ক.
বাংলাদেশের প্রান্তবর্তী জনপদের নাম চট্টগ্রাম। একে বলা হয়ে থাকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনুপম আধার। এর ভূ-খণ্ডগত অবস্থান যেমন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, তেমনি ‘সমাজ সংস্কৃতি রাজনীতি অর্থনীতি-ধর্ম-ভাষা-সাহিত্য- সর্বক্ষেত্রে এখানকার জনগোষ্ঠীর কর্মকৃতি স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত’ এবং স্বকীয়তায় উজ্জ্বল। মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, চট্টগ্রাম সর্বাগ্রে। নানাক্ষেত্রে তাঁর এ কথার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে চট্টগ্রাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসেও তাৎপর্যময় ও বৈচিত্র্যপূর্ণ।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন নিদর্শন চর্যাগীতির কবি মীননাথ ছিলেন চট্টগ্রামের অধিবাসী। অন্যদিকে, এই প্রাচীন পদরচয়িতাদের মধ্যে অনেকে প্রসিদ্ধ সিদ্ধা হাড়ি পা’কে চট্টগ্রামের সন্তান বলে চিহ্নিত করেছেন। জানা যায় তিনি খ্রিস্টীয় দশম শতাব্দীতে তিব্বতে উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানে বৌদ্ধ ধর্মের বহুল সম্প্রসারণ কল্পে কয়েকটি চর্যাপদ ও দোহা রচনা করেছিলেন। ড. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘নানা মুনির নানা মতের কারণে এ সমুদয় তথ্য এখনও ঘোলাটে। তাই বিতর্ক এড়িয়ে হাড়ি পা কেন, বাড়বকুণ্ডে আগত জালন্ধরী পা, চাটিল পা, নারো পা যে চট্টগ্রামের নয় তাই বা কে বলবে? তাছাড়া নালান্দা বিহারের যুগের পর বা পাশাপাশি চট্টগ্রামও ধর্ম এবং শিক্ষা-সংস্কৃতি কেন্দ্ররূপে গড়ে উঠেছিল; সিদ্ধ তিলযোগীরা দশম শতকের অনেক গ্রন্থ চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন।’
মধ্যযুগের কবি আবদুল হাকিম (১৬২০-১৬৯০), যিনি লিখেছিলেন সেই অমর অজর পঙক্তি-‘যে জন বঙ্গতে জন্মে হিংসে বঙ্গবাণী/সে সব কাহার জন্মে নির্ণয় ন জানি।’ তিনি চট্টগ্রামের সন্তান। এর আগে চট্টগ্রামের সন্তান ছৈয়দ সুলতান (১৫৫০-১৬৪৮), দৌলত কাজী (১৬০০-১৬৩৮) প্রমুখ কবিও বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ থেকেই চট্টগ্রামের কবিরা বাংলা কবিতার ভাণ্ডারকে উর্বর করেছেন। কাব্যচর্চা করে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। মধ্যযুগ ছিল চট্টগ্রামের কবিদের স্বর্ণযুগ। ড. মনিরুজ্জামানের ভাষায় : ‘বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগকে শুধু সম্পূর্ণই নয় সমৃদ্ধও করেছে চট্টগ্রামের সুজন পাখিরা। চর্যাকার চাটিলপাদের নাম ভূষণস্বরূপ হয়ে আছে এই চট্টলভূমি। একাধিক চর্যাকার বা চর্যাপদকারের নামে সন্দ্বীপসহ চট্টলক্ষেত্রে ভূ-সন্তান (ভূমিপুত্র) হবার দাবি উত্থাপিত হয়েছে। সে দাবি এখনও বলবৎ। মধ্যযুগে সে তো আরও মশহুর ব্যাপার। বাংলাসহ আরও নানা ভাষার কবি পণ্ডিত বা পদকারের সংখ্যা এখানে প্রায় অগণন। মধ্যযুগের আদি মুসলমান কবি শাহ মোহাম্মদ সগীর বাস্তবিকই চট্টগ্রামের যশঃবর্ধক (বিতর্ক সত্ত্বে)। এরপর ১৫ শতকে জৈনুদ্দিন; ১৬ শতকে আবদুল নবী (সিলিমপুর, সীতাকুণ্ড), সাবিরিদ খাঁ, শ্রীকর নন্দী, সৈয়দ সুলতান (চক্রশালা, পটিয়া), মোজাম্মিল, মুহম্মদ কবির; ১৭ শতকে আলাওলকে বাদ দিয়েও দৌলত উজির বাহুরাম খাঁ, দৌলত কাজী, কোরেশী মাগন, শেখ মরদন, শেখ মুত্তালিব, দ্বিজরতিদেব, শেখ ভিকন এবং শতাব্দীর শেষে গোপীনাথ দাস প্রভৃতি; ১৮ শতকে আকবর আলী, আকবর শাহ, আজমতউল্লাহ (দৌলতপুর, ফটিকছড়ি), আফজল আলী (মিলুয়াগ্রাম, সাতকানিয়া), আবাল ফকির (আলীবাজার শিষ্য), আবদুল আলিম (কক্সবাজার), আবদুস সামাদ (শুলকবহর, পাঁচলাইশ), আলী রাজা (ওসখাইন, আনোয়ারা, মৃ: ১৭৮০), আসকর আলী (পটিয়া), আসগর আলী পণ্ডিত (নানুপুর, ফটিকছড়ি), আসাদ আলী চৌধুরী (রাজাগর, রাঙ্গুনিয়া), আহমদ আলী মিয়া (ধর্মপুর, ফটিকছড়ি), কবি নেয়াজ (কক্সবাজার), খন্দকার আবদুল করিম (রামু), সৈয়দ আফজল, গোবিন্দ দাস, পরাগল খাঁ, শেখ পরাণ, মঙ্গল চাঁদ, শঙ্কর দাস; পরবর্তী শতকের মাঝে মোহম্মদ মুকিম; ১৯ শতকে মহাকবি নবীন সেন, শরৎচন্দ্র দাশ, শংকর ভট্ট, মহাকবি আবুল মা’ল হামিদ আলী: ১৯ ও ২০ শতকে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ, মৌলানা মনিরুজ্জমান এসলামাবাদী, রমেশ শীল, আবদুর রশীদ সিদ্দিকী, সতীশচন্দ্র ঘোষ, শশাংক মোহন সেন প্রমুখ- এবং বিংশ শতকের প্রায় অগণিত লেখকবৃন্দ এই চট্টলভূমির গৌরব বর্দ্ধন করেছেন- যার মধ্যে জনাব নূর আহমদ, পূর্ণেন্দু দস্তিদার, ফেরদৌস খান, বেণীমাধব বড়ুয়া, রবীন্দ্রবিজয় বড়য়া, নজির আহমদ চৌধুরী, কালিকারঞ্জন কানুনগো, আশুতোষ চৌধুরী, লোকমান খান শেরওয়ানী, যোগেশচন্দ্র সিংহ, যাত্রামোহন সেন, চিত্ত সিংহ, অধ্যাপক মোঃ খালেদ, আবুল ফজল ও উমরাতুল ফজল, মাহবুবউল আলম সহ বিখ্যাত আলম পরিবার, বুলবুল চৌধুরী, বেলাল মোহাম্মদ, আসহাবউদ্দিন আহম্মদ, আহমদ শরীফ, আবদুল হক চৌধুরী, আবদুল করিম, মঈনুদ্দিন আহমদ খান এবং জ্যোতির্মালা দেবী, রাহাত আরা বেগম, রহিমুন্নেসা, নুরুন্নাহার।’
চট্টগ্রামের সাহিত্য বলতে আলাদা কোনো সাহিত্য বোঝায় না। কেননা আমরা মনে করি চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী, চট্টগ্রামে অবস্থানরত এবং চট্টগ্রামে অভিবাসিত লেখকদের সব ধরনের রচনা মূলত বাংলা সাহিত্যকেই সমৃদ্ধ করেছে। তবু আমাদের সুবিধার্থে এই নিবন্ধে চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণকারী ও বসবাসকারী কবি ছড়াকারদের নিয়ে আলোচনা করা হবে।
বলা বাহুল্য, চট্টগ্রামের সাহিত্যধারার পরিচ্ছন্ন একটা চিত্র আমরা প্রত্যক্ষ করি বেশ কয়েকজন গবেষকের বিশ্লেষণে। তাঁদের সর্বাগ্রে আসে আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের নাম। এরপর উল্লেখ করা যায় ড. মুহম্মদ এনামুল হক, পূর্ণচন্দ্র চৌধুরী, ড. আহমদ শরীফ, আবদুল হক চৌধুরী, ড. আবদুল করিম প্রমুখ গবেষকের নাম। তাঁরা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ, বিশেষত মধ্যযুগের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন অত্যন্ত বিশ্বস্ততায়। তাঁদের মূল্যায়নে আমরা দেখি, প্রথম কাব্যধারা সৃজনকর্মে চট্টগ্রামের কবিদের ভূমিকা অপরিসীম। তাঁদের মতে, বাংলা সাহিত্যে রোমান্স ধারার আদিসৃষ্টকার সবাই চট্টগ্রামের। এছাড়া ড. মনিরুজ্জামান (১৯৪০)-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়। তিনি তাঁর ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে মূলত চট্টগ্রামের সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে চমৎকারভাবে মূল্যায়ন করেছেন। চট্টগ্রামের সাহিত্যের ইতিহাসকে তুলে এনেছেন গভীর থেকে। তাঁর গবেষণা, পাণ্ডিত্য এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসল এ গ্রন্থ। তিনি একাধারে কবি, গীতিকার, গল্পকার, ছড়াকার, ঔপন্যাসিক, ভাষা বিজ্ঞানী, গবেষক ও সম্পাদক। এর বাইরে আধুনিক যুগের কবি-সাহিত্যিকদের সংক্ষিপ্ত তথ্য পাওয়া যায় আহমদ মমতাজ রচিত আবহমান চট্টগ্রাম কবি-সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম (২০১৬) ও চট্টল মনীষা (২০১০) গ্রন্থে। ড. মাহবুবুল হকের ‘অন্বেষার আলোয় চট্টগ্রাম’ গ্রন্থও এক্ষেত্রে অনুসরণযোগ্য।
প্রাচীনকালের তথ্য ও সত্য নির্ণয়ে নানা রকম বিতর্ক আছে। মধ্যযুগের তথ্য বিশ্লেষণের পদ্ধতিকেও এখনো বৈজ্ঞানিক বলে ধরে নিতে পারি না। তবু যে ইতিহাস আমরা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি বিভিন্ন গুণী গবেষকের লেখা থেকে, তাতে দেখা যায় মধ্যযুগে মোহাম্মদ মুকিম নামে চট্টগ্রামে দুজন কবি ছিলেন। তাঁদের দুজনেরই কাব্যনিদর্শনের চিত্র লিপিবদ্ধ আছে। যেমন : মোহাম্মদ মুকিম- ১) এর একটা কবিতাংশ :
প্রেমরস কাব্য কথা সুগন্ধি শীতল।
কালাকাম ভাংগি কৈলু পয়ার নিমল।।
মৃগাবতী নামে আর পরীর নন্দিনী।
মিত্র জনে শুনে সেই অপূর্ব কাহিনী।।
মোরে আজ্ঞা দিলা পীর রচিতে পয়ার।
দেশী ভাবে রঙ্গ কথা লোকে বুঝিবার।।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ মুকিম- ২- এর কবিতাংশ এরকম :
বড় শাদা এনাত দুহান দশ সুত।
বল বির্জ ধষ্ট যুবা সর্বগুণে যুত।।
বড় সাদার মৈক্ষ পুত্র মোহাম্মদ আফজাল।
রূপ গুণে অস্ত্রে শস্ত্রে কার্জেত কুশল।।
কবি শাহ মোহাম্মদ ছগিরের ‘ইউসুফ জোলেখা’ একটি ইতিহাস। এটি লিখে বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ করে নিয়েছেন তিনি। তাঁর একটি কবিতার অংশবিশেষ :
পিপিড়ার ভয়ে মাও ন থুইলা মাটিত।
কোল দিলা বুক দিআ জগতে বিদিত।।
অশক্য আছিলুঁ মুই দুধক ছাবাল।
তান দয়া হন্তে হৈল এ ধর বিশাল।।
ন খাই খাওয়ায় পিতা ন পরি পরাএ।
কত দুক্ষে এক এক বছর গোঞাএ।।
কবি মোহাম্মদ আলীর চারটি কাব্য এবং তিনটি পদাবলী আবিষ্কৃত হয়েছে। তাঁর প্রথম রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘হায়রাতুল ফেকাহ’-এর কয়েকটি পংক্তি এরকম :
চাটিগ্রাম শুদ্ধ স্থান
ইসলাম আবাদ বুলি কহে।
তাহার উত্তর দেশ কি কহিব সবিশেষ
আজিমনগর নাম হএ।
আর এক আছে নাম ইদিলপুর অনুপাম
শুদ্ধ পবিত্র সেই।
সে সূচি রুচি দেশে বহুল আলিম বৈশে
বহু অলি অলিয়ার স্থান।
কবি মোহাম্মদ কবীরও এসময় কবিতা লিখে খ্যাতি পেয়েছেন। তাঁর কবিতার নিদর্শন —
মনোহর মালতীয় অকুল পিরীত।
গাহিব সকল লোক মন হরষিত।।
এহি সে সুন্দর কিচ্ছা হিন্দীতে আছিল।
দেশি ভাষায় মুঞি পঞ্চালি ভনিল।
আলাওলের জন্মস্থান নিয়ে বিতর্ক থাকলেও গবেষকরা একথা সত্য বলে উল্লেখ করেছেন যে তাঁর কবি প্রতিভার বিকাশ ঘটেছিল রোসাঙ্গ সভাতেই। আবদুল হক চৌধুরী প্রমুখ গবেষক তাঁকে চট্টগ্রামের কবি হিসেবে বললেও গবেষক মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী তাঁকে ফরিদপুরের বলে দাবি করেছেন। এক্ষেত্রে তিনি বিভিন্ন প্রমাণাদি প্রদর্শন করেছেন। এ কথা মেনে নিয়েও বলা যায়, তাঁর কাব্যচর্চার উর্বর ভূমি ছিল চট্টগ্রাম। গবেষকদের মতে, আলাওলের কাব্য নাটকীয় উপাদানে পূর্ণ। চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ (হাটহাজারী থানা) ও পার্শ্ববর্তী অন্যান্য অঞ্চলে তাঁর কাব্যের কদর এখনও লক্ষ্য করা যায়। ‘পদ্মাবতী’ তার শ্রেষ্ঠ কাব্য (রচনা ১৬৫১ খ্রি:)। কবির পিতৃতুল্য ছিলেন আরাকানের প্রধান উজীর ও ‘চন্দ্রাবতী’ কাব্য রচয়িতা মাগন ঠাকুর। মোহাম্মদ খান, সঙ্গীত শাস্ত্রজ্ঞ কমর আলী প্রমুখ এই সময়ের অন্যান্য কবি।
‘পদ্মাবতী’ কাব্যের কয়েকটি পংক্তি এখানে তুলে ধরা হলো :
প্রেম বিনে ভাব নাহি, ভাব বিনে রস।
ত্রিভূবনে যত দেখ প্রেম হস্তে বশ।।
যার হৃদে জন্মিলেক প্রেমের অঙ্কুর।
মুক্তিপথ পাইল সে সবার ঠাকুর।।
প্রেম হন্তে জনমে বিরহ তিনাক্ষর।
পঞ্চাক্ষরে বিরহিনী লক্ষ্য পঞ্চশর।।
যার ঘটে বিরহের জ্যোতিঃ প্রকাশিল।
সুখ মোক্ষ প্রাপ্তি তার আপদ তরিল।।
মধ্যযুগের কবিদের কথা বলতে গেলে অনায়াসে যে নামটি জ্বলজ্বল করে, সেটি হলো কবি আবদুল হাকিম, যাঁর কথা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর কয়েকটি পংক্তি অমরবাণী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন :
যে সবে বঙ্গেতে জন্মি হিংসে বঙ্গবাণী
সে সব কাহার জন্ম নির্ণয় না জানি।
দেশী ভাষা বিদ্যা যার মনে না জুয়ায়
নিজ দেশ ত্যাগি কেন বিদেশে না যায়।
মাতা পিতামহ ক্রমে বঙ্গেত বসতি
দেশী ভাষা উপদেশ মনে হিত অতি।।
‘আমির হামজা’ নামক কাব্য রচনা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন আরেক কবি আবদুল নবী। তিনি লিখেছেন–
আমির হামজার কিচ্চা পারসী কিতাব।
ন বুজিআ লোকের মনেত পাই তাব।।
বঙ্গেত ফারসী ন জানএ সব লোকে।
কেহ কেহ বুজি কেহ ভাবে জেলা সোঁকে।।
এহি হেতু সেই কথা মুঞি রচিবার।
নিজ বুদ্ধি চিন্তি মনে কৈলুম অঙ্গীকার।।
মধ্যযুগের কবিদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় কবি ছিলেন দৌলত কাজী। তাঁর ‘সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী’ খুবই জনপ্রিয় গ্রন্থ। তিনি লিখেছেন :
পঞ্চশত হস্তী যাঁর বহয় আদেশ,
অরুণ যোগান কালা মাতঙ্গ বিশেষ।
সংসারের লোক কেহ নাহিক দুঃখিত,
মহারাজা প্রসাদে সকলে আনন্দিত।
মহামত্ত ঐরাবত দেখি কীর্তি যশ
শ্বেতরূপে সুধর্মের হৈল পদবশ।
সৈয়দ সুলতান আরেক শক্তিশালী কবি। তিনি লিখেছেন :
গ্রহ শত রস যোগে অব্দ গোঙাইল।
দেশী ভাষে এহি কথা কেহ ন কহিল।।
আরবী ফার্ছি ভাষে কিতাব বহুত।
আলিমানে বুঝে ন বুঝে মূর্খসুত।।
দুক্ষ ভাবি মনে মনে করিলুং ঠিক।
রছুলের কথা যথ কহিমু অধিক।।
মধ্যযুগের কবিদের মধ্যে নারী কবির কাব্যচর্চা ছিল অবাক করার বিষয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মুসলিম নারীরা কঠোর রক্ষণশীল প্রথায় আবদ্ধ ছিল বলে লেখালেখিতে তাঁদের আগমন রীতিমত বিস্ময়কর। কিন্তু তার মধ্যেও আমরা একজন মুসলিম মহিলা কবিকে পাই। তিনি হলেন রহিমন্নিসা। তাঁর একটি কবিতার অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরা হলো :
মুই অতি খিনমতি দুক্ষিত তাপিত।
বংশ গ্রাম কহি কিছু শুনহনি নিচিত।।
ছিরিমতি ক্ষুদ্র অতি রহিমন্নিচা নাম।
শুলকবহর নামে গ্রাম অনুপাম।।
পীতায়তি শুদ্ধমতি আবদুল কাদের।
ছুপি খান্দানে তাই আছিল শুধির।।
চট্টগ্রামে পুঁথিসাহিত্য সংগ্রহ ও চর্চা বিষয়েও নানা রকম তথ্য পাওয়া যায়। পুঁথিসাহিত্য কী, এ বিষয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘বাংলার পুঁথিসাহিত্য বলতে আমরা বুঝি এক শ্রেণির বাংলা কাব্য, যার বিষয়বস্তু হচ্ছে মুসলমানদের ধর্মীয় ও জাতীয় ঐতিহ্য।’ মধ্যযুগে রচিত পুঁথিসাহিত্যে আমরা দেখি মুসলমানদের ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি সমকালীন বাংলার চিরায়ত চিত্র; প্রত্যক্ষ করি ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। তবে মুসকিল হলো- একই পুঁথি বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে এবং পাওয়া সম্ভবও। তাতে পুঁথি সংগ্রাহক বা কবির অঞ্চল একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বিস্তৃত হয়ে পরে। ড. মনিরুজ্জামান বলেন, মুহম্মদ সগীরের পুঁথির পাণ্ডুলিপি চট্টগ্রামে পাওয়া গেছে তিন খানি এবং কুমিল্লায় পাওয়া গেছে এক খানা। তাহলে সগীর কোথাকার কবি? (এই ঘোর আরও জটিল হয় যখন তাঁকে রাঢ়ের অর্থাৎ পশ্চিম বঙ্গের কবিও বলা হয়।) তেমনি যে মুজাম্মিলকে চট্টগ্রামের মধ্যযুগীয় কবিদের মধ্যে প্রাচীনতম বলার দাবি করেন কেউ কেউ তাঁরও কাব্য কুমিল্লায় পাওয়া যায়। তাহলে এর সমাধান কী?…পটিয়ার চক্রশালার সৈয়দ সুলতান ‘নবী বংশ’, ‘জ্ঞান চৌতিশা’ প্রভৃতির কাব্যকার ছিলেন এবং তিনি বৈষ্ণব পদকারও ছিলেন জানা যায় । তিনি রাগভিত্তিক বহু মরফতী গান ‘কুল্লীয়াৎ’ রচনা করেছিলেন। তার বিখ্যাত কাব্য ‘নবীবংশ’-কে মহাকাব্যের সাথে তুলনা করা হয়ে থাকে। কবি মুজাম্মিল পঞ্চদশ থেকে ষোড়শ শতকের মধ্যে কোনও এক সময়ে জীবিত ছিলেন। ‘খঞ্জন চরিত্র’, ‘নীতিশাস্ত্র-বার্তা’ প্রভৃতি তাঁর কাব্যগ্রন্থ। তাঁর ‘সায়াৎ-নামা’ পাণ্ডুলিপিটির প্রাপ্ত প্রতিলিপি-কাল ১৭৫৭ (ভারতচন্দ্রের সমকালীন ও পলাশীর যুদ্ধ সংঘটনের সময়কার) বলে ধরা হয়। ‘নীতিশাস্ত্র-বার্তা’র বিষয়-বৈচিত্র্য ও ব্যাপকতা অদ্যাবধি পাঠককে বিস্মিত করে ।
প্রাচীন কবিদের নাম নানা গবেষণায় উল্লেখ করা হলেও পুঁথি নকলকারদের নাম কোথাও উল্লেখ করা হয় নি বলে দাবি করেন ড. মনিরুজ্জামান। তিনি এক্ষেত্রে দুই-একজনের নাম যুক্ত করেন। এঁদের একজন হলেন চাম্বল নিবাসী মাহমুদ উল্লাহ মাস্টার। তিনি তমিজ উদ্দিন বিরচিত মৌলভী মুন্সেফ গদা হোছেন সাহেবের বংশ পরিচিতির পাণ্ডুলিপির অনুলেখক। ইলসা নিবাসী খাএরজ্জামান (আবদুল আলীম বিরচিত ‘মোহাম্মদ হানিফের লড়াই’ কাব্যের অনুলিপিকার), ইলসা গ্রাম নিবাসী অপর লিপিকর আজমত আলী (আলাওলের ‘তোহফা’ এবং দৌলত কাজীর ‘সতীময়না লোরচন্দ্রানী’ কাব্যের অনুলিপিকার), বাণীগ্রাম নিবাসী হাছন আলী (আলাওলের ‘সয়ফুল মুল্ক বদিউজ্জামাল’ কাব্যের অনুলিপিকার) প্রমুখের নামও এ প্রসঙ্গে যোগ করা যায়। আলাওলের পুঁথি যাঁরা নকল করতেন এমন লিপিকরদের মধ্যে হাটহাজারী জিন্নাত আলী; ফটিকছড়ির নুর আলী এবং আনোয়ারার দেয়াং-এর আবদুল ওয়াহাব-এর নাম এখানে বিশেষভাবে স্মরণ্য। উল্লেখ্য, দৈনিক আজাদী’র ‘হিং ও হালিম’ কলামের লেখক শেফাউল মুলক (প্রকৃত নাম হবীবুল্লাহ বাহার) একালের একজন লিপিকর বলে জানা যায়। এছাড়া বাণীগ্রাম নিবাসী মুহাম্মদ নাছিমও পুঁথি নকল করতেন বলে জানা গেছে, তবে তিনি নিজেও ‘বারমাসী’ রচনা করে খ্যাতি পেয়েছিলেন।
মধ্যযুগের পুঁথিসাহিত্য সংগ্রহের পথিকৃৎ হলেন মনীষী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ (১৮৭১ – ১৯৫৩)। গবেষক শিমুল বড়ুয়া তাঁর ‘চট্টগ্রামের প্রবাদ প্রবচন’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি প্রায় ১৫০ জন প্রাচীন কবির পুঁথি আবিষ্কার করেছিলেন। মুসলমানদের পুঁথি নিয়ে গবেষণা করলেও আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের কাজ ছিলো সর্বজনীন। তিনি শুধু প্রাচীন মুসলমানের সাহিত্যকীর্তি উদ্ঘাটনে নিয়োজিত থাকেননি, তিনি বড় হয়েছেন সাংস্কৃতিক সমন্বয়ের এক আবহে। নিজেই বলেছেন: ‘অল্প বয়সে আমি মাতৃভাষার প্রতি অনুরাগী হই। চণ্ডীদাসের পদাবলী পাঠ করিয়া – বিশেষত বাড়িতে পূর্বপুরুষের সঞ্চিত প্রাচীন পুঁথিপত্রের স্তূপ দেখিয়া সেই অনুরাগ বিশেষভাবে সমুত্থিত হইয়া উঠে। নিজ বাড়িতে ও পাড়াপ্রতিবেশীর বাড়িতে তখন হামেশাই পুঁথি পড়ার মজলিস বসিত। কিছু না বুঝিলেও সেই মজলিসে গিয়া আলাওলের পুঁথি পড়া শুনিতাম। শুনিয়া শুনিয়া আমার ভাবপ্রবণ কিশোর হৃদয়ে যে আনন্দ জন্মিত তাহার স্মৃতি এখনও মুছিয়া যায় নাই।’ এজন্য খুব জোরের সঙ্গে বলা যায়: তিনি কেবল একজন ‘পুঁথি-সংগ্রাহক’ই ছিলেন না, পাশাপাশি তিনি মুসলিম সমাজের মন ও মানস গঠনে ভূমিকা পালন করেছেন। পুঁথি-ব্যাখ্যাকারের দায়িত্বও পালন করেছেন অতীব যোগ্যতার সঙ্গে। গভীর আগ্রহ ও অনুরাগ নিয়ে পুঁথি পাঠ করতে করতে তাঁর মনে হয়েছিল, ‘পুরাতন পুঁথি কঙ্কালেরই মত। কিন্তু আমি তাহার ভিতর যুগযুগান্তের রক্তধমন ও নিঃশ্বাসের প্রবাহধ্বনি শুনিয়াছি।’ বলা যায়, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ আমাদের ভাষা ও সাহিত্যে এক অবিস্মরণীয় পুরুষ। খাঁটি বাঙালি জাতীয়তাবাধসম্পন্ন মানুষ ছিলেন তিনি। তাঁর গবেষণা ও প্রবন্ধগুলোর মধ্যে পাওয়া যায় তাঁর শক্তির পরিচয়। পড়লে বোঝা যাবে কতটা বড় মাপের ব্যক্তিত্ব ছিলেন তিনি। অনুভব করা যাবে যে, তাঁর জ্ঞানের পরিধি। স্বদেশের মাটি ও মানুষই ছিলো তাঁর সাধনার ভিত্তি। তাঁর রচনা পাঠ করলেই বোঝা যাবে তাঁর মন কতটা উদার ছিলো, কতটা অসাম্প্রদায়িক ছিলেন তিনি। তাঁর লেখার পরতে পরতে দেখা যাবে গভীর উপলব্ধির শিখা। অনুভব করা যাবে চেতনার আলো। যে চেতনার আলোতে আমরা চলছি। তাঁর ‘চেতনার বীজ থেকেই মহীরুহ হয়ে উঠেছে সমন্বয়বাদী অসাম্প্রদায়িক বাঙালিত্বের বোধ, ধর্মীয় জীবনচেতনার মধ্য থেকে ওঠা মনুষ্যত্বের উপলব্ধি’! তথ্যের প্রাচুর্যে, সত্যনিষ্ঠা ও ভাষার প্রাঞ্জলতায় তাঁর রচনা সমৃদ্ধ।
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের পর আমরা এক্ষেত্রে পাই আশুতোষ চৌধুরী, আবদুস সাত্তার চৌধুরী, আবদুল হক চৌধুরী, মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী প্রমুখ গবেষকদের। তাঁরা বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন পুঁথি ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক হিসেবে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন।
আশুতোষ চৌধুরী (১৮৮৮-১৯৪৪)। কবি ও লোকসাহিত্য সংগ্রাহক। তাঁর সংগৃহীত পালাগান নিজাম ডাকাতের পালা, কাফন চোরা, ভেলুয়া, হাতি খেদার গান, কমল সদাগরের পালা, সুজা তনয়ার বিলাপ, নছর মালুম, নুরুন্নেছা ও কবরের কথা, পরীবানুর হঁলা, দেওয়ান মনোহর ও মজুনা ইত্যাদি। এসব পালাগান দীনেশচন্দ্র সেন সম্পাদিত পূর্ববঙ্গ-গীতিকায় স্থান পেয়েছে। স্বভাবকবি ও গীতিকার হিসেবেও আশুতোষ চৌধুরীর রয়েছে বেশ খ্যাতি। গীতিকা নামে রয়েছে তাঁর একটি গানের সংকলন। আদম আশক (কাহিনীকাব্য), ব্যথার বাণী ও স্বপ্নের জয় (গাথাকাব্য) তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম। তিনি চট্টগ্রামী ভাষা ও সংস্কৃতি নামে একটি অভিধানও প্রণয়ন করেন।
আবদুস সাত্তার চৌধুরী (১৯১৯-১৯৮২)। তিনি মুন্সি আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের যোগ্য উত্তরসূরী ও আত্মীয়। তার সংগৃহীত পাণ্ডুলিপিকে উপজীব্য করে দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ ও সম্পাদিত পাঠদান হচ্ছে। তিনি লোকসাহিত্য বিষয়ে ৬৭টি পাণ্ডুলিপি ছাড়াও বেশ কয়েক শ’ দুর্লভ পুঁথি, সাময়িকী ও পুস্তক বাংলা একাডেমিতে জমা দিয়েছিলেন। তিনি অধুনালুপ্ত ও দুষ্প্রাপ্য আরবী, ফারসী, সংস্কৃতি, পালি ও বাংলা ভাষায় নানা পুঁথি ও সাময়িকী পত্রিকা সংগ্রহ করে পুঁথি সংগ্রহে সাফল্য অর্জন করেন। বিভিন্ন ভাষার বহু পাণ্ডুলিপি, অনেক পুঁথি, দুষ্পাপ্য পুস্তক ও সাময়িকী তিনি সংগ্রহ করেছিলেন এ সময়ে। এগুলো দিয়ে ১৯৭২ সালে গড়ে ওঠে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির ‘পাণ্ডুলিপি ও দুষ্প্রাপ্য’ শাখা। আবদুস সাত্তার চৌধুরীর লোকসাহিত্য সংগ্রহের মধ্যে মারফরিত, মুর্শিদি, বাউল ও মাইজভাণ্ডারী গানের সংখ্যা ১ হাজার ৬৭১টি। পালা গানের সংখ্যা ৩০ টি। তাঁর সংগৃহীত পুঁথি নিয়ে তিনি পুঁথি পরিচিত নামে একটি তালিকা প্রস্তুত করে রেখেছিলেন যা পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের জার্নাল ‘পাণ্ডুলিপি’তে ড. মাহবুবুল হকের সম্পাদনায় প্রকাশ করা হয়।
আবদুল হক চৌধুরী (১৯২২-১৯৯৪)। চট্টলতত্ত্ববিদ, গবেষক ও আঞ্চলিক ইতিহাস লেখক। তিনি চট্টগ্রাম, সিলেট এবং আরাকানের ইতিহাস সম্পর্কে গবেষণা করে খ্যাতি অর্জন করেন। আবদুল হক চৌধুরী বাংলাদেশের আঞ্চলিক ইতিহাসচর্চায় যে অবদান রাখেন তা রীতিমতো বিস্ময়কর। তিনি তাঁর অঞ্চলের নশরত শাহের কোতোয়ালির ধ্বংসাবশেষ, ঈসা খাঁর দিঘি, আরাকানি দুর্গকোট এবং প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় বিভিন্ন পুরাকীর্তি তাঁকে এ সম্পর্কে আরও কৌতূহলী করে তোলে। তিনি একসময় চট্টগ্রাম, সিলেট, আরাকান ও ত্রিপুরার সামাজিক ও নৃতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন এবং তার ভিত্তিতে উক্ত অঞ্চলের ইতিহাস রচনায় ব্রতী হন। ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিষয়ে আবদুল হক চৌধুরী রচিত মোট এগারোটি গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘চট্টগ্রামের ইতিহাস প্রসঙ্গ’, ‘চট্টগ্রামের সমাজ ও সংস্কৃতির রূপরেখা’, ‘চট্টগ্রাম-আরাকান’, ‘প্রাচীন আরাকান রোহাইঙ্গা, হিন্দু ও বড়ুয়া বৌদ্ধ অধিবাসী’ প্রভৃতি।
মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী (১৯৫২-২০২০) গবেষণা ও লোকসাহিত্যের বিশ্বস্ত ঠিকানা। তিনি পাণ্ডুলিপি ছাড়াও বহু পুরোকীর্তি সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর সংগ্রহের মধ্যে ফতেয়াবাদস্থ ফকির তাকিয়া থেকে প্রাপ্ত (তাঁর আবিষ্কৃত) সম্রাট আওরঙ্গজেবের নামাঙ্কিত একটি মধ্যযুগীয় শিলালিপি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এ পর্যন্ত দু’হাজারের অধিক পুঁথির পাণ্ডুলিপি তিনি সংগ্রহ করেছেন। তিনি বাংলা ভাষা ভিন্ন দ্বিভাষী পুঁথিও সংগ্রহ করেছেন। এ দ্বিভাষী পুঁথির সংখ্যা প্রায় পাঁচশত। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু এখনও বিভিন্ন নামী ব্যক্তিদের কাছেই জমা পড়ে আছে। কিছু কিছু তাঁর পিতা আবদুস সাত্তার চৌধুরীর নামে প্রতিষ্ঠিত সংগ্রহ শালায় সংরক্ষিত আছে। তিনি নিজ প্রচেষ্টায় তাঁর সংগৃহীত এসব প্রাচীন দুস্প্রাপ্য পুঁথি পাণ্ডুুলিপি, দলিল-দস্তাবেজ, দুর্লভ মুদ্রা ও গ্রন্থ সাময়িকী সহ আরো অনেক দুর্লভ সামগ্রী’র প্রদর্শনীয় আয়োজন করেছেন বেশ ক’বার। একজন ফোকলোরিস্ট হিসেবেও দেশ বিদেশে রয়েছে তাঁর বিশেষ খ্যাতি। মুহাম্মদ ইসহাক চৌধুরী সংগৃহীত পবিত্র কোরআনের পাণ্ডুলিপি প্রায় অর্ধশতাধিক। যার মধ্যে সর্বপ্রাচীন ১০৯৫ হিজরী ও ১০৯৪ হিজরী সনের মোগল যুগের।
খ.
ছড়া শব্দটির উৎপত্তি, সংজ্ঞা ও স্বরূপ নির্ধারণ বহুল আলোচিত বিষয়। কারো কারো মতে ‘ছটা’ শব্দ থেকে শব্দটি উদ্ভুত। যার অর্থ হলো শ্লোক পরম্পরা বা ছন্দোবদ্ধ পদপরম্পরা। সেক্ষেত্রে ভাষাতাত্ত্বিক বিবর্তনটি এরকম : ছটা > ছডা > ছড়া।
আবার কোনো কোনো পণ্ডিতের ধারণা ‘ছন্দ’ থেকে ‘ছড়া’ শব্দটি এসেছে। ‘ছন্দ’ শব্দের অপভ্রংশ রূপ হলো ‘ছড়া’। আসলে বাংলা ছড়ার জন্ম পরিচয় উন্মোচন করতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হয় হাজার বছরের অতীত লোকালয়ে। আবহমান বাংলার লোকালয়ই ছড়ার উৎসমুখ। লোকজীবন থেকে উৎসারিত স্বতঃপ্রবাহিত নির্ঝরিণীর মতোই তার গতি প্রকৃতি। তার শরীরে চিরায়ত রূপ প্রবহমান। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, ‘ছড়ার মধ্যে একটা চিরত্ব আছে। কোনোটির কোনো কালে কোনো রচয়িতা ছিল বলিয়া পরিচয়মাত্র নাই এবং কোন্ তারিখে কোনটা রচিত হইয়াছিল এমন প্রশ্নও কাহারও মনে উদয় হয় না। এই স্বাভাবিক চিরত্বগুণে ইহারা আজ রচিত হইলেও পুরাতন এবং সহস্র বৎসর পূর্বে রচিত হইলেও নূতন।’ এই চিরপুরাতন ও চির নতুন ছড়া কখনো আনন্দ উল্লাসে, কখনো উত্তেজনায়, কখনো ব্যঙ্গ-কৌতুকে মুখে মুখে তৈরি হতো। গাওয়া হতো সুরে সুরে আবেগে উচ্ছ্বাসে। সুরের আমেজে কখনো ছড়া হয়ে উঠেছে শ্লোক, কখনো কখনো গান। ‘সর্বপ্রকার প্রকাশভঙ্গির সর্বজনস্বীকৃত চিরাচরিত ভঙ্গি’ হিসেবে ছড়া হয়ে উঠেছে জনপ্রিয়।
ছড়ার উৎপত্তি নিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ছড়া ছিল মৌখিক ও লৌকিক ঐতিহ্য। তা লেখা হতো না, কেবল গাওয়া হতো। লোকমুখে প্রচলিত বা লোকসাহিত্যের এসব ছড়াকে সংগ্রহ করে সর্বপ্রথম লৈখিক রূপ দেন বাংলা ছড়ার প্রাতঃস্মরণীয় পুরুষ যোগীন্দ্রনাথ সরকার। তিনি ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে এসব সংগৃহীত ছড়াকে ‘খুকুমণির ছড়া’ শীর্ষক একটি গ্রন্থে সংকলিত করেন। সেই গ্রন্থের ভূমিকায় ছড়াকে প্রথমবারের মতো সাহিত্যের বিষয় বলে উল্লেখ করেন আচার্য রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী। তিনি ভূমিকায় আরও লিখেছেন, ‘…কিছুদিন হইতে অনন্যসাধারণ প্রতিভায় পরমশ্রদ্ধাস্পদ শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় এই জাতীয় কবিতা সংগ্রহের অভাব অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভব করিয়া আসিতেছিলেন। …. তিনি স্বয়ং সংগ্রহকার্যে নিযুক্ত ছিলেন; এবং তাঁহারই প্ররোচনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ত্রৈমাসিক পত্রিকায় কিছুদিন এই সংগ্রহ প্রকাশিত হইতে আরম্ভ হয়। কিন্তু কি কারণে জানি না, কাজটা অধিক দূর অগ্রসর না হইয়াই থামিয়া যায়….’। রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদীর এই ভাষ্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রবীন্দ্রনাথই বাংলা ছড়ার প্রথম সংগ্রাহক। সৌগত চট্টোপাধ্যায়ও ‘বাংলার ছড়া, ছড়ার বাংলা’ গ্রন্থের সম্পাদকীয়তে সেই কথার প্রতিধ্বনি করে বলেন, ‘তিনিই (রবীন্দ্রনাথ) আমাদের ছড়ার প্রথম সচেতন সংগ্রাহক, আলোচক ও পরবর্তীকালে ছড়া বিষয়ক আলোচনার মুখ্য গতি নিয়ামক।’
আদি ছড়ার যে বিষয় এবং শিশু মন-মানসিকতার পরিতুষ্টি সাধনের যে চিন্তা-চেতনা, তার পরিবর্তন ঘটতে থাকে ধীরে ধীরে। আস্তে আস্তে ছড়ায় ঢুকতে থাকে সমকালীন বিষয়-আশয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, দাঙ্গা, ক্ষোভ, দুর্ভিক্ষ ইত্যাদি বিষয় উঠে এসেছে ছড়ায়। মানুষের মুখে মুখে যে ছড়া গাওয়া হতো, কালের পরিক্রমায় সেটি চলে এসেছে কলমের মুখে, উঠে এসেছে পোস্টারে, ছড়িয়ে পড়েছে দেয়ালে-দেয়ালে। সেই জন্যেই ড. আশরাফ সিদ্দিকীর এক প্রবন্ধে দেখি, ‘ছড়া শুধু সমাজ সংসার নিয়ে বলে না, দেশ ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও বলে।…ছড়াও কালের সাথে অনবরত তার রূপ বদলায়।’
অবশ্য কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ অনেক আগেই ছড়াকে মেঘের সাথে তুলনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘উভয়েই পরিবর্তনশীল, বিবিধ বর্ণে-রঞ্জিত, বায়ুস্রোতে যদৃচ্ছ ভাসমান। দেখিয়া মনে হয় নিরর্থক। ছড়াও কলাবিচার শাস্ত্রের বাহির, মেঘ বিজ্ঞানও শাস্ত্র নিয়মের মধ্যে ভালো করিয়া ধরা দেয় নাই। অথচ জড় জগতে এবং মানব জগতে এই দুই উচ্ছৃঙ্খল অদ্ভুত পদার্থ চিরকাল মহৎ উদ্দেশ্য সাধন করিয়া আসিতেছে।’
চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য এবং কবিতাচর্চার যেমন সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে, তেমনি চট্টগ্রামের ছড়ার রয়েছে ব্যাপক ব্যঞ্জনা ও গুরুত্ব।
আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের কল্যাণে বেশ কিছু ছড়া আমরা পাই। গবেষকরা বলেন, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ চট্টগ্রামের ১৯৮ টি ছড়া সংগ্রহ করে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পত্রিকায় ১৩০৯ বঙ্গাব্দে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। পুঁথিসাহিত্য সংগ্রহের মতো লোকজ ছড়া সংগ্রহেও অবিস্মরণীয় ভূমিকা পালন করেন। এ ধরনের অনেক ছড়া গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাঁর সংগৃহীত কয়েকটি লোকজ ছড়া এখানে উপস্থাপন করা হলো।
১.
রৈদ রে রৈদ আনি
চাঁদার মারে পুতানী।
চাঁদারে কাডি
হাত ঘর বাডি।
সইজ্জ উডের কননাদি
কদম গাছর তলাদি।
কদম গাছর নাই ফুল
চিচচিরাইয়া রৈদ তোল।
২.
ঘুম যারে দুধর বাছা ঘুম যারে তুই।
ঘুমত্থুন উডিলে বাছা দুধ দিয়ম মুই।।
ঘুম যারে দুধর বাছা ঘুম যারে তুই।
ঘুম যাইলে গড়াই দিয়ম সোনার বাজু মুই।।
ঘুম যারে কৈতর বাছা ঘুম যারে তুই।
ঘুমত্থুন উডিলে বাছা দানা দিয়ম মুই।।
৩.
মাইরে মাই ফুতা কাট
কাইল বেইন্যা গজর হাট।
গজর হাটত যাইতাম চাই
চরকা বাঁধাত দিতাম চাই।
চরকা নিয়ে চোরে
গজর হাটর কোরে।
মউ আউয়ে ঘামাইয়।
ছাতির উঁয়র কুসুম ফুল,
নাউট্টা নাচের নাদামপুর।
নাদাম পইজ্যা যুগী ভাই
হুক্কা দেয় থঁউ খাই।
লাঠি দেয় দরবারত যাই।
৪.
ইক্কিনি বাচা গুনগুন ঠেং
কে-নে বাচা রেঙ্গুন গেল
হাতের বাঁশি ফেলাই গেল
মা-বইনরে কাঁদাই গেল।
৫.
ধারে দুধা কিরে ভাই দুধা
দুধ কা ন দস
বাঘর ডরে
বাঘে কিরে মারে ধরে
বাঘের নাম কি আঁচিলা
ফাডা জালত বাজিলা
ফাডা জালতআ ফাডি গেল
আঁচিলাত বাজি গেল।
৬.
হিয়াল সর্দার বাঙাল গোমস্তা
বাঙাল গোমস্তা
হেই দেশত থাইকত ন
বুঝ ব্যবস্থা।
৭.
বববুর জামাই আইস্যে রে,
আইলর উঁয়র বইস্যে রে।
কি কি আইন্যে চগৈ
এক পাতিলা জিলাপি
তার জিলাপি তারে দে
আরো কদ্দুর বাড়াই দেয়।
৮.
হাঁছি-নিশি অদভূত
ত্রাহিরাম যমর দূত।
গ.
আধুনিক যুগকে গবেষকেরা বলছেন স্বর্ণ প্রসবিনী। চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেছেন অনেক গুণী লেখক। তাঁরা বাংলা সাহিত্যকে নানা দিক থেকেই সমৃদ্ধ করেছিলেন। এ যুগে সাহিত্যের বিভিন্ন মননশীল ও সৃজনশীল শাখায় উপর্যুক্ত প্রতিভাবানদের দীপ্ত পদচারণা ছিল গৌরববহ । তাঁদের অন্যতম হলেন কবি নবীনচন্দ্র সেন (১৮৪৭-১৯০৯)। বাংলা সাহিত্যের এ যাবতকালে পাঁচজন কবিকে মহাকবি বলা হয়। তাঁরা হলেন : মাইকেল মধুসুদন দত্ত, হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেন, কায়কোবাদ এবং ইসমাইল হোসেন সিরাজী। নবীনচন্দ্র এই পাঁচ মহাকবির মধ্যে অন্যতম। তিনি সবার থেকে বেশি মহাকাব্য রচনা করেছিলেন। নবীনচন্দ্র সেনের আরো একটি অনন্যতা রয়েছে- তিনিই এই অঞ্চলের প্রথম সার্থক ‘দেশপ্রেমিক কবি’ স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
যুগপথিক কবি নবীনচন্দ্র সেনের রচিত মহাকাব্য ‘রৈবতক’ (১৮৭৫), ‘করুক্ষেত্র’ (১৮৯৩), এবং ‘প্রভাস’ (১৮৯৬) এই কাব্যত্রয়ীকে দ্বিতীয় মহাভারত বলা হয়। তাঁর প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থ হলো- আখ্যান কাব্য রঙ্গমতী (১৮৮০), মার্কন্ডের চন্ডী (১৮৮৯), পদ্যানুবাদ শ্রীমদ্ভগবদগীতা (১৮৮৯), ভ্রমণবৃন্তান্ত প্রবাসের পত্র (১৮৯২), প্রবাস (১৮৯৬), নাটিকা- শুভ নির্ন্মাল্য (১৯০০), উপন্যাস- ভানুমতি (১৯০৪)। কবি নবীনচন্দ্র সেনের আত্নচরিত্র ‘আমার জীবন’ পাঁচ খণ্ডে প্রকাশিত হয়। উপন্যাসের মতই এটি একটি সুখপাঠ্য গ্রন্থ।
শশাঙ্কমোহন সেন (১৮৭২-১৯২৮)। তিনি কবি, সাহিত্য-সমালোচক, শিক্ষাবিদ। শশাঙ্কমোহন কাব্য, কাব্যনাট্য ও সমালোচনা মিলিয়ে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি রচনা: কাব্য সিন্ধুসঙ্গীত (১৮৯৫), শৈলসঙ্গীত (১৯০৫), স্বর্গে ও মর্ত্যে (১৯১২), বিমানিকা (১৯২৪); কাব্যনাট্য সাবিত্রী (১৯০৯), বিশ্বামিত্র; সমালোচনা বঙ্গবাণী (১৯১৫), মধুসূদন: অন্তর্জীবন ও প্রতিভা (১৯২২), বাণীমন্দির (১৯২৮) ইত্যাদি। শশাঙ্কমোহন চট্টগ্রামের ‘বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ’ ও ‘চট্টল হিতসাধিনী সভা’সহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠা।
মনিরুজ্জমান এসলামবাদী (১৮৭৫-১৯৫০)। যিনি ‘সোলতান’ ও ‘আল-ইসলাম’ (১৯১৫- ২১) পত্রিকার সম্পাদক এবং ‘ভারতে মুসলমান সভ্যতা’, ‘ভারতে ইসলাম প্রচার’, ‘ভূগোলশাস্ত্রে মুসলমান’, ‘খগোল শাস্ত্রে মুসলমান’, ‘তুরস্কের সুলতান’ ও ‘নেজামউদ্দিন আওলিয়া’ প্রভৃতি গ্রন্থের খ্যাত শীর্ষ রচয়িতা ছিলেন। রাউজান সুলতানপুরের একজন মহাকবির নাম উল্লেখ করেছেন ড. মনিরুজ্জামান, তাঁর রচিত ‘সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে চট্টগ্রাম’ গ্রন্থে। তাঁর নাম আবুল মা’আলী মহাম্মদ হামিদ আলী (১২৮২- ১৩৬৩ বাং)। গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর ‘চট্টগ্রামের চরিতাভিধান’ (১৯৭৯)-এ যে তালিকা পাওয়া যায়, তা থেকে আমরা কিছু গুণী লেখকের নাম আমরা স্মরণে রাখতে পারি।
রমেশ শীল (১৮৭৭ – ১৯৬৭)। বাংলা কবিগানের অন্যতম রূপকার। কবিগানের লোকায়ত ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক সমাজ সচেতনতার সার্থক মেলবন্ধন ঘটিয়ে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তিনি ছিলেন মাইজভাণ্ডারী গানের কিংবদন্তি সাধক। জনপ্রিয় এই গণসঙ্গীত শিল্পী ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনে এবং সেই সাথে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন পরবর্তী নুরুল আমিন বিরোধী আন্দোলনে তিনি প্রত্যক্ষ ভাবে অংশ নেন।
১৯৫৪ সালে জণগণের ভোটে নির্বাচিত যুক্তফ্রন্ট সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং নুরুল আমিনকে পূর্ববাংলার গভর্নর বানানো হয়। এই নুরুল আমীন চট্টগ্রামে এলে জনগণের কাছে লাঞ্চিত হন। এই নিয়ে তিনি বিখ্যাত একটি ব্যাঙ্গাত্মক গান রচনা করেন। গানটি হচ্ছে :
শোন ভাই আজগুবি খবর
মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন করে চট্টগ্রাম সফর।
….
বিপ্লবী চট্টগ্রাম গেলা সূর্যসেনের প্রধান কেল্লা
মন্ত্রী করে তৌব্বা তিল্লা,
করবো না জনম ভরে চট্টগ্রাম শহর।
কবিয়াল রমেশ শীলের ধারায় কবিগান, আঞ্চলিক গান বা লোকসাহিত্য চর্চায় ক্রমশঃ যুক্ত হন অসংখ্য নিবেদিতপ্রাণ রচয়িতা। তাঁদের মধ্যে আছেন কবিয়াল ফনী বড়ুয়া, কবিয়াল ইয়াকুব আলী, মলয়ঘোষ দস্তিদার, মোহাম্মদ নাসির, মোহনলাল দাশ, আবদুল গফুর হালী, এম এন আখতার, সৈয়দ মহিউদ্দিন, আহম্মদ কবির আজাদ, সনজিত আচার্য, কল্যাণী ঘোষ, নুরুল আলম, ইকবাল হায়দার, সিরাজুল ইসলাম আজাদ প্রমুখ।
লোকমান খান শেরওয়ানী (১৯১০-১৯৬৯)। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন কর্মী ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন বাঙালি কবি ও সাংবাদিক। শবনম নামে একটি কবিতার বই আছে তাঁর। এছাড়া বেশ কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে। তন্মধ্যে রয়েছে রক্ষক ভক্ষক হলে রক্ষা করে কে, লোকমান বাণী, বিদ্রোহী আরব, রূপায়তন, দামামা।
মূলত কথাসাহিত্যিক হিসেবে খ্যাত হলেও চট্টগ্রামের কবিতাঙ্গনকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে মাহবুব-উল আলম ও আবুল ফজল। তাঁদের ঘিরে চট্টগ্রামে অবস্থানরত কবিরা কাব্যচর্চা করেছেন সনিষ্ঠ আন্তরিকতায়।
কবি ওহীদুল আলম (১৯১১-১৯৯৮)। তিনি ছিলেন একজন বাংলাদেশী লেখক, কবি, ইতিহাসবিদ, এবং সাংবাদিক। তিনি ১৯৪৬ সালে কর্ণফুলীর মাঝি প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সত্যবার্তা সাপ্তাহিক এবং দৈনিক নয়া জামানায় কাজ করেছেন, দু’টিই চট্টগ্রামে অবস্থিত। পূর্ব পাকিস্তান ভিত্তিক দৈনিক পূর্ব পাকিস্তানের সম্পাদক, যার মালিক ছিলেন! আব্দুস সালাম, যিনি তার আত্মীয়ও ছিলেন। ১৯৭৪ সালে তিনি দেশকাল সাময়িকী সম্পাদনা শুরু করেন। পৃথিবীর পথিক, তার জীবনী ১৯৭২ সালে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৭৯ সালে তিনি কাব্যসমগ্র প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে বাংলা জীবনীকোষ প্রকাশিত হয়েছিল। এছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি শিশুদের বই লিখেছিলেন।
শবনম খানম শেরওয়ানী (১৯১৫-১৯৮৪)। লেখালেখিতে ছিলেন খুবই আন্তরিক। একজন বিপ্লবী নারী। তিনি কবিতা ছাড়াও লিখতেন গল্প, রাজনৈতিক জীবন এবং সমাজের অসংগতি নিয়ে প্রবন্ধ। তিনি আকাশবাণী কলকাতায় তালিকাভূক্ত একজন সংগীত শিল্পী ও গীতিকার হিসেবে কাজ করেছেন।
গবেষক শাকিল আহমদ ‘কোহিনূর কেন্দ্রিক চট্টগ্রামের সাহিত্যচর্চা’ শীর্ষক এক লেখায় লিখেছেন, মোহাম্মদ আবদুল খালেক সম্পাদিত সাপ্তাহিক কোহিনূর পত্রিকার সবচাইতে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল সাহিত্য পর্বটি। সেই পঞ্চাশের দশকে এই সাময়িকীকে ঘিরে একটি সাহিত্য পরিমণ্ডল গড়ে উঠে চট্টগ্রামে। এখানে যেমন প্রবীণ ও প্রতিষ্ঠিতদের লেখা ছাপা হতো, তেমনি যত্নসহকারে ছাপাতেন অপেক্ষাকৃত নবীন লেখকদের লেখাও। এই সাময়িকপত্রকে বেষ্টন করে তৈরি হয়েছিল পরবর্তীকালে অনেক গুণী লেখকও। যাদের লেখায় কোহিনূর সমৃদ্ধ হয়েছে এদের মধ্যে রয়েছে-আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ, বেগম রোকেয়া, মাহবুব উল আলম, শওকত ওসমান, ওহীদুল আলম, শবনম খানম শেরওয়ানী প্রমুখ। যাঁদের লেখা অধিকাংশ সংখ্যায় ছাপানো হয়েছে এদের মধ্যে রয়েছে আলাদীন আলী নূর (কবিতা), মোতাসিম বিল্লাহ্ (কবিতা), চৌধুরী আহমদ ছফা (কবিতা ও গল্প) অশোক বড়ুয়া (কবিতা), শবনম খানম শেরওয়ানী (কবিতা), ওহীদুল আলম (নাটিকা, গল্প, কবিতা) জালালুদ্দিন আহমদ (প্রবন্ধ), মনিরুল আলম (কবিতা), কুমারী সৈয়দা রওশন আরা বেগম (কবিতা), নুরুন নাহার বেগম (কবিতা), শ্রীমহিনী মোহন দত্ত বি.এ (প্রবন্ধ), সৈয়দ মোহাম্মদ হাশেম (গল্প), আইনুন নাহার বেগম (কবিতা)।
ঘ.
উনিশ শ’ সাতচল্লিশে দেশভাগের পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যে ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয় সেই সময়ে সংগঠিত হয় আমাদের মহান ভাষা আন্দোলন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন পূর্ববঙ্গের বাঙালির একটি বিশাল এবং স্থায়ী সাংস্কৃতিক অর্জন। মাতৃভাষার জন্য এই জীবনদান পৃথিবীর ইতিহাসে এক অনন্য ঘটনা। এ ঘটনা বাঙালির জীবনে এক অমিত সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেয়। তাই ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতাযুদ্ধ আমাদের কাছে অতীতের একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’ লিখে কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন কবি মাহবুব উল আলম চৌধুরী (১৯২৭-২০০৭)। তিনি ছিলেন একজন কবি, সাংবাদিক এবং ভাষা সৈনিক। একুশের প্রথম কবিতা ‘কাঁদতে আসিনি ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি’র স্রষ্টা দুর্যোগ-সংকটে যিনি ছিলেন নির্ভীক, নিঃশব্দ ও নির্মোহ। তিনি নির্মাণ করেছেন বহু অসামান্য কবিতা। ভাষা নিয়ে, দেশ নিয়ে, মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে, দেশের মানুষকে নিয়ে তাঁর রচিত কবিতাগুলো আজ ইতিহাস হয়ে আছে। আশা, স্বপ্ন আর ভালোবাসার পাশাপাশি অন্যায়-অত্যাচার-জুলুম-অবিচারের বিরুদ্ধে তিনি ক্ষোভ সঞ্চার করেছেন তাঁর কবিতায়। শুভবোধ ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি লড়ে গেছেন নিরন্তর। ফলে তিনি পরিণত হয়েছেন জাতির কণ্ঠস্বরে।
মাহবুব উল আলম চৌধুরীর পরপর আমরা অনেক কবিমুখকে পাই, যাঁদের কর্মযজ্ঞ ছিল প্রতিনিধিত্বমূলক। এ সময়ে যাঁরা সাহিত্য চর্চার মূল ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের নাম বিস্মৃত প্রায়। তবু বঙ্কিম চন্দ্র রায়, জীবেন্দ্র কুমার দত্ত, আবদুল খালেক ইঞ্জিনিয়ার, সাদত আলী আখন্দ, মাহবুব-উল আলম, আবুল ফজল, ওহীদুল আলম, আবদুস সালাম, আলাদীন আলী নুর, উমরতুল ফজল প্রমুখের নাম সময়ের ধারাবাহিকতায় উজ্জ্বল হয়ে আছে। পরবর্তী সময়ে এই ধারার সাথে ক্রমশ যুক্ত হন সুচরিত চৌধুরী, ফাহ্মিদা আমিন, চৌধুরী জহুরুল হক, আ.ফ.ম সিরাজউদ্দউলা চৌধুরী, অনিশ বড়ুয়া, মোহাম্মদ মোস্তফা, আবদুল মান্নান হাওলাদার, বিপ্রদাশ বড়ুয়া, সুব্রত বড়ুয়া, সালমা চৌধুরী, মেজবাহ খান, সুকুমার বড়ুয়া, অমিত চন্দ প্রমুখ।
গেল শতাব্দীর ছয়-এর দশকে এদেশের শিশুসাহিত্যের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ-এর প্রকাশ। যা প্রকাশিথ হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে। এখ্লাসউদ্দিন আহমদ সম্পাদিত এই সংকলনটির মতো ‘সুচারু, শোভন, প্রতিনিধিত্বমূলক অথচ অল্পদামী আর কোনো শিশুগ্রন্থ এ যাবৎ আর এখানে প্রকাশিত হয়নি’। তাঁর সম্পাদিত টাপুর টুপুর নজির সৃষ্টিকারী আরেকটি উল্লেখযোগ্য পত্রিকা। এসময় চট্টগ্রামে অবস্থানের কারণে আল মাহমুদ ও এখ্লাসউদ্দিন আহমদ চট্টগ্রামে শিশুসাহিত্য বিকাশে অবিস্মরণীয় ভূমিকা রাখেন। টাপুর টুপুর, দৈনিক আজাদীর ছোটদের পাতা আগামীদের আসর ও সেই সময়ে প্রকাশিত নানা সাময়িকীর মাধ্যমে প্রণত বড়ুয়া, দীপঙ্কর চক্রবর্তী, মোঃ মাহবুব উল আলম, জহুর-উশ-শহীদ, মশউদ-উশ-শহীদ, শৈবাল বড়ুয়া, বখতেয়ার হোসেন, রনজিৎ বরণ দেব, নূর মোহাম্মদ রফিক, খন্দকার আখতার আহমেদ, জামাল উদ্দিন বাবুল, শামসুল হক হায়দরী, অতনু বিশ্বাস, মাহবুবুর রহমান, খুরশীদ আলম বশির, এবিএম ওসমান গণি, প্রদীপ খাস্তগীর, কঙ্কন নন্দী প্রমুখ লেখকের উত্তরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চট্টগ্রামের শিশুসাহিত্যের যে সম্মানজনক বলিষ্ঠ অবস্থান, তার সার্থক সিঁড়ি হিসেবে কাজ করেছিলেন এইসব অগ্রগণ্য লেখক। শিশুসাহিত্যের বহমান ধারাটি আরো গতিময় ও সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁদের ভূমিকা অপরিসীম।
সেই কবি ও ছড়াকারদের সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করবো এ নিবন্ধে। নিবন্ধে নাম অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে তাঁরাই এখানে এসেছেন, যাঁরা গ্রন্থের রচয়িতা। দেশের সংস্কৃতিকে বিকশিত ও সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে সেই লেখকরাই পালন করেন অপরিসীম ভূমিকা। ফলে তাঁদের পরিচিতি সংগ্রহ করে এবং তাঁদের প্রকাশিত গ্রন্থের তথ্য নিয়ে অনুসন্ধিৎসু ও বিশ্বস্ত পাঠকের সামনে তাঁদের অবদান তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য।
অজয় দাশগুপ্ত (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক। বাংলাদেশের ছড়াসাহিত্যে অনন্য একটি নাম। গত শতকের সত্তর দশকের অকুণ্ঠ মেধার অধিকারী ছড়াসাহিত্যিকদের অন্যতম তিনি। ছোটো বড়ো সকলের জন্য নানামুখী ছড়া লিখে তিনি পাঠক সমাজে খ্যাতি লাভ করেছেন। বলা যেতে পারে অজয় দাশগুপ্ত দেশের পাঠকপ্রিয় এক দক্ষ ছড়াশিল্পী।
তাঁর প্রকাশিত বই : তোমার আমার ঠিকানা, কৃষ্ণ সংস্কৃতির উথান পর্বে, তৃতীয় বাংলার চোখে, ছড়ায় গড়ায় ইতিহাস, দূরের দুরবিনে স্বদেশ, শুধু ছড়া পঞ্চাশ, কলামগুচ্ছ, কালো অক্ষরে তোমার রক্তাভ মুখ,
অনিল চক্রবর্তী (১৯৪৮)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: লড়াকু লিমেরিক, উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা, যদি কিনতু অথচ, মোহন বাঁশির সুর।
অনিন্দ্য বড়ুয়া। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : বন পাহাড়ের ছড়া।
অনুপম সেন (১৯৪০)। কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক, গবেষক। এই জনপদের অগ্রগণ্য ব্যক্তিত্ব। কি পাণ্ডিত্য, কি গবেষণা, কি শিক্ষা, কি দর্শন, কি রাজনীতি, কি সংস্কৃতি, কি সাহিত্য- প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। দেশের নানা উত্থান-পতন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ও সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনে তিনি পালন করেছেন অগ্রণী ভূমিকা। তিনি আমাদের প্রগতিশীল ধারার বিবেকী কণ্ঠস্বর। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : দি পলিটিক্যাল ইথিকস অব পাকিস্তান : দেয়্যার রুল ইন পাকিস্তানস ডিসইন্টিগ্রেশন, বাংলাদেশ : রাষ্ট্র ও সমাজ; ব্যক্তি ও রাষ্ট্র : সমাজ-বিন্যাস ও সমাজ-দর্শনের আলোকে; আদি-অন্ত বাঙালি : বাঙালি সত্তার ভূত-ভবিষ্যৎ; বাংলাদেশ : ভাবাদর্শগত ভিত্তি ও মুক্তির স্বপ্ন; কবি-সমালোচক শশাঙ্ক মোহন সেন; বাংলাদেশ : ভাবাদর্শগত ভিত্তি ও মুক্তির স্বপ্ন; বিলসিত শব্দগুচ্ছ (প্রতীচী ও প্রাচ্যের কয়েকটি কালজয়ী কবিতার অনুবাদ); জীবনের পথে প্রান্তরে; সুন্দরের বিচার সভাতে; ইতিহাসে অবিনশ্বর; বাংলাদেশ ও বাঙালি : রেনেসাঁস, স্বাধীনতা-চিন্তা ও আত্মানুসন্ধান; বাঙালি-মনন, বাঙালি-সংস্কৃতি : সাতটি বক্তৃতা; বিচিত ভাবনা।
অনুপমা অপরাজিতা। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই: তোমার সমাসঙ্গে কবিতার উঠোন, স্বপ্নভুক লোনাজন, দ্বিখণ্ডিত হিরণ¥য় গন্তব্য ও নদীর জন্য পিপাসা, মুহূর্তের মুখচ্ছবি।
অপু বড়ুয়া (১৯৭২)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আকাশে রঙিন ঘুড়ি, যুগলবন্দি প্রেম, জন্ম আমার ধন্য হলো
অভিষেক ভট্টাচার্য (১৯৭৭)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : অশ্রুছায়া বসন্ত।
অভীক ওসমান (১৯৫৬)। কবি, প্রাবন্ধিক, নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : রাতফেরার/অবশেষে জেনারেল, শংখ উপখ্যান, গদ্যকথা, বিষাদের জার্ণাল, অভীক ওসমানের তিন নাটক, পৃথিবীর করুণ ডাঙায়, প্রয়াত পাঁচ ও ইবসেন, শুধু তোমার জন্যে এই অরণ্যে, হে সংসার হে লতা, নাট্য চতুষ্টয়, গুরুদক্ষিণা।
অমিত প্রসাদ মুৎসুদ্দী (১৯৪৬)। কবি ও ছড়াকার। প্রকাশিত গ্রন্থ: বিচিত্রিতা, ছড়ায় ছড়ায় ছন্দ, অব্যক্ত, অবিস্মৃত অধ্যায়, দি হোটেল নাইট লং।
অমিত বড়ুয়া (১৯৬৭)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : যখন বাজে ছুটির ঘণ্টা, ছুটির বাঁশি, রোদের কণা পাখির পালক, লাজ রাঙা বউ, বুকে আঁকা বাংলাদেশ, ভরদুপুরে বাঁশির সুরে, নির্বাচিত ছড়া, ছুটি শেষে ভালোবেসে প্রভৃতি।
অরবিন্দ বড়ুয়া (১৯৪৬)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অনুপম জাতক, হে মহা জীবন ।
অরুণ দাশগুপ্ত (১৯৩৬-২০২১)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও গুণী সাহিত্য সম্পাদক। সৃজনশীল ও মননশীল জগতের একজন অনুকরণীয় পুরুষ। শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সংগীত, রাজনীতি, দর্শন, ইতিহাস, ঐতিহ্য– এমন কোনো দিক নেই যে তিনি জানতেন না। লেখালেখিতে ও লেখকের মানস-গঠনে যাঁর অবদান অসামান্য। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্ত : ‘রবীন্দ্রনাথের ঋতুর গান ও অন্যান্য’ এবং ‘যুগপথিক কবি নবীন চন্দ্র সেন’।
অরুণ শীল (১৯৬২)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : মেঘের দেশে আলোর ঘোড়া, সাদা মেঘের সাকো, চাঁদের বুড়ি ওড়ায় ঘুড়ি, মেঘ তাড়ুয়া, মেঘ উড়ে যায় বন পাহাড়ে, আয়রে সকাল আয়, রোদের বাড়ি যাব, নির্বাচিত কিশোরকবিতা, ১০০ কিশোরকবিতা, পড়ছি পাখির খাতা, পদ্মপরি ও পালোয়ান, নির্বাচিত ছড়া।
অরুণ সেন (১৯৫৮-২০১৬)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শঙ্কায় নিনাদে শঙ্খ, বাইরে রেখে পা, শেষ বিকেলের কড়ানাড়া, রুদ্র গেছে রোদের বাড়ি।
আইউব সৈয়দ (১৯৫৬)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বপ্নের স্মারকলিপি, শঙ্খ নদীর না’, দোলার জন্য ছড়া, সম্পাদনা: বাংলাদেশের ছড়া।
আকতার হোসাইন (১৯৫৭)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : যে তুমি কাঁদাও এসে, চোখের তারা সকল মেয়ের নাচে না, কষ্ট নাও সমানে সমান, যে বিষ ছুঁয়েছে রক্ত, জলের কাতর ডানা, দরিয়া কাঁদে না দাঁড়ের আর্তনাদে, মেঘ তোমাকে দিলাম ছুটি, ইহানের জন্য ছড়া প্রভৃতি।
আকাশ আহমেদ। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আয় আয় মেঘ পরী।
আকাশ মাহমুদ (১৯৫৩)। কবি, গল্পকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গন্তব্য সামনেই, বাংলা সাহিত্যে যুদ্ধ জীবন।
আখতার উন নবী (১৯৪৯-২০১৪)। কবি, গল্পকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: প্রতিবার শনিবার, রম্য: প্রেমের নাম বেদনা, অনুবাদ গ্রন্থ: কৃষণ চন্দরের ফুলে ফুলে খুঁজে ফেরে, মাটির প্রেম, এজেন্ট এফ বি আই, শয়তানের পদত্যাগ, পাঁচ গুণ্ডা এক নায়িকা, এক লায়লা হাজার মজনু, দরজা খুলে দাও, কার্ণিভ্যাল, তিনগুণ্ডা, আমার যত স্মৃতি, বোম্বের সন্ধ্যা, সা’দত হাসান মান্টোর দুটি উদাস চোখ, সেই মেয়েটি, প্রেম আমার প্রেম, দুই হৃদয়, খাজা আহমদ আব্বাসের এবং আলো এবং আঁধার, দুফোঁটা পানি,রক্তের মত লাল, মুনসী প্রেম চাঁদের প্রেমেশ্বরী, কৃষণ চন্দরের প্রেমের গল্প, গোলাম আব্বাসের জুয়াড়ি, উর্দু প্রেমের গল্প, চাঁদ হে চাঁদ, সা’দত মান্টোর ডার্লিং ডার্লিং ডার্লিং।
আখতারুল ইসলাম (১৯৮০)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : মেঘের ডানায় রোদের ছুটি , ধানের দেশে গানের দেশে, নীল আকাশের ডানা , ইচ্ছেঘুড়ি স্বাধীনতা,একটা সবুজ পৃথিবী চাই, ফুটছে আলোর ফুল , মুক্তির সুর শেখ মুজিবুর, আজ সারাদিন ছুটি, লাল সবুজের দেশ, রোদের লুকোচুরি , ভিনগ্রহে নীল জোনাকি (বিজ্ঞানভিত্তিক ছড়া), টাপুর টুপুর আনন্দপুর , টক মিষ্টি ফলের ছড়া, নীলগ্রহ লাল আকাশ, ডাইনোসরের ডিম, উড়ন্ত মানুষ, অর্ধেক মানুষ অর্ধেক রোবট, জিরো, আরিয়ান, ভূতমামা ও ভিনগ্রহের ইঁদুর, ফুল পরিদের ডানা , স্যারের নীল কলম,সোনার পুতুল হীরের চোখ, ইচ্ছেপূরণ পাখি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিজ্ঞান বিষয়ক বই:-চেনা প্রাণীর অচেনা জগৎ, অদ্ভুত প্রাণী ডাইনোসর।
আজহার মাহমুদ। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : খোলামেলা অনুভূতি।
আজাদ বুলবুল। মূলত কথাসাহিত্যিক। কবিতাতেও বিচরণ তাঁর। তাঁর প্রকাশিত বই : অগ্নিকোণ, করোনাকালের ক্বাসিদা।
আজিজ কাজল। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: এ পালের জোছনা প্রহরে, বাঁকা হরেক চাঁদ, ধ্বনি পূর্বাপর।
আজিজ রাহমান (১৯৬৫)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘রাঙা আলো রঙ ছড়ালো’, ‘রোদ তুলেছে আনন্দ ঢেউ’, ‘ছুটি বাজায় খুশির বাঁশি’, ‘মন ভালো চাই’, হিটলুর গোপন মিশন ।
আনন্দ মোহন রক্ষিত (১৯৫০)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ঢালো বিষ ঢালো অমৃত (১৯৯৭), তুমিও ফেরালে চোখ (২০০১), মানুষের দ্রোহ মানুষ (২০০৬), অনুরাগে ভেজা চোখ (২০০৯), চেরাগির অপূর্ব আলোয় (২০২০)।
আনোয়ার শওকাত আফছার (১৯৬৮)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ভালবাসার সাগরে জেগে ওঠা দ্বীপ, হাত বাড়িয়ে হাত চেয়েছি, ছড়া: সোনামণিদের ছড়া ।
আনোয়ার হোসেন পিন্টু (১৯৬০)। ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, শিল্পসমালোচক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: চলচ্চিত্র প্রসঙ্গ, চলচ্চিত্র চিন্তা, সত্যজিতের রবীন্দ্রনাথ ।
আনোয়ারা আলম (১৯৫০)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ভাঙনের শব্দ, ভিন দেশে ঝরা পালক, ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম ও শিশু, আমার শিক্ষকতার জীবন, বসন্তের বৃষ্টি, ‘ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামের নারী’, ‘শিশির থেকে শবনম’ প্রভৃতি।
আনোয়ারুল হক নুরী (১৯৬৪)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘হাসি খুশির জোনাক জ্বলে’ ও ‘মেঘ পাহাড়ের বাড়ি’।
আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ :বারোয়ারি ছড়া, ছড়ায় ছড়ায় বাংলাদেশ, ছড়ায় ছড়ায় বঙ্গবন্ধু, ভাষার ছড়া দেশের ছড়া, ছড়ায় ছড়ায় ভাষার লড়াই, ছড়ায় ছড়ায় শেখ রাসেল, হীরের টুকরো মাশরাফি, দেশের ছড়া দশের ছড়া, যুদ্ধদিনের গল্প, গল্পটি মুক্তিযুদ্ধের, ভাইয়েরা আমার, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটেকে জানো।
আ ফ ম সিরাজউদ্দউলা চৌধুরী (১৯৪০-১৯৯৯)। ছিলেন অত্যন্ত প্রাণোচ্ছল-দীপ্তপ্রাণ। খ্যাতিমান কবি হিসেবে, প্রাজ্ঞ অধ্যাপক হিসেবে, রসপ্রিয় আড্ডারু হিসেবে এবং অসাধারণ বক্তা হিসেবে তিনি অনেকের কাছে শুধু পরিচিত নন, প্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন বহুমনের মণিকোঠায়। তাঁর প্রকাশিত কাব্য ‘বিপন্নতা প্রতিদিন’, ‘একগুচ্ছ ভালোবাসা ও পিকনিক’, ‘রুবাইয়াত-ই-সিরাজ’ এবং ছড়া ‘খান সাহেবের চশমা’। তাঁর জীবনের শেষ লেখাটি ছিল এরকম :
‘মরণোত্তর পদক চাই না, চাই না প্রশংসাও
জীবদ্দশায় যা কিছু প্রাপ্য-পারো যদি তাই দাও।
যত ক্ষুদ্রই হোক তা আমার সঠিক প্রাপ্য জানি,
মৃত্যুর পরে বলো না তোমরা আমাকে মহৎ জ্ঞানী।’
আবদেল মান্নান। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সামনে দাঁড়াও পথ রুখে, গোষ্ঠে চলো হরি মুরারি,
আবসার হাবীব (১৯৫৫)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গবেষণা: দেলীপাড়া: বাংলাদেশের একটি অখ্যাত জেলে গ্রাম, কাব্য: কবে শেষ হবে এই গ্রহণের কাল ভোর বেলাকার বারান্দায় দাঁড়িয়েছি, জয় হোক মানুষের, দাও নক্ষত্রের বর্ণমালা ।
আবু তাহের মুহাম্মদ (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ব্যক্তিগত ঈশ্বরের সাথে, আছি অঙ্গারে আছি সংহারে, আড়ি আড়ি আড়ি, নির্বাচিত কবিতা।
আবু মুসা চৌধুরী (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : মুরলী বেজে ওঠো, সুসমাচার।
আবুল কালাম বেলাল (১৯৬৬)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : হাতের কাছে ফড়িং নাচে নাক ড্যাঙা ড্যাং ড্যাং, আয়রে সবুজ আয়রে অবুঝ, তাল বেতালের তাল, ভূত শিকারের গল্প, মাগো তোর শ্যামল মায়ায়, রক্তে ভেজা সবুজ মাটি, স্বপ্নের রঙে দেশ, প্রিয় দেশ প্রিয় কবিতা।
আবুল মোমেন (১৯৪৮)। সমকালীন বাংলাদেশের এক অগ্রগণ্য লেখক। দেশের প্রথম সারির একজন বুদ্ধিজীবী। মননশীল প্রাবন্ধিক হিসেবে শুধু দেশে নয়, দেশের বাইরেও তিনি সমাদৃত। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটিয়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন ব্যতিক্রমী ধারা। শিক্ষায়, সাহিত্যে, সাংবাদিকতায়, সমাজ সংস্কারে – সবক্ষেত্রেই তিনি অনন্যসাধারণ ও সাহসী কণ্ঠস্বর।
সাহিত্যের নানা শাখায় তাঁর কাজ। কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, অনুবাদ, ভ্রমণ, নাটক, গবেষণা, শিশুসাহিত্য- প্রতিটি শাখায় রয়েছে তাঁর অজগ্র লেখা। দায়িত্বশীল রচনার জন্য তিনি আমাদের কাছে আইডল। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: চার ভুবনের চারণ, চড়াই উৎরাই, অর্ঘ্য পৌরুষের, প্রবন্ধ: কালসমুদ্রে আলোর যাত্রী, সংস্কৃতির সংকট ও সাম্প্রদায়িকতা, বাংলা ও বাঙালির কথা, অপরূপকথা, মরুভূমি, কিশোর উপযোগী : স্পার্টাকাস, বিজ্ঞানীমামা ও অপারেশন ফিউচার, আরও এক বধ্যভূমি, জীবনী গ্রন্থ: বুদ্ধ, শিশুপাঠ্য: খেলাপড়া, এসো শিখি ইংরেজি, সূর্য ও শিউলি ।
আবু হেনা দীপক (১৯৬৭-২০০৪)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : একাত্তরের পশু, তুমি যে আমার।
আমানউদ্দীন আবদুল্লাহ (১৯৫২)। কবি, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘চাঁদনী আমার চাঁদনী’, ‘চাঁদের বুকে’; ‘মিঠে কড়া ছড়ার বড়া’, ‘মান করো না খোকন সোনা’।
আমিনুর রহমান আমিন (১৯৬৬)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দহনে বর্ষণে স্বপ্নরত।
আলম খোরশেদ (১৯৬০)। কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত বই : ভার্জিনিয়া উলফের বই ‘অ্যা রুম অফ ওয়ান্স উন’ এর অনুবাদ ‘নিজের একটি কামরা’, সালমান রুশদির ‘দ্য জাগুয়ার স্মাইল’, হেনরি মিলারের আত্মজৈবনিক রচনা ‘ভাবনাগুচ্ছ’, মূল স্প্যানিশ ভাষা থেকে অনূদিত বোর্হেস ও বিক্তোরিয়া ওকাম্পোর আলাপচারিতা, ‘নির্জন নিশ্বাস: নারী বিশ্বের কবিতা’, ‘লাতিন-দ্বাদশী’, নোবেল-বিজয়ী পোলিশ কবি ‘ভিস্লাভা শিমবরস্কার ত্রিশটি কবিতা’, ‘নিউ ইয়র্ক নিসর্গ’, ‘নৈঃশব্দের নামগান’, জাদুবাস্তবতার গাথা: লাতিন আমেরিকার গল্প’, ‘মানবীমঙ্গল’ ইত্যাদি।
আলমগীর শিপন (১৯৭২)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অন্তরালে, প্রেয়সী, ছোটদের মজার গল্প, গল্প বলি গল্প শোন।
আলম মাহবুব (১৯৬৫)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : পতাকা আমার দেশ (২০০১)।
আলেক্স আলীম (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সামনে দাঁড়াও পথ রুখে (যৌথ), বিশ্বাসে নিঃশ্বাসে।
আলেয়া চৌধুরী (১৯৫২)। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নন্দিত সূর্য, সমীরণে সৌরভে, জীবন-যুদ্ধ-প্রেম, মেঘ বৃষ্টি রোদ ।
আসমা বীথি। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ি, এসো হে জন্ম
আসাদ মান্নান (১৯৫৭)। কবি। সত্তর দশকের অন্যতম প্রধান কবি, মা-মাটি ও মাতৃভূমির বেদনাকে নিসর্গের ক্যানভাসে বিচিত্র রঙ ও রেখায় একজন নিপুণ শিল্পীর অসামান্য কল্পনায় অঙ্কন করেছেন বহুমাত্রিক শব্দচিত্রে। আসাদ মান্নানের উল্লে¬খযোগ্য কাব্যগ্রন্থ: ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’; ‘সূর্যাস্তের উল্টোদিকে’; ‘সৈয়দ বংশের ফুল’; ‘ভালোবাসা আগুনের নদী’; ‘দ্বিতীয় জন্মের দিকে’; ‘তোমার কীর্তন’; ‘যে-পারে পার নেই সে-পারে ফিরবে নদী’; ‘নির্বাচিত কবিতা’; ‘প্রেমের কবিতা’; ‘হে অন্ধ জলের রাজা’; ‘জলের সানাই ;’ দদপাথর সে কী করে কাঁদে;’ দকুয়াশা উপেক্ষা করে বসে আছে আশা’ ইত্যাদি।
আহমদ ছফা (১৯৪৩-২০০১)। বাংলা সাহিত্যের মননশীল ও সৃজনীশক্তির এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব আহমদ ছফা। তিনি একাধারে কবি, ঔপন্যাসিক, গল্পকার, দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবী। একজন ঔপন্যাসিক কিম্বা দার্শনিক হিসেবে তিনি যতখানি পরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত কবি হিসেবে ততখানি প্রতিষ্ঠা না পেলেও তাঁর কবিতায়ও রয়েছে স্বতন্ত্রতা। কাব্যগ্রন্থের মধ্যে ‘জল্লাদ সময়’, ‘লেনিন ঘুমোবে এবার, ’বস্তি উজাড়, ’দু:খের দিনের দোহা,’একটি প্রবীন বটের কাছে প্রার্থনা ও ‘আহমদছফার কবিতা (কাব্য সমগ্র)। তাঁর সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। লোকজ ভাষা, পুঁথিপুরাণের শব্দ ও বাকরীতির প্রকাশ তাঁর কবিতাকে এক স্বাতন্ত্রিক রূপদান করেছে।
আহমদ খালেদ কায়সার (১৯ ৫৫-২০২০)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জেগে থাকে মৃদু বুদবুদ’
আহমেদ মাওলা (১৯৭১)। ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মুক্তিযুদ্ধের সাহিত্য, ইমদাদুল হক মিলনের কথাসাহিত্য, বাংলাদেশের কথাসাহিত্যে প্রবণতা সমূহ, নজরুলের কথাসাহিত্য: মনোলোক ও শিল্পরূপ ।
আহসান মালেক (১৯৫৩)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ছড়া: জগাখিচুড়ি (২০০০), চৈতী দিনের হাওয়া (২০০০), থুড়িবুড়ি (২০০১)।
আহসান সাইয়েদ (১৯৬৩)। কবি, গল্পকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মাঝরাতে বৃষ্টি (১৯৯৬), হাদীছ সংকলনের ইতিবৃত্ত (২০০১), নাগীব মাহফুজের ছোটগল্প (২০০১)
আহসানুল হক । কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘স্মৃতির শ্মশানে তিন বসন্ত’, ‘সমকালীন ছড়া’, ‘এই পতাকা স্বপ্ন আঁকা’।
ইউসুফ মুহম্মদ (১৯৫৮)। কবি, ছড়াকার। প্রকাশিত গ্রন্থ: জল প্রবাহে পদচিহ্ন, হাত বাড়ালেই বুকের নদী, আয়না ও অন্যান্য কবিতা, নেহাই।
ইকবাল করিম রিপন। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: চিৎকার, হাট খোলা থেকে।
ইকরামুল হক ইলি। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ফ্রিল্যান্সিংয়ে ডোবে পারিবারিক চাঁদ, রাজার পিঠে গাধা, ঘোড়ার পিঠে
ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী (১৯৫৫)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘বাংলাদেশ : প্রাসঙ্গিক সমাজ চিন্তা’ ‘দক্ষিণ এশিয়ায় জাতি-বর্ণ বৈষম্য : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’, ‘দলিত ও জাতি-বর্ণ বৈষম্য : পরিপ্রেক্ষিত বাংলাদেশ’, ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা : আস্থার অবিচল ঠিকানা, ‘বাঙালির বঙ্গবন্ধু : বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিব’ ‘মাঙ্গলিক পদ্মা সেতু উন্নয়নের নবদিগন্ত’, ‘বঙ্গবন্ধু, মহান একুশে ও মুক্তিযুদ্ধ’ ‘বঙ্গবন্ধু ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ’ , ‘গণতন্ত্রের জয়-পরাজয়’ ‘পরিবেশ-অর্থনীতি-সামাজিক অসঙ্গতির গতি-প্রকৃতি’।
ইফতেখার মারুফ। ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘বীথিমণির গল্প’, ‘সাবুর স্কুলে ফেরা’, ‘মেঘের রাজ্যে বীথি’, ‘রামধোলাই’, ‘রাসেল তোমায় ভালোবাসি’।
ইব্রাহিম আজাদ। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘সমুদ্রকে হাতে নিয়ে’
ইয়াসমিন মাসুদ (১৯৭৮)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নিঃশব্দে অনুভূতি।
ইসমাইল জসীম (১৯৭১)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ছড়া : খুকুর নাচন দেখে যা, কিশোর কবিতা: মন ছুঁয়েছে ঘুড়ি, কিশোর ও মেঘবালিকা, প্রবন্ধ: কিশোর উপযোগী পুঁথিবিশারদ আবদুস সাত্তার চৌধুরী। সম্পাদিত গ্রন্থ: বাংলাদেশের আবৃত্তি উপযোগী কিশোর কবিতা, আমার মায়ের মুখের হাসি।
উৎপলকান্তি বড়ুয়া (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : বাকুম বাকুম বাক, বুদ্ধের ছড়া(১৯৯৯), ফুলের কুটুম(২০০১), চার বেহারার পালকি (২০০২) দিল্লি ফেরৎ বিল্লি (২০০৮), দুষ্টুবুড়ি কুসুমপুরী (২০১২), ছড়াপুর কতদূর (২০১৫), অবুকরে বুক বুক (চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় রচিত ২০০০), ছড়াসমগ্র (২০১৮); হীরনমতি(২০০১), রাজপুত্রের সাজা (২০১৫), মা কাক বাবা কাক (২০১৭), রাতুলের মুক্তিযুদ্ধে যাওয়া (২০১৮); আজকে ছুটির দিনে (২০০৯, চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে-২০১৪, আমার স্বপ্ন আমার দেশ (২০১৭); ক্লেরিহিউ গ্রন্থ- আলো ঝলমল রঙিন কমল(২০১৬), সত্যের আলোকধারা (২০১৬)।
উৎপল দত্ত(১৯৬৮)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: চিত্তের প্রতিমা তুমি (১৯৮৫), ভালোবাসার জন্য (১৯৮৭), ভালোবাসা, জীবনদ্রোহে একা (১৯৮৭)।
উত্তম সেন। চিত্রশিল্পী, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা, রঙিন মেঘের দল।
উমরতুল ফজল (১৯২১-২০০৫)। কবি, শিশুসাহিত্যিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিংশতি (১৯৫৩), ঊর্মি (১৯৬৯), বাংলাদেশের গল্পকাহিনী (১৯৭৬), স্মৃতিকথা (১৯৮৭), শিশুতোষ দাদিমার গল্পের ঝুলি (১৯৯০)।
ঋত্বিক নয়ন (১৯৭৮)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কালনাগিণীর ছোবল।
এজাজ ইউসুফী (১৯৬০)। কবি। উত্তরাধুনিক কবিতা চর্চার অগ্রসৈনিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য : স্বপ্নাদ্য মাদুলি, উত্তর আধুনিকতা: নতুন পরিপ্রেক্ষিত ।
এন.এম. হাবিব উল্লাহ (১৯৪৭-২০০৫)। শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অসীমে পাড়ি, রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাস ।
এমরান চৌধুরী (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: থির দুপুরে বিজন পথে, স্বাধীনতা মানে পাখিরাই জানে, আমার আছে তিনটা মামা, খোকার বাড়ি অনেক দূর, সমকালীন ছড়া, ঋতুর খেলা ছড়ার মেলা। গল্প: চিকন খোলার ভূত, মুক্তিযুদ্ধের একদিন, গল্পগুলো মজার, টুকটুকি ও টিকটিকি, একাত্তরের গল্প শোনো, গল্পে গল্পে মহানবি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), ফাদার অব দ্য নেশন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলনের কিশোর ইতিহাস, জাতির সূর্যসন্তান সাত বীরশ্রেষ্ঠ; যুগের প্রতীক মওলানা মনিরুজ্জমান এছলামাবাদী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, ছোটদের বন্ধু বঙ্গবন্ধু, ছোটদের বঙ্গবন্ধু।
এয়াকুব সৈয়দ (১৯৫৬)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ঘুড়ি (১৯৯৬), ঝালমুড়ি (১৯৯৭)।
এলিজাবেথ আরিফা মুবাশশিরা (১৯৫০)। কবি, কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : নক্ষত্রহীন রাতে, শ্রাবণ দিনের কেয়া, বকুল ঝরা পথে; অনুভব, বৈশাখের লাল গোলাপ, ফাল্গুনে একদিন, যখন ফুটলো ফুল, হৃদয়ে লেখো নাম; ফুলপরীর দেশে, খুদে এক মুক্তিযোদ্ধার গল্প, গল্প হলেও সত্যি, স্বাধীনতার জন্য; কুসুমে কুসুমে চরণচিহ্ন, রৌদ্রদহন, ‘আমার দেশ আমার শহর’।
এস. এম. আনোয়ার হোসাইন। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের নাম: দর্পণ।
এস.এম. নূর উল আলম (১৯৫২)। কবি, লোককবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: জীবন জিজ্ঞাসা: শৈল্পিক সংগ্রাম।
এস. এম. ফসিউদ্দৌল্লাহ (১৯৪৭)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ছড়াকারের দৃষ্টিতে রাজাকার ।
এস.এম. মোখলেসুর রহমান। ভ্রমণলেখক, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘গোলার্ধ থেকে গোলার্ধে’।
ওবায়দুল সমীর (১৯৬৭)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্মৃতির অরণ্যে তুমি, খাইছেরে ভাই খাইছে, মন হারানোর দিন, ভূতের হাতে হাতকড়া, ওলট পালট, পটলার পল্টু ভাই, ঝড়ের শেষে, আই অ্যাম ভেরি সরিং, লাল্টু দ্য গ্রেট, ভালো ভূত কালো ভূত, আমি বাবার লালপরি, কুড়িয়ে পাওয়া গ্রেনেড, ছক্কা ছড়ার ঝাঁপি, ভূত ক’প্রকার, কী কী।
ওমর কায়সার (১৯৫৯)। কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। কবিতার প্রকাশভঙ্গি, বিষয়-বৈচিত্র্য, শব্দের অনন্তের দোতনা ও ছন্দের অমোঘ বাণীতে তিনি ভাস্বর। তিনি গড়ে তুলেছেন নিজস্ব ভুবন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : প্রাগৈতিহাসিক দুঃখ, আকাশ বুনন, প্রতিমা বিজ্ঞান, বাস্তুসাপও পালিয়ে বেড়ায়, প্রাচীন প্রার্থনাগুলো, নির্বাচিত কবিতা, আমিহীন আমার ছায়াগুলো, অ্যাকুরিয়ামের দিনগুলো, দূর সাগরে পথ হারিয়ে, মেছো ভূতের গল্প; পরি ও জাদুর তুলি, জাদুর বেলুন, অবিকল স্বপ্নের মতো, তৃণভূমি প্রভৃতি।
ওম প্রকাশ ঘোষ রায়। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মুক্তিযুদ্ধের গল্প, মুখোমুখি, বিজ্ঞান নাটক: ইউরেকা, টোকাই সোনার দাবী, ভালবাসা আমার অন্যের ঘরণী।
কবির আহমদ (১৯২৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সুবেহ সাদেক।
কমলেশ দাশগুপ্ত। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : পাথরের স্রোত, কেদারনাথ দাশগুপ্ত , প্রাচীন চট্টগ্রাম ও সেকালের হিন্দু সমাজ, চট্টগ্রাম বিদ্রোহ: কত উৎস কত মুখ, চট্টগ্রামের খ্রিস্টান সমাজ।
করুণা আচার্য (১৯৬২)। ছড়াকার, প্রবন্ধকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : নিষিদ্ধ সীমানা, নারী : সমকালীন ভাবনা, মাঠ পেরুলেই মা, প্রত্যাশার ঢেউ, পাখির বাসা রঙিন আশা, কাঠুরিয়া ও গাছবন্দী পরী, এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন।
কল্যাণ বড়ুয়া (১৯৫৭)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই ‘চেনা পথে অচিন পাখি’, ‘নির্জলা ঢেউ’, ‘মেঘ রোদ্দুর বাজায় নূপুর’।
কাইয়ুম নিজামী (১৯৫৩)। সাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমি বকুল তলায় থাকব, তুমি আমার অহংকার, লাল গোলাপের কান্না, বাসর হবে বাগান বাড়িতে, পাপিয়ার ভালবাসা, সুখে থাকো প্রিয়তমা, কথা দিলাম ভালবাসব, এ মন তোমাকে দিলাম, চেনা মেয়ে অচেনা মন, শুভেচ্ছা নিও, রাঙা গোলাপ, তোমায় নিয়ে স্বপ্ন দেখি।
কাজল কান্তি দাশ (ডা.) (১৯৫১)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই: ‘বিধ্বস্ত স্বদেশ- বিপন্ন মানবতা’ এবং ‘একাত্তর রণাঙ্গনের এপিঠ ওপিঠ’।
কাজী জাফরুল ইসলাম (১৯৩৯)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিশ্ব ১ ইতিহাসে লেনিন, সাংবাদিকতা একটি বিজ্ঞান, কার্ল মার্কসের দেশে, বক্তৃতা শিক্ষা, সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ, মধ্যযুগের মুসলিম শাসকেরাই বাংলা সাহিত্যের স্থপতি, স্মৃতিতে অমলিন একাত্তরের অবরুদ্ধ দিনগুলো, অধ্যাপক গোলাম আজম গং রাষ্ট্রদ্রোহী নন-জাতিদ্রোহী, মরণোত্তর পদোন্নতি (রম্য), বৃটিশযুগে বাংলাদেশের সংবাদ ও সাময়িকপত্র (১৮৪৭-১৯৪৭), স্বাধীনতার প্রথম কবিতা।
কাজী জাহাঙ্গীর। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমিও কি ভালোবাসি তারে।
কাজী মূসা (১৯৫৬)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অক্ষিনদী গঙ্গা, দৃষ্টির দিগন্তে সৃষ্টির সীমান্ত, দাদুর খুকী খোকার দাদী, তীর্থগামী জল, মাইলফলকের পর মাইলফলক ।
কাঞ্চনা চক্রবর্ত্তী (১৯৭১)। প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘মুক্ত করো ভয়’, ‘বাংলা শিশুসাহিত্য ও তার অগ্রনায়কেরা’, ‘গণমানুষের গণদেবতা’, ‘চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০ বছর : শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাহিত্যচর্চা’।
কানিজ ফাতিমা। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : বিকেল হাসে প্রজাপতির রঙে, পাখি চায় পড়তে, ছুটিরাঙা দুপুর, খেয়ালী এক মেঘের সাথে।
কাফি কামাল। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: লবঙ্গ কন্যা (২০০০)।
কামরুন ঋজু। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘শেষ বসন্তের আশায়’, ‘মামার বাড়ি মজা ভারি’।
কামরুন নাহার ঝর্না (১৯৫৯)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘মেঘ মালা’।
কামরুল হাসান বাদল (১৯৬১)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : একদিন জ্যোৎস্নার স্পর্ধায় (১৯৯৪), ধূপদেশে স্বর্ণচূড়া (১৯৯৯); ছড়া: ভাগ রাজাকার, হঠাও রাজাকার।
কায়সার ইকবাল। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘অস্তিত্বে অনুভূতি’, ‘মাউন্ট অফ লাইট’।
কাসেম আলী রানা (১৯৬৭)। কবি, ছড়াকার, নাট্যকার, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ননসেন্স (২০০০), জলের কন্যা জলবতী (২০০১), অমুক ভাই তমুক ভাই, কাকের বাসা বকের বাসা, এই হাসি এই কান্না, আরুল পারুল জারুল ফুল প্রভৃতি।
কুমকুম দত্ত। কবি। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: পরানছায়া।
কুমার প্রীতীশ বল (১৯৬৭)। শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : আগামীর জন্য ভালোবাসা।
কুতুবউদ্দিন বখতেয়ার (১৯৭৮)। কবি-ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : স্বপ্ন দেখি বাঁচতে শিখি, স্বর্ণচূড়, কবিতায় ভালোবাসা ও মা মাটির ঘ্রাণ।
কেশব জিপসী (১৯৬০)। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, সংগীত শিল্পী। তাঁর প্রকাশিত বই : : ‘স্বপ্নবোনা মানিকসোনা’, ‘যুদ্ধে গড়া পদ্যছড়া’, ‘খুশির সীমা নাই’ এবং ‘পায়রা ওড়ে রঙিন ভোরে’।
কোহিনুর আকতার। কবি। ‘অন্তর্জালে অন্তর জ্বলে’ ও ‘ভালবেসে ছেড়ে দেব সব অধিকার’।
কৌশিক রেইন। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘ভিজেছি মনের বৃষ্টিতে’, ‘আমার আকাশে শুধু একটিই নক্ষত্র’।
খালিদ আহসান (১৯৫৭-২০২১)। কবি, ছড়াকার, চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শীতের কফিন থেকে উৎসারিত মানিপ্ল্যান্ট।
খালেদ বেলাল (১৯৩৮-২০১৫)। কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নৈঃশব্দে পদধ্বনি, অন্য এক বিশাখা চৌধুরী, স্মৃতির লাশ মর্গে, আমৃত্যু পূর্ণিমা জামান, স্মৃতিকথা: মরা গাঙে ডুব সাঁতার, সম্পাদনা: বসন্তে বৈশাখী ঝড়, অন্ধকারে সূর্যোদয়, মানবপ্রেমিক জোশেফ রেসিন্সকি।
খালেদ সরফুদ্দীন। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : খাসকথা, আগামী বৈশাখে রাঙাবো তোমায়, বন্ধু কী বন্ধু কি তা জানে, কুটুম কুটুম।
খালেদ হামিদী (১৯৬৩)। কবি, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমি অন্তঃসত্ত্বা হবো, তুমি কি রোহিঙ্গা মাছি, না কবিতা হা কবিতা, আকব্জিআঙুল নদীকূল, সব্যসাচী।
খালেদা হানুম (১৯৪০-২০২১)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সহসা জীবন (১৯৭৩), প্রবাসে অন্যরূপ (১৯৮৪), কথা আর কথা (১৯৮৭), চিরকাল বেঁচে আছি (১৯৮৯), গল্পকার ওয়ালিউল্লাহ (১৯৯২), বাংলাদেশের ছোটগল্প (১৯৯৭)।
খুরশীদ আনোয়ার (১৯৪৮)। কবি, ছড়াকার, অনুবাদক। তাঁর শক্তির পরিচয় মেলে তাঁর রচনায়। তিনি তাঁর ভাবনার জগতে ঢুকবার জন্যে রেখে দেন একাধিক সুড়ঙ্গ বা প্রবেশপথ। যেখানে মেলে পাঠকের স্বস্তি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হরিণাবৃত্ত রোদের চিল, দেশে নই দেশান্তরেও নই, সিলভিয়া প্লাথের কবিতা, কবিতার গান: উইলিয়াম ব্লেকের কবিতা, মিষ্টি মজা ছড়ার ভাজা।
খোরশেদ আলম(১৯৬৭)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : অনন্ত কারাগার।
গোফরান উদ্দীন টিটু। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ছড়াগ্রন্থ ‘আমার ছড়া কইবে কথা’ (২০০৬), কিশোর গল্পগ্রন্থ ‘কাটাগাছের ভূত’ (২০০৮), ‘নাশরাহ্’র জন্য ছড়া’ (২০১১), রোমান্টিক গল্পগ্রন্থ ‘কোথাও বসন্ত’ (২০১৫), প্রেমকাব্য ‘প্রিয়দর্শিনীরজন্য ভালোবাসা’ (২০১৭), ‘ছড়াগ্রন্থ ‘বইপড়ুয়া কাকতাড়ুয়া’ (২০১৮), ‘নাশরাহর জন্য ছড়া’ (২০১৮) ‘ছয়গুণী ছড়াশিল্পী’ (২০১৯), প্রেমের ছড়া’ (২০১৯) ‘এলিজি’ (২০২০) ‘পুণ্যস্মৃতি’ (২০২০), মা (২০২০), কিশোর কাব্যগ্রন্থ ‘হাসবে বাংলাদেশ’।
গোলাম মোস্তফা (ডা.) (১৯৫৩)। কবি, গীতিকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নরকে বসন্ত, জ্বলছে হৃদয়, সবখানেই তুমি, হলুদ ভালবাসা ।
গৌরী প্রভা দাশ (১৯৭৪)। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : মায়াডোর, হৃদ কলমের আঁচড় (যৌথ), নৈঃশব্দ্যের ধ্যান।
চয়ন চক্রবর্তী (১৯৮২)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: লাশের হাড়গোড়।
চৌধুরী আহমদ ছফা (১৯৩০-২০১২)। প্রাবন্ধিক, কবি, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কালান্তর সাহিত্যে ফটিকছড়ির এক বিস্মৃত অধ্যয় (২০০১)।
চৌধুরী জহুরুল হক (১৯৪৭-২০০৩)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প : চোঙ্গাগল্প (১৯৬৯), কথার কথা (১৯৭০), ছোটদের গল্প (১৯৭০, ২০০১),নাটক:কল্পিত কল্পনা (১৯৮৩), সম্পাদনা: কৃষ্ণপদ বিদ্যারত্ন রচিত কাব্যনাট্য এক শৃঙ্গ নাটক বা ভগবান বুদ্ধদেবের পূর্বজীবনী, সংগ্রহ ও ভূমিকা (১৯৯১), এবনে গোলাম নবীর পাঠশালার স্মৃতি ও অন্যান্য (১৯৯৯), সুচরিত চৌধুরীর কবিতা (২০০১), ইংগিত (১৯৬৪), সাতসতেরো (১ম স. ১৯৬৪), ঐতিহ্য (১৯৬৯), চোঙ্গাগল্প (১৯৭২), চট্টগ্রাম উৎসব ‘৭৭, আজিকে এই আকাশতলে (১৯৯১, ১৯৯৩, ১৯৯৫), ছবি স্মৃতিময় (১৯৯৩)।
চৌধুরী সিরাজুল ইসলাম (১৯৭৬)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অনুভবের ছোঁয়া।
জসিম উদ্দিন খান (১৯৬৮)। কবি, ছড়াকার, গীতিকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘একবার ভালোবেসে দেখো’ ও ‘মন রাঙাবো নতুন করে’।
জসিম উদ্দীন মাহমুদ (১৯৭৩)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: লোনাজল, এক নয়নে চেনা, ভালবাসার অষ্টপ্রহর, হৃদয়ের রাজধানী, নিঃশব্দ চাঁদনী রাতে, সব তোমারই জন্য, তুমি নেই পাশে, তোমার প্রেমের শোষণে, ভালবাসায় নিঃশব্দ ক্ষরণ।
জসীম মেহবুব (১৯৬০)। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সোনার বরণ পক্ষী, খোকন যাবে চাঁদের নায়ে, কাক গিয়েছে কাকির বাড়ি, পতাকা সবুজে লাল, এক মুজিবুর শেখ মুজিবুর, ঝাঁকা ভরা একশ ছড়া।
জাইদুল ইসলাম দুর্লভ। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: তালবাহানা।
জান্নাতুল ফেরদৌস। কবি, ছড়াকার ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্টেশনে একা, হ্যালো তোমাকেই বলছি, আমি ও আমার দেশ, একজন কন্যা ও জননী, সুখের খোঁজে, বাসার সেই মেয়ে টি, বিষাদের কালো মেঘ, বাবু, লোভ, ভালো লাগা ভালোবাসা, অনাকাক্সিক্ষত প্রেম, মন্দ মানুষ সোনালী দিন ও ডাক্তার, ফুল পাপিয়ার দেশে, রোহানের গ্রাম।
জাফর আহমদ রাশেদ (১৯৭০)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাচের চুড়ি, বালির পাহাড়, যজ্ঞযাত্রাকালে, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের ছোটগল্প: জীবনোপলব্ধির স্বরূপ ও শিল্প ।
জাহাঙ্গীর আজাদ। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: জ্বলে ওঠো জয়শ্রী অনল’
জাহান বশীর (১৯৭০)। আবৃত্তিশিল্পী, লেখক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আবৃত্তি শেখো মজা করে।
জিনাত আজম (১৯৫২)। রম্যসাহিত্যিক, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘আমি তেলাপোকা বলছি’, ‘অন্তরে বাইরে অনিকেত প্রান্তরে’, ‘নজর আলীর সাতকাহন’, ‘অন্য আলোয় অন্য ভুবন’।
জিন্নাহ্ চৌধুরী (১৯৬৭)। কবি, গল্পকার, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মধ্যরাতের স্বপ্নভঙ্গ, বাবর আলীর বাঘ শিকার, প্রেমের ছড়া, বুকের ভেতর পূর্ণিমা চাঁদ।
জিললুর রহমান(১৯৬৬)। কবি, প্রাবন্ধিক ও অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত বই : অন্যমন্ত্র, শাদা অন্ধকার, উত্তর আধুনিকতা : এ সবুজ করুণ ডাঙায়, অমৃত কথা, আধুনিকোত্তরবাদের নন্দনতত্ত্ব : কয়েকটি অনুবাদ, ডায়োজিনিসের হারিকেন।
জিয়া হায়দার (১৯৩৬-২০১৫)। কবি, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কবিতা: একতারাতে কান্না (১৯৬৩), কৌটোর ইচ্ছেগুলো (১৯৬৭), দূর থেকে দেখা (১৯৭৭), আমার পলাতক ছায়া (১৯৮২), লোকটি ও তার পেছনের মানুষেরা, শ্রেষ্ঠ কবিতা, ভালবাসা ভালোবাসা, নাটক: শুভ্রা সুন্দর কল্যাণী আনন্দ (১৯৭০), এলেবেলে, সাদা গোলাপে আগুন ও পংকজ বিভাস (১৯৮২), রূপান্তরিত নাটক: প্রজাপতি নির্বন্ধ: তাইরে নাইরে না, উম্মাদ সাক্ষাৎকার, মুক্তি মুক্তি, অনূদিত নাটক: দ্বার রুদ্ধ, ডক্টর ফস্টাস এ্যান্টিগানে; প্রবন্ধ: নাট্য বিষয়ক নিবন্ধ, থিয়েটারের কথা (১ম-৪র্থ খণ্ড), বাংলাদেশের থিয়েটার অন্যান্য রচনা, স্ট্যানিসলাভস্কী ও তার অভিনয় তত্ত্ব, নাট্যকলার বিভিন্ন ইজম ও এপিক থিয়েটার, বিশ্বনাট্য।
জুবাইর জসীম। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : রাজপুত্র, আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন, ইলিক ঝিলিক রোদের খেলা, মায়ের ছবি, বাচ্চাহাতি ও রাখাল বালক।
জেবারুত সাফিনা। কবি, ছড়াকার। প্রকাশিত গ্রন্থ : উপলব্ধির অন্তরালে নীরবে নিভৃতে, ডানপিটে রোদ, ভিন গ্রহে ভালোবাসা।
জোবায়দা আক্তার চৌধুরী (১৯৭৭)। কবি, কথাসাহিত্যিক। প্রকাশিত বই : ‘তোমার জন্য এক পৃথিবী লিখব’ এবং ‘সে তুমি নও, তোমার ছায়া’।
ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী (১৩৬৫ বঙ্গাব্দ)। কবি, ছড়াকার, গীতিকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘শিশুর প্রথম পাঠ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ আমার শৈশব’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘দেবশিশু’, এবং ‘নানা মনের ঘর’, ‘শিশুসমগ্র’, ‘ছোটদের চিকিৎসা সমগ্র’।
তপনজ্যোতি বড়ুয়া (১৯৫১-২০২২)। কবি ও অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত বই : সিলভিয়া প্লাথের কবিতা
তসলিম খাঁ (১৯৬৮) : ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : আমার এ দেশ সব মানুষের।
তহুরীন সবুর ডালিয়া (১৯৬৩)। কবি, গল্পকার, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : আভূমি নত হয়ে আছি, কহে কথা শব্দ সকল, নীল এ্যাকুরিয়াম, নিঃসঙ্গ মাঠের গল্প, ভ্রমণে যত আনন্দ এবং ছড়ার সাথে পড়ার সাথে।
তালুকদার হালিম। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: খবরদার,
তুষার দাশ (১৯৫৭)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নিঃশব্দ বজ্র: আহসান হাবীবের কবিতা, সহজপাঠ ও অন্যান্য কবিতা, অতিক্রান্ত বাল্যশিক্ষা, দুর্লভ নির্জন আয়না।
তানভীর হাসান বিপ্লব। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘আকাশে কান্না’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘ঔজ্জ্বল্য আকাশ’,‘ছড়ায় ছড়ায় স্বরবর্ণ’, ‘প্রিয় হাইকু’।
তুষার ধর বাপন (১৯৬৬)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: আমার অভিযোগ আমি জানাব কাকে, হৃদয়ের গভীরে, তুমি মৃত্যুঞ্জয়ী, বিদ্যুৎ নিয়ে বৃষ্টি আসে, সূর্যাস্তের সাথে কোলাকুলি, অবশেষে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাই, নক্ষত্র খুঁজি মধ্যরাতে।
তোফায়েল আহমেদ (১৯৪২)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শ্যাওলার অতল ছায়া, কবিতা ও আমার পিতা।
ত্রিদিব দস্তিদার (১৯৫২-২০০৪)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : গৃহপালিত পদ্যেরা, অঙ্গে আমার বহুবর্ণের দাগ, ভালোবাসতে বাসতে ফতুর করে দেবো, ভালোবাসার শাদা ছড়ি, পোড়াবো তাজমহল।
তৌফিকুল ইসলাম চৌধুরী (১৯৫৭)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই: চট্টগ্রাম- অতীত ও ঐতিহ্য, অচেনা মহাকাশ, পানপাত্রে দ্রাক্ষারস, ভিন গ্রহের প্রাণি ও মানবজাতি, ভিনদেশি রূপকথা (সম্পাাদিত)
দর্পণ বড়ুয়া (১৯৬৯)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শোক নয় প্রতিশোধ, কিনে নিন ঘোড়ার ডিম, সময় আবার যুদ্ধে যাবার, ইচকি মিচকি লেড়কা লেড়কি, মুজিব মানে একটি কথা-স্বাধীনতা।
দিলীপ কুমার মিত্র (ডা.) (১৯৪২)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দুঃস্বপ্নের সেই দিনগুলি।
দিলীপ কির্ত্তর্ুিনয়া (১৯৬২) : কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘অলৌকিক দিয়াশলাই’, ‘যেখানে খুব একা’, ‘পশুর নদীতে মুখ দেখেছি সকাল বেলায়’, ‘চালতা বনের ফাঁকে’, ‘ঘুম পুকুরে’।
দিলীপ দে (ডা.) (১৯৪৭)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: তিতীর্ষা, মাটির ভেতরে কালো হাত:শত্রু সম্পত্তি আইন ও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু, গ্লানি।
দীনা মরিয়ম। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : আকাশ নিল মেঘের সাজ, তটে আঁকা ছবি, রূপালি পাতের ঝিলিক, তোমায় নতুন করে পাবো বলে, ওর সাথী প্রজাপতি, যে গল্পের হয় না শেষ, নানজীবা ও তার সাথীরা।
দীপক কুমার বড়ুয়া (১৯৫৪)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কর্তালা বেলখাইন: অতীত বর্তমান।
দীপক দে (১৯৬৪)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দীপশিখা (১৯৭৯), সবকিছুর আগে চাই (১৯৮৪)।
দীপক বড়ুয়া (১৯৫৫)। কবি, ছড়াকার, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘এলোমেলো’, ‘বনলতা সেনের আকাশযাপন’ ‘নীল আকাশে ঘুড়ির দেশে’, ‘জাম্বু ভূতের কাণ্ড’, ‘ভোরের আলোয় স্বপ্ন নাচে’, ‘তোমার চোখে চোখ রেখেছি’, সুন্দরী।
দীপালী ভট্টাচার্য (১৯৪৯)। শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বপ্ন সুখ ভালোবাসা, বিন্দু থেকে বৃত্ত, ভূতের দেশে রাজকন্যা, রাজকন্যা হীরামতী ও দৈত্যরাজ, এই প্রেম এই যুদ্ধ, যেখানেই যাও সুখে থেকো।
দেবাশিস ভট্টাচার্য। ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: আনন্দ মৃত্যুর কাছে, পোকা জাতের মানুষ।
নজরুল জাহান (১৯৫৬)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দুঃখ আমার পরবাস (২০০০)।
নজির আহমদ (১৯৩৯)। কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্মরণিকা-৮১, সৃষ্টিকর্তা, মানব ও ধর্ম, সওদাগর কন্যা, রক্তাক্ত লাশ, অনুপম ভালোবাসা, স্মরণী, লাভ এন্ড ফ্রিডম, সেকরেড ভার্সেস।
নাজিমুদ্দীন শ্যামল (১৯৬৮)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: সে কথা পাখিরা জানে না, চোখের কলস, কবিয়াল, কবিতা কাঁদে, সিনেমা: চলচ্চিত্র চিন্তা, নাট্যজনের মুখোমুখি, সম্পাদনা: নিসর্গের প্রতিবেশী।
নান্টু বড়ুয়া (১৯৭০)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : শর্তহীন ভালোবাসা, বিদীর্ণ স্বপ্ন, জোনাকি, মুক্তিসেনার অভিযান, তোমার জন্যে ৫০০ লাইন।
নাসিম লীনা। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ঝিঙ্গে তলায় ফিঙ্গে নাচে।
নাসের রহমান (১৯৬০)। কথাসাহিত্যিক, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ময়ুরের কান্না, শব্দের চোখে জল, নিশীথে নীল জ্যোৎস্না, এক টুকরো রোদ, স্বপ্নের অজস্র আলো, ছিন্ন মেঘের ছায়া, স্বপ্নকানন।
নিজামুল ইসলাম সরফী (১৯৭৪)। শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘বরণীয় তারা স্মরণীয় তারা’।
নিতাই সেন (১৯৫৪)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অভিজ্ঞান অঙ্গরী তোমার (১৯৮৯), বকুল বাগানে একা (১৯৯২), ফুল পাখির শ্বাসকষ্ট (১৯৯৪), সিলেটের ছড়া (১৯৯৪), হৃদয় রুবাই (১৯৯৬), অম্লানেরা হারিয়ে গেছে অন্ধকারে (১৯৯৬), লতানো রোদের জরি (১৯৯৯), ছড়ায় ছড়ায় বাংলাদেশ (২য় সংস্করণ- ১৯৯৯), সম্পাদনা: দুই বাংলার প্রতিবাদী কবিতা (১৯৮৮), সত্তর দশকের দ্বি-বার্ষিক কবিতা সংকলন (২০০০), বাংলাদেশের ছড়া (২০০১)।
নিশাত হাসিনা শিরিন (১৯৬৯)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বেলাশেষের অবেলায়, কখনো সেভাবে ভাবোনি বলে, বৃষ্টি দেখে মনে পড়েছিল মিষ্টিকে।
নীলুফার জহুর (১৯৪৪-২০১০)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আনন্তিক, কখনো কখনো।
নীলুফার শামসুদ্দীন (১৯৪৭)। শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সবিনয় সংলাপ, একটি মেয়ে ও তিন ভালুকের গল্প, গল্প শোন নিজেকে জান, সোনামণিদের মজার গল্প প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ ও তৃতীয় ভাগ।
নুরুন্নাহার ডলি (১৯৬৮)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ছন্দে আনন্দে, ইচ্ছে করে যাই হারিয়ে।
নুরুন্নাহার শিরীন। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : শ্যাওলায় রেখেছি পা, হাওয়ায় হাওয়ায় ঋণ, কাগজের ডানা, ও পাতাল ও মাটি, পাতাভর্তি মেঘ, জেগে আছি জয়োচ্ছ্বাসে, অন্তে আজ কী লেখ্য জানা থাকলে ভালো হতো, পঙক্তিঘোরের খোঁজে, সেতু, বাতাসের জন্য এলিজি, নমনোকালকাহিনী, পড়েছো জানালাগান?, মা মানে কী জানো? স্বনির্বাচিত, আজও জলছবি পড়ি, নুরুন্নাহার শিরীন এর দেশজ কবিতা, বাংলাদেশের বাজনা, একুশের ছড়া ও কবিতা, কবি ও রাজনীতিবিদ অনিল সরকার, নগরনাব্য জীবনপুথি, দেখার দুচোখ জগতজুড়ে।
নুরুল আমিন (১৯৫৬)। কবি, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গবেষণা: আবুল মনসুর আহমদের কথাসাহিত্য, বঙ্কিমচন্দ্রের হাস্যরসাত্মক রচনা, জীবনী: আবুল মনসুর আহমদ, কাব্য: লেগে আছে শ্যামল ছায়া, সম্পাদনা: কাজী আবদুল ওদুদ রচনাবলী (৩য় খণ্ড)।
নূর মোহাম্মদ রফিক (১৯৪৪-২০১৬)। কবি, ছড়াকার ও গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সীমাবদ্ধ চতুষ্পদে, বত্রিশ লিমেরিক, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান।
পংকজ দেব অপু (১৯৬৫)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: রিক্ত পদাবলী, আমার এ গানগুলি স্বরলিপি করে রেখো।
পান্থ স্বপ্নীল (১৯৭৮)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বপ্নের দরোজা ছুঁয়ে ।
পারভীন বাশার শহীদুল্লাহ (১৯৫৯)। ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কিশোর গল্প: পোড়ো বাড়ির ভূত।
পাশা মোস্তফা কামাল (১৯৬৫)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘এক ঝুড়ি স্বপ্ন’, আমাদের জাতির জনক, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বিজয়ের গল্প, পানসি ভাসে আপন মনে, রংধনু।
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া। কবি, শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘তোমার নিবীতে অন্য কেউ’ ‘সায়নালোকে এক জীবনের সন্ধ্যায়’ ‘ইলিশের বাড়ি’ ‘প্রজ্ঞা-প্রসূন’ ‘ কল্পকুসুম’ ‘মুক্তিবীর’, তারা মাসী চাঁদ মামা, ব-দ্বীপ হতে বাংলাদেশ, লুই পা’র কলম, ভুতুড়ে পাখা, জনকের অমৃত জীবন।
পুলক পাল (১৯৭১)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : শূন্যপাঠ।
প্রণয় কান্তি (১৯৫৮-২০১৭)। কবি। তিনি ছিলেন কালসচেতন স্বপ্নদ্রষ্টা উদার বিজ্ঞানমনস্ক একজন মানুষ। তাঁর প্রকাশিত কাব্য গ্রন্থ ‘বুদ্ধির মুক্তি ও বেদনা মাধুরী’, ‘আকাশ লীনার সাথে কিছুক্ষণ’, ‘অতঃপর মেঘের কাছে’, প্রবচনের বই ‘প্রবচন ও প্রদীপন’।
প্রদীপ দাশ পরাগ (১৯৬৪)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ইচ্ছে হয় আকাশ ধরি, ছড়ার আসর।
প্রদীপ দেওয়ানজী (১৯৫৪)। কবি, নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নাটক: রক্তরাজা সবুজ পরী, রাকস, মন ভালো চশমা।
ফজল উশ শিহাব। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: যুবকের মৃত্যুযাত্রা।
ফজিলতুল কদর (১৯৩৬-২০০৭)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বাণীতে নিহিত শান্তি, স্মৃতিতে গোলাপ, স্ত্রী লোকের হজ্ব, তারাফুল (১ম, ২য় ও ৩য় খণ্ড), হীরা জহরত মুক্তা পান্না, শুভা চৌধুরীর ছড়া, নীলা চৌধুরীর কবিতা, আমার টেবিলে একগুচ্ছ হাস্নাহেনা, শতদলে ফোটে মুগ্ধ হৃদয়, সময়ের টিপ, কাব্যে সূরা ফাতেহা, সূরা বাকারা, কাব্যে সূরা আল ইমরান, কাব্যে সূরা নিছা ।
ফরিদা ফরহাদ (১৯৫৫)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কবিতা: জীবনের পংক্তিমালা, অগ্নি সাক্ষীর নেই প্রয়োজন, গল্প: নিঃশব্দ যন্ত্রণা, আমাকে ভালোবাসতে দাও, ছড়া: স্বপ্নে রাঙা দিনগুলো, ছড়ার দেশে পড়ার দেশে, খেলতে পড়তে ছড়া।
ফাউজুল কবির (১৯৫৫)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমার সুন্দর আমার টেন্টালাস, একা হলে জলতরঙ্গ নীলকণ্ঠ বাউল ।
ফাতেমা আলী (১৯৪১)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: তোমাকে হারিয়ে আমরা কাঁদি, আকাশ নীল।
ফারজানা করিম। কবি, ছড়াকার, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: পাখিপৃথিবী, রূদ্মীলার চিঠি, ভালোবাসার আড়ালে, জলকণা, শেষ বিকেলের আলো, নির্বাচিত কবিতা, না বলা কথা, আমি এক জাদুকর, মী, শূন্যতা, দূরে কোথাও, অতঃপর বৃষ্টি
চার দেয়ালের কাব্য, মেঘের দেশে মেঘবতী, জলে ভাসা পদ্য।
ফারজানা রহমান শিমু। ছড়াকার, গল্পকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত বই : ফ্রিডম ইজ নট ফ্রি, ‘কাছে নয় দূরে’, ‘দরজা খুলেই ছুট’, ‘লাল সাদা নীল’, দি পাওয়ার অব পজিটিভ থিংকিং, চেঞ্জ ইয়োর থিংকিং চেঞ্জ ইয়োর লাইফ, রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড প্রভৃতি।
ফারহানা আনন্দময়ী। কবি, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত বই : মেঘ অরণ্য, ইচ্ছেসবুজ, দীর্ঘায়ু চাইনি- আনন্দায়ু দাও, কবিতাস্নানে যাই।
ফারহানা তেহসীন (১৯৭২)। গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মধ্য নিশীথের নীল, দূরের গাংচিল, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘার দেশে’ প্রভৃতি।
ফারহানা সাদেক লিপি (১৯৭৯)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অন্যরকম পূর্ণিমায় ।
ফারুক আলমগীর (১৯৪৩)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : শ্যামলী দেশের ক্ষত প্রান্তর, স্বপ্নের মধ্যে শৈশব, লোকেশ লৌহিত্য, আমার দিনরাত্রি, অন্ত্যেষ্টি সঙ্গী: পুনরুত্থানের আগে, অভ্যুত্থানের আগে এক দুরাত্মার স্বগতোক্তি, ছোটদের অসকারওয়াইল্ড, টেলিভিশন: দৃশ্য ও ধ্বনির লাবণ্য ।
ফারুক মঈনউদ্দীন। গল্পকার, প্রাবন্ধিক, অনুবাদক, ভ্রমণসাহিত্যিক, অর্থনীতিবিষয়ক লেখক, সাহিত্য সমালোচক। মার্কিন লেখক ক্লিনটন বি সিলির কবি জীবনানন্দ দাশের সাহিত্যিক জীবনী অ্যা পোয়েট অ্যাপার্ট গ্রন্থটির অনুবাদের জন্য পেয়েছেন ব্যাপক পরিচিতি। তাঁর প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে রয়েছে : গল্পগ্রন্থ : বৈরী স্রোত, আত্মহননের প্ররোচনা, অপরিচয়ের কালবেলা, সেইসব শেয়ালেরা, মোহিনী মুম্বাই, নির্ঘুম নিউইয়র্ক, কনিয়ান সাফারি: মাসাই মারার প্রান্তরে, সিংহল সমুদ্র থেকে মালয় সাগরে, সীমান্তহীন ইউরোপের প্রান্তদেশে, বিশ্বজোড়া অনন্ত অঙ্গনে, সুদূরের অদূর দুয়ার, শিকার: কেনজাবুরো ওয়ে, আর্নেস্ট হেমিংওয়ের প্যারিসের স্মৃতিকথা, অনন্য জীবনানন্দ: ক্লিনটন বি সিলি, চলমান ভোজের শহর: আর্নেস্ট হেমিংওয়ে, দৌড় বিষয়ে যত কথা: হারুকি মুরাকামি, দূর ভুবনের পাড়ে, মৃত্যুর আগে জীবনের সংগীত প্রভৃতি।
ফারুক হাসান (১৯৬০)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: রোদেলা দুপুরে, আকাশ ছুঁয়ে দেখি।
ফাহমিদা আমিন (১৯৩৬-২০১৮)। ছড়াকার, গল্পকার, রম্যসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নিম মধু, অনিবার্য কারণবশত, একান্ত আপন, মনের আঙ্গিনায়, কুট্টি বিবির আসর, মোটামুটি সংবাদ, প্রজাপতি রঙ ছড়ায় (কিশোর উপন্যাস), সৌরভ (শিশুসাহিত্য সংকলন), বর্ষবাণী, স্মৃতিতে প্রীতিতে-ডাঃ মজহারুল হক, দাদুর চিঠি বার্মিং হাম থেকে লিখছি, শুধু দিন যাপনের, মৌ ঝুর ঝুর, ইসলামের পাঁচ রোকন-পাঁচ উৎসব, ঝালে ঝোলে অম্বলে।
ফুয়াদ হাসান। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : কাঁটা তারে কারাগারে
ফেরদৌস আরা আলীম (১৯৪৮)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: হনন সুখ, কালো জল সাদা ফেনা, যতদিন আছে চন্দ্রসূর্য, প্রবন্ধ: কোথাও নতুন দিন ।
ফেরদৌস আরা রীনু (১৯৭০)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘সমাজচিন্তা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়-আশয় ’ ও ‘নৈতিকশিক্ষা, মূল্যবোধ ও অন্যান্য’।
বদরুননেসা সাজু। কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, সমালোচক ও গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : পাদপ্রদীপের আলোয়, মদিরা, শব্দহীন রাতের শব্দ, চিরন্তন পথিকৃৎ, নিসর্গ আলোর ঠিকানা, নারী জাগে কর্মযজ্ঞে আনন্দে, মরমী গান সাধক পুরুষ ও অন্যান্য।
বনশ্রী বড়ুয়া। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : শ্রাবণের ওষ্ঠে রাখি হাত।
ববি বড়ুয়া। প্রাবন্ধিক, কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, উন্নয়ন ও অন্যান্য
বাদল বড়ুয়া (১৯৪৭-২০১৪)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অন্য এক নামে, মায়ের চিঠি, দীর্ঘ নিকায়, মহাজীবন ।
বাদল সৈয়দ (১৯৬৮)। কবি ও কথাসাহিত্যক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : জন্মজয়, রোজাবেল মা তোকে বলছি, স্বপ্নডানা : আকাশ ছোঁয়ার গল্প, দ্বিতীয় যৌবন, আমার মুক্তি ওই আকাশে, আমার বিশ্বাসগুলো, সাধুসঙ্গ, মাটির পিঞ্জিরার মাঝে, বুড়ো নদীটির পায়ের কাছে, ছায়া সন্ধান, কালো সিংহ, আকাশে অনেক মুখ, সাক্ষী ছিল পক্ষী সকল প্রভৃতি।
বাসুদেব খাস্তগীর। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : আকাশ হতাম যদি, কবিতায় ইতিহাস কবিতায় মুজিব (ইতিহাস আশ্রিত কবিতা), শত পঙক্তিতে অঙ্কিত মুজিব (বঙ্গবন্ধু মুজিবকে নিয়ে শত লাইনের কবিতা), ফুলপরিদের দেশে ইশকুল নেই, ছড়ায় ছড়ায় সা রে গা মা (শিশুতোষ ছড়া গানের বই), ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অন্যান্য প্রবন্ধ।
বাহারুল হক লিটন (১৯৬১)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: যুদ্ধ অন্যরকম (২০০০), হাসু মামার মেলা দর্শন (২০০০)।
বিকাশ মজুমদার (১৯৬৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নিথর মধ্যাহ্নে বৃক্ষরা অশরীরী, নৈঃশব্দে নিশ্চিহ্ন পদধ্বনি।
বিচিত্রা সেন (১৯৭০)। কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : অন্যরকম গল্প, নীল খাম, চোখের আলো, অনামিকার অহর্নিশি, জাগিয়া উঠিল প্রাণ।
বিজন মজুমদার (১৯৬০)। কবি, চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘নিয়ত শরশয্যা’ ও ভুলে গেছি সূর্য স্নান’।
বিপুল বড়ুয়া (১৯৫২)। ছড়াকার, গল্পকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : নীলক্ষেতের দুপুর, নোটন নোটন, জেম সাহেবের বেল, বুবুন ও পরির গল্প।
বিপ্রদাশ বড়ুয়া (১৯৪০)। শক্তিমান কথাসাহিত্যিক, কবি। সমকালীন সাহিত্যে অত্যন্ত সচল সক্রিয় লেখক। নিসর্গবিদ। ‘প্রকৃতির টানে তিনি ঘুরে বেড়ান দেশময়। ভালোবাসেন দেশের মাটি, মানুষের কাছে যেতে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ করেন নিসর্গ-প্রকৃতি, পাখি ও জীব-জগত আর মানুষ। ব্যক্তিমানুষ, সামাজিক সত্তা, তার জীবনযাত্রা, হর্ষ, আনন্দ, বিষাদ সব মিলিয়েই তার সংগ্রাম, সংগ্রাম প্রকৃতি রক্ষার।’ তিনি গল্প, উপন্যাস, নাটক ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন, লিখেছেন শিশুতোষ গল্প-উপন্যাস ও কবিতা। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: সাদা কফিন, যুদ্ধজয়ের গল্প, গাঙচিল, নদীর নাম গণতন্ত্র, বীরাঙ্গনার প্রেম, উল্কি একটি প্রেমের গল্প, স্বপ্ন মিছিল, আকাশের প্রেমের বাদল, স্বপ্ন সমুদ্রে বনদেবীরা আছে, নির্বাচিত প্রেমের গল্প, আমি মুক্তিযুদ্ধ সমর্থন করি, স্বপ্নসুন্দরী, অলৌকিক চুম্বন, আমি একটি স্বপ্ন কিনেছিলাম, ফিরে তাকাতেই দেখি বঙ্গবন্ধু; উপন্যাস: অচেনা, ভয় ভালোবাসা নির্বাসন, সমুদ্রচর ও বিদ্রোহীরা, মুক্তিযোদ্ধারা, ভেতরে একজন কাঁদে, শ্রামণ গৌতম, আমি তোমার কাছে সমুদ্রের একটি ঢেউ জমা রেখেছি; প্রবন্ধ: কবিতায় বাকপ্রতিমা, গৌতম বুদ্ধ, দেশকাল ও জীবন (যৌথ), দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান অতীশ, গাছপালা তর”লতা; কিশোর গল্প: সূর্য লুঠের গান, তাঁতি ও ঘোড়ার ডিম, আরব্য রজনী, মুক্তিযোদ্ধার গল্প, সোহরাব রুস্তম, বাঘের উপর টাগ, অজগর রাজা, গ্রাম বাংলার সেরা হাসির গল্প, ডাকাত ডাকাত, রক্তঝরা রণ, জাদুর বাঁশি; কিশোর উপন্যাস: রোবট ও ফুল ফোটানোর রহস্য, জাদুমানিক স্বাধীনতা, নোভায়া জেমলায়ার বিভীষিকা, দৈত্য পাহাড়ের ক্ষুদে মানুষ, প্রকৃতি বিষয়ক: কাছের পাখি দূরের পাখি, সাত সমুদ্র তেরো নদী, সমুদ্র, নদী মেখলা জীবনী: বিদ্যাসাগর, বাংলাদেশ, পল্লীকবি জসীমউদদীন, নাটক: কুমড়োলতা ও পাখি।
বিভা ইন্দু। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : এক চিলতে রোদের ডানা, সিঁথির যত কথা, ভূতের বিয়ে, ছুটির দিনে বনবাদাড়ে।
বিমল গুহ (১৯৫২)। ‘আত্মসচেতন ও সমাজসচেতন কবি’ হিসেবে খ্যাতি অর্জনকারী কাব্য সাধক বিমল গুহ আধুনিক কবিতার বিশাল অস্তিত্বের সঙ্গে শুধু সম্পৃক্ত নন, তিনি শিশু-কিশোর কবিতার মুক্তাঙ্গনেও ঘুড়ির মেলা বসিয়েছেন সনিষ্ঠ আন্তরিকতায়।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : কাব্য: অহংকার তোমার শব্দ, সাঁকো পার হলে খোলাপথ, স্বপ্নে জ্বলে শর্তহীন ভোর, বিমলগুহের ভালবাসার কবিতা, নষ্ট মানুষ ও অন্যান্য কবিতা, ঝবষবপঃবফ চড়বসং. প্রতিবাদী শব্দের মিছিল, নির্বাচিত কবিতা, প্রত্যেকেই পৃথক বিপ্লবী, বিবরের গান; কিশোরকাব্য: মেঘ গুড় গুড় বিষ্টি নামে, আগুনের ডিম, চড়াই ছানা, সাদা মেঘের ভেলা এবং টুপুর ও চরকাবুড়ি; গবেষণা: ওহীদুল আলম, আধুনিক বাংলা কবিতায় লোকজ উপাদান ।
বিমলেন্দু বড়ুয়া (১৯৩৩)। কবি, সাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: মন পাব জেনে, কথা ঝরাবার মোহ, ভ্রমণ: স্বপ্নময়ী শ্যামদেশে, পাষাণের মৌনতটে, কোরিয়ায় কিছুদিন; জীবনী: সংঘরাজ শীলালংকার, বিশ্ববরেণ্য বিশুদ্ধানন্দ, পন্ডিত গিরিশচন্দ্র বিদ্যাবিনোদ, ডা. বীরেন্দ্র লাল বড়ুয়া, শান্তপদ মহাথের, বনশ্রী মহাথের, প্রফুল্ল কমল, বড়ুয়া, অন্যান্য: সংঘরাজ শীলালংকারকে ঘিরে স্মৃতি সমারোহ, কিভাবে পরিত্রাণ পাবেন।
বিদ্যুৎ কুমার দাশ (১৯৭৯)। কবি, ছড়াকার । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: এই আঙুল ঝড়ের হাওয়ায়, উপন্যাস: মেঘের পথ বেয়ে ।
বিশ্বজিত বড়ুয়া (১৯৬৭)। কবি, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ ‘বিচ্ছিন্ন আবেগ’, ‘গাঁয়ের পথে পালকি চলে’, ‘ভূত পরি রাক্ষসের গল্প’।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী (১৯৬০)। কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কলামলেখক, নাট্যকার, সমালোচক ও কিশোর সাহিত্যিক। তাঁর প্রতিটি রচনা যেমন গভীর ও অতলস্পর্শী, তেমনি ব্যাপক। তাতে আছে বিষয় ও ভাষার কারুকাজ, আছে অভিনব বর্ণনা, আছে ঔদার্য ও বিস্ময়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : তোমার প্রাণের জল, শ্যাওলা শরীরে, ও বন্যাপ্রবণ ৩.মাঠের ওপারে যাবে, লীলা? নির্বাচিত কবিতা; বিবাহবার্ষিকী ও অন্যান্য গল্প, সম্ভ্রমহানির আগে ও পরে, স্বল্পদৈর্ঘ্য প্রেমের গল্প, দুধারি তলোয়ার, সেরা দশ গল্প, নির্বাচিত গল্প, তুমি কি ভালোবেসেছিলে? একটি নিঃসঙ্গ তালগাছ, নার্গিস, বাসন্তী, তোমার পুরুষ কোথায়, হে চন্দনা পাখি, দূর-সম্পর্ক, ফুটো; লিন্ডা জনসনের রাজহাঁস, পাখির জন্য খোলা আকাশ, ভূতের সঙ্গে পরির বিয়ে প্রভৃতি।
বেগম রুনু সিদ্দিকী (১৯৩৫)। গল্পকার, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: এসো উল বুনি, তা-ধিন-তা, ছড়াবাগ, একাত্তরের স্মৃতি, নিবেদন, ফুল ফোটে পাখি গায়, মম হৃদয়ের ইথারে বিথারে, আমেরিকা: দূরের দেশে সুরের টানে, আমার ভালবাসার তীর্থ: মক্কা ও মদীনা, কালের কপোলতলে আগ্রা ও আনন্দ ভ্রমণ, মক্কা ও মদিনা: বিচ্ছেদের অনলে দগ্ধ হৃদয়ের ভালবাসা।
বেলাল মোহাম্মদ (১৯৩৬)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: কবিতা নয়, পর্যায়ক্রম নেই, অকাল অপাত্র, শুধু মিত্রাক্ষর, সামনে আছে মুক্তিযুদ্ধ, গল্প: লালবাবা, নকশা: গল্পের মতো, পাক-ভারত যুদ্ধকাহিনী, সন্দ্বীপসন্দর্শন, গবেষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র ।
ভাগ্যধন বড়ুয়া। কবি। প্রকাশিত গ্রন্থ: জ্বর ও নজর, অপর পৃষ্ঠার বৃত্তান্ত, নদীর নিজস্ব ঘ্রাণ।
মঈন ফারুক। কবি। প্রকাশিত গ্রন্থ: একাকী গন্তব্যে অবারিত শূন্যতা, সাদা ফুলদানী, বৈরী হাওয়া,
মঈনুদ্দীন মঈনু (১৯৫৫)। ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : পাবলিকের ছড়া
মতিউর রহমান সৌরভ ( ১৯৭১)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বৈচিত্র, কাব্য ও কবিতা: নির্বাচিত পংক্তি, জলেরও পিপাসা পায়।
মনওয়ার সাগর (১৯৬৬)। কবি, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কিংবদন্তীর নারী, চন্দ্রা উপাখ্যান, মোহিনী।
মনজুর আহমদ ( ১৯৬২)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: এই নাও তোমাকে দিলাম, ফেরাব না তোমাকেই ছোঁব (সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ), কবির সাথে একটি প্রহর (সম্পাদিত কাব্যগ্রন্থ)।
মনিরুজ্জামান (১৯৪০)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক। বহুমাত্রিক প্রতিভা তাঁর। ভাষা ও চট্টগ্রাম বিষয়ক গবেষণায় কিংবদন্তীতুল্য কাজ আছে তাঁর। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গবেষণা: ভাষা সমস্যা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি সন্ধান: ১৯৪৭-৭১, ভাষাতাত্ত্বিক ফিল্ডওয়ার্ক, ভাষাতত্ত্ব অনুশীলন, সান্নিধ্যে ও গৌরবী স্মরণে, উপভাষা চর্চার ভূমিকা, শিশুসাহিত্য: নিম পাতা তুই তুই।
মনিরুল মনির। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ঘরবদলের মানচিত্র, শব্দের অনন্ত অন্তর, নোঙরের মাতাল দরজা।
মনোরঞ্জন দাশ (১৯৪২-২০১৬)। কবি, প্রাবন্ধিক, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রবন্ধ: সাহিত্য ভাবনা, প্রসঙ্গ: সাহিত্য সংস্কৃতি, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, গল্প: কান্না হাসির জীবন পথে।
মমতাজ সবুর (১৯৩৪-২০০৬)। শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: রূপান্তর, বাবার চিঠি, রূম্পা সোনার স্বপ্ন, নীল যন্ত্রণা।
মর্জিনা আখতার (১৯৫৮)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ভালবাসা জেগে থাক, অন্তরের বসতবাটি, ‘দুরন্ত শৈশব’। সম্পাদনা: প্রফেসর মোহাম্মদ খালেদ (যৌথ)।
মসউদ-উশ-শহীদ (১৯৪৫)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য : আমিই সেই প্রেমিক যুবক, উপন্যাস: নীলার ভালবাসা, কিশোরতোষ: সোনারোদে ঝিকমিক, এক সাহসী ছেলের গল্প, ছোটদের বিশ্বনবী, অজানা দ্বীপ, আলোর পাখি আলোর কবি, হীরে মোতি পান্না, মুক্তিযুদ্ধের ছড়া, দোয়েল আমার শাপলা আমার।
ময়ুখ চৌধুরী (১৯৫০)। বাংলাদেশের সাহিত্যে এক অনিবার্য নাম। শিল্পসচেতন কবি হিসেবে, বিরল প্রসাদগুণসম্পন্ন প্রাবন্ধিক ও পরিশ্রমী গবেষক হিসেবে তাঁর অধিষ্ঠান তর্কাতীত। বোধে, অনুভবে ও পারঙ্গমতায় তিনি মনে প্রাণে সৎ, সাহসী ও শুদ্ধ। তাঁর কবিতার সৌন্দর্য এতোটাই স্পর্শকাতর ও অপূর্ব যে, পাঠক কবিতাটি পাঠ করা মাত্রই পৌঁছে যান এক স্বপ্নিল ও রহস্যময় জগতে, যেখানে এক ঐতিহ্যমণ্ডিত শিল্পের প্রতিচ্ছবি কবি দৃশ্যময় করে তোলেন। ভাষার বলিষ্ঠতা ও সুরের গতিময়তা তাঁর দুর্বোধ্য ও জটিল ভাবনাকেও সুখপাঠ্য করে দেয়। কি শব্দ প্রয়োগে, কি বক্তব্যে, কি বিন্যাসে, কি আঙ্গিকে, কি উপমায়, কি ছন্দে তিনি এক মেধাবী কবি। ময়ুখ চৌধুরীর প্রকাশিত গ্রন্থ : কালো বরফের প্রতিবেশী, অর্ধেক রয়েছি জলে, অর্ধেক জালে, তোমার জানলায় আমি জেগে আছি চন্দ্রমল্লিকা, প্যারিসের নীলরুটি, আমার আসতে একটু দেরি হতে পারে, পলাতক পেণ্ডুলাম, ক্যাঙ্গারুর বুকপকেট, পিরামিড সংসার, জারুলতলার কাব্য, চরণেরা হেঁটে যাচ্ছে মুণ্ডুহীন, ডান হাতের পাঁচটি আঙুল, উপন্যাস : খসড়া সম্পর্ক, গবেষণা : উনিশ শতকের নবচেতনা ও বাংলা কাব্যের গতিপ্রকৃতি।
মহি মুহাম্মদ (১৯৭৪)। কবিতা দিয়ে লেখালেখি শুরু। মূলত কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অন্তুর ভেজা আকাশ, কালো মেঘের ডানা, পিঁপড়াপুত্র, জলদিঘি, অহল্যাকথা, সুচেতনা ও হরিশচন্দ্র লাইন, কয়েকজন শেফালির গল্প, বৈকুণ্ঠপুর, আড়াইপাতা, ময়নাদ্বীপ, মেনকা ঘাইহরিণী, কফিনের উইলি, উড়নচণ্ডী, ভাড়াবউ, নয়নপোড়া।
মহীবুল আজিজ (১৯৬২)। সাহিত্যের প্রায় সব ক‘টি শাখায় তাঁর বিচরণ স্বতঃস্ফূর্ত। প্রবন্ধ, গবেষণা, গল্প, কবিতা, উপন্যাস ও অনুবাদে তিনি একজন দক্ষ কারিগর। নানা ক্ষেত্রে তিনি দেখিয়েছেন তাঁর সপ্রতিভ সক্ষমতা। লেখায়, বলায়, জ্ঞানে, পাণ্ডিত্যে, শিক্ষায় তিনি এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রকাশিত বই : সান্তিয়াগো’র মাছ, রৌদ্রছায়ার প্রবাস,, হরপ্পা’র চাকা, পৃথিবীর সমস্ত সকাল, নিরানন্দপুর, বৈশ্য বিশ্বে এক শূদ্র, অসুস্থতা থেকে এই-মাত্র, এই নাও দিলাম সনদ, আমার যেরকম প্রস্তুতি ২০০৪, আমরা যারা স্যানাটরিয়মে, পালাবার কবিতা, দৃশ্য ছেড়ে যাই, ট্যারানটেলা, ওগো বরফের মেয়ে, হৃদয় বর্ণের কবিতাগুচ্ছ, ভরসানামা, কাব্যসমগ্র, শ্রেষ্ঠ কবিতা, হ্যাকার তুমি, প্রেমনামা, লকডাউন ও অন্যান্য কবিতা, গ্রাম উন্নয়ন কমপ্লেক্স ও নবিতুনের ভাগ্যচাঁদ, দুগ্ধগঞ্জ, মৎস্যপুরাণ, আয়নাপড়া, বুশম্যানের খোঁজে, নীলা মা হতে চেয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, তপন শীল ও তার বিবাহ-প্রকল্প, কর্নেলকে একটা মেয়ে পৌঁছে দিতে হবে। বাড়ব, যোদ্ধাজোড়, বর্ণসন্তান, প্রশান্ত পরিত্যাগ প্রভৃতি।
মহুয়া চৌধুরী। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘প্রবাসে শিকড়ের গল্প’, ‘কথারা মেলেছে ডানা’ ও ‘ধূসর বিকেলের পদাবলী’।
মহুয়া ভট্টাচার্য। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : পুনরাবৃত্ত, মহুয়ার গল্প।
মানজুর মুহাম্মদ। কবি, ছড়াকার, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : মাটির পাখি আলোর ডানা, ইচিং বিচিং চিচিং ফাঁক, নির্বাচিত ছড়া, রুবাইয়াত, ছন্দে ছড়ায় নাচ্ছে চড়াই, ছড়ার ঘড়া মধু ভরা, জলপাই রঙের গ্রেনেড, একাত্তরের পাখি, গগন যখন গেরিলা, কাশের কোলে বাতাস দোলে, ইস্টি এলো ইস্টিরে, ছুটছে তালে ছড়ার ঘোড়া প্রভৃতি।
মাসুদ আনোয়ার (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হুক্কাহুয়া, আশ্রয়, জ্বালা, জেলঘুঘু, স্বর্ণলালসা, আধিপত্য, মায়াবী দিনের খাতা।
মাহফুজ পারভেজ (১৯৬৫)। কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমার সামনে নেই মহুয়ার বন, নীল পারাবত।
মাহবুবা চৌধুরী। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘এক মুঠো চাঁদ’, হাতের দু’ভাঁজে ঘুম, ক্ষুধার্ত আঁধার হাসে, শিখা হয়ে জ্বলো।
মাহবুবুল আলম সাবু (১৯৪১)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মনের হাটে বিকিকিনি, আঁখি মেলো ওগো কৃষ্ণ কলি।
মাহবুবুল হক ( ১৯৪৮)। বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্য অঙ্গনে এক অনন্য নাম। লেখালেখি, সম্পাদনা, শিক্ষকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর কৃতিত্ব ও প্রয়াস তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাংলা বানানের বিশেষজ্ঞ, মননশীল প্রাবন্ধিক ও পরিশ্রমী গবেষক হিসেবে তিনি দেশে-বিদেশে সুধীজনের কাছে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছেন। ছড়া রচনায়ও তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রবন্ধ-গবেষণা: মাক্সিম গোর্কির মা,আধুনিক বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস, ঐতিহাসিক বস্তুবাদ পরিচিতি, বাংলা বানানের নিয়ম, পাঠ্য বইয়ে বাংলা বানানের নিয়ম, নজর”ল তারিখ অভিধান; জীবনী: আশুতোষ চৌধুরী, অনুবাদ: মৌমাছি ও মানুষ, টাইম মেশিন, অক্টোবর বিপ্লবের বিজয়গাথা; সংকলন: বিশ্ব তারিখ অভিধান, ঈযরঃঃধমড়হম এঁরফব; সম্পাদনা: হাজার বছরের চট্টগ্রাম, আবুল ফজলের নির্বাচিত প্রবন্ধ, জল পড়ে পাতা নড়ে (রবীন্দ্র কিশোর সাহিত্য), আজিকে এই আকাশ তলে, কলরোল, রবি করে কবিকণ্ঠ, পদাতিক, মিছিল, সাহসী ঠিকানা; কিশোর সাহিত্য: বাতাসের কথা, সবই হলো কিসমত, বেড়াল কুমির ও খরগোশের গল্প, পাঠ্যবই: চারুপাঠ, সপ্তবর্ণা, উচ্চ মাধ্যমিক বাংলা সংকলন, গল্প-কথার আলপনা, গল্পগাথা, চিরায়ত সাহিত্য, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও রচনারীতি।
মাহবুবুল হাসান ( ১৯৫৮)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ইঁদুরের পাল্লায় হুলো বেড়াল (১৯৮৯), কুটুম পাখির ছড়া (১৯৯২), বুদ্ধু রাজার ছড়া (১৯৯৬), উড়ো খবর (১৯৯৯), পতাকার ঐ লাল গোলকে (২০০০) ।
মাহমুদুল হাসান নিজামী ( ১৯৬৭)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নীল বেদনার কাব্য, আকাশের ঠিকানা, নির্ঝরনীর মুখ।
মিজানুর রহমান শামীম ( ১৯৬৭)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সব পেটুকের দল, নুন আনতে পান্তা ফুরোয়, নষ্ট প্রেমের কষ্ট লিরিক, নির্বাচিত ছড়া, বালক আঁকে পাখিক পালক।
মিনহাজুল ইসলাম মাসুম (১৯৭৪)। কবি, ছড়াকার ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : কর্ণফুলীর গাঙচিল, ভূতের কবলে দরবেশ বাবা, ছোটদের বিশ্বনবি সা., স্লো পয়জনিং, বাবার খুশি মায়ের হাসি, মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন, হৃদয় গোলাপের পাপড়িগুলো।
মিনার মনসুর (১৯৬০)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তিনি বঙ্গবন্ধু-হত্যাপরবর্তী প্রতিবাদী সাহিত্যধারার অন্যতম পুরোধা। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রথম মাইলফলক স্মারকগ্রন্থ ‘শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ’ সম্পাদনা করেছেন ১৯৭৯ সালে। বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৭৮ সালে প্রকাশ করেছেন ‘এপিটাফ’। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদে ‘আবার যুদ্ধে যাবো’ শিরোনামে একটি বিশেষ বুলেটিন প্রকাশ করেছেন ১৯৮০ সালে। এতে পঁচাত্তরের ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবাদী কবিতা রচনায় তিনি অনন্য। তাঁর প্রকাশিত বই : এই অবরুদ্ধ মানচিত্রে, কবিতাসংগ্রহ, মা এখন থেমে যাওয়া নদী, মিনার মনসুরের দ্রোহের কবিতা, মিনার মনসুরের প্রেমের কবিতা, পা পা করে তোমার দিকেই যাচ্ছি, নির্বাচিত কবিতা, আমার আজব ঘোড়া, নির্বাচিত ১০০ কবিতা, অতল জলের টানে, হেলাফেলার ছড়া, চিরকালের নেতা, হাসান হাফিজুর রহমান: বিমুখ প্রান্তরে নিঃসঙ্গ বাতিঘর, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত: জীবন ও কর্ম, শোষণমুক্তির সংগ্রামে মধ্যবিত্তের ভূমিকা, কবি ও কবিতার সংগ্রাম, আমার পিতা নয় পিতার অধিক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার শত্রুমিত্র, বঙ্গবন্ধু কেন দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, জলপাইরঙের একটি হেলমেট আর এক জোড়া বুট, শেখ মুজিব একটি লাল গোলাপ, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মকথা, মুক্তিযুদ্ধের উপেক্ষিত বীর যোদ্ধারা প্রভৃতি।
মিলটন রহমান। কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত বই : ভবদীয় পাখোয়াজ, ইউরোপে বিশ শতকের লিটলম্যাগ আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের গল্প, চূর্ণকবিতা, স্নোড্রপ চুম্বনেরা, কবি শহীদ কাদরী ও অন্যান্য প্রবন্ধ, নকশাপুরাণ, নিষঙ্গ, চূর্ণকাল, ব্রুটাস পর্ব ও কর্তার শারিরীক অবনতি।
মিলন বনিক। কথাসাহিত্যিক, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : আদরের নৌকা, তবে তাই হোক, ছোট্ট রাজার গল্প, কাঁঠাল গাছে ভূতের হাঁড়ি, সপ্তর্ষি, জাদুর পুতুল, এখানে আকাশ নীল, সত্য ও সুন্দরের পূজারী সাধু তারাচরণ পরমহংসদেব, রাখাল ও বাবুই পাখি, দাদুর আছে জাদুর আয়না, নোনাজলে নীলপদ্ম, খোকাদের পোড়োবাড়ি, ঘুমপরিদের আনন্দমেলায়, অপারেশন তালপুকুর, বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ ও শেখ রাসেলের গল্প, খোকাবাবুর চশমা।
মিলি সুলতানা (১৯৭৫)। কবি ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অন্তরে আছো তুমি, রইব তোমার সাথে।
মীর রমজান আলী (১৯৪৮-২০১০)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্মৃতির দুয়ারে তুমি, কেমন আছো জানতে ইচ্ছে করে।
মুকুল সেন ( ১৯৫৪)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দীর্ঘশ্বাসে উড়ে যায় আয়ু ।
মুজিব রাহমান। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সব ডালে পাখিরাও বাঁধে না বাসা।
মুনা চৌধুরী। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রেম তুই
মুর্তজা বশির (১৯৩৩-২০২০)। বাংলাদেশের শিল্পকলার উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। কিংবদন্তি শিল্পী। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও প্রতিবাদে মুর্তজা বশীর ছিলেন অগ্রভাগে। ২১ ফেব্রুয়ারির ওপর ‘রক্তাক্ত ২১শে’ শিরোনামে ১৯৫২ সালে তিনি লিনোকোটে চিত্রটি আঁকেন। এশিয়াটিক সোসাইটির মতে, ‘রক্তাক্ত ২১শে’-কে ভাষা আন্দোলনের ওপর আঁকা প্রথম ছবি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৭১ সালের ১৬ মার্চ শহীদ মিনার থেকে বাহাদুর শাহ পার্ক পর্যন্ত বাংলাদেশে চারু ও কারুশিল্পী পরিষদের উদ্যোগে ‘স্বাধীনতা’ মিছিলে নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। কবি ও কথাসাহিত্যিক হিসেবেও তিনি খ্যাত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাচের পাখির গান, ত্রসরেণু, তোমাকেই শুধু, আল্ট্রামেরীন, ‘এসো ফিরে অনুসূয়া’, ‘সাদায় এলিজি’, ‘মিতার সঙ্গে চার সন্ধ্যে’, ‘অমিত্রাক্ষর’।
মুয়িন পারভেজ। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সঞ্জয় উবাচ
মুশতারী শফী (১৯৩৮-২০২১)। কবি, ছড়াকার, সাহিত্যিক, মুক্তিযোদ্ধা, নারী নেত্রী; যিনি শহীদ জায়া ও শহীদ ভগ্নি হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: শংখচিলের কান্না, জীবনের রূপকথা, এমনও হয়ে, একগুচ্ছ গল্প তোমাদের জন্য, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: স্বাধীনতা আমার রক্ত ঝরা দিন, মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রামের নারী, ভ্রমণ: আমি সুদূরের পিয়াসী, স্মৃতিকথা: চিঠি; সম্পাদনা: বান্ধবী, ললনা।
মুস্তফা নঈম (১৯৬১)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: পিনাকীর মাটির কাছে যাওয়া।
মুহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী ( ১৯৫৫)। কবি, গীতিকার, নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্মৃতির ক্যানভাসে, নির্বাচিত আধুনিক বাংলা গান।
মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন (১৯৫৩)। ছড়াকার, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিশ্ব সাহিত্যের দ্বাদশ নক্ষত্র, জাপানের সাহিত্য ও সাহিত্যিক, জিকুর বেলুন।
মুহম্মদ নুরুল ইসলাম (১৯৪৩)। প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হিরাগানা কাতাকানা সহজপাঠ ।
মুহম্মদ নূরুল ইসলাম (১৯৫৬)। কবি, প্রাবন্ধিক, ইতিহাস লেখক ও লোকসাহিত্য গবেষক। তাঁর প্রকাশিত বই : বাঙলাভাষার আঞ্চলিক শব্দবৈচিত্র্য, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কক্সবাজারের অবদান, কক্সবাজারের বিলুপ্তপ্রায় লোকাচার, উখিয়ার ইতিহাস, কক্সবাজারের প্রবাদ-প্রবচন ধাঁধা, একাত্তরের স্মৃতি প্রভৃতি।
মুহম্মদ নুরুল হুদা (১৯৪৯)। তামাটে জাতির কবি ও বাঙালি জাতিসত্তার কবি হিসেবে খ্যাত। শুধু কবি হিসেবে নয়, সাহিত্যের নানা শাখায় তিনি তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। উপন্যাস, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, অনুবাদ, শিশুসাহিত্য- প্রায় প্রতিটি শাখায় তিনি স্বচ্ছন্দ। তিনি পালন করছেন কাব্য-আন্দোলনের প্রধান সংগঠকের ভূমিকাও। কবিতার নির্মাণশৈলীতে, বাক-প্রতিমায়, উপমা-উৎপ্রেক্ষায় এবং শব্দের অপরূপ চয়নে তিনি অনন্যসাধারণ। ছন্দ-মাত্রা-পর্বের ওজন মাপা গাণিতিক নিয়ম ব্যবহারের কারণে তাঁর কবিতার শরীরে সৃষ্টি হয় অপূর্ব ব্যঞ্জনা।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: শোণিতে সমুদ্রপাত, আমার সশস্ত্র শব্দবাহিনী, শোভাযাত্রা, দ্রাবিড়ার প্রতি, অগ্নিময়ী হে মৃণ¥য়ী, আমরা তামাটে জাতি, শুক্লা শকুন্তলা, নির্বাচিত কবিতা, যিসাস মুজিব, হনলুলু ও অন্যান্য কবিতা, কুসুমের ফণা, বারো বছরের গল্প, এক জনমে লক্ষ জন্ম, গালিবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, আমি যদি জলদাস তুমি জলদাসী, হ্যামিলনের রাজা, তেলাপোকা, জাতিসত্তার কবিতা, প্রিয়াংকার জন্য পক্তিমালা, ভিনদেশী প্রেমের কবিতা, অরক্ষিত সময়, প্রেমের কবিতা, দিগন্তের খোসা ভেঙে, ভালোবাসার বুকপকেটে, আমার কপালেও সময়ের ভাইফোটা, প্রিয় পক্তিমালা, মৌলাধুনিক, মুজিববাড়ি, দেখা হলে এক হয়ে যায়, সিকোরাক্স, প্রবন্ধ: শর্তহীন শর্তে, লক্ষণ সংহিতা, মহানবী, রবীন্দ্র-প্রকৃতি ও অন্যান্য প্রবন্ধ, সার্ত্র ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, প্রাণের মিনার শহীদ মিনার, সৃষ্টিশীলতা ও অন্যান্য; কথাসাহিত্য: জন্মজাতি, মৈনপাহাড়; অনুবাদ: পরিবর্তনের পথে, আগামেমনন, ইউনুস এমরের কবিতা, ওহ ইষরংংভঁষ ঐবষষ, বাস্তুহারা, ফ্ল্যাবারী ও কনরের গল্প, নীল সুমেদ্রের ঝর, রোমিও জুলিয়েট; সম্পাদনা: হে স্বদেশ, চড়রবসধ, কবি মধুসূদন, কবিতা ১৩৯০, কবিতা ১৩৯১. শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মরণে কবিতাগুচ্ছ, হুমায়ুন কবির রচনাবলী, আবুল হাসানের অগ্রন্থিত কবিতা, বাংলাদেশের নির্বাচিত কবিতা, অধোরেখ, বিশ্বাস, ছোটদের অভিধান (যৌথ), বহুবচন, হোমিওপ্যাথিক পরিভাষা, কবিতা : গনআন্দোলন, সাহিত্য মঞ্জুষা, বাংলা একাডেমি ইংলিশ-বেঙ্গলি ডিকশনারি (যৌথ), শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ প্রেমের পক্তি, নজরুল ও বঙ্গবন্ধু, নজরুল স্বরলিপি সংগ্রহ, শিশুতোষ: বাংলা একাডেমী ছড়ায় বর্ণমালা।
মুহাম্মদ মুসা খান (১৯৬২)। কবি, প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘দুঃখিনী এক নারীর গল্প’, ‘চোখ মেলে দেখুন’।
মুহাম্মদ শামসুল হক (১৯৫৮)। ছড়াকার হিসেবে লেখালেখি শুরু হলেও প্রাবন্ধিক, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাঁর প্রকাশিত বই : স্বাধীনতার ঘোষক বঙ্গবন্ধু : প্রামাণ্য দলিল,; স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি ও বেতার ঘোষণার ইতিবৃত্ত, চোখে দেখা ৭১- প্রথম পর্ব; স্বাধীনতার সশস্ত্র প্রস্তুতি : আগরতলা মামলার অপ্রকাশিত জবানবন্দি, খ্যাতিমানদের নানা রঙের দিনগুলি,; স্বাধীনতার বিপ্লবী অধ্যায়-বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য ৪৭-৭১, স্বাধীনতার সশস্ত্র প্রস্তুতি ও বঙ্গবন্ধু -আগরতলা মামলার অপ্রকাশিত জবানবন্দি (নতুন) ৪৪ প্রত্যক্ষদর্শীর চোখে দেখা ৭১ -দ্বিতীয় পর্ব, চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সঙ্গীরা; একাত্তরের শোকগাথা; যুক্তি তথ্য-প্রমাণ প্রেক্ষাপট: বঙ্গবন্ধুই স্বাধীনতার ঘোষক।
মুহাম্মদ সৈয়দুল আলম (১৯৭৩)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অহর্নিশ।
মেহেরুন্নেছা মেরী (১৯৭৯)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই: স্বপ্নচারিণী।
মোঃ মাহবুবউল আলম (১৯৪০)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ছন্দের নাম বুলেট, ঐশী আলোর জলসাঘর, আদর্শের চেয়ে মানুষ বড়, অভেদম, মওলানা ভাসানী।
মোমিন উদ্দীন খালেদ (১৯৬২)। লেখক, চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রকাশিত বই : রেখায় রেখায় ও রেখাচিত্র।
মোশতাক রায়হান (১৯৭৬)। ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কিশোর গল্প: ঘুম ভাঙা দুপুরে, সম্পাদিত গ্রন্থ: চাঁদের হাসি ফুলের হাসি, ওইখানে যেওনাকে তুমি।
মোস্তফা কামাল পাশা (১৯৫২-২০২২)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : লাশ কাটা ঘর, ভয় নেই আমরা আছি, অন্য গ্রহের মানুষ, চন্দ্রিমা, নীল বিষের ছোঁয়া।
মোহন লাল বিশ্বাস (১৯৫৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শুধু একটি ফুলের জন্যে, ফুলের দেশে, উৎকৃষ্ট গোলাপ ।
মোহাম্মদ আয়ূব (১৯৪৫)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: দীন-ই-ইলাহী ও আকবর।
মোহাম্মদ আলী পাশা ( ১৯৬২)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: উপন্যাস: নয়ন ভরা জল, কাব্য: বিবেকের সাথে যুদ্ধ।
মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী (১৯৬১)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : শঙ্খ সোহাগ।
মোহাম্মদ খালেদ (১৯২২-২০০৪)। প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক। কবিতাও লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সৌদি আরবে পঁয়ত্রিশ দিন।মোহাম্মদ ফেরদাউস খান (১৯১৯-২০১৬)। কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বাংলা হরফের সংস্কার, ঞযব ঈৎরংরং রহ ঙঁৎ ঊফঁপধঃরড়হ, টহরাবৎংরঃু ঊফঁপধঃরড়হ রহ চধশরংঃধহ, কচিমেলা, হরফ সমস্যা, কোরানের মর্মকথা, সর্বোত্তম কাহিনী, জিজ্ঞাসা, আল কোরআনের তিনটি সূরা, ঞযব ঝপরবহঃরভরপ ঋরহফরহমং ধহফ ঃযব ঐড়ষু ছঁৎধহ, খরঃবৎধপু ধহফ ইধহমষধফবংয, সাক্ষরতা ও সাক্ষরতাদান পদ্ধতি, ছড়ার ফুলঝুড়ি, আল কোরআনের তেইশটি সূরা, চোখ।
মোহাম্মদ হোসেন খান (১৯৪০)। রম্যসাহিত্যিক, কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিরস রচনা, উপন্যাস: প্রতীতির পংক্তিমালা, সম্পাদনা: মুসলিম এডুকেশন সোসাইটি শতবর্ষের স্মারক।
মোহীত উল আলম (১৯৫২)। কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : নিগড় (১৯৯১), সোনা আর ঘামের বনিবনা (১৯৯৬), গল্পে গল্পে ইংরেজি শেখা (১৯৯৬), ঞযব ঞধহঃধষরংবফ ঐবধৎঃষধহফ (১৯৯৬), মৌসুমের দূরে কাছে (১৯৯৬), এক সকালের কবিতা (১৯৯৮), এ পাড়ে অপার টান (২০০১), পাঠ্য বই: অ ঝঃধহফধৎফ ঊহমষরংয এৎধসসধৎ ্ ঈড়সঢ়ড়ংরড়ঃড়হ (১৯৯৯); ঝঃধহফধৎফ ঈড়সসঁহরপধঃরাব ঊহমষরংয ঞড়ফধু (২০০০)।
মৃদুল গুহ(১৯৫৪)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বদেশ আজ বিধূর মর্সিয়া, জন্ম জয়ের উত্থান চেয়েছি, না গৃহী না সন্ন্যাসী, তিমির হননের এ বেলায়, ষোড়শী পদাবলী, প্রিতুল মনির ছড়া।
মৃণালিনী চক্রবর্তী (১৯৬০)। কবি, প্রাবন্ধিক, সংগীতজ্ঞ। তাঁর প্রকাশিত বই : সমাজ ও দৃষ্টি।
যীশু রায় চৌধুরী ( ১৯৬৫)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সন্ত্রাস চারিদিকে।
রওশান ঋমু। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : কুয়াশার কয়েদ, মেঘফুল ও যৌথ যন্ত্রণা।
রওশন জাহান রহমান (১৯৩৭-২০১৫)। কবি, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: রূপকথা নয়, অনুভবে অনুভূতি।
রনিতা জামান (১৯৬৭)। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘ভালোবাসার মায়াডোরে’, ‘প্রিয়ার চোখে নিকষ আঁধার, ‘অবন্তিকা ও অন্যান্য স্বপ্নকথা’।
রফিক আনোয়ার (১৯৪২-২০১৬)। কবি, ছড়াকার, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : মহাকালের পদধ্বনি, দুঃখজাগানিয়া, রক্তনদীর জল টুঙি, ব্রহ্মপুত্র পারের সেই মেয়েটি, বৃষ্টি ভেজা রোদ্দুর, কমলা বনে ফোটে ফুল, একাত্তরের মহাবিদ্রোহ : অগ্নিপুত্ররা কোথায়, উদ্বাস্তু স্মৃতি।
রফিক আহমদ খান (১৯৮০)। ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘আলোর মেলা শিশুর খেলা’, ‘প্রবাসের ব্যালকনিতে’
রমজান আলী মামুন(১৯৬৮-২০১৯)। কবি, ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হারিয়ে যাওয়া দুপুরে, আমার অনেক কষ্ট আছে, নীল ডানা এক পাখি, আকাশ পরী ও পাপিয়া, এক যে ছিলো রাজকন্যে, দিবা ও রহস্যময় বুড়ো, কিশোর নেমেছে যুদ্ধে, ‘রেল ছোটে মন ছোটে’, ‘সবুজাভ কোন গ্রামে’, ‘ছড়ার গাড়ি থামবে বাড়ি’।
রমজান মাহমুদ (১৯৭১)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : গাছবন্ধু, পিঁপড়া ও শিপরা, যখন যেমন তখন তেমন, ধুমধাম, নূপুর বাজে দুপুর সাঁঝে, চিৎপটাং, একশো লিমেরিক, তাল-বেতাল, আলোর খেলা প্রভৃতি।
রমা চৌধুরী(১৩৪৮ বঙ্গাব্দ-২০১৮)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: রবীন্দ্র সাহিত্যে ভৃত্য, নজর”ল প্রতিভার সন্ধানে, সপ্তরশ্মি, স্বর্গে আমি যাব না, চট্টগ্রাম লোকসাহিত্যে জীবন- দর্শন, শহীদের জিজ্ঞাসা, একাত্তরের জননী, ১০০১ দিন যাপনের পদ্য, আগুন রাঙা আগুন ঝরা অশ্রু ভেজা একটি দিন, ভাব বৈচিত্র্যে রবীন্দ্রনাথ প্রভৃতি।
রহমান হাবীব (১৯৬৫)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : কিশোর কাব্য : দূরের বাঁশি (১৯৯৭)।
রহীম শাহ(১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। ছড়াকবিতার পাশাপাশি লিখে চলেছেন গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ, জীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী, সায়েন্স ফিকশন, বিজ্ঞান বিষয়ক নির্বাচিত লেখা, অনুবাদ প্রভৃতি। তাঁর প্রকাশিত বই : আগুন ডানার পাখি, বুনো হাঁসের অভিযান, অ্যাডভেঞ্চার হিমছড়ি, চার খঞ্জনার গল্প, রাতের কপালে জোনাকির টিপ, সবার আগে কুসুম বাগে, দশ দশে ১০০, স্বপ্ন নিয়ে খেলা, আনন্দ রে আনন্দ, নির্বাচিত কিশোর কবিতা, নির্বাচিত ১০০ ছড়া, সব রকম লেখা, বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত ১০১ কিশোর রচনা প্রভৃতি।
রাজীব হুমায়ুন ( ১৯৫১)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক, নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আবুল মনসুর আহমদের ব্যঙ্গরচনা, সন্দ্বীপের ইতিহাস সমাজ ও সংস্কৃতি, নাটক রচনা রূপ ও রীতি, সমাজ ভাষা বিজ্ঞান, তিতাস একটি নদীর নাম, নজর”ল ইসলাম ও বাংলাদেশের সাহিত্য, ঝড়পরড়ষরহমঁরংঃরপ ধহফ উবংপৎরঢ়ঃরাব ঝঃঁফু ড়ভ ঝধহফারঢ়র; নাটক: নীলপানিয়া ।
রাশেদ রউফ (১৯৬৪)। শিশুসাহিত্যিক। প্রকাশিত গ্রন্থ: আকাশের সীমানায় সূর্যের ঠিকানায় (১৯৯১), আগল ভাঙা পাগল হাওয়া (১৯৯৬), বিকেল মানে ছুটি (১৯৯৬), ধানের গানে প্রাণের বাঁশি (১৯৯৮), যাওয়ার পথে হাওয়ার রেলে (১৯৯৯), ছুটির মজা কেমন মজা (২০০০), আয়রে খোকন ঘরে আয় (২০০২), নির্বাচিত কিশোর কবিতা (২০০৪), ছবির মতো দেশ (২০০৮), আনন্দ সাম্পান (২০০৯), পরীর নূপুর (২০১২), তোমার জন্যে সোনার বাংলা (২০১৬), ছুটিমাখা সকালে (২০১৯) শ্রেষ্ঠ কিশোরকবিতা (২০১৯) যখন আমি ছোট্ট ছিলাম (২০২০), তোমার জন্য সকাল আমার তোমার জন্য রাত (১৯৯৭), এসো পঞ্চাশে এসো মন চাষে (২০১৩), ছড়াগ্রন্থ: সমকালীন ছড়া (১৯৯৭), অন্ত্যমিলসমগ্র : ১ (২০১৬), এটাও চাই, ওটাও চাই (২০২০), মুক্তিযুদ্ধের ছড়া ও কবিতা (১৯৯৭), স্বাধীনতার প্রিয় কবিতা (২০০০), ভাষা-আন্দোলন মুক্তিযুদ্ধ-স্বাধীনতা ও দেশের কবিতা (২০১৪), খোলা আকাশের দিন (২০১৭), তীর্থভূমি (২০১৭), কী শোভা কী ছায়া গো (২০১৭), বীরের স্বপ্ন (২০১৮), বঙ্গবন্ধু তুমি অজর অমর (২০১৯) প্রভৃতি।
রিজোয়ান মাহমুদ(১৯৬০)। কবি, প্রাবন্ধিক, কাব্য সমালোচক ও সম্পাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: পংক্তি নির্মাণে যেমন কুশলী, তেমনি শব্দ ব্যবহারে যথেষ্ট সচেতন। তাঁর কবিতা জটিলও নয়, তরলও নয়। ভাব ও বোধ বেশ জমাট, শক্ত, আঁটোসাঁটো। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : গগণহরকরা ডাকে, দুপুরলতা, নীরবপুর, মুদ্রিত কামনা থেকে, উজানীনগরের কন্যারা, কাঠচেরাইয়ের শব্দ মাপছি দুপুরে প্রভৃতি।
রিমঝিম আহমেদ। কবি ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : লিলিথের ডানা (২০১৬), কয়েক লাইন হেঁটে (২০১৮), সুবেহ তারা (২০১৯), ময়ূরফুলের সন্ধ্যা (২০১৯), অনন্তকলহ (২০২২), কেন আমি সমুদ্রে ডুবে গিয়েছিলাম, বিস্ময়চিহ্নের মতো (২০২০)
রুনা তাসমিনা। শিশুসাহিত্যিক, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘মেঘে ঢাকা চাঁদ, ‘টিয়া হাসে নীল আকাশে’, ‘সূর্য নাচে রং তুলিতে’, ‘দীপুর লাল ঘুড়ি’, ‘প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু’ ‘সুবাসিত নক্ষত্ররাত’, ‘গাছ-পাখি রোদের হাসি’, ‘ নাম ছিল তাঁর শেখ রাসেল’।
রূপক কুমার রক্ষিত (১৯৬৯ )। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত বই : হে প্রিয় তুমি, পঞ্চাশ ছড়ায় মুজিব, প্রেমবন্ধন।
রেজাউল করিম বাবলু (১৯৭৭)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ছায়ায় ছায়ায় মেঘ ।
রেবতপ্রিয় বড়ুয়া (১৯৪৭)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিশুদ্ধিমার্গে বৌদ্ধতত্ত্ব, পালি সাহিত্যে ধম্মপদ, পালিবাংলা অভিধান (যৌথ-সম্পাদনা), মাধ্যমিক পালি, শিক্ষক সংস্করণ, বৌদ্ধ ধর্ম শিক্ষা ।
রেহেনা মাহমুদ। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘এবং হিমু মন’, ‘মনযতিপুর’, ‘দৃশ্যের অন্তরালের গল্প’
রোকেয়া হক (১৯৬২)। কবি, উপস্থাপক, রন্ধন শিল্পী। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘ স্বপ্নের বালুচর’ ও ‘লাল সবুজে ভালোবাসা’।
লিটন কুমার চৌধুরী। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : জোনাকজ্বলা রাতে, ভালোবাসি রাঙা হাসি, রবিন ও মেছোভূত, রঙ মাখানো স্বপ্ন বুনি, পালতোলা সাম্পান, তুলি ও প্রজাপতি।
লিপি বড়ুয়া। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : মনজোনাকির ছায়াপথ, তোমার বসন্তদিনে।
লিয়াকত হোসেন খোকন(১৯৬২)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ডানার পালকে রোদ, তাড়িয়ে দাও তাকে, অসমাপ্ত কান্না, কাপ্তান বাড়রি ইতিকথা, আমাকে ফিরিয়ে দাও, তোমার অস্তিত্ব মিলে যাবো, এক বিন্দু ভালবাসা, প্রবেশ নিষেধ শুধু তোমার ।
লুলুল বাহার (১৯৬৭-২০২০)। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : অষ্টরম্ভা
শওকত আলী সুজন (১৯৭৩)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : নিঝুম রাতে চাঁদের সাথে, বৃষ্টি ভেজা দুপুরে, ইতল বিতল চিতল।
শওকত হাফিজ খান রুশ্নি (১৯৪৮- ১৯৯৪)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁ প্রকাশিত গ্রন্থ : সমস্ত সাহস একত্রিত করে বলছি, সাহসী ঠিকানার একাত্তর।
শফিউল আযম ডালিম (১৯৬৮)। কথাসাহিত্যিক, কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: উপন্যাস: কোন পাপ করিনি, সুখের পথের একপা, কাব্য: নোবেল অস্কার তুমি, রম্য: অরাজনীতি, প্রবন্ধ: দুই বাংলার উপন্যাস: প্রেক্ষিত দুর্ভিক্ষ।
শফী সুমন (১৯৬৩)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: গ্রহণের কাল, স্বপ্ন দেখার দিন।
শ.ম. বখতিয়ার (১৯৫৯)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাচভাঙা জলকণা
শরণংকর ভিক্ষু ( ১৯৫৬)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মার কাছে নেই, ধর্ম কোন পথে, মানুষ তোমার পরিচয় কি?, মানুষ কত রূপে, অরহৎ পূজা।
শরীফা বুলবুল (১৯৭১)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমি সেই দুঃখবাহী নদী, দহনের ৮৩৫ দিন।
শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার (১৯৭৫)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কিশোর কাব্য: স্বপ্নরা কি উড়াল পাখি।
শাওন পান্থ। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : নীল নির্জনে ও আজ তোমার সুবর্ণজয়ন্তী মেয়ে
শাকিল আহমদ। কাব্য সমালোচক, প্রাবন্ধিক, গবেষক। প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘বাংলাদেশের প্রবন্ধসাহিত্য পরিপ্রেক্ষিত চট্টগ্রাম’, ‘মনন সৃজনের রেখাচিত্র’ এবং ‘বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে একুশ ও একাত্তর’।
শাম্স চৌধুরী রুশো। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ছড়াটে।
শামসুল আলম সাঈদ (১৯৪০)। কবি, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: সুবর্ত, অনিষ্ট দ্রাঘিমা, উজ্জ্বল উদ্ধার কেড়ে নেবো, প্রাণ বসন্ত, হতবনের রক্ত পরাগ, একাত্তরের জীবনযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের মুখ চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের মানস সম্পদ, কাব্য বিশ্বাসের কবি ও কবিতা, বাঙালি জীবনে একুশ, একাত্তরের বিজয় ।
শামসুন্নাহার রহমান পরান (১৯৪০- )। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: উপলব্ধির আঙ্গিনা, একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে, পুষ্প পরাগ, গল্প মঞ্জুরী, নয়ন সম্মুখে তুমি নাই, সুবচন সংগ্রহ।
শামসুদ্দীন শিশির। প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত বই : শিক্ষকতা মহান পেশা, আলোর ফেরিওয়ালা, শিক্ষা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ, শিক্ষক অভিভাবক সমীপে, লাইব্রেরি নিয়ে যত কথা, ম্যানার্স, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র, ইত্যাদি।
শামসুল হক দিশারী (১৯৪৯)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কান্না চেপে হাসছে স্বদেশ, চাবুক মারো চাবুক, সব জানে সরকার।
শামসুল হক হায়দারী (১৯৫৭)। গল্পকার, নাট্যকার ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ভালবাসার কার”কাজ, গাঁও গেরামর পালা, আনন্দ বেদনার দিন, অরণ্যের দিন রাত্রি, একটি মামুলী গুজব।
শামীম ফাতেমা মুন্নী। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : হেমন্তের শেষ রাতে’, ‘মন- জোছনায় ভালোবাসায়’।
শারুদ নিজাম। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘ভগ্নাংশের যোগ বিয়োগ’।
শাহনাজ সুলতানা। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘হৃদয়ে শূন্যতা’।
শাহনেওয়াজ বিপ্লব (১৯৭০)। কবি ও প্রাবন্ধিক। প্রকাশিত গ্রন্থ: গল্প: শেষযুদ্ধ, ছোটগল্প, সিন্দাবাদের অষ্টম সমুদ্র যাত্রা, কাব্য : টুপটাপ ঝরে কষ্টের বকুল ।
শাহাবুদ্দীন নাগরী (১৯৫৫)। কবি, ছড়াকার, গীতিকার। তাঁর প্রকাশিত বই : মৌলি তোমার ছড়া, প্রতিদিনের ছড়া, স্বাধীনতার ছড়া, ছেলেবেলার দিন।
শাহিদ আনোয়ার (১৯৬০-২০২২)। কবি ও অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: শুড়িখানার নুড়ির মধ্যে।
শাহিদ হাসান। কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শিরায় শিরায় অনুনাদ, পিতা বনাম পুত্র, কালের আলোয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি।
শাহীন মাহমুদ। কবি ও কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নির্বাচিত প্রেমের কবিতা, হৃদয়ে তুলির আঁচড়, অন্তর্গূঢ় দিশা, জেগে ওঠো ফিনিক্স পাখি প্রভৃতি।
শাহেদ আলী টিটু (১৯৭০)। গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ভালবাসি যারে ।
শিউলী নাথ (১৯৭৫)। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: এক মুঠো অনুরাগ, অনি, অথৈ ও সকালদের গল্প।
শিপ্রা দস্তিদার (১৯৪৭)। প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সাহিত্যকর্ম (১৯৯২) উনিশ শতকের সাংস্কৃতিক ইতিহাসের এক দশক ।
শিব প্রসাদ। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কিশোর গল্প: গল্প কিন্তু গল্প নয়, অল্প অল্প গল্প, মানুষের গল্প; কাব্য : আয়নার সামনে নারী ।
শিবু কান্তি দাশ(১৯৭১)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, সাংবাদিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : লাল নীল ঘুড়ি,একটি ছড়া আঁকব বলে; রোদের কণা রুপোর সিকি, রোদ ঝুরঝুর মিষ্টি দুপুর, মাঠ পেরুলেই বাড়ি, বুকের ভেতর বঙ্গবন্ধু, আমি নাকি দুষ্টু ভীষণ,আমি নাকি দুষ্টু ভীষণ (কলকাতা সংস্করণ), আমাদের ছুটি আজ (আবৃত্তির ছড়া-কবিতা), চলব আমি আমার মতো; পরির পাহাড় রহস্য, লালপরি ও নীলপরির গল্প, রানিপুকুরের দুষ্টু ভূত, জলপাই রঙের গাড়ি, ব্যাঙ ছানার সর্দি; যুদ্ধদিনের গল্প, আমাদের গুডবয়, রঙিন মেঘের ভেলা; ছোটোদের বিজ্ঞান : মহাশূন্যের গল্প শোনে; গল্পে গল্পে বাংলাদেশ; ভূত পেত্নি ও পরির গল্প, যুদ্ধে যুদ্ধে স্বাধীনতা, আলোকের এই ঝরনাধারা (রাশেদ রউফ সম্মাননাগ্রন্থ); আমার বঙ্গবন্ধু আমার স্বাধীনতা, বাংলাদেশের ছড়া-কবিতা (কলকাতা)।
শিমুল বড়ুয়া (১৯৬৬)। গবেষক, প্রাবন্ধিক। . রবীন্দ্রজীবনে ও সাহিত্যে চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের প্রবাদ-প্রবচন, বেণীমাধব ও উত্তরাধিকার।
শিরিন আফরোজ (১৯৭৭)। কবি, ছড়াকার, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘খুঁজি জীবনের সুখ’ ও ‘রৌদ্রছায়া’।
শিরীণ আখতার(১৯৫৬)। কবি, কথাসাহিত্যিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রবন্ধ: বাংলাদেশের তিনজন ঔপন্যাসিক, উপন্যাস: স্বাতীনক্ষত্রের আলো, সমালোচনা: নবযুগ ও নজরুল, সম্পাদনা: চির উন্নত শির, বিদ্রোহে বিপ্লবে চট্টগ্রামের নারী ।
শিশির দত্ত (১৯৫৫)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: আমার মাতৃভূমি আমার মত একা নয় ।
শিশির বড়ুয়া (১৯৪২)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বন্ধন খোল পায়রার, সংঘপ্রাণ বঙ্কিমচন্দ্র, প্রথম বৌদ্ধ অধ্যক্ষ।
শুকলাল দাশ (১৯৭৬)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : মেঘের কোলে রোদ হেসেছে’, ‘ভালোবাসার শীত বসন্ত’, ‘জলকদরের জলপায়রা’, ‘জলের দেশের রাজকন্যা’, ‘জলের দেশের রাজকন্যা’, ‘আকাশ ছোঁয়া সুবর্ণলতা’, ‘তোমার জন্যে ভালোবাসা’, ‘অবেলায় মন পোড়ে’, ‘মুজিব তুমি বজ্রকণ্ঠ হিমালয়’।
শুক্লা ইফতেখার। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘সম্পর্কের স্বরলিপি’, যাপন যদিও আপন কাঁটাতারে।
শেখ মোহাম্মদ আলী শেলী (১৯৫৬)। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অসুরের জবানবন্দী, দীপশিখা।
শেখর দেব। কবি, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: পরান কথার ঘ্রাণ, আরাধ্য আকাশবৃত্তি, বাঞ্ছাকল্পতরু, ব্ল্যাক বার্ড।
শ্যামল দত্ত (১৯৬৩)। কবি ও প্রাবন্ধিক। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ২০০৫ সাল থেকে। তাঁর প্রকাশিত বই : অগ্নিবর্ণ সাতটি ঘোড়া, করোনা কাহিনি, সম্পাদিত গ্রন্থ : ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান : পোয়েট অব পলিটিক্স (২০১৮)।
শ্যামলী মজুমদার। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: পাখির ঠোঁটে খড়, পল্লবে জলছায়া।
সজল দাশ (১৯৬১)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : সোমার জন্য ছড়া, উদোম, ভালো লাগার এপিঠ ওপিঠ, রঙবাহারি ছড়ার গাড়ি, সোলেমান মিয়ার গ্যারেজ, ছড়ার গাড়ি দিচ্ছে পাড়ি, কিশোর মুক্তিযোদ্ধার গল্প, ‘আমরা যদি না জাগি মা’।
সনজিত দে (১৯৬৮)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : স্বপ্নমাখা ভোর, ডানাঅলা ঘুড়ি, ঘড়ির কাঁটায় রৌদ্র হাঁটে, সিংহ রাজার মন্ত্রী শেয়াল, স্বপ্নলোকের চাবি, আমি যে এক নদী, মাঠের পরে সবুজ শাড়ি, পঙ্খীরাজের ডানায় চড়ে প্রভৃতি।
সনজীব বড়ুয়া (১৯৫৮)। কবি, ছড়াকার ও নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : নিঃসঙ্গ পদাবলী ।
সনতোষ বড়ুয়া (১৯৬০)। কবি, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সামনে দাঁড়াও পথ রুখে (যৌথ), হারবাং বিল ব্যাঙের ঝিল, ঊর্বা ও পিঁপড়ার গল্প, মেঘের খাপে আকাশ রাখে।
সন্তোষ কুমার শীল (১৯৬৯)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ছড়া: একাত্তুরের ছড়া, মুক্তির ছড়া, ভূত বলতে নেই কিছু; কাব্য: আমার একটি নদী ছিলো; প্রবন্ধ: মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার ।
সবিহ্ উল আলম (১৯৪০)। কবি, শিল্পসমালোচক, রম্যসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রবন্ধ: লেখা থেকে রেখা, কার”কাজে যাদুকর, নিমিত্ত মাত্র, হিজ এক্সেলেন্সি মিস্টার ডিসেন্ট্রী, গল্প: মাননীয় কচু, পিঁপড়ে নেকলেস ও অন্যান্য গল্প, শিশুতোষ গল্প: পিকনিক ।
সবুজ তাপস। কবি। তাঁর প্রকাশিত বই : সবুজ তাপস
সমর চক্রবর্তী (১৯৭১)। কবি । তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ ।
সরওয়ার কামাল পাশা(১৯৭৪)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘জীবন নক্ষত্র ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেছি’, ‘যুগলবন্দি ছড়া’।
সলিল বিহারী বড়ুয়া (১৯৪৫)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বৌদ্ধধর্মে অনিত্যবাদ, প্রবন্ধ সম্ভার, অনুবাদ: বিদর্শন ভাবনা পদ্ধতি, ডরংফড়স.
সাইদুল ইসলাম(১৯৭৭)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অনন্তর জেগে থাকে দীঘল পিপাসা ।
সাঈদুল আরেফীন (১৯৬৮)। কবি, প্রাবন্ধিক, শিশুসাহিত্যিক। ‘মনে পড়ে জলকদর’, ‘ফুয়াদের ফিরে আসা’, ‘একাত্তরে দুই কিশোর’, ‘মশিহাটি গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা দাদু’, মুক্তিযোদ্ধা বাবু ও মানিক, ‘মহান ভাষা আন্দোলন ও এর নায়কেরা’।
সাজিদ মোহন (১৯৯১)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। অবাক করা দেশে, তুমি তখন ফড়িং ছিলে, বেলাল মোহাম্মদ: কিশোর জীবনী প্রভৃতি।
সাজিদুল হক (১৯৬৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: অন্য কোনো সুরঞ্জনা।
সাথী দাশ(১৯৫১)। কবি, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: স্বপ্নভঙ্গের কথকতা (১৯৯৩), তোমাদের কাছাকাছি,প্রবন্ধ: মুক্তিযুদ্ধে চট্টগ্রাম মহানগরী ও প্রাসঙ্গিক বিষয়- আশয় (২০০০)। সম্পাদনা: কবিতা- বিশেষ স্মারক সংকলন (১৯৯৩); চট্টগ্রাম বিদ্রোহ-স্মারক আলেখ্য (১৯৯৪), বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মসূচী কি হওয়া উচিত? বক্তৃতামালা (১৯৯৪)।
সাদিয়া নাসরিন রিপা (১৯৭৯)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : তবুও জীবন জ্বলে।
সায়রা খানম (১৯৭৪)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: তোমারই জন্য ।
সারাফ নাওয়ার। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বাতাসে উড়ছে পাঁজর, ৩৯ অনুচ্ছেদ, রাত্রির ভাটলিপি, দূরের তান্ত্রিক, তিনে মিলে হলো চার।
সালেক নাছির উদ্দিন (১৯৮৩)। কবি, প্রাবন্ধিক ও সম্পাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সাহিত্য ভাবনা: আমাদের রবীন্দ্রনাথ থেকে আমাদের হুমায়ূন, সংগ্রাম ও সাহিত্য : বেগম রোকেয়া থেকে শেখ হাসিনা, হান্ড্রেড ইয়ার্স অব মুজিব, সেরা দশ উপন্যাস (সম্পাদিত), গৌরব ৫২, কাব্যগ্রন্থ মাতৃত্ব ও বৃক্ষের ছায়াতলে ।
সালমা চৌধুরী। কবি, ছড়াকার, অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ইকরি মিকরি
সাহেরা ইসমাইল (১৯৪১)। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অমিয় অঞ্জলি, পুষ্পিত অনুরাগ।
সিদ্দিক আহমেদ(১৯৪৬-২০১৭)। কবি, অনুবাদক, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : কবিতার রাজনীতি, খোলা জানালায় গোপন সুন্দরবন।
সিরু বাঙালি(১৯৪৮)। গবেষক, প্রাবন্ধিক, কিশোরসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার : ইতিহাসের নিষিদ্ধ সংলাপ’, ‘সেনাপতির মুক্তিযুদ্ধ ছিনতাই’, ‘মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে মেজর জিয়ার পলায়ন : প্রামাণ্য দলিল’, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ : বহির্বিশ্বে শত্রু-মিত্র’ ও ‘আমার যুদ্ধ আমার একাত্তর’। কিশোর গ্রন্থ: স্বাধীনতার গল্প শোন, আব্বুর জন্য যুদ্ধ, মাগো আমরা লড়তে জানি ।
সুকুমার বড়ুয়া (১৯৩৮)। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছড়াকার। বাংলাদেশের অনেক তরুণের আদর্শের ‘ছড়াশিল্পী’। তাঁর সহজাত প্রকাশ-নৈপুণ্যে, শব্দ-কুশলতায় ও সুরের ব্যঞ্জনায় তাঁর ছড়া যেমন হয়ে উঠেছে হৃদয়গ্রাহী, তেমনি তিনি হয়ে উঠেছেন ‘প্রিয়’।
তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: পাগলা ঘোড়া, ভিজে বেড়াল, চন্দনা রঞ্জনার ছড়া, এলোপাতাড়ি, নানা রঙের দিন, সুকুমার বড়ুয়ার ১০১টি ছড়া, চিচিং ফাঁক, কিছু না কিছু, প্রিয় ছড়া শতক, বুদ্ধ চর্চা বিষয়ক ছড়া, ঠুস ঠাস্, নদীর খেলা, ছড়া সমগ্র।
সুখময় চক্রবর্তী (১৯৪৯)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মুক্তিযুদ্ধের ছড়া, নিষিদ্ধ ছড়া।
সুখেন্দু বিকাশ দে (১৯৫১)। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অনন্য ভালবাসা, মৃত্যুঞ্জয়ী ভালবাসা, সখি ওকে আজ যেতে বল, দাঁড়াও বধূ একবার দেখি ।
সুচরিত চৌধুরী (১৯৩০-১৯৯৪)। কথাসাহিত্যিক হিসেবে সমধিক পরিচিত হলেও কাব্য ও সঙ্গীত জগতেও তাঁর বিচরণ ছিল। তিনি করাচি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক দিগন্ত পত্রিকার সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজে যুক্ত ছিলেন। এছাড়াও তিনি জড়িত ছিলেন চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রেনেসাঁ, মাসিক উদয়ন ও মাসিক সীমান্ত পত্রিকার সাথে। বাঁশি, সঙ্গীত আর সাহিত্য এই তিন ভুবনেই নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। তাঁর কবিতার বইয়ের মধ্যে রয়েছে : শুধু চৌধুরীর সেরা কবিতা।
সুজন বড়ুয়া(১৯৫৯)। বাংলাদেশের কিশোরকবিতা অঙ্গনে এক উজ্জ্বল ও অনিবার্য নাম। কিশোর কবিতা রচনায় তিনি যেমন আন্তরিক, তেমনি পরিশ্রমী। বিষয়-বৈচিত্র্যে, ছন্দ-নৈপুণ্যে, শব্দ-কুশলতায়, উপমায় কিংবা চিত্রকল্পে তাঁর স্বাতন্ত্র্য অত্যন্ত স্পষ্ট। শব্দের পর শব্দ গেঁথে তিনি তৈরি করেন অপূর্ব পংক্তিমালা। তাঁর সব কবিতাই চিত্ররূপময়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বাড়ির সঙ্গে আড়ি, আকাশ আমার সাগর আমার, আজ সারাদিন আমরা স্বাধীন, আলোর পাখি নাম জোনাকি, হাওয়ার সাথে হাত মেলাতে পতাকা আমার আয়না।
সুজন বড়ুয়া সাইম (ডা.) (১৯৭০)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: মাছের সাথে বসবাস, অনুবাদ: গাও সিংজিয়ানের দি আদার শোর ।
সুনীল নাথ(১৯৪৭)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রতিপক্ষ আয়না, সর্বনাশা নিমতোতা, বন্ধুর সময় সঙ্গে, বিস্তর সময় লেগেছে, আজো হিম হলে ছেলেবেলা রোদে ফেলে রাখি, শিউলি ঝরার মত, রোদ নেচে নেচে যায় মেঘের ঘোমটা পরে।
সুপলাল বড়ুয়া (১৯৭৭)। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : শঙ্খ নদীর ঢেউ, যখন বড় হবো প্রভৃতি।
সুব্রত চৌধুরী (১৯৬৪)। ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিশ্ব বেহায়া, আতু বুতু কাতু কুতু।
সুব্রত বড়ুয়া(১৯৪৬)। দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞান-লেখক, কৃতী কথাসাহিত্যিক, বিরলপ্রতিভাসম্পন্ন কবি, দায়িত্বশীল শিশুসাহিত্যিক, নিষ্ঠাবান অনুবাদক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : হলুদ বিকেলের গান, কবিতাসমগ্র; গ্রহণের দিন; ধলপহর, দিনগুলি হায় সোনার খাঁচায়; জোনাকি শহর, কাচপোকা; অনধিকার; আত্মচরিত ও অন্যান্য গল্প; ভালোবাসা ভালোবাসা; তৃণা, দস্তয়েভস্কি; মোহাম্মদ আবদুল জব্বার: জীবন ও কর্ম; বিজ্ঞানচর্চা: প্রসঙ্গ ও অনুষঙ্গ; আমাদের এই বাংলাদেশ; বাংলাদেশের ইতিহাস: প্রাচীন থেকে পলাশী, ইতিহাসের পলাশী; ইতিহাসে ; ইতিহাস বাংলাদেশ। জীবনী : অশোক বড়ুয়া; শহীদুল্লা কায়সার। চাঁদে প্রথম মানুষ; বিদ্যুতের কাহিনী, বিজ্ঞানের ইতিকথা: সন্ধানী মানুষ, সৌরজগৎ; বিজ্ঞান ও মহাশূন্য, পরমাণু শক্তি, শিশু-কিশোর বিজ্ঞান সমগ্র; গ্রিনিচ মানমন্দির। অনুবাদ: দি রাইট স্টাফ; কণা, কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ; আমেরিকার ভৌগোলিক রূপরেখা; শঙ্খচিল; এমিল ও গোয়েন্দা বাহিনী; নিশ্চয়তার সমীরণ; সরল পথে চলা; গণিতের রাজ্যে এলিস, সেই অদম্য কিশোর প্রভৃতি।
সুমন ইসলাম (১৯৫৯-২০১২)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মাহসী পুরুষের পদ্য,এত্তটুকুন
সুমন বড়ুয়া (১৯৬৮)। কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ভোদড় নাচে ঢোলের তালে, এই আকাশে অনেক তারা; নির্বাচিত কিশোর গল্প।
সুমি দাশ। কবি ও গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত বই : শেষ বিকেলের আলো।
সুরাইয়া জহুর শিরীন(১৯৫৪)। কবি, গল্পকার, নাট্যকার, গীতিকার ও শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘নিঃশব্দ বৃষ্টি’, শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ ‘খোকা ও চাঁদের বুড়ি’ এবং ছোটোদের উপযোগী গল্পগ্রন্থ ‘গোপাল চন্দ্রের বুদ্ধি’।
সুলতানা নুরজাহান রোজী। কবি, গল্পকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : পথের পরে, সমুদ্রের নোনা জল, অসুস্থ পৃথিবী, সুরঞ্জনা, ভয়ংকর দুর্ভিক্ষ আসছে পৃথিবীতে।
সেখ কাদের বক্স (১৯৪৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: বিরহীর অশ্রুজল।
সেলিনা শেলী (১৯৬৭)। দেশের একজন মেধাবী কবি। গল্পকার এবং প্রাবন্ধিক হিসেবেও তাঁর রয়েছে সমান পরিচিতি ও খ্যাতি। প্রজ্ঞা, মেধা ও সৃজনশীলতা নিয়ে এগিয়ে চলেছেন কাব্যভুবনে। কবিতা বিষয়ক গবেষণাতেও তিনি অসাধারণ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : অন্ধকার হে অন্তর্গত, নিভে আসে সূর্য সকাল, চিতাচৈতন্যের গান, দ্বিধাসংহিতা, তাচ্ছিল্যকুসুম; হনন।
সেলিম সোলায়মান। ভ্রমণ সাহিত্যিক, ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘প্রজাপতি পলায়ন ও রক্ত’, ‘নি হাও মেইড ইন চায়না’ ১ ও ২, ‘ডটার অব স্টোন ফরেস্ট’, এবং ‘ওল্ড স্পাইস নর্থ স্টার ও অন্যান্য’।
সৈয়দ আহমদ শামীম (১৯৭৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: অবলীলাদের বাড়ি অনেতিহাসের লোকগান।
সৈয়দ ইকবাল(১৯৫৩)। কবি, কথাসাহিত্যিক, চিত্রশিল্পী। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কুশল আর মৃত্যুবড়ো, ফিরে যাওয়া, একদিন বঙ্গবন্ধু ও অন্যান্য গল্প, ভালোবাসার পাচ পা, ঘুমাচ্ছো লস আঞ্জালিস, খাগড়াছড়ির কংজুরী, সৈয়দ ইকবালের প্রেমের গল্প ।
সৈয়দ উমর ফারুক(১৯৫৯)। ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: প্রবন্ধ: বিবেকের বিধ্বস্ত বিকাশ, স্মৃতি বিস্মৃতির মুক্তিযুদ্ধ।
সৈয়দ আমির উদ্দিন (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : এইতো আমার দেশ, লা পেরুজের হাতছানি, সোনার কৌটা রুপোর খিল।
সৈয়দ খালেদুল আনোয়ার (১৯৫৯)। কবি, ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ : সোনারোদের হাসি, অসংগতির ছড়া, প্রীতির জামা, স্মৃতি-আঁকা চিঠি মনের ছবি।
সৈয়দ গোলাম মোরশেদ(১৯৫৩)। কবি ও প্রাবন্ধিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: ইসলামী প্রবন্ধ সম্ভার, কারবালা ও মুয়াবিয়া, আহলে কোরআন, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দঃ) ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা ।
সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ (১৯৫২)। শিশুসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, গবেষক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: শিশুতোষ: ওয়াল্ট ডিজনীর মিকি মাউস, প-তে প্যালেস্টাইন, ডিজনী নগরে হৈ চৈ, রমেশ শীল, বাঘের মাসী, গবেষণা: ছড়ার ইশকুল, ছড়ায় বাঙালি সমাজ ও সংস্কৃতি, ঈড়সঢ়ধৎধঃরাব ঝঃঁফু রহ ঙৎধষ ঞৎধফরঃরড়হ. সম্পাদনা: সুকান্ত শিশু-কিশোর সমগ্র, সংস্কৃতি ও উন্নয়ন, রমেশ শীল রচনাবলী, ফণী বড়ুয়া:জীবন ও রচনা ।
সৈয়দা সেলিমা আক্তার। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত বই : ছোটোদের গল্পগ্রন্থ ‘ভিকি, পিংকি এবঙ টুনটুনি পাখির গল্প’ ‘বালিকার চোখে উদাসী মেঘ’ ‘যুগলবন্দি ছড়া – নাশরাহ্ র জন্য ছড়া’, ছড়াকাব্য : ‘জাগতে আমি ভালোবাসি ‘ ‘মিঠে কড়া ছড়ার ঘড়া’, ‘বিষ্টি যখন পড়ে’, ‘মাগো তুমি’, ‘আয়রে খুকু’, ‘মনের সাথে যাই হারিয়ে’।
সৌরভ শাখাওয়াত(১৯৭১)। ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক, নাট্যকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: মন থাকেনা ঘরে, ছু মন্তর ছু, হুল্লোড়, শিশুনাট্যম, অদ্ভুত ভূত, হাউ ঁমাউ খাউ, কাতুকাতু ভুুতু, পাহাড়পুরের ডাইনিবুড়ি, রাক্কস খোক্কস, রূপজগতের মানুষ , মামদো ভূতের ছানা, দত্যি দানো, আলাদিন জ্বীন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু : জীবন ও দর্শন।
স্বপন দত্ত (১৯৪৮)। কবি, প্রাবন্ধিক। তিনি এক শক্তিমান কবি। সংযত আবেগ ও প্রচণ্ড অনুভূতিপ্রবণ কবি হিসেবে খ্যাত। তিনি ক্রমাগত একটি ঘোরের আবহ তৈরি করেন কবিতায়। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: স্বপ্নের বসতবাটী ও অন্ত লীন চাষ-আবাদ, কুর”ক্ষেত্রের কালোপ্রহরে অমৃত সমান বৃষ্টিপাত, পান করি জতুগৃহে অনন্ত যৌবন, জেগে আছি ভালোবাসা একুশ বছর, রূপসাগরে পর্যটন কায়া করতালি। সম্পাদনা: আয়না।
হাফিজ রশিদ খান(১৯৬১)। কবি, প্রাবন্ধিক, সমালোচক। প্রতিটি শাখাতেই আছে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার ছাপ। আদিবাসী কবিতার গবেষণায় অনন্য ভূমিকা রেখেছেন তিনি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: জোসনা কেমন ফুটেছে, চোরাগোপ্তা, ডুবোপাহাড়, লোহিত ম্যাণ্ডোলিন, স্বপ্নখণ্ডের রোকেয়া বেগম রুকু, আদিবাসী কাব্য, দস্যু রত্নাকর ও অন্যান্য কবিতা, বাংলাদেশের উপজাতি ও আদিবাসী: অংশীদারিত্বের নতুন দিগন্ত, আমাদের কবিতা ও আদিবাসী প্রসঙ্গ।
হায়াত হোসেন (১৯৪২)। কবি, কথাসাহিত্যিক। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: নাফ নদীর তীরে, নীলা।
হাসান আকবর (১৯৬৮)। ভ্রমণ সাহিত্যিক। কবিতাও লিখেছেন। উপন্যাসও লিখেছেন। তাঁর প্রকাশিত বই : ‘উদ্দেশ্যহীন’, ‘দূরের টানে বাহির পানে’।
হুমায়ুন সাদেক চৌধুরী (১৯৬০-২০২০)। কবি ও ছড়াকার। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: এক কিশোরের মন।
হোসাইন কবির (১৯৬৩)। কবি। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থ: কাব্য: জলের কল্লোল বৃক্ষের ক্রন্দন।
এছাড়াও আরো অনেক কবি-ছড়াকার ছড়া ও কবিতায় অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন। তাঁরা হলেন : বিপ্লব বিজয় বিশ্বাস, শ্যামল অদুদ, মুশফিক হোসাইন, মাহমুদ সুলতান, জামাল রাজা, শামসুদ্দীন হারুন, সনজীব চৌধুরী, আবদুল বাকী বাদশা, সঞ্জিত আলম, বশির উদ্দিন কনক, শিমুল মাহমুদ, জামাল আহমদ, কাঞ্চন চক্রবর্তী, সমীরণ বড়ুয়া, দেবাংশু হোড়, রফিক রিজভী, শামসুল আরেফীন, বিলকিস ফাতেমা, চৌধুরী শাহজাহান, আলী প্রয়াস, তুতুল বাহার, নীল রতন বড়ুয়া, সাইফুল্লাহ কায়সার, সালাম সৌরভ, শান্তময় দাশ, শ্যামল বড়ুয়া, সুবল বড়ুয়া, মোজাম্মেল মাহমুদ, সৌমেন ধর, বিকিরণ বড়ুয়া, আবদুল মতিন রিপন, নাসরিন সুলতানা খানম, কল্যাণ বড়ুয়া মুক্তা, আলম নজরুল, ইমরান পরশ, মইনুল হক চৌধুরী, জুলফিকার শাহাদাৎ, মোশতাক রায়হান, শাফিনূর শাফিন, আকতার আহমেদ, আহসানুল কবির রিটন, সুসেন কান্তি দাশ, মেহবুব আলম, চৌধুরী শাওন হক, ফেরদৌসী আখতার, ইয়ামিন চৌধুরী ইমন, দীপঙ্কর দাশ, খোরশেদুল আলম শামীম, নন্দন রায়, সাইফুদ্দীন আবসার, নান্টু কুমার দাশ, মোস্তফা হায়দার, ইলিয়াস বাবর, নুরুন্নাহার নিপা, সোমা মুৎসুদ্দী, আহমেদ পলাশ, লিপি চৌধুরী, অরূপ কুমার বড়ুয়া, স্মরণিকা চৌধুরী, পিংকু দাশ, সুজন সাজু, মাহবুবা ছন্দা, নাসিমা হক মুক্তা, মার্জিয়া খানম সিদ্দিকা, তানজিনা রাহী, আশরাফ চৌধুরী, ফরিদা ইয়াসমিন, মিলি চৌধুরী, প্রবীর পাল, দিলরুবা খানম, অনিন্দ্য টিটো, শেখ মঈনুল হক চৌধুরী জোসেফ, তারিফা হায়দার, আনজানা ডালিয়া, টুম্পা ভট্টাচার্য, মোহিনী সংগীতা সিনহা, মল্লিকা বড়ুয়া, রুদ্র সাহাদাত, উপল বড়ুয়া, রায়হানা সিদ্দিকা, মাজহারুল আলম তিতুমির, মোয়াজ্জেম হোসেন, ইসতিয়াক জাহাঙ্গীর, কোহিনুর শাকি, হৈমন্তী তালুকদার, শর্মি বড়ুয়া প্রমুখ।
চট্টগ্রামের ছড়া-কবিতা অঙ্গনে প্রতিনিয়ত যেমন যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন নাম, তেমনি আসছে নতুন নতুন গ্রন্থ। এঁরা আমাদের কাব্যসাহিত্যের যুগ যুগ ধরে প্রবহমান ধারাটি এগিয়ে নিয়ে যাবেন সামনের পথে এবং ঊর্ধ্বে তুলে ধরবেন অগ্রগতির নিশান-এ প্রত্যাশা সবার।
তথ্যসূত্র ও সহায়কগ্রন্থ :
চট্টগ্রামের লোকসাহিত্য -ওহীদুল আলম
মুসলিম বাংলাসাহিত্য– ড. মুহম্মদ এনামুল হক
চট্টগ্রামের ইতিহাস-প্রসঙ্গ- আবদুল হক চৌধুরী
চট্টগ্রামের চরিতাভিধান- আবদুল হক চৌধুরী
সাহিত্য ও সংষ্কৃতিতে চট্টগ্রাম- ড. মনিরুজ্জামান
অন্বেষার আলোয় চট্টগ্রাম- ড. মাহবুবুল হক
আবহমান চট্টগ্রাম কবি-সাহিত্যিক ও তাদের সাহিত্যকর্ম- আহমদ মমতাজ
চট্টগ্রামের প্রবাদ প্রবচন- শিমুল বড়ুয়া
লেখক সারথি : রাশেদ রউফ
লেখক কোষ : চট্টগ্রাম- রাশেদ রউফ সম্পাদিত
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।