সকল মেনু

কবি সেলিম রেজা’র প্রেমের পাঁচ কবিতা

কবি সেলিম রেজা’র প্রেমের পাঁচ কবিতা

মুখোশটা খুলে ফেলি মানুষের ভিড়ে

 

উড়ছে প্রজাপতি চলছে ঠোঁটের অভিসার
কাঁটাহীন ঘড়িও সময়গুনে দিন করছে পার
গাঢ অন্ধকারের আস্তরণ কোন তিথি কে জানে?
ষড়যন্ত্রের ঊর্ণাজাল বুননে এখন ব্যস্ত সময়
তাহলে চলো…
মুখোশটা খুলে ফেলি মানুষের ভিড়ে
যেখানে প্রকাশ্যে বিকোয় আধুনিকীকরণ
ইদানীং মানুষ মানুষের পণ্য
সেরদরে বেচে বিবেক ঠোঁটকাঁটা মানুষ
ঈশ্বর ঈশ্বর খেলায় কেউ হাসে কেউ ভাসে
দেয় ভোঁদৌড় লেবাসেঢাকা আলখেল্লা খুলে
তাতে কিছু যায় আসে না কখনো কারো
বাড়ছে দূরত্ব, আয়নায় দেখে আয়না
কবিরা নাকি পুষে কবিতা! বৃক্ষই মহীরূহ
মায়া জড়ায় মায়ায়, মাঝে মাঝে শাসায়
অভিমানে মুখ ফেরায় কে জানে কে কোথায়!
পড়ে আছে ঘরদোর বিছানা লেপ বালিশ যে যার মতো
নাস্তানাবুদ উড়ুক্কু মন- ঝিমোয় আগোছালো জীবন
এদিকে চুম্বকের মতো টানে ক্লিওপেট্রার দৃষ্টি
আচ্ছা বলো তো…
এতটা দূরত্ব কেন তাহলে? কেন কাছে এসেও দূরে
কাঁদার বদলে হাসে, দুঃখকে ভালোবাসে
লাজুক নারী ও কবিতা; শরমে মরে হায়!
কষ্টের জঠর থেকে নাকি বেরিয়ে আসে শব্দ
নারী পরম মমতায় তাতে এঁকে দেয় স্বপ্ন
বাহারী আয়োজনে বারবিকিউ গ্রিলে জ্বলে মুরগী
চলো সময় ফুরিয়ে যাবার আগেই
খাবো দাবো মুখোশ পরে হাঁটবো…
না… না……
এর চেয়ে ঢের ভালো মুখোশে ঢেকে রাখি নিজেকে…

 

অসমাপ্ত কবিতা

বাঁচার অভিমুখে ছুটছি
একদিন ঝ’রে যেতে পারি ভেবেই
তীক্ষ্ণ বিস্ময় আরও একটু বাঁচি।
ঝুলে থাকা স্মৃতিগুলো নাড়ছে মাথা;
সাগর-জলযান,আকাশ-নভোযান
স্থল-গাড়ি কিংবা দূর পাল্লার ট্রেন
রাজপথ ল্যাম্পপোষ্ট সবটুকুই
গলে পড়ছে যেন ঠান্ডা-হীমশীতল
চেন্নাইর এপ্যালো পেরিয়ে সিএমসি ভেল্যুর
হেমাটোলজি বিভাগ সিটিস্ক্যান,এমআরআই
আরও কত কী বিচিত্র সব টেষ্ট
প্রেসক্রিপশন লিম্ফোমা-
স্থবিরতা আমার দুই কান জুড়ে
চৌরাস্তার সবুজ সিগন্যালও ঘুমাতে যায়
শহর ভূতুড়ে অন্ধকারে ডুবে গেলে:
দৌড়াচ্ছি সাঁতরাগাছি ষ্টেশনে ট্রেনের পিছে
সাথে বন্ধু স্বজন-স্বপ্ন,অসমাপ্ত পাণ্ডুলিপি
খররৌদ্রে উত্তপ্ত ফুটপাথে ফেলেছি পা
পিচগলা দুপুর মরিচীকা মায়া
বরফশীতল শরীর প্রখর আগুনে জ্বলে
জেগে জেগে কাটাই রাত-বিরাত;
আমার আঙ্গিনাজুড়ে একঝাঁক শালিক
সারা দিনমান মাতিয়ে তুলতো চারপাশ
চিনে গেছি ক্ষয়ে যাওয়া পথের পথিক
যতটুকু চেনার বাকি বেলা ডুবার আগেই
চিনে নেবো উড়ে যাওয়া পাপড়ি
দু’দিন আগেও যে কিনা নিরব নির্জনে ঢেউ-
তুলতো ভালোবাসায় প্রেম সাগরে;
আজ সেও অচেনা, দূর পথে দিয়েছে পাড়ি
এখন বড়ই আকাল- জেনে গেছি কোন এক বিকেলে
বেলা ফুরিয়ে নামবে গোধূলি-সন্ধ্যা
যে যার নারীর চুলের ভাঁজে ফিরে যায়
আমিও ফিরে যাবো শাদা পিরান গায়ে
নিযুত স্বপ্ন আর অসমাপ্ত কবিতা বুকে নিয়ে…

 

কথোপকথন

কেমন চলছে হিমশীতল দিন!
-এই তো সাধারণ মানুষের জীবন যেভাবে যায়
সাধারণ কে অসাধারণ করলে ক্যামন হয়!
-অসাধারণ করার ইচ্ছে নেই
ইচ্ছেঘুড়ি উড়াতে চায় না মন?
নাকি ইচ্ছে করেই ডুবে থাকা চিরচেনা সেই জীবনে!
-উড়াটাই সব নয়
-নিজের কল্পনায় উড়িতো প্রতিক্ষণ
বেশ তো
-তবে মাটিতে পা রেখে
তাহলে তো আর চিমটি কাটতে হবে না
-মানুষ পাখি নয়
পাখি থেকেও বেশি মানুষ
উড়তে পারে, ঘুরতে পারে ইচ্ছেমত। পাখি তা পারে না।
পাখি তো পাখি, সে তো মানুষ নয়: স্বপ্ন তাকে ছুঁতে পারে না
মানুষ স্বপ্নে বিভোর হয়। স্বপ্ন পূরণে যুদ্ধ করে, সময়ে লড়ে বেসুমার
-মানুষ বুদ্ধিমান যদি সে জানে কোথায় তার সীমা
তবুও মানুষের আহুতি সীমানা পেরোতে
মানুষ স্বাপ্নিক, শুধু দরকার একটু রঙ এর।
মানুষ হতাশ হলেও আবার ঘুরে দাঁড়ায়
পাখি তা পারে না।
আশা, স্বপ্ন তাকে আবার ঘুরে দাঁড়াতে সাহস যোগায়
-হ্যাঁ তাই
মানলেন তো আমার লজিক, যুক্তি!?
অবশেষে হেসে কুটিকুটি, উত্তরে-
-মানলাম

 

সুদূরের প্রতিমা

দীর্ঘ সময়ের ফাঁক গলে দীর্ঘ বাসনা
জড়ো হলো একাকী কান্নার আঙিনায়
বুকের ভেতর হইচই, ভাঙনের শব্দ
তবুও মনের ক্যানভাসে সুদূরের প্রতিমা
হেঁটে যায় আলতো পায়ে গভীর অরণ্যে
বিকেলের স্নিগ্ধরোদ ঘাসের পালকে করে খেলা;
জীবন বাতাসের সুরে হাঁটে আলপথে
স্বপ্নের সাথে চোখাচোখি-কানাকানি
আকাশের বুকে ছুঁড়ে দেয়া চুমু;
খোলাচুল নগ্নপায়ে বালিকা বালিয়াড়ি সমুদ্রে
দূরবীন চোখ দেয় ডুবসাঁতার নীলরোদ্দুরে
সূর্যস্নানে অবিরাম ডাকে ভিনদেশী কায়া
মৌনতায় হয়না যাওয়া পড়ে থাকে মায়ায়
ধ্যানমগ্ন ঋষি ইচ্ছের দেয়ালে হেলান দিয়ে
নির্বাক নদীতে খুঁজে সৃষ্টির রহস্য
দীর্ঘ আলিঙ্গনে ভাঙে নিরবতা
দূরের কপোতি স্বপ্নের পেয়ালায় বসায় চুমুক

 

স্বপ্নের সাতকাহন

বড্ড বেহায়া খালি খালি গা ঘেঁষে বসো
শীতের কোমল রোদে তা নেবার ছলে;
সেদিন কিছু না বলেই ছট করে চিমটি কেটে
পালালে বারান্দা থেকে সিঁড়ি ভেঙ্গে ছাদে
ঠান্ডা জলে স্নান সেরে এ কী কাঁপুনি বিছানায়!
পুষে রাখতে অদম্য ইচ্ছে শুয়ে থাকা রেসের ঘোড়া
একা একা পায়চারি, সারা ঘরজুড়ে শূন্যতার ভিড়ে
সোফায় বসে আনমনে ভাবতে কী!!
কথার ছলে জোর গলায় বলেছিলাম-
এবার দুঃখগুলো পালাবে প্রেমের সাহসী দাপটে
লোমশবুকে কতবার রেখেছ অবনত মুখ
চুমুতে চুমুতে কতশতবার পেয়েছি নিদারুণ সুখ!
নাকে লেগে থাকতো উম্মাতাল শরীরের ঘ্রাণ
দুঃখপোষা লাজুকলতা!
তোমার নরোম শরীর ছিলো তুলোর মতন
শীতের রাতে তুমি উষ্ণতা খুঁজতে;
দীর্ঘরাতে জেগে থাকতে একা একা
ইদানীং আমাকেও জাগিয়ে রাখো
জেগে থাকো তুমি আমি আর স্বপ্নের সাতকাহন…

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP