সকল মেনু

নাহিদা আক্তারের ৫ কবিতা

যে দিন যায়

এই যে এক, দুই, তিন করে করে চলে যাচ্ছ দিনগুলো,
তারপর যাচ্ছ চলে সপ্তাহ, মাস, বছর।
এভাবে যে চলে যাচ্ছ তোমরা,
তোমরা কি জানো
সাথে করে নিয়ে যাচ্ছ কত কিছু?
বুঝতে পারো কি, রেখে যাচ্ছ কি কি?
এই যে পুরোনো বছর তুমি যেতে যেতে
রেখে গেলে যে স্মৃতি
তাকেই আলিঙ্গন করে শুরু হবে নতুন বছর।
কিছু কান্না হাসির মিশ্রণে চলে যাওয়া দিনগুলো
ফিরে আসবে না আর।
ফিরে আসবে না পিছনের গল্প গুলো।
তবে সেই গল্পেরাই হবে আগমীর নতুন বছরের ইতিহাস।
চলে যাওয়া দিনগুলো অতীত হয়,
আগামী দিনগুলো হয় ভবিষ্যৎ,
আর যেখানে আমি দাঁড়িয়ে আছি
এটা আমার বর্তমান।

ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হতে পারে,
তবে আমার যাপিত বর্তমান
কখনোই অতীত বিসর্জিত নয়!
এসো আগামী, তোমাকে স্বাগতম।
আলিঙ্গন করি সবটুকু আমি,
আমার আমি কে নিয়ে।

তবে যায় যে দিন, তা কি একেবারেই যায়?

 

অব্যক্ত

এখন অনেক রাত,
পৃথিবী ঘুমিয়ে গেছে রাতের কূলে
আর অন্ধকারের বুকে মাথা রেখে
সে-ও হয়ত এখন গভীর ঘুমে নিমগ্ন!
ঘুমন্ত মানুষের মুখগুলো খুব মায়াবী হয়,
নিষ্পাপ হয়!
সে কী জানে এটা?

ইচ্ছে করছে তার সেই ঘুমন্ত মুখের দিকে
এক দৃষ্টিতে অপলক চেয়ে থাকতে!

গালাকাটা কবুতরের মতো ডানা ঝাপ্টাচ্ছে
কথা বলতে না পারার ইচ্ছেগুলো।
কষ্টের বুকে চলছে বিরামহীন রক্তক্ষরণ!
অথচ কথা না বলার কথা যে
দেওয়া হয়ে গেছে!

কসম খেয়ে দেওয়া কথা,
এ কথা ভাঙলে যে, তারই অমঙ্গল;
আমি কী করে তার অমঙ্গল চাইতে পারি!
সে কথা ভাঙি কি করে?

অব্যক্ত অনুভূতিগুলো
ব্যক্ত না হওয়ার যন্ত্রণায় গুমরে কাঁদছে।
আর রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে যাচ্ছে
সেই কান্নার শব্দ, বুকের হাহাকার!!

তবু চাই সে ভালো থাকুক,
অনেক ভালো

 

অরণ্যের গহিনে

 

পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ সুভাগ্য নিয়ে জন্মায় না!
কারো কারো ভাগ্য থাকেই এমন যে,
দুর্ভাগ্য তাকে টেনে নিয়ে যায় গহিন অরণ্যে!
অরণ্যের গহিনতার সবুজ পাতা বেধ করে
কখনোই সেখানে সূর্যের আলো
পৌঁছানোর সুযোগ পায়না,
আর ভাগ্যহত মানুষটিও কখনো খুঁজে পায় না
সেখান থেকে বেরোনোর পথ,
গভীর অরণ্যের ভিতর দিগ্‌বিদিক হাতরাতে থাকে
দিশেহারা পাগলের মতো।
এ পথ, ও পথ বড্ড চেনা চেনা মনে হয়,
চেনা পথ ধরে হাঁটতে হাঁটতে শেষে গিয়ে দেখে ভুল পথ।
সঠিক পথের সন্ধান কখনোই খুঁজে পায় না
কোন ভাগ্যহত মানুষ!
জীবনের গহিন অরণ্য তাকে দিন শেষে
আত্মা ভুলা বানিয়ে দেয়!
সে কখনোই আর খুঁজে পায় না সঠিক পথের সন্ধান।
এক সময় একটু একটু করে হারিয়ে যায়
গহিন অরণ্যে গভীরে!

 

পুনর্জন্ম

মানুষ একবারই জন্মায়
একটাই মাত্র জীবন মানুষের।
তাও আবার অনিশ্চিত!

এই একজীবনে মানুষ সব কিছু পায় না!
মানুষের সব শখ, সব আশা মিটে না!
অথচ কি অদ্ভুত ব্যাপার-
পুনর্জন্ম বলেও কিছু নেই!
যদি থাকতো তবে পরের জন্মে আমি আকাশ হতে চাইতাম,
আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ,
কিংবা পাখি হয়ে মুক্ত আকাশে উড়ে বেড়াতাম।
হতে চাইতাম বৃষ্টি,
উত্তপ্ত ধরার ধূলিকে ভিজিয়ে শান্ত করে দিতাম।
কূল বিহীন সমুদ্র হয়ে হারিয়ে যেতে চাইতাম দৃষ্টির সীমানা ছাড়িয়ে।
কখনো কখনো বা হতে চাইতাম জলোচ্ছ্বাস,
এই পৃথিবীর সব রকম জড়া জীর্ণ তাকে
ধুয়ে মুছে সাফ করে দেওয়ার জন্য।

যদি সত্যিই পুনর্জন্ম বলে কিছু থাকতো
তবে সেই জন্মে গৃহস্থের ঘরের সন্ধ্যা প্রদীপ হতাম।
কিশোরীর পায়ের নুপুর, কৃষাণীর নোলক,
নয়তো হতে চাইতাম নববধূর রেশমি চুরি।

এক জনমে মনের সব আশা মিটে না
যদি আরেকটা জনম পেতাম
তবে তোমার বুকে আটকে থাকতাম
হৃৎপিণ্ড হয়ে।
মিটাতাম আজন্মের ভালোবাসার তৃষ্ণা!

এক জীবনে মানুষের সব আশা মিটে না!
মিটেনা সব শখ!
এখানেই মানুষ বড় অসহায়,
স্রষ্টা একবারই সুযোগ দিয়েছেন
যা ভুল, যা ঠিক, শুদ্ধ করে নাও এ জনমেই,
পুনর্জন্ম বলে কিছু নেই।

সাদা রং আর আমি

সাদা রং আমার এতটাই পছন্দ যে,
চোর, বাটপার, গুন্ডা, ডাকাত, সন্ত্রাসী
যে-ই সাদা রঙের পোশাক পরুক না কেন;
তাকে আমার শুভ্র পবিত্র মনে হয়।
সাদায় এতটাই মুগ্ধ হই যে;
কাশবনে গেলে নিজেকে আর খুঁজে পাই না
শরতের আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘের সাথে হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে।
স্বপ্নে সাদা একটা প্রজাপতির পেছনে
ছুটতে ছুটতে কত যে হাঁপিয়ে উঠি
তার কোনো অন্ত নেই।
সাদা রঙের সব ফুল আমার প্রিয়,
পথের ধারে ঝোপঝাড়ে
অবহেলায় ফুটে থাকা গন্ধহীন কুঁড়ি ফুলও।
সাদা রং আমার এতটাই পছন্দ যে –
হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও
কেমন যেন একটা প্রশান্তি অনুভব করি।
সাদা রঙের সব, স— ব আমার প্রচণ্ডরকম ভালোলাগে।
অথচ আফসোস, যেদিন আমার এই পছন্দের রংটি দিয়ে আমার সমস্ত শরীর ঢেকে দেওয়া হবে;
সেদিন আমি তা দেখতে পাবো না!
কী অদ্ভুত; কী নিষ্ঠুর নিয়ম!

 

নাহিদা আক্তার। এক ভাই তিন বোনের মাঝে সবার ছোট। জন্ম ঢাকায় হলেও কবির শৈশব কেটেছে সবুজে ঘেরা ময়মনসিংহের চর লক্ষিপুর গ্রামে। কবিতা পেশা নয়, নেশা। তাই মাঝে মাঝে মনের আবেগগুলো কাব্যের মতো প্রকাশিত হয় কলমের কালিতে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP