ছদ্মবেশের ঘুম
পাতার শরীর সেচে
ছায়াটুকু নিলাম তুলে
অতঃপর
জীবনের গল্পটি শুরু হলো বৃষ্টির কলমে,
গল্প ফুরোনোর আগেই
সুসম্পর্কের জানালায়
মাথা রেখে ঘুমালো ছদ্মবেশ
ঘুমের গমনপত্রে উঠে আসা নামে
কখনো হয়নি ডাকা
পাতারাও ঝরে গেল
কান্নার শব্দে
পাতার শরীর থেকে হারিয়েছে ছায়াটুকুও…
শূন্যতার বেলুন
কতবার!
কতবার শূন্যতাটুকু বেলুনে পুরে
উড়িয়ে দিয়েছি আকাশে
জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে
কেউ ডেকে যাচ্ছে প্রজাপতি নামে
স্মৃতি!
সেতো নদীভাঙ্গা অঞ্চল
ডুবে গেছে সকল শুশ্রষা নিয়ে
তবুও
শূন্যতাটুকু উড়িয়ে দিতে চাই বেলুনে পুরে…
যাপনের পূর্বপাঠ
স্বহস্তে মুছে দেয়া বৈধব্যের
ছিলো না পূর্বপাঠ
দুপুর গড়ানো থালায় ছিলো না ক্ষুধার আলপনা –
জানতো
আকাশচারী পাখিরা
দাম্পত্যের সুখ উপড়ানো ডানাও জানে
গোত্রহীন বাতাসের গল্প
দগ্ধ মন জানে
আগুনের শোকহীনতার কথা
কেবল মানুষ জানে না
কাটতে হয় না ভুলের করাতে
যাপনের ইতিহাস
মানুষ
ভুলেছে
‘মানুষ’ বানান…
যে জীবন ব্রাত্যের
তোমার দাঁড়িয়ে থাকার কথা ছিলো
আমার ফেরার প্রচ্ছদে
দিন শেষে
ফিরলে তুমি
এখনো দাঁড়িয়ে আছি নিভু নিভু আগুনের পাশে
সমুদ্রের অতল থেকে
খুঁজে নিলে বুদবুদ,
আমি ডুবসাঁতারে খুঁজছি ইতিহাস
দিশাহীন এক মোহগ্রস্ত শক্তির আহ্বানে
যে তুমি ছুটে গেছো শব্দগুচ্ছ পেছনে ফেলে
তার জন্য তোলা আছে
কাঁটার মুকুট
তখনই
বসে আছি আরামকেদারায়-
নিরাকারের মুখোমুখি
এক এক করে ঢেউয়ের মতো
এগিয়ে যাচ্ছে ঘড়ির কাঁটা
আমরা
অর্থাৎ
আমি এবং নিরাকার
প্রাগৌতিহাসিক সত্য
গার্হস্থ্য গার্হস্থ্য খেলা শেষে
আমরা
সমর্পিত ভাগ্যের কাছে
আমাদের ভেতর বেড়ে ওঠা স্বপ্ন এবং স্মৃতিরাও
জেনে গেছে
গুটোতে হবে গল্পের লাল ফিতে
দৃশ্যের দূরত্ব ও নৈকট্য ছাড়িয়ে
সবাই ফিরে যায় নিজস্ব উপনিবেশে
শুধু ছায়াটুকু পড়ে থাকে নির্জন দ্বীপে
পরিমার্জিত প্রত্নতত্ত্বসম…
অনুবাদ হয় না মানুষের
সব মানুষই পরিব্রাজক
পানিপথের যুদ্ধ থেকে
বিসমিল্লাহ খাঁর সানাই পর্যন্ত
যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা ছেড়ে
কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে
কার্তুজও জানে
কখনো না কখনো জাগতে হবে
জন্মসূত্রেই মানুষ শিখেছে হানাহানি
প্রয়োগও করছে
প্রেমে কিংবা রাষ্ট্রতন্ত্রে
মানুষ কখনোই অনুদিত নয়..
সাদাপতাকা
বারবার
শান্তিপ্রস্তাব নিয়ে দাঁড়িয়েছি নিজের সামনে
সন্ধান করেছি তৃষ্ণার জল,
বিনিময়ে রুদ্ধদ্বার আগুন ছুঁয়ে
আবারও ফিরেছি নিজের ভেতর
হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা স্বপ্নগুলোয়
হাত বুলিয়ে প্রবেশ করলাম শীতঘুমে
এবার বসন্ত আসুক
বাকি হিসেবটুকু মিলিয়ে নেবো…
পাথরের চোখ
অনেক কিছুই পুরে রেখেছি বুকের ভেতর
পাহাড় নদী এবং ছাতিমের অহংকারী ঘ্রাণ,
রেখেছি
কৃষ্ণের বাঁশি
দৌপদীর শাড়ি
আছে এজিদের ছোরা
কারবালা হাহাকার
এতোসব বুঝি না
আমি কেবল ধারণ করতে চেয়েছিলাম
একটি প্রেমময় হাত
বুদ্ধের অভয় মুদ্রায়
হাঁটু গেড়ে বসে
প্রার্থনায় বলতে চেয়েছি
একটি অনিঃশেষ ঘুম চাই
মিথের অতীত
বট পাতায় পড়তে চাই এক জোড়া চোখ
ভালোবাসায় নিটোল
সব ছেড়ে বুকের ভেতর বাসা বেঁধেছে একটি কৃষ্ণগহ্বর…
দৌড়
ছুটছি
অবিরাম ছুটছি
সংজ্ঞাহীন ছুটে যাচ্ছি অগন্তব্যের দিকে
এইযে অর্থহীন ছুটে চলায়
কি পেয়েছে মন,
পুরানো কোনো বিশ্বাসের ডানায় ভর করে
ছুটতে ছুটতে
কীই বা পেলো জীবন
নিজেকে না দেখে জন্মান্ধ ছুটে চলা-
শাস্তি
নাকি প্রাপ্তি?
জানার আগেই
ছুটছি,
ছুটবো অবিরাম
জীবন তুমি দাঁড়িয়ে থাকো বৃক্ষের মৌনতায়…
মোম অগ্নির চুম্বন
পাখির অধিকার আকাশ
দু'পায়ের যোগ্যতায় সেও হাঁটে
মাটির বুকে
অবিকল মানুষের মতো
পাখি মাটিতে হাঁটে
মানুষ বাধা আছে সময়ের জলসায়
হিসেবের ভুল করে না সময়,
পাখিরা
দেখছে ভেরাইটি শো
প্রতিবিম্বে নাচের পুতুল
বসনশূন্য মানুষের থাকে
ছুটির ঘন্টার কাঙ্ক্ষা
কখনো তো লিখা হবে পঙ্কিল ইতিহাস
চোখের জলে পালক ভিজিয়ে,
পাঠ হবে মানুষের মুখ
উদ্ভিদবিদ্যার ক্লাসে
কেউ বলে নি-
মোমও গলে পড়ে অগ্নি-চুম্বন শেষে.
শেলী সেনগুপ্তা, চট্টগ্রামের ভূমিকন্যা, যাঁর জন্ম এবং বেড়ে ওঠা কঠিন এবং কোমল পরশে পাহাড় ও সমুদ্রের কোলে। লেখালেখির শুরু স্কুল জীবনে, ছাপা হতো চট্টগ্রামের পত্রপত্রিকায়। অগন্তব্যের জীবনে তিনি কবিতাকেই করেছেন আলোকবর্তিকা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলাভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর এবং শিক্ষাগবেষনায় স্নাতক ডিগ্রী অর্জনের পর শিক্ষকতায় মনোনিবেশ করেন, একই সঙ্গে চলছিলো সাহিত্যের পথ চলা। সতেরটি কাব্যগ্রন্থসহ প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা পঞ্চান্নটি। এখনও লিখছেন তিনি, লিখে যাচ্ছেন অবিরাম। দেশ এবং বিদেশ থেকে প্রচুর সম্মাননা ও স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। এইসব অর্জনকে মাথায় নিয়ে তিনি সারাজীবনে হেঁটে বেড়াতে চান সাহিত্যের মাঠে এবং ময়দানে। ভ্রমণপ্রিয় এই কবি মা, মানুষ ও মানবতার পুজারি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।