শিক্ষায় অবহেলার মূল্য বিপুল
কক্সবাজারে মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইউনেস্কো ঢাকা ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এর যৌথ উদ্যোগে এক উপ-জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল ‘দ্য প্রাইস অব ইনঅ্যাকশন ২০২৪’ শীর্ষক বৈশ্বিক প্রতিবেদনের আলোকে শিক্ষা বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা।
প্রতিবেদনটি ইউনেস্কো, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) এবং কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট যৌথভাবে প্রকাশ করেছে। এতে তুলে ধরা হয়েছে—বিশ্বজুড়ে ২৭২ মিলিয়ন শিশু (১৩৯ মিলিয়ন ছেলে ও ১৩৩ মিলিয়ন মেয়ে) এখনো স্কুলের বাইরে এবং ৫৭ শতাংশ শিশু মৌলিক শিক্ষাজ্ঞান অর্জনে ব্যর্থ। এই ঘাটতির ফলে বিশ্ব অর্থনীতি প্রতিবছর প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে। উল্টোভাবে, যদি প্রতিটি শিশু শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হয়, তাহলে বৈশ্বিক জিডিপি বছরে ৬.৫ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে এখনো ৪৯% ছেলে ও ৩৩% মেয়ে শিক্ষার বাইরে এবং ২১% শিশু গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। এই না-পারা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের জিডিপির প্রায় ১৭% ক্ষতির কারণ হতে পারে, যার আর্থিক পরিমাণ ৬৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নায়েম-এর মহাপরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ জুলফিকার হায়দার বলেন, “এই গবেষণার আউটপুট অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানো এখন আমাদের সবার দায়িত্ব।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মোঃ আমিরুল আনোয়ার চৌধুরী ও জনাব কাজী মফিজুর রহমান। তারা শিক্ষাকে মৌলিক মানবাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগত সময় নিশ্চিত করাই হলো উন্নয়নের পথ।
সভাপতির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, “শুধু সার্টিফিকেট নয়, বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষানীতিই এখন সময়ের দাবি।”
কর্মশালায় জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এনজিও প্রতিনিধি ও তরুণরা অংশগ্রহণ করেন। ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে মো. রমজান আলী ‘দ্য প্রাইস অব ইনঅ্যাকশন’ রিপোর্টের প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা রিপোর্টের আলোকে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে প্রতিশ্রুতি দেন—বিশেষত ঝরে পড়া রোধ, মানোন্নয়ন এবং স্কুলে ভর্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে।
এই আয়োজন ছিল “Education Matters: Championing the True Value of Investing in Education for a Stronger Bangladesh” প্রকল্পের অংশ, যা পোর্টিকাস-এর সহায়তায় এবং ইউনেস্কো ঢাকার কারিগরি সহায়তায় নায়েম বাস্তবায়ন করছে। কক্সবাজারের আগে একই ধরনের কর্মশালা রংপুরেও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।