বোকামির গল্প
লীলাবতী শীত আসে যখন তুমুল আবেগ সাজিয়ে
তখন ইচ্ছে হয় অভিমান ভুলে যেতে
অনুরাগ ঝেড়ে ফেলে মমতায় কাছে নিতে।
মনে হয়, ছুটে যাই তার খুব কাছাকাছি
দেখার সাথে সাথেই জড়িয়ে ধরি শক্তভাবে
বুকের ভেতরে মুখ গুঁজে কাঁদি খুব করে ,
আজকাল মন ভরে কাঁদতে ইচ্ছে করে
ফুলেদের কথা ভেবে কাঁদতে পারি না ,
সুবাসের টানে ছুটে আসে গুনগুন মধুমাছি
আমার কান্না দেখে তারা যদি থেমে যায় ;তাই
চুপচাপ থেকে যাই। ভেতরে ভেতরে মরে যাই ।
শিশির আঁধার কেটে রোদ আসে উষ্ণতা নিয়ে
তবু দিনভর মায়া নিয়ে আড়ালেই থেকে যাই
বিষাদের ঘোর মাখা সময় জড়িয়ে রাখি
ঘোলাটে চোখে দেখতে থাকি ঐ শীতের চলে যাওয়া
তার বুকে মুখ গুঁজে আমার আর কান্না করা হয় না সতত।
চোরকাঁটা
ফিসফিস করে শীত বলে,কাছে আসো
শুনেই ছুটতে থাকি,কোনো দিকে না তাকিয়ে
তারপর সময়ের কাছে হেরে যাই
চাঁদের আলোতে মুখ লুকিয়ে কবিতা খুঁজি
কতদিন কবিতার সুবাস পাই না !
তুমি কবিতার মতো মন ছুঁয়ে গেলে! ভুলতে পারি না
আমি ঝরাপাতা হয়ে ঘাসের ভেতরে তাই থেকে যাই
পাখিদের গান শুনে দিন কেটে যায়
রাত ফুরায় না বলে চোরকাঁটা হই ।
চেনা পথ ধরে
হেমন্ত এলে হাতে হাত রেখে
এই শহরের ফুটপাত ধরে আমরা হেঁটেছি
চাঁদের আলোতে তুমুল শব্দে গল্পে মেতেছি
বুকের গভীরে লুকানো কথারা উতলে পড়েছে টুপটাপ করে,
কখনো আবার নিবিড় আবেগে চোখের তারায় আঁটকে থেকেছি
মন হারিয়েছি শিউলি, কামিনী,ছাতিম -সুবাসে
পাখিদের সাথে সুরে সুরে মেতে আমরা গেয়েছি শাশ্বত গান।
এখানে এখন বাহারি অশোক দারুণ সেজেছে !
মায়াবী বাতাস মাখামাখি করে হিমঝুরি গাছে
ফিসফিস সুরে আবেগ ঢালছে জোনাকির দল
নিঝুম রাতের ডেইজি ডাকছে তোমাকে -আমাকে
তারা তো জানে না,আমাদের পথ চলে গেছে বেঁকে
আমরা এখন দু’জন দু’দিকে ।
এই হেমন্তে একাকী এসেছি মল্লিকা বনে
রুপের চমকে দুলছে কেমন পবনে পবনে !
মাধবীলতার কোমল আবিরে হৃদয় উতলা
আকাশটা তাই ফুরফুরে মনে সেজেছে রোদেলা।
আজ মায়াবনে পাখি উড়ে যায় ডানা মেলে ওই
চেনা পথ ধরে একাকী এসেছি ; প্রিয়তম কই ?
কথারা উড়ে যায়
ঠিক করেছি,হেমন্তকে নিয়ে লিখব না আর কোনো কবিতা
একটা দিন যদি সময় পাই তাহলে মেঘদূতকে পাঠিয়ে দিব তোমার খোঁজে
কি অভিমানে তুমুল বেগে চলেই গেলে !
বুক পকেটে নিয়ে গেলে যে অনুযোগের তোড়া
গোপন সেই অনুযোগের বাস্তবতা নেই মোটেও ।
এ হেমন্তে নিবিড় বনে হয়তো ফুটে আছে ছাতিম,বল কামিনী
ঘরের দোরে হয়তো জেগে আছে ডালিয়া, রাজ অশোক, শ্যামলতা,
তোমার খুব পছন্দের নিশিগন্ধা ঝরে থাকে ঐ ঘাসে
যে ঘাস পায়ে মাড়িয়ে তুমি সামনে গেলে !
কতটা দিন সবুজ ঘাসে হাঁটতে পারি না, তুমি পাশে নেই বলে।
তোমাকে ভেবে কেটে গেল যে কত হাজার দিন -রাত্রি !
খুব শখের মানুষ যদি এভাবে চলে যায়
তবে বাহারি ফুলের রঙ তামাটে হয়
সহজে ঝরে পড়ে সুখের পাপড়ি -দল
আবেগ থেমে যায় হঠাৎ ! বেদনা জমে হৃদয়ে
কথারা উড়ে যায় কর্পূ হয়ে আকাশে বাতাসে।
সখী তোরা কই
মায়ার বাতাসে দোলে চোখ দোলে সোনালি পলকে
সাজানো গোছানো সুখ ছুঁয়ে যায় অলকে অলকে
ভাবনার ভাঁজে লেগেছে নতুন সুরের তুফান
তছনছ করে দিয়েছে পুরনো ভাবের সোপান!
সবুজের বুকে প্রেমের হাওয়া নাড়া দিয়ে যায়
রঙের মহলে কিসের মাতম এভাবে দোলায়?
গুনগুন করে হলুদের সুর ভেসে আসে ওই
ছুটে যায় মন ফাগুনের দিকে ;সখী তোরা কই?
এসেছে ফাগুন ছড়ায় আগুন হৃদয়ের কোণে
ঘুচেছে আজকে সকল বেদনা আসো এইখানে
একটা জনম পাশাপাশি হাঁটি হাতে হাত রেখে
পৃথিবীর মাঝে শান্তির রেখা দিয়ে যাই এঁকে।
কোকিল-কোকিলা ফুরফুর করে গাছের শাখায়
প্রজাপতি মন নেচে ওঠে সেই পাতায় পাতায়,
মৌমাছি সব জড়াজড়ি করে আছে মৌবনে
স্বপ্ন জেগেছে বাহারি আদলে মধু-যৌবনে।
সাপুড়ে বাবুর বীণ বাজে দূর পাহাড়ি বাগানে
ফাগুনের বন সেজেছে কেমন আগুনে আগুনে!
চারিদিকে আজ গুনগুন সুর ভেসে আসে ওই
ছুটে যায় মন ভালোবাসা পেতে,সখী তোরা কই?
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।