আধুনিক মানুষের উদ্ভব ঠিক সময়-ক্ষণ ধরে বলে দেয়া কঠিন। তবে পন্ডিতদের মতে পাঁচ লক্ষ বছর বা তার কিছু আগে আধুনিক মানুষের উদ্ভব হয়েছিল। খাদ্য সংগ্রহে তারা অমার্জিত পাথরের অস্ত্র ব্যবহার করতো। ওই যুগ পরিচিত ‘পুরান পাথর বা পুরোপলীয় যুগ’ হিসেবে। সেই আদিম সমাজের সংগঠন ও চিন্তাধারা বিশ্লেষণে দেখা যায় পুরোপলীয় সমাজের গড়ন ছিল ক্লানভিত্তিক। সেই সমাজের মূল একক ছিল ‘ক্লান’। নারী পুরুষের একটি দল হল এই ‘ক্লান’। প্রাথমিক অবস্থায় নর-নারী সম্পর্কের ভিত্তি ছিল অবাধ এবং তা ছিল নিজ দল সীমানায়। একই পূর্ব পুরুষের বংশধরদের এরকম অনেকগুলো ক্লান নিয়ে হত ‘ট্রাইব’।
সার্বিকভাবে সংগঠনটির গঠন প্রক্রিয়া ছিল এরকম যে, কতগুলো ক্লান নিয়ে হত ‘ফাট্রি’। কয়েকটি ফাট্রি নিয়ে একটি ‘ময়াটি’। দুটো ময়াটি নিয়ে একটি ‘ট্রাইব’। আদিম সমাজ ছিল এরকম ট্রাইবে বিভক্ত। ট্রাইব ভিত্তিক সমাজে ‘টোটেম’ ও ‘টাবু’ শব্দদয় খুব গুরুত্ববাহী। ‘টোটেম’ বিশ্বাসই ট্রাইবভিত্তিক চিন্তাধারার মূল বৈশষ্ট্যে পরিণত হয়। প্রতিটি ‘ক্লান’ একটি প্রাকৃতিক বস্তুর সাথে সম্বন্ধ স্থাপন করতো। মূলত এটি হতো আহারযোগ্য প্রাণী বা বৃক্ষ। ওই প্রাণী বা বস্তুর নামই ছিল ‘টোটেম’। ক্লান সদস্যদের সেই যুগে নানান বিধি নিষেধ মেনে চলতে হতো। ওই নিষিদ্ধ বস্তু ও কর্মগুলো হল ‘টাবু’। টোটেম সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি ‘টাবু’র প্রচলন হলো একই ‘ক্লানে’র মেয়ে- পুরুষের মধ্যে বিয়ে চলবে না। বিয়ে হতে হবে ‘ক্লানে’র বাইরে। প্রথা সৃষ্টি হল বহির্বিবাহের। এর আগের অবাধ মিলন আর যত্র তত্র অনিয়মতান্ত্রিকতার বিকল্পে এলো বিয়ে, মানে যৌথ বিয়ে। এক ক্লানের একই পর্যায়ের পুরুষেরা আরেক ক্লানের সমপর্যায়ের মেয়েদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতো।
ধারণা করা হয় এ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য যদিও ছিল খাদ্যের উপকরণ সরবরাহ, প্রসারিত ও সংগ্রহ করা। কিন্তু সম্পর্ক সৃষ্টির পারিবারিক আদান-প্রদান ও আচার-আচরণের একটি সংস্কৃতিক ভিতও এখানে গড়ে উঠে। তখনকার নিয়মানুযায়ী বিবাহিত পুরুষের অর্জিত খাদ্যের ভাগ পাবে মেয়েদের ক্লানের মানুষ। সামাজিক সহযোগিতা কার্যকর করার আর অশৃংখল অবস্থার অবসানে বৈবাহিক সম্পর্ক বিষয়ক ইতিবাচক গতির শুরু বোধহয় এখানেই।
সামাজিক বন্ধনের বিবর্তন বা মেটামরফোসিস বিশ্লেষণে উৎপাদন পদ্ধতির উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন প্রথার হয় পরিবর্তিত সংস্করণ। সমাজতত্ত্ববিদদের মতে বিবাহ প্রথার সৃষ্টি যেমন সামাজিক নিয়মতান্ত্রিক বন্ধনের সাথে জড়িত সেরকম সম্পত্তির সংগেও জড়িত। একইভাবে সম্পত্তিহীন সমাজেও নারী-পুরুষের বিয়ের পরিবর্তিত প্রথা হতে থাকলো গ্রহণযোগ্য। উভয়ভাবেই এ প্রথাই ক্রমশ নারী-পুরুষ মিলনক্ষেত্রের সামাজিক প্রজন্ম উৎপাদন ব্যবস্থার একমাত্র সমর্থনযোগ্য রূপকার হিসেবে সমাজে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করলো। এর সামাজিক গ্রহনযোগ্যতার মূল ভিত্তি হলো ‘শৃঙ্খলা’।
কাল পরিক্রমায় চলমান সমাজ বিবর্তনের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে যন্ত্র নির্ভর উন্নত সমাজের ইঁদুর দৌড়ের (Rate Race) প্রভাবে সামাজিক সম্পর্কগুলোতে পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে। আত্মার সম্পর্ক যান্ত্রিক রূপ নিতে শুরু করেছে বিভিন্নক্ষেত্রেই। লোভ, লালসা আর আরও চাওয়া আর ক্ষণস্থায়ী অস্থিরতা, এভাবে নিজ পছন্দ নির্ভর ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক ভিত্তিক বিবাহবহির্ভূত খন্ড জীবন পর্ব রচনায় অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন অধুনা। পাশ্চাত্যে-প্রাচ্যে বিবাহ বিচ্ছেদের একটি সংস্কৃতি বেশ গতি পাচ্ছে।
একইভাবে বিবাহ না করে একত্রে বসবাস বা লিভ টুগেদার এখন সর্বজনবিদিত। স্বল্প সময় কাটানো ও সাময়িক আনন্দ উপভোগ এর ভিত্তি। সূদুর পরাহত কোন গঠনমূলক বা কনস্ট্রাকটিভ চিন্তা নাই বা থাকুক, কি আসে যায়! এদের কাছে এটাই উত্তরাধুনিকতা, এটাই মানবিক ও সবচাইতে সুস্থ সম্পর্ক। এযে কিডনি রোগ আশি ভাগ শেষ না হলে বোঝা দায় প্রায় সব শেষ।
পাশ্চাত্য প্রভাবের এ ধারা আজ আমাদের এদিকেও ধাবিত তীব্র গতি নিয়েই। অর্জন করছে গ্রহণযোগ্যতা অন্ধকারের আমন্ত্রণে। শহুরে শিক্ষিত জীবনের মাঝে এ যে প্রবেশ করছে জোড় এক অনুপ্রেরণায়। স্কুল- কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে এভাবেই গতি পেতে শুরু করেছে ‘লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার” (LGBTQ) আন্দোলনের বিষয়গুলো। প্রশ্নের উত্তর চাচ্ছে নব প্রজন্ম।
এলজিবিটি (বা জিএলবিটি) (ইংরেজি: LGBT ev GLBT) একটি নাম-আদ্যক্ষর। ১৯৯০-এর দশক থেকে এই আদ্যক্ষরটি পূর্বতন “গে কমিউনিটি”-র সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আগেই বলেছি সামগ্রিকভাবে “এলজিবিটি” বলতে বোঝায় “লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল ও ট্রান্সজেন্ডার” অর্থাৎ, নারী ও পুরুষ সমকামী, উভকামী ও রূপান্তরকামী। ১৯৮০-এর দশকের মধ্য থেকে শেষ ভাগের মধ্যে “গে কমিউনিটি”-র পরিবর্তে “এলজিবি” আদ্যক্ষরটির ব্যবহার চালু হয়। এরপর ১৯৯০-এর দশকে “এলজিবিটি” আদ্যক্ষরটি গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, “গে কমিউনিটি” শব্দটি সম্প্রদায়ের অনেকেরই যথাযথ প্রতিনিধিত্ব করছিল না বলে মনে করা হচ্ছিল।
এলজিবিটি প্রকাশনা, গৌরব পদযাত্রা ও সম্পর্কিত অনুষ্ঠানগুলিতে (এমন ইতালির বোলোনা প্রাইড ২০০৮-এর এই মঞ্চে) এলজিবিটি আদ্যক্ষরটিকে বর্জন করে নতুন নতুন শব্দ নিয়মিতভাবে যোগ করা হচ্ছে।
“যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয়-ভিত্তিক সংস্কৃতিগুলির” বৈচিত্র্যের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করার জন্য “এলজিবিটি” শব্দটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণভাবে অ-বিষমকামী সমকামী, উভকামী বা রূপান্তরকামী কোনো ব্যক্তিকে বোঝাতেও এই শব্দটি ব্যবহৃত হয়। এই ধরনের অন্তর্ভুক্তির স্বীকৃতি হিসেবে আদ্যক্ষরটির একটি জনপ্রিয় পাঠান্তরে ইংরেজি “কিউ” অক্ষরটি যুক্ত করা হয় যৌন অভিমুখিতার স্থলে কুইয়্যার (কিম্ভুত) বা কোয়েশ্চনিং (প্রশ্নবিদ্ধ) বোঝাতে (অর্থাৎ, “এলজিবিটিকিউ” বা “জিএলজিবিটিকিউ”, ১৯৯৬ সাল থেকে নথিভুক্ত হয়।
সংজ্ঞাবাচক নাম হিসেবে এই আদ্যক্ষরটি মূলধারায় পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য কয়েকটি ইংরেজি-ভাষী দেশের অধিকাংশ “যৌনতা ও লিঙ্গ পরিচয়-ভিত্তিক” কমিউনিটি সেন্টার ও গণমাধ্যম দ্বারা গৃহীতও হয়।
“মানবসভ্যতার বিভিন্ন সমাজব্যবস্থায় এবং প্রাণীরাজ্যের অন্যত্রও লিখিত ইতিহাসের সমগ্র সময়কাল জুড়ে উভকামিতার উপস্থিতি লক্ষিত হয়। তবে হেটেরোসেক্সুয়ালিটি ও হোমোসেক্সুয়ালিটি শব্দ দুটির মত বাইসেক্সুয়ালিটি শব্দটিও মূলত ঊনবিংশ শতাব্দীতে উৎপন্ন হয়।
এই যে নতুন ঢেউ তা কি শুধু একটি সাময়িক সুখ অর্জনের নিমিত্তে পলায়নপর প্রবৃত্তি না অন্যপথের অবগাহন। নতুন প্রজন্ম কি শুধু ক্ষণিকের চিন্তায় স্বল্পকালীন সম্পর্কের দিকে অনুপ্রাণিত হচ্ছে। এর যে দীর্ঘকালীন কোনো গঠনমূলক ভিত্তি নেই। নেই প্রগ্রেসিভ কোনো ফলাফল। প্রজন্মের এগিয়ে যাওয়া সহ।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে কল্পনা করি এক অসম্ভব সুন্দরের বন্ধন, এক অনাবিল শান্তিছবি, পবিত্রতার সমুদ্রে অবগাহন। চিরকালীন যাত্রার একটি ধাপ। নিয়মতান্ত্রিকতা আর সার্বিকতার দৃষ্টিতে এ বন্ধন যেন একটি সৌন্দর্যের ছবি আঁকে। এতো কোন অনংঃৎধপঃ বা নৈর্ব্যক্তিক দৃশ্য নয়। ইতিহাসের সবগুলো বিকল্প (ঙঢ়ঃরড়হ) পর্যালোচনা, প্রয়োগ, চর্চা আর ব্যাবহারের পর চলমান পথ পরিক্রমায় নিয়মতান্ত্রিকতা আর পবিত্রতার আদলের ছোঁয়ায় মানুষের গ্রহন করা একমাত্র জীবনব্যাপী সামাজিক বন্ধনের চালচিত্র এটাই।
ধর্মের কারনে সমাজ যাকে চিহ্নিত করেছে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা ‘বিবাহ’ নামকরণে। আর এরই ফলশ্রুতিতেই সংসার ধর্ম পালন, স্বামী-স্ত্রী আর সন্তান-সন্তুতি। এভাবেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর। এক অনাবিল বয়ে চলা। যেখানে সন্তানেরা চাইবে এ দৃশ্য বহমান থাকুক। যেখানে তাদের বাবা-মা মায়ার বন্ধনে আর পবিত্র সম্পর্কের বহমানতায় বুকে হাত দিয়ে সত্যিকারের শান্তি আর পবিত্রতার প্রাপ্তিতে স্বীকারোক্তি দেবে ‘এটাই একমাত্র পথ অন্য কিছু নয়’- অন্য কিছু নয়’ বলেই।
এভাবেই সামাজিক সিস্টেমের চলমানতা বিরাজিত থাকবে নিশ্চয়। তাইতো চাইবে নিশ্চিতভাবে একজন শান্তিপূর্ণ আর বিবেকবান মানুষ। পবিত্র সম্পর্কের চলমানতায় আত্মার সংযোজনে (স্বামী বা স্ত্রীর মৃত্যুর পর পুনরায়) মানুষ আবার মিলিত হবে, আর এ সম্পর্কের হবে চিরকালীন বহমানতা। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কোরআনের কয়েকটি আয়াতের (নীচে উদ্ধৃত) গুরুত্ব আমার কাছে ঠিক এভাবেই অনুধাবিত হয়েছে। যেখানে বাস্তবতাকে ধর্তব্যে নিয়েই অসাধারণভাবে আয়াতগুলো উপস্থাপিত।
এর নিগুঢ় অর্থ মানুষকে ভাবাতে পারে তার জীবনের নিয়মতান্ত্রিক এক অনাবিল সম্পর্ককে (বিয়ের বন্ধনকে) চিরিস্থায়ী রুপ দেয়ার বাসনায়। এখনকার খারাপ সম্পর্ক আর স্বামী-স্ত্রী’র যে কোন বিরাজমান দূরত্ব (মৃত্যু সহ) সেখানে হবে দূরীভূত, পুরোপুরিভাবে সমাপ্ত। হয়তো তারা পৃথিবীতে করা ভুলগুলো চিন্তা করে লজ্জা পাবে, আর ভাববে-‘আহা কি সুন্দরই করতে পারতাম মূহুর্তগুলোকে সেই পার্থিব ক্ষণে । আর এতেই অর্জন করতে পারতাম সর্বশক্তিমানের অনুগ্রহ। সন্তান-সন্ততি, বাবা-মা আর আত্মীয়-স্বজন সর্বোপরি পৃথিবী তো কষ্ট পেতোনা তাহলে, আমাদের ওই ভুল আচরনে। তখন শুধুই সুখ স্মৃতি রোমন্থনই করতে চাইবে তারা। তাইতো তারা পাবে শুধুমাত্র সৎকর্মশীল আর বিশ্বাসী হলেই। হবে যে পুনরায় মিলন সৃস্টিকর্তার অপার মহিমায়।
স্বাভাবিকভাবে একজন পুরুষ একজন নারীর প্রতি আকৃষ্ট হয় আর একইভাবে আর একজন নারীও একজন পুরুষের প্রতি। এটাই জীবনের নিয়ম, প্রকৃতির স্বাভাবিকতা। এ কারনেই তো বিয়ের ব্যবস্থা। কিন্তু এ আকর্ষণ ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির টানাপোড়েনে যেন কখনোই এমন কোনো কর্মকান্ড না ঘটে যা একটি সুন্দর সিস্টেমকে বিনষ্ট করে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক, অসম প্রেম, একই লিঙ্গ সম্পর্ক ইত্যাদি আপাত দৃষ্টিতে কোন অশান্তির উপর ভিত্তিস্থাপনকৃত সাময়িক প্রশান্তি যদি মানুষকে দিয়ে থাকে, তবে তা বিকৃতির উপর নির্ভর করেই গড়ে উঠে। যা পবিত্রতা ও শান্তির উপর দণ্ডায়মান ব্যবস্থাগুলোকে তছনছ করতেই কাজ করে। সেই মানুষগুলো এর ফলে শান্তি ও পবিত্রতার বিসর্জনে হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছে অনবরত। আর ভেসে যাচ্ছে আধুনিকতার নামে ভুল সংস্কৃতি ও মাদক নির্ভরতার জগতে। এরা বিকল্প খুঁজে পাচ্ছেনা একেবারেই। অন্য কথায় যাদের মৃদুভাস্যে আর জ্ঞান নির্ভরতায় এ বিকল্প ভাবনাগুলো এদেরকে ভাবানোর কথা, তারাও ধরতে পারছে না সেই ঠিকভাবে তা উপস্থাপনে।
বৈজ্ঞানিক ভাবে উঠে আসে যে মানুষের মস্তিষ্ক এবং দেহগত প্রভাবের এক রকম জৈবিক চাহিদায় রাষায়নিক প্রতিক্রিয়া (Chemical Reaction) সৃষ্টি হয়। যা মানুষের ভালোলাগা ও ভালোবাসার একটি খণ্ডিত বিশ্লেষণকে ধর্তব্যে নিয়ে কিছু কর্মকান্ডে উদ্বুদ্ধ করে। যেখানে সুস্থতা ও সংযমের মাধ্যমে মানুষ অর্থাৎ সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে চিন্তাশক্তির প্রয়োগ সবসময় বিবেক নির্ভরতায় করা সম্ভব হয়ে উঠেনা। যদিও এটা সেরা এই জীবের কাছেই সমাজের কাম্য। কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা হয় না।
নৈতিকতার (Morality) সংজ্ঞায়ন আগে (অন্তত দশ-পনের বছর পূর্বে) যেভাবে করা হতো আজ তা অন্যভাবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দু হৃদয়ের সর্বকালীন আকাঙ্ক্ষার চাইতে দু দেহের খণ্ডকালীন আকাঙ্ক্ষাটিই বিচ্ছিন হবার যেন প্রভাব বিস্তার করছে। নতুন বাস্তবতায় নীতিবহির্ভূত অনিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা বিধ্বংসী যে দর্শন জাগিয়ে তুলছে, তা সার্বিকভাবে ভয়ংকর। এর বিরুদ্ধে নৈতিকতা নির্ভর নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাগুলোর অনুধাবন অত্যন্ত গুরুত্ববাহী আজ। এটা নিগুঢ়ভাবে চিন্তা করলে আমরা নিশ্চিতভাবেই তা অনুধাবন করতে পারবো।
এখানে মানুষ ভালো, না খারাপ। এর কোনো একটি চাপিয়ে দেয়া বিষয়ের সহজ সংজ্ঞায়ন শুধুমাত্র হওয়া উচিত নয়। পরিস্থিতি ও সময় বিশ্লেষণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। যে কোন মানুষকেই দেহগত বিষয়গুলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় টানছে, আর এটাই বাস্তবতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে প্রকাশ্য হচ্ছে অবলীলায়, কোনো রাখ-ঢাক ব্যাতিতই। এখান থেকে বের হয়ে একটি নিয়মতান্ত্রিক ও সর্বসময়ব্যাপী (পৃথিবী এবং মৃত্যু পরবর্তী অবস্থা সহ) পবিত্র ব্যবস্থার (যা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত) সর্বজনীন রূপকে চিন্তা করাটা অত্যন্ত জরুরী। মন যেখানে সিংহভাগ দখলে নিবে পবিত্রতার আলোকে।
পশুদের সাথে সৃষ্টির সেরা জীব মানুষের পার্থক্য এখানেই। মানুষই কেবল পশুর আচরণ তথা পশুত্বকে বর্জন করতে সক্ষম, অন্য কোনো প্রজাতি নয়। ভালোবাসার সার্বিক, চিরায়ত ও পবিত্র রূপ বয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে শুধু মানুষেরই। কারণ মানুষেই যে স্থাপন করা যায় বিশ্বাস। তাই সর্বশক্তিমান মানুষের সেই বাস্তব চিন্তনের বিষয়গুলো অত্যন্ত বাস্তব নির্ভর পবিত্র গ্রন্থ কোরআনে ধারণ করেছেন বা মানুষের বোধগম্যতার নিরিখে ধর্তব্যে নিয়ে এসেছেন।
মানুষের প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির বিষয় উপস্থাপনে সত্যিকার চাওয়া আর পাওয়ার সন্ধান দিয়েছেন এখানে। যা অনুধাবন অত্যন্ত গুরুত্ববাহী। আপাত দৃষ্টিতে বেশিরভাগ মানুষ শুধুমাত্র হুর-পরী নিয়ে কথার ফুলঝুরিতে বিষয়টির পরিসমাপ্তি টানলেও বাস্তবতার নিরিখে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ববাহী সার্বিক একটি সৎ, সুন্দর ও সুস্থ এক চলমানতার প্রতিই ইংগিতবাহী। এ আবদ্ধ কোনো নেতিবাচক চিন্তা নয় এ নতুন রূপে আপনজনের প্রত্যাবর্তন।
জীবন আর মরণে নারী-পুরুষে দেখবেন সৎকাজ আর বিশ্বাস-
৬৭ নং মুলক এর ২য় আয়াত-‘যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন তোমাদের পরীক্ষার উদ্দেশ্যে- তোমাদের মধ্যে কর্মে কে শ্রেষ্ঠ?’
‘আমি কোনো সৎকর্মশীল নরনারীর (উভয়ের) কর্ম বিফল করিনা। তোমরা একে অপরের পরিপূরক। তোমাদের সৎকর্মের পুরষ্কার সমান’ (৩ নং সূরা আলে ইমরান, আয়াত ১৯৫ থেকে)।
‘পুরুষ হোক বা নারী, বিশ্বাসী হয়ে যে–ই সৎকর্ম করবে, সে-ই জান্নাতে দাখিল হবে। তাদের প্রতি পরমানু পরিমাণও অবিচার করা হবে না’ ( ৪ নং সূরা নিসা, আয়াত ১২৪)।
‘যে অসৎ কর্ম করলো সে তদনুরূপ প্রতিফল পাবে এবং বিশ্বাসীরুপে নারী অথবা পুরুষ যারা সৎকর্ম করবে তারাই দাখিল হবে জান্নাতে (মহাপুরষ্কার প্রাপ্তিতে অর্জিত স্থান) সেখানে দেয়া হবে তাদের অগণিত (প্রচুর) রিজেক’ (৪০ নং সূরা মুমিন, আয়াত ৪০)।
নারী,সন্তান আর সম্পদ, এক স্বাভাবিক আকর্ষণ –
‘(পুরুষ) মানুষকে মোহগ্রস্থ করে রেখেছে নারী, সন্তানসন্ততি, সোনারুপা (বিলাসি ভোগ্যপণ্য), বাছাইকৃত তেজি ঘোড়া, গবাদিপশু, ক্ষেতখামার। এ সব ই হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনের ভোগ্যসামগ্রী। মূলত পরমানন্দের উপকরণ তো রয়েছে শুধু আল্লাহর কাছে” (সূরা আলে ইমরান, আয়াত নং ১৪)।
সত্যিকার অর্থে পুরুষ মানুষ যেহেতু সহজেই এমন কিছু কর্মে (চড়ষুমধসু) উদ্বুদ্ধ হয় যা মহিলাদের ক্ষেত্রে সেভাবে ঘটেনা। তাই পবিত্র কোরআনে নির্দিষ্টভাবে পুরুষদের চিন্তাধারার আলোকে ফুটে উঠেছে স্পষ্টত কিছু আয়াত। যা সে পথ থেকে তাদেরকে সাময়িক কিছু ভুল আনন্দ বর্জনে এবং মানষিক ও বিশ্বাসগতভাবে উৎকর্ষ সাধনে সহায়তা করবে। কিন্তু শেষ বিচারে পুরষ্কার আসলে নারী ও পুরুষে বন্টিত হবে একই নিক্তিতে। এখানে অতীত (পৃথিবীতে) কর্মকাণ্ডগুলোই স্বচ্ছ পাল্লাতে বিচার করে পুরষ্কৃত করা হবে। উপরের প্রথম চার আয়াতের আলোকে উপলব্ধি করেছি যে জীবন ও মৃত্যু আসলে পরীক্ষা মাত্র। এ শুধুমাত্র দেখার জন্য, আসলে কে ভালো কাজ করেছে আর কে খারাপ কাজ করেছে পার্থিব জীবনে। বিশ্বাস আর সৎকর্মই এখানে প্রধান ধর্তব্যের বিষয় বলে পরিগণিত হবে।
পুত:পবিত্র স্ত্রী আর স্বামী, ভালবাসার টানে সেই সাদৃশ্যই আবার হবে দুজনে দুজনার মত, যেন পৃথিবীর তাকেই ফিরে পেলাম…
২ নং সূরা বাকারা,’র ২৫ নং আয়াত- ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেককাজ (সৎকর্ম) করেছে, আপনি (মুহাম্মাদ সা.) তাদেরকে সুসংবাদ দিন যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত হবে নদীসমূহ (সুখময় স্থান)। যখনই তাদেরকে জান্নাত থেকে কোনো ফল খেতে দেয়া হবে, তারা বলবে : ‘এটা তো আগেও আমাদেরকে খেতে দেয়া হয়েছিলো’। আর তাদেরকে তা দেয়া হবে সাদৃশ্যপূর্ণ করে (পৃথিবীর সঙ্গে) এবং তাদের জন্য তাতে থাকবে পূতঃপবিত্র স্ত্রীগণ এবং তারা সেখানে (জান্নাতে) হবে স্থায়ী।
পবিত্র সংগিনী যিনি, তিনিই হবেন স্ত্রী আবার……..
৩ নং ইমরানের ১৫- ‘বল, আমি কি তোমাদেরকে এর চেয়েও উত্তম কোনো বস্তুর সংবাদ প্রদান করবো? যারা তাকওয়াহ (আল্লাহ ভীতি ও ভালোবাসা) অবলম্বন করে তাদের জন্য রয়েছে এমন জান্নাত যার পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদী। যেখানে তারা স্থায়ী হবে। তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র সংগিনী বা স্ত্রীগণ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি। আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সম্পর্কে সম্যক দ্রষ্টা।
৪ নং নিসা’র.৫৭- ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে প্রবেশ করাব জান্নাতসমূহে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা হবে স্থায়ী। সেখানে তাদের জন্য রয়েছে পবিত্র স্ত্রীগণ এবং তাদেরকে আমি প্রবেশ করাব বিস্তৃত ঘন ছায়ায়।’
সুযোগ্য সাথিরা শুনবে ‘সালাম অর্থাৎ শান্তির সম্ভাষণ’ সেই মহামহিম থেকে….
“এদিন যাদের ঠিকানা হবে জান্নাত, তারা আনন্দে মগ্ন থাকবে, তারা ও তাদের সুযোগ্য সমুজ্জ্বল সাথিরা সুশীতল ছায়ায় অনন্ত শান্তিতে সুসজ্জিত আসনে হেলান দিয়ে বসবে। সেখানে তাদের জন্য থাকবে সুস্বাদু খাবার, ফলমূল ও কাঙ্ক্ষিত সবকিছু। দয়াময় প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাদের জানানো হবে সালাম (শান্তি) ও সম্ভাষণ” (৩৬ নং সূরা ইয়া-সীন, আয়াত ৫৫-৫৬)।
পবিত্র দৃষ্টির হবে তারা, সুরক্ষিত পরিবেশ থেকে আগত যারা কখনো মন্দ আর অপবিত্রতা দেখেনি……...
সূরা সাফফাত আয়াত ৩৭: ৪০-৪৯: ‘পক্ষান্তরে যারা আল্লাহর বিশুদ্ধচিত্ত বান্দা, তাদের জন্যে রয়েছে অফুরন্ত জীবনোপকরণ- সব ধরনের সুস্বাদু ফলমূল ও নেয়ামতে পরিপূর্ণ প্রশান্তিময় জান্নাত। সম্মানিত মেহমান হিসেবে মুখোমুখি আসনে হেলান দিয়ে বসবে তারা। পানপাত্রে তাদের পরিবেশন করা হবে প্রবহমান ঝর্নার শুভ্র সমুজ্জ্বল বিশুদ্ধ সুস্বাদু পানীয়। এ পানিয়ে ক্ষতিকর কিছু থাকবেনা, হবে না কোনো মাতলামি (শুধু মন ভরে যাবে অপার্থিব আনন্দে)। তাদের সাথে থাকবে সুন্দর আঁখির (আয়তলোচনা) পবিত্র দৃষ্টির (নতদৃষ্টি) সমুজ্জ্বল সাথিরা (নিজ স্ত্রীইতো পবিত্রতা আর সত্যিকারের চাওয়ার সাথী হতে পারে একজন সুখী মানুষের ), তারা যেন পালকের নিচে সুরক্ষিত ডিমের মতো (কান্তিময় উজ্জ্বল শুভ্র)।
৫২ নং সূরা তুর আয়াত ২০-‘তারা সারিবদ্ধভাবে হেলান দিয়ে বসবে সুসজ্জিত আসনে।। আর পবিত্র দৃষ্টির সাথিদের তারা পাবে স্থায়ী জুটি হিসাবে (আমি দোয়া চাই যেন এ পৃথিবীর এ সম্পর্কের চীর বহমানতা থাকে বজায়)’।
শুদ্ধ অন্তর আর পবিত্র দৃষ্টি……
‘(অপরদিকে) আল্লাহ সচেতনরা নিজেদেরকে দেখতে পাবে শান্ত বাগান ও প্রবাহমমান ঝর্ণাধারাবেষ্টিত জান্নাতে। পরিধান করবে মিহি ও পুরু রেশমি বস্ত্র। আর অপার্থিব আনন্দে মুখোমুখি বসবে তারা। তাদের সাথে থাকবে (মিলন হবে) শুদ্ধ অন্তর ও পবিত্র দৃষ্টির সাথিরা (আয়তলোচনা হুর, যেখানে আসবে নিজ স্ত্রী। কারণ আল্লাহই পারেন যে কোনো রূপ মানুষকে দিতে)’ (৪৪ নং সূরা দুখান ৫১-৫৪)।
৫৫ নং রাহমানের আয়াত.৫৪-
‘সেখানে পুরু রেশমের আস্তরবিশিষ্ট বিছানায় তারা (বেহেশতি স্বামী -স্ত্রী) হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে এবং দুই জান্নাতের ফল-ফলাদি থাকবে নিকটবর্তী।’
৫৫ নং সূরার অনেক গুলো আয়াত সহ আয়াত ৫৫-
‘সুতরাং তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে তোমরা উভয়ে অস্বীকার করবে?’
এ যেন ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার আলোয় এক দেখা….
৫৫.৫৬ সেখানে থাকবে স্বামীর প্রতি দৃষ্টি সীমিতকারী মহিলাগণ (সেই স্ত্রী যার বিচ্ছেদে তাকেইতো চাইবে যে কোন ভালো পুরুষ) , যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর না কোন জিন। ৫৫.৫৮ তারা যেন হীরা ও প্রবাল (প্রবাল ও পদ্মরাগের মতো)।
ভালো কাজের প্রতিদান তাঁর কাছে শুধুই উত্তম কিছু…
৫৫.৬০ উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে? ৫৫.৬২ আর ঐ দু টি জান্নাত ছাড়াও আরো দু টি জান্নাত রয়েছে।৫৫.৬৪ জান্নাত দু টি গাঢ় সবুজ।৫৫.৬৬ এ দু টিতে থাকবে অবিরাম ধারায় উচ্ছলমান দু টি ঝর্ণাধারা।৫৫.৬৮ এ দু টিতে থাকবে ফলমূল, খেজুর ও আনার।
পরিশুদ্ধ, মনোহর, চরিত্রবতী একজন হবেই তো অনিন্দসুন্দর….
৫৫.৭০ (বাগানগুলোর) সবকিছুই হবে পরিশুদ্ধ ও মনোহর (খাইরাতুন হিসান অর্থাৎ সেখানে থাকবে উত্তম চরিত্রবতী অনিন্দ্সুন্দর সাথিগন)। ৫৫.৭২ তারা হূর, তাঁবুতে থাকবে সুরক্ষিত (সুসজ্জিত বর্ণিল তাবুতে থাকবে পরিশুদ্ধ সমুজ্জ্বল সাথিরা)। ৫৫.৭৪ যাদেরকে ইতঃপূর্বে স্পর্শ করেনি কোন মানুষ আর না কোন জিন। ৫৫.৭৬তারা সবুজ বালিশে ও সুন্দর কারুকার্য খচিত গালিচার উপর হেলান দেয়া অবস্থায় থাকবে।৫৫.৭৮ তোমার রবের নাম বরকতময়, যিনি মহামহিম ও মহানুভব।
একজোড়া সুনয়ন দেখবে শুধুই সুন্দর আর পবিত্র বিষয় কারণ খারাপ অবলোকন সে আঁখিযুগল যে করবেনা কখনোই….
৫৬ নং সূরা ওয়াকিয়ার আয়াত ২২- তাদের (জান্নাতবাসীদের) জন্য থাকবে সুনয়না (আনতনয়না) হুর (নিজ হারানো স্ত্রী) । ৫৬:২৩) এমন অনুপম সুন্দরী (স্ত্রীই যে হবে সে)যেন লুকিয়ে রাখা (সংরক্ষিত) মুক্তা৷
প্রতিদানে পাবে পরিবেশ এক অন্যায়হীন….
৫৬ নং ওয়াকিয়ার :২৪- ‘দুনিয়াতে তারা যেসব কাজ করেছে তার প্রতিদান হিসেবে এসব লাভ করবে (তাদের কর্মের পুরষ্কার স্বরুপ)৷
৫৬ঃ ২৫- ‘সেখানে তারা কোন অর্থহীন বা গোনাহর কথা শুনতে পাবে না৷ > ২৬- বরং যে কথাই শুনবে তা হবে যথাযথ ও ঠিকঠাক৷ > ৩৪- এবং সুউচ্চ আসনসমূহে অবস্থান করবে (স্বামী-স্ত্রী) ৷
এ যে নতুন সৃষ্টি সেই তাকে যাকে ছাড়া দৃষ্টি যাবেনা কোথাও..
৫৬:৩৫) তাদের স্ত্রীদেরকে আমি বিশেষভাবে নতুন করে সৃষ্টি করবো > ৩৬) এবং কুমারী বানিয়ে দেব৷ > ৩৭) তারা হবে নিজের স্বামীর প্রতি আসক্ত ও তাদের সমবয়স্কা৷
আগত-অনাগত সব একত্রিত হবে সেদিন…
৫৬ নং ওয়াকিয়ার আয়াত :৫০- নিশ্চিতভাবেই পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ের সব মানুষকে একদিন অবশ্যই একত্রিত করা হবে৷ সে জন্য সময় নির্দিষ্ট করে রাখা হয়েছে৷
এ মৃত্যুর পর ওই যে নতুন রূপ দান; তোমাকে তুমি রূপে আর আমাকে আমি রূপে পাবো সেথা- ‘তুমি আজ চিরসুন্দর….
৫৬ নং সূরা ওয়াকিয়া :৬০) আমি তোমাদের মধ্যে মৃত্যুকে বন্টন করেছি৷ ৬১) তোমাদের আকার আকৃতি পাল্টে দিতে এবং তোমাদের অজানা কোন আকার -আকৃতিতে সৃষ্টি করতে আমি অক্ষম নই?
উপরের প্রথম থেকে শেষ আয়াতগুলো মনযোগ সহকারে গভীরভাবে অনুধাবন করলে আমরা দেখতে পাই সার্বিকভাবে আয়াতগুলো এমন এক বিষয়কে বিশ্লেষণ করছে যা গভীরতম এক সুন্দরের ইঙ্গিতবাহী। নারী পুরুষ উভয়ের জীবনের জন্য এবং সর্বকালীন বন্ধনের আলোকে (মৃত্যুর পরেও) আর সৎকর্মের ভিত্তিতে।
কিভাবে তা তাহলে? এটা এখন পর্যন্ত এ বিষয়গুলোর প্রতিষ্ঠিত ব্যাখ্যার সাথে একই ধারায় কতটুকু যাবে বলতে পারবোনা। অথবা এ ব্যাখ্যা কতটুকু সঠিক তাও বলতে পারা কঠিন এ অধমে। তবুও ভাবায় এ অসাধারণ গ্রন্থটি পবিত্রতা, বিশ্বাস আর সৎকর্মের আলোকে। মন বলে বাস্তবতার ভিত্তিতে মানব মনের চাওয়া, পাওয়া আর আকাঙ্ক্ষাপূরণ এর সাথে শুন্যতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যৌক্তিক কিছু প্রপঞ্চ চিন্তন হয়তো হতে পারে এর ফলে। এটা গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করুক আর নাইবা করুক কিন্তু মানুষের মস্তিষ্ক এভাবেও যে একটু হলেও চিন্তাশক্তিকে দোলায় মাঝে মাঝে এ ব্যাপারটি তো নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়।
আসলে মানব ও মানবী সম্পর্কগুলোর নানান দৃষ্টিভঙ্গিগত অবস্থান ব্যাখ্যায় মনের চাহিদা বিষয়টি এ গ্রন্থে বড় বাস্তবতার নিরিখে চিহ্নিত হয়েছে। যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বটে। এখানে পবিত্র সাথি এসেছে বারবার। একজন যেভাবে সুনয়না, অনিন্দসুন্দর সাথীর (নিজ স্ত্রীর নতুন রূপ) খোঁজ পাচ্ছেন। এভাবে সার্বিকতায় কোন অপবিত্র আর অশ্লীল নিয়মতান্ত্রিকতা নষ্ট করা সম্পর্কের প্রতি এ পবিত্র গ্রন্থ অনুপ্রানিত করে না। বরং পরিবর্তিত রূপে তাদের সৃষ্টি করার ইঙ্গিত দেয় (মৃত্যুর পরে)। যা দিবে পবিত্রতা আর সত্যিকারের ভালোবাসার এক আদল, সে সময়ের নিক্তিতে (শেষ বিচারের ভিত্তিতে)। আসলে সেই আদলের যে সত্যিকারের ভালোবাসা, সেই নিয়মতান্ত্রিক আর পবিত্র সম্পর্কগুলো যেন এ পৃথিবীতেও মানুষ মেনে চলে এটাই এ সার্বিক শিক্ষার প্রধানতম দিক নির্দেশনা। এখানে লোভাতুর দৃষ্টিগুলোকে সংযত করাই লক্ষ্য। যা সুন্দরকে ফুটিয়ে তোলে।
আর এভাবেই সততার পথে পবিত্রভাবে থেকে সৎকর্মগুলো সম্পাদন করলেই মানুষ পেতে পারে নীচের আয়াতের স্বাগত বার্তাটি, স্বয়ং সর্বশক্তিমানের কাছ থেকেই…
“উদখুলুল জান্নাতা আন্তুম ওয়া আযওয়া-জুকুম তুহবারূন” অর্থাৎ “তোমরা ও তোমাদের সহধর্মীনিগন (একটি সময়ে বিচ্ছিন্ন হয়েছিলে যদিও মৃত্যুতে) সানন্দে বেহেশতে প্রবেশ কর” (৪৩ নং সূরা যুখরুফ আয়াত ৭০)।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।