সকল মেনু

কবি রবি রায়হান’র দুটি কবিতা

কবি রবি রায়হান’র দুটি কবিতা

সূর্য্য সন্তান 

যতটা পথ পাড়ি দিলে স্বাধীনতার শিরদাঁড়া শক্ত হয়
আর যত খানি বয়স হলে স্বাধীনতা যৌবনপ্রাপ্ত হয়,
তারচেয়ে ঢেরবেশি পথ পিছনে ফেলে এসেছে দেশ
যে সব স্বপ্ন বুকে বিভোর ছিল যোদ্ধা, যুদ্ধের ময়দানে,
সে স্বপ্নসাধ দূষণে দূষণে ঢেকেছে মলিন আস্তরণে।

সন্তানহারা পিতামাতা আজও কাঁদে হাহাকার বুকে
বিজয়ের সাধগন্ধ এখনও জোটেনি তাঁদের কপালে,
উড়ে এসে জুড়ে বসে কেউ করে বিজয়ের নগ্নমচ্ছব
এরাই চায় নি স্বাধীনতা, এরাই চায় নি সেদিন দেশ,
অথচ মায়াকান্নায় বোঝাতে চায় তারাই এনেছে স্বাধীনতা।

কুলি মজুর কৃষকের মস্ত অবদান স্বাধীনতার তরে
সে আঁধারে তারাও জ্বেলে ছিল একটু প্রদীপের আলো,
আশীর্বাদের হাত ছুঁয়ে দিয়ে ছিল মুক্তি সেনাদের শির
সন্তানের ক্ষুধার অন্ন কেড়ে, মিটিয়ে ছিল তাদের ক্ষুধা,
তবু আজও শিক্ষিতরা গালি দেয় তাদের,বলে চাষা !!

ধনীরা স্বাধীনতার ধারক বাহক, গরীব মরে ক্ষুধায়
বিজয় তাহলে কিভাবে হলো, এই ভগ্ন স্বাধীনতার?
যে আশা নিয়ে বিজয় এনেছিলো বুকের রক্ত ঢেলে,
তাঁরা পায়নি যোগ্য সন্মান, কাক ময়ূর সেজে নাচে
যাদের রক্ত ঘামে গড়া দেশ, বিজয়ে নেই তাদের উল্লাস।

কাঁদে দেশমাতৃকার সূর্য্য সন্তান মুক্তি সেনার দল
মুক্তি চেয়ে ছিল তাঁরা জনতার, চেয়ে ছিল স্বাধীনতা,
বিজয় দিবস আসে, চলেও যায়,ধনী শুধু ধনী হয়
আমজনতার ভাগ্য বদলায় না, পায় না অধিকার,
এখনও আঁধার কাটেনি, আসেনি জনতার পূর্ণ বিজয়।

 

দায়
এই শহরে জীবন নিয়ে বেঁচে থাকাই দায়
একটু খানি সুখের নাগাল কোথাও না পাই,
হাটবাজারে যায় না ভয়ে পণ্যের দাম শুনে
প্রতিটি দিন কাটে ভয়ে শুধুই প্রমোদ গুণে।
বাড়িভাড়ার বাড়াবাড়ি জল পড়ে না কলে
এলপিগ্যাসের দামের ঘোড়া শুধু ছুটে চলে,
কাটছাট করতে করতে সব দিয়েছি ফেলে
কোন মতে অন্ন জুটে নুন মেখে খাই জলে।
মাসের বেতন হাতে এলে সপ্তাহে যায় উড়ে
বাকিবকার ফিকির করি মুদি দোকান ঘুরে,
ভয়ে বুক কাঁপে দুরু দুরু এ বুঝি যায় কাজ
এমন বিপদ ঘটে যদি মাথায় পড়বে বাজ।
টেনেটুনে যাচ্ছে যে দিন ছেলে মেয়ে নিয়ে
আর কতদিন চলবে এমন মানসন্মান ক্ষুয়ে,
রোজ সকালে জাগী শুনে গিন্নির রাগীগলা
পৌরুষত্ব ম্লান করে সদাই খুঁজি ছলা কলা ।।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP