সকল মেনু

মাহবুবা ফারুকের ১০ কবিতা

অপেক্ষায়

ঝড়ো বাতাসের ঝাপটায়
গাছ থেকে পড়ে গেল নরম রঙিন ফুল
আচ্ছা
ফুলজন্ম তো সুখের ছিল, ছিল সুঘ্রাণ
কিন্তু সে বীজ বুনে দিল দুঃখের
ডালপালা ছড়িয়ে হয়ে গেল দুঃখ বৃক্ষ।
ফুল থেকে কেন এমন দুঃখ ছড়িয়ে গেল?
শুনেছি মালার অপেক্ষায় থেকে থেকে
ঝরে গেলে ফুলের দুঃখই ছড়িয়ে যায় সবখানে
সুগন্ধ আত্মাহুতি দেয় মাটির কাছে
একটা মালার অপেক্ষায় আবার ফোটায় ফুল।

 

ঘোরের ভোর

ভোরের আকাশে আলো ছায়া কেটে কেটে
প্রচণ্ড শব্দ করে দূরে চলে যাচ্ছে যে উড়োজাহাজ
মনে হচ্ছে সে আমার ব্যথায় ব্যথিত
আমার কান্না তার বুকে ধারণ করেছে
সে নিয়ে যাচ্ছে আমার কলিজার ভিতরের আপন সুখ
দেখতে দেখতে মাটিতে বসে পড়ি
ভূমিকম্প হচ্ছে আমার অন্তর জুড়ে
কিন্তু কেন
উড়োজাহাজ দূরে যাবে সেজন্যে?
দেশ থেকে দেশ সরে যায় মানুষ থেকে মানুষ
সরে যায় গাছ থেকে ফুল পাতা সরে যায়
এভাবে সরতে সরতে জীবন বিস্তৃত হয় ,
তবে কেন এমন কষ্ট হচ্ছে
বুকের জমিন ভেঙে যাচ্ছে
এই কান্না নিয়ে বিমান এতটা ভারাক্রান্ত হয়ে
কেন যাচ্ছে দূরে উড়ে
কখনো দেখিনি সাদা বলাকার রঙ
কখনো হয়ত শুধু তাকিয়ে থেকেছি
কে চলে গেল আমাকে একা করে ভাবিনি তেমন,
কী যে আমার হয়েছে এত সুন্দর ভোরে !
সোনালি কচি রোদ ডানায় মেখে পাখিরা
উদ্‌যাপন করছে নতুন ভোর
কোনো উড়োজাহাজ নয়
কেউ যায়নি আমাকে ছেড়ে
এই যে দাঁড়িয়ে আছি বাগানে
ফুল পাতাদের ভিড়ে।

 

জলেও জমে পাথর

নদীর বুক থেকে পাথর সরাই
ঢল বেয়ে নামে যারা পাহাড় থেকে
জমে জলের নিচে
জল ঢেকে রাখে কঠিন পাথর
গুঁড়ো করি আর না জমাট বাঁধে দুঃখ গেঁথে
অথচ ওরা গড়ে পাষাণ প্রাসাদ
মাথার উপর ছাদ,
তৈরি করে দেয় পথ,
পাথরের আবরণে বাস করে জীবন
কঠিন ও নরমের গল্প লিখে প্রকৃতি ।

 

আমিও জানতে চাই

না আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করো না
জবাব জানি না
তার চেয়ে এই নাও হাতের শিরা পেতে দিলাম
তার কাছে ভেতরের কথা জেনে নাও
সে বয়ে বেড়ায় সারাক্ষণ সব ভালো মন্দ
এই দাগ ও কষ্ট দূর হয়ে যাবে
থেমে যাবে রক্তক্ষরণ
ভেতরের স্রোতের কাছে জেনে যাব
কোথায় কোথায় জমেছে বেদনা কত
কাকে দিতে হবে কোন নাম।

 

যদিও বোঝো না

তোমার সঙ্গে দেখা হলো না
মন পাওয়া হলো না কোটি বছরেও
ধরে নিলাম এটাই প্রেম
যখন গান গাই তুমি বলো এই সুর অন্য কারো জন্যে
যখন কবিতা লিখি তুমি বলো এখানে অন্য কেউ আছে
তারপর আকাশ থেকে মেঘ উড়িয়ে বৃষ্টি এনে দিই
তুমি বললে অন্য কাউকে ভেবে এটা করেছি
যাকে আমি ভালোবাসি খুব – জানতে চাইলে না
কিছুতেই জানলে না কাকে ভালোবাসি।
নদী বানিয়ে দিলাম তুমি বললে
এখানে অন্য কাউকে নিয়ে ভাসবো বলে নৌকা খুঁজছি
কখনো বুঝলে না এই সব আয়োজন ছিল শুধু তোমার জন্যে।
একদিন সব শেষ হয়ে যাবে আমি আর ডাকবো না
তোমার সব অবিশ্বাস ও অবহেলাকে প্রেম ভেবে
এক জীবন পার করে দেবো।

 

বসবাস

আমি তো তোমাকে বুকে রাখতে চেয়েছি
কেন আমার দুঃখ তোমাকে কুড়ে খায়
আমি তো তোমাকে চোখে রাখতে চেয়েছি
স্বপ্ন ভেঙে কেন অশ্রু জোয়ারে ভেসে যায়
খড়কুটো সুখেরা কেন দূরে সরে যায়
বেদনাদের আলাদা করতে পারিনা
কোথাও পারিনা ফেলে দিতে
সাথে থেকে থেকে ওরা মিশে গেছে
অস্তিত্বের ভেতরের ঘরে।

 

আগুনের দামে

আর কত আটকাবে আমার পথ আমি তো নিজেই ছেড়ে দিয়েছি তোমার দিকে যাওয়া
আর কত ফেরাবে আমাকে
আমি তো নিজেই ভুলতে চেয়েছি চেনা পথ
আর কী বোঝাবে বল
আমি তো আমার মন বেঁধেছি বিরহে।
কেন আর কষ্ট দেয়ার অকারণ খেলা খেলো
আমি তো কষ্টের সাগর কিনে ফেলেছি আগুনের দামে।

 

অধিকার

তোমাকে খুঁজতে যাই না
অপেক্ষায়ও থাকি না – তবু
মৃত্যু মানেই অধিকার হারানো নয় ।

 

জোৎস্নার আহাজারি

পূর্ণিমাকে ভালোবেসে কি হবে আর!
পূর্ণতা পাবার পরে যে বিষাদে কেটে
নিজেকে হারিয়ে ফেলে অমাবস্যার কাছে,
আকাশ ঘোষণা করে চাঁদের মৃত্যু সংবাদ।

 

অকৃতজ্ঞ চিরকাল কুমির

কীসের বিপদ হলো?
সবাই জানতে চায়
বলবো কেমন করে
কুমির আমাকে কামড় দিয়েছে খেয়েছে গিলে
আমিই তো এনেছিলাম খাল কেটে
এখন আমি অকৃতজ্ঞ কুমিরের পেটে।
কুমির চেনার উপায় কি
কেউ কেউ বলে, খাল কাটবেন মনের সুখে
কামড় খাবার পর চেনা হয়ে যাবে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP