুন
আগুন।
বাড়ালে এ হাত পুড়ে যাবেÑ
হৃদপোড়া ঘা মরণ মরণ।
মন চায় পুড়ে যেতে
এমন পথের জলে।
তুমি নিয়ে যাবে এমন পাহাড় ঝিল
ফর্সা স্রোত-তৃপ্তি-হাওয়া-বিলে।
১৮-০৫-২০২২
মানবিক ও বিচক্ষণ সুন্দর
আমার অহংকার ও মিথ্যে সন্দেহ আর ক্রোধে
অতর্কিতে মুখ দিয়ে নষ্ট কথা বলার
অবস্থান থাকলে সে সব পুড়িয়ে দাও ভগবান।
আমাকে বাঁচাও নয়তো দাও মরণ।
পেয়ে হারানোর বেদনায় শূন্য থেকে
শূন্যতায় গড়াতে গড়াতে চলেছে জীবন।
সরল থেকে সরল পথের সহজ
শিশুর মনে বীরত্ব এনে নিয়ে চলো
দাও সুন্দর, সৎ মানবিক বিচক্ষণ-সুন্দর।
২০-০৮-২০০৬
মৃত্যু পথ
খিদায় খিদায় অর্ধ মৃত হলেÑ
কোনো সময় তোমাকে চাইÑ
আমার জীবন ও মৃত্যুর দিকেÑ
নিয়ে তোমার জীবন শান্তি পায়।
২০-০৮-২০২৪
শশ্মান-শশ্মান-খেলা
তিনি নারী নয়- তাঁর ভেতর মায়াহীন
মমতাহীন প্রেমহীন জীবন।
হোমিওপ্যাথি ডোসের মতোই মৃত্যুর শহরে
খুব আস্তে তিনি পাঠিয়ে দেন।
রাত আসে রাত যায় শূন্যতায়-
ভাড়ি বুকের ভেতর সবকিছু কেটে
স্বর্গ নরক আসে টানাটানি করে
অপূর্ব যুবক জীবন্ত মন পুড়ে খেলে শশ্মান-শশ্মান।
নি:শ্বাস প্রশ্বাসে ঝুলে আছে মিথ্যে
ছলনার তৃপ্তিতে ঘুমানো নারীর জীবন।
রাতের গুচ্ছ গ্রাম ফেলে আসে দিন-
তিনি নারী নয়- তাঁর ভেতর মায়া হীন
মমতাহীন প্রেমহীন জীবন।
০২-০৬-২০২৫
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।