সকল মেনু

পটিয়া অংকুর স্কুলের বার্ষিক আনন্দ শিক্ষা ভ্রমণ


গত ৮ নভেম্বর ২০২৫ ছিল ছোট্টমনিদের শৈশব ইশকুল ‘পটিয়া অংকুর স্কুল এন্ড কলেজে’র বার্ষিক আনন্দ শিক্ষা ভ্রমনের দিন। এদিন সকালের রোদ ওঠার আগে আমরা সবাই পটিয়া রেল স্টেশনে পৌঁছাই। আমাদের ট্রেন ছাড়ার সময় সকাল ৬:৪০, কিন্তু দেরি হয়ে এক ঘন্টা পরে চট্টগ্রাম থেকে ট্রেন আসে। এ দেরি আমাদের উত্তেজনা বা আনন্দকে ছিনিয়ে নিতে পারে না। ষ্টেশনের প্ল্যাটফর্মে সবাই গল্পে মেতে থাকে, হেসে খেলতে থাকে। ট্রেনে ওঠার পর আমরা ২২ জন একসাথে বগি খুঁজে বসে পড়ি। আমাদের টিমে ছিলেন প্রিন্সিপাল স্যার,পরিচালক সেলিম ভাইয়া,সুমন ভাইয়া ও তার পরিবার।

বৈশাখী মেম এবং তার বোন, চম্পা মেম, অর্পিতা, সানজিদা, লিজা, ইশা,  ছোট মাসি এবং তার ছেলে-মেয়ে, সানজিদা ও লিজার মা। আর আমি।

পুরো পথটা গান আর আড্ডায় কাটল। আমাদের সঙ্গে ছিল সানজিদার হাতে তৈরি নাস্তা, যা আমাদের যাত্রাকে আরও আনন্দময় করে তুলল।

কক্সবাজার রেল স্টেশনে পৌঁছে আমরা সরাসরি রিসোর্টে যাই। রিসোর্টে আমাদের জন্য রেস্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ব্যাগ রেখে একটু ফ্রেশ হয়ে আমরা চা খেতে বের হই। চা খাওয়ার পরপরই আমরা চলে যাই সুগন্ধা বীচে, সমুদ্রের তটরেখায়। স‚র্যের আলোয় ঝিকিমিকি বালি, বিশাল নীল জলরাশি, এবং বাতাসে ভেসে আসা লবণের গন্ধ আমাদের মনকে আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

আমাদের জন্য সময় নির্ধারিত ছিল ২টায় লাঞ্চের জন্য। তাই আমরা আগে সমুদ্রের তীরে হেঁটে ঘুরতে থাকি। প্রতিটি পদক্ষেপ যেন বালির উপর নিজের ছোটো ছোটো ছাপ রেখে যায়। আমরা যার যার মতো মজা করি আমি, বৈশাখী, অর্পিতা, বৈশাখীর বোন এবং তার ছেলে মিলে পানিতে দোল খাই, লাফ দেই, হাসি আর আনন্দে ভরে উঠে পুরো সমুদ্রসৈকত।

সেই দিনটি আমার জন্মদিনও ছিল। তাই দলের সবাই মিলে সমুদ্রের বালিতে কেক বানিয়ে কেক কেটে আনন্দ করি। হাসি, চিৎকার, আর একে অপরের সঙ্গে শেয়ার করা মুহ‚র্তগুলো মনে চিরস্থাযী হয়ে গেল। দুপুরের খাবার শেষে আমরা আবার বীচে ফিরে যাই, স‚র্যাস্ত দেখার জন্য। বিকেলের স‚র্য যখন সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হয, তখন তার স্বর্ণালি রশ্মি সমুদ্রের ঢেউয়ে প্রতিফলিত হয়ে এক অসাধারণ দৃশ্য তৈরি করে।

বিকেলের স‚র্যাস্তের পর আমরা ঝিনুক মার্কেটে যাই। সেখানে সবাই নিজের মতো কিছু কেনাকাটা করে। আবার রিসোর্টে ফিরে ৩০ মিনিটের বিশ্রামের পর রেল স্টেশনের পথে যাত্রা শুরু করি। আমাদের পরিচালক সেলিম ভাইয়া সবাইকে মালাই চা ট্রিট দেন। চা খাওয়ার পর আমরা ট্রেনে ওঠি। ট্রেনের যাত্রা শুরু হয়, আর সবাই হাসি-মজা, গল্প আর স্মৃতির মধ্যে ঢেকে যায়। ট্রেন ছাড়ার সময় সবাই আবার বলছিল, “আবার কখন আসব?”

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত, তার অপরূপ সৌন্দর্য, বিশাল নীল জলরাশি এবং সোনালি বালির জন্য পরিচিত। স‚র্যাস্তের সময স‚র্যের স্বর্ণালি রশ্মি সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যেন স্বপ্নময় একটি চিত্রপট গড়ে তোলে। বালির নরম দাগ, সমুদ্রের ঝরঝরে ধ্বনি, এবং তাজা বাতাস সবকিছু একসাথে মিলেই একটি অদ্ভুত আনন্দ দেয়, যা হাজারবার গেলেও পুনরায় ফিরে যেতে ইচ্ছে করে।

আমাদের এই ট্রেনে কক্সবাজার যাত্রা শুধু একটি ভ্রমণ ছিল না; এটি ছিল বন্ধুত্ব, আনন্দ, শিক্ষা , এবং প্রিয়জনের সঙ্গে কাটানো মুহ‚র্তের এক স্মরণীয় অধ্যায়। সমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকা প্রতিটি মুহ‚র্ত মনে করিয়ে দেয় প্রকৃতির সৌন্দর্য আমাদের জীবনকে কতটা রঙিন করতে পারে। আমরা বইয়ে পড়লেও লবন শিল্প সর্ম্পকে আমরা জেনেছি অনেক কিছু।  এ লবন আমাদের একটি অর্থকড়ি শিল্প। এ শিল্পের সাথে হাজার হাজার মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে। তা আমরা স্বচক্ষে অবলোকন করার বিশাল সুযোগ পেয়েছি  ইশকুলের এ আনন্দ ভ্রমনের মাধ্যমে যা, আমাদের স্মৃতিতে জাগুক থাকবে অনেক অনেক দিন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP