সকল মেনু

শেখ মুজিবের লিগেসি: ইলিউশন, দমননীতি ও বাস্তবতার নির্মম মুখ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে দুই বিপরীত ন্যারেটিভ বিদ্যমান। একদিকে তাঁকে “জাতির পিতা”, মুক্তিযুদ্ধের অপ্রতিদ্বন্দ্বী নেতা এবং গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করা হয়। অন্যদিকে বাস্তব ইতিহাসের নির্মম সাক্ষ্য বলছে—তাঁর উত্তরাধিকার ব্যবহার করেই বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে একদলীয় শাসন, রক্ষীবাহিনী, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, দুর্নীতি, গণহত্যা ও দমননীতির ভয়ঙ্কর অধ্যায়।

১৯৭৪-এর দুর্ভিক্ষ: মুজিব আমলের মানবিক ট্র্যাজেডি

শেখ মুজিবের শাসনামলে সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় ছিল ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষ অনাহারে মারা গিয়েছিল। দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য মজুদ, আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি ও সরকারের ব্যর্থতা ছিল সুস্পষ্ট। অথচ ইতিহাসের পাতায় এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে, কারণ এর দায় সরাসরি শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের ওপর বর্তায়।

দমননীতি ও একদলীয় শাসন

শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছিল।

বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।

রক্ষীবাহিনী গঠন করে বিরোধী মত দমন ও রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানো হয়।

জাসদের হাজারো কর্মীকে হত্যা এবং আয়না ঘর-এর মতো গোপন নির্যাতন কেন্দ্র তৈরি করা হয়।

বিচারবহির্ভূত হত্যার রাজনীতি

মুজিবের উত্তরাধিকার ব্যবহার করে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের সংস্কৃতি বৈধতা পায়, যা আজও অব্যাহত।

শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ (২০১৩)—নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল।

পিলখানা হত্যাকাণ্ড (২০০৯)—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দুর্বল করার জন্য শত শত সেনা অফিসারকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতি ও মুজিব মহিমান্বিত করার ন্যারেটিভে এই হত্যাযজ্ঞগুলোর জন্য কোনো শোক দিবস নেই।

বিরোধীদল দমন ও দুর্নীতির রেকর্ড

শেখ মুজিবের নাম ব্যবহার করে:

বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করতে লক্ষ লক্ষ মামলা ও হাজারো নেতাকর্মী হত্যা করা হয়েছে।

দেশ থেকে পাচার হয়েছে বিলিয়ন ডলার।

রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে বিরোধীদল ও গণমানুষকে দমন করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক অধ্যায়: ছাত্র-জনতার রক্ত

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মাত্র ২১ দিনে শত শত নিরস্ত্র মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। আবারও শেখ মুজিবের লিগেসির ছত্রছায়ায়।

লিগেসি বনাম ইলিউশন

বাস্তবতা হলো—শেখ মুজিবের প্রকৃত উত্তরাধিকার মানে দমননীতি, দুর্নীতি, গণহত্যা ও ভারতের গোলামী। এর বাইরে যে “মহিমান্বিত জাতির পিতা” ইমেজ দাঁড় করানো হয়েছে, তা নিছক রাজনৈতিক ইলিউশন। কৃতকর্মের বাইরে কোনো নেতার লিগেসি থাকতে পারে না।

ভণ্ডামির রাজনীতি

১৯৭৪ দুর্ভিক্ষে শোক দিবস নেই।

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শোক দিবস নেই।

শাপলা হত্যাযজ্ঞে শোক দিবস নেই।

আবরার ফাহাদ হত্যায় শোক দিবস নেই।

কারণ এসব ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কিংবা শেখ মুজিবের উত্তরাধিকারী গোষ্ঠী। এরা শুধু সেখানে শোক পালন করে, যেখানে ন্যারেটিভকে কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া যায়।

মুজিব: ভারতীয় এজেন্ডার চুক্তি?

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠেছে—মুজিব কি প্রকৃতপক্ষে ভারতের হাতে নির্ধারিত মিশনের অংশ ছিলেন?

১৯৬০-এর দশকে ইন্দো-পাক যুদ্ধের পর থেকেই তাঁর অবস্থান ও ভারতের সঙ্গে অস্বাভাবিক ঘনিষ্ঠতা প্রমাণ করে যে তিনি ছিলেন ভারতের কৌশলগত পছন্দ।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের মানুষকে পাকিস্তানের গোলামী থেকে ভারতের গোলামীতে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল।

আজও ভারতের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য আওয়ামী লীগকে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে।

উপসংহার: বিবেকের আদালতে রায়

যারা শেখ মুজিবের লিগেসি মহিমান্বিত করে বলেন তিনি “জাতির পিতা”, তারা হয়—
১. রাজনৈতিকভাবে অসৎ।
২. সুবিধাবাদী।
৩. বাস্তবতাবিবর্জিত অন্ধ।

৭১-এর ৩০ লক্ষ শহীদের মিথ্যা প্রচার, ৭৪-এর দুর্ভিক্ষে লক্ষ মানুষের মৃত্যু, বাকশালের দমননীতি, জাসদ কর্মীদের হত্যাযজ্ঞ, শাপলা ও পিলখানার গণহত্যা—এসব বাদ দিয়ে শেখ মুজিবের আলাদা কোনো লিগেসি নেই।

আজ প্রশ্ন একটাই—৭১-এ কি আমরা সত্যিই স্বাধীন হয়েছিলাম, নাকি কেবল এক শোষক থেকে আরেক শোষকের হাতে বন্দি হয়েছি?

বিবেকের আদালতে প্রত্যেক নাগরিকের এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ ইতিহাস একদিন সত্যকে নগ্ন করে দেবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP