ঈগলের ঠোঁটে বিদ্রোহ
ঘুমন্ত ঘড়ির চোখের ভেতর
এক ফোঁটা নীল শব্দ।
লোহা সেখানে মাছের মতো সাঁতার কাটে,
আগুন ভুলে যায় দাহ্যতা
হাতের তালুতে ফুটে তুষারের ফুল
বিদ্রোহ আসে না স্লোগানে।
সে আসে পাখির স্তবকে, ঈগলের ঠোঁটে।
ভাঙা আয়নার গভীরে ওড়ে ওড়ে
সময়ের কপালে লিখে
আজ বাস্তবতা নেই,
শুধু স্বপ্নের অলিক ক্ষতচিহ্ন।
জীবনের স্থায়িত্ব
ছিন্ন পাতার মতো জীবন
প্রথম পৃষ্ঠায় আঁকা আমৃত্যু সুন্দর।
কিংবা অসুন্দরের এলোমেলো পংক্তিময় স্মৃতি
গ্রাফিক্সের মতো নোট
যেন ছড়ি হাতে হাওয়ায় ওড়ায়
মিউজিশিয়ানের রিদমের বিট
আর অপর পৃষ্ঠা ফাঁকা ,নির্মল ধবধবে পবিত্র
অন্তহীন সময়ের ছুটে চলা নিঃসীম সারথি।
আমাদের দৃষ্টির অগোচরে অনন্ত এক নিবাস
ঘুমহীন প্রাচুর্যময় মহাজাগতিক চোখ,চেয়ে আছে
মিজানের নিক্তির কাটায় …
অগ্নিদগ্ধ বদ্বীপ’ই আমার মাতৃভূমি
এই উত্তাল অগ্নিদগ্ধ বদ্বীপ’ই আমার মাতৃভূমি।
এখানে নদী কথা বলে ক্ষুধা আর স্বপ্নের ভাষায়।
যুগে যুগে অনল হাওয়ায় পোড়ে ফসল, পোড়ে ঘর,
তবুও মাটির বুক চিরে উঠে উদ্যত দুটি হাত
সদ্য অঙ্কুরিত তেঁতুলের চারার মতো …
আগুনে পুড়ে জল
জলে ডুবে যায় আগুন …
প্রতিটি ঢেউয়ে লেখা থাকে বাঁচার শপথ।
ঝড় আসে, নামে অন্ধকার।
তবু মানুষ মাথা তোলে ভাঙা ঘরের ছায়ায়।
এই বদ্বীপে জন্ম মানেই লড়াই।
রক্তের সঙ্গে মিশে থাকা রূপান্তরের পলিমাটি।
শতবার ভেসে গে মানচিত্র।
তবু মুছে যায় না বাঙালির জন্মের ইতিহাস।
এই উত্তাল অগ্নিদগ্ধ বদ্বীপ’ই আমার মাতৃভূমি।
ক্ষতবিক্ষত, তবু অদম্য
এখানে হার মানে না জীবন,
এখানে জন্ম নেওয়াই যেন বিদগ্ধ বিদ্রোহ, প্রতিবাদ।
প্রজ্বলিত অন্ধকার
চোখ থেকে উড়ে গেছে দিন
কোটরে প্রজ্বলিত অন্ধকার দাউদাউ করে
রাত বিছিয়ে দিয়েছে আঁধারের নদী
ওপারে কি আলো আছে ?
কে জানে !
যদি চাঁদের শরীর বেয়ে মেদ গলে পড়ে
প্রকৃতির কী লাভ হবে জানি না,তবে
সেই চাঁদনী পসর রাত আজ মোহ মনে হয় …
জিঘাংসার অগ্নিস্রোত
তোমার শান্ত চোখে আগুন ছিলো দুর্নিবার।
বুঝিনি
বুঝিনি আমি কালো পুতুলির রাজ্য পাঠ
প্রথমে ভেবেছিলাম স্বচ্ছ নদীর মতো সরল দৃষ্টি
কিন্তু না , রক্ষণশীল চাহনির গভীরে
সুপ্ত ছিলো ভিসুবিয়াসের জ্বালাময়ী।
জ্বালামুখ ,প্রচণ্ড জিঘাংসার অনল !
আমার বত্রিশ পাঁজর গলে গলে পড়তে থাকে
মোমবৃক্ষের মতো তরল স্রোতে …
নিঃশ্বাসের বোল ডোজার বিচূর্ণ করে দেয় আপাদমস্তক।
এরপরেও তুমি স্থির
রাজ্য জয়ের হাসি চিবুক বেয়ে নেমে যাচ্ছে,আর-
আমার ধমনীপ্রবাহে পদ্মার শীতল জল বাঁধভাঙা
সুরে মুক্তির গীতহয়ে ফুটছে টগবগিয়ে
বত্রিশটি পাঁজর আজ নিখোঁজ,আর খোঁজে পাচ্ছি না
ঘৃণার অগ্নি স্রোতে হয়ত ভেসে গেছে মহাকালের পথে …
কবি শামীম আহমদ। জন্ম ১৯৬৮ সালের ১৫ই ডিসেম্বর মিনহাজ পুরে। স্থায়ী ঠিকানা সিলেট শহরের পশ্চিম চৌকিদেখি ইলাশকান্দি সিলেট । বর্তমানে সপরিবারে ইংল্যান্ডের বাসিন্দা। লেখালেখি শুরু শৈশব থেকে । ১৯৮১ সালে সিলেটের স্বনামধন্য সামাজিক সংগঠন উদয়ন তরুণ সংঘের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং পরে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত সভাপতি দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্য সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার প্রকাশিত বই চেতনা, পথিক, মুছে যাওয়া পদচিহ্ন, আগুনের সংলাপ, নপুংসক নগরে , বাতাসের পায়ে শব্দের ঘুঙুর, বিন্দু থেকে বৃত্ত , তৃষিত লন্ঠন, তুষারের জঠরে অগ্নি বীজ, প্রকাণ্ড এক তৃষ্ণার শাবক, মাটির মন্দিরা উল্লেখযোগ্য।
সৃষ্টিশীল কাজে পেয়েছেন একাধিক সম্মাননা। তারমধ্যে ২০১৯ -২০২০ সাহিত্য সম্মাননা (কবিতায়)তারা নিউজ ভারত কলকাতা, ২০২৩ আলোর অন্বেষণ সাহিত্য সম্মাননা, সিলেট এবং ২০২৪ সালে কবিতায় সমধারা সাহিত্য পুরস্কার, ঢাকা।
লিখছেন নিয়মিত। দেশের এবং ভারতের বিভিন্ন দৈনিকে নিয়মিত লেখা প্রকাশিত হচ্ছে ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।