বিশ্বাস
তোমাকে বিশ্বাস করে
আমি এক মনমরা জোনাকি আজ
একদিন দুজনে
কল্পনার সবুজ ঘাসে উচ্ছ্বাসে মুখোমুখি
তোমার বাঁশিতে আমার সুর
আমার দুচোখে তোমার স্বপ্ন
একান্তে দেখেছি–
তুমুল বর্ষায় হৃদয়ে হৃদয়
ভাষাহীন মুখ
বাতাসে তরল উষ্ণতার সরল ওম
তুমি আমার কবিতার প্রচ্ছদ
তুমি আমার বিশুদ্ধ প্রেমের উন্মাদ, আস্কারা
তুমি আমার অবারিত আকাশ
তুমি আমার নীরব নক্ষত্র
তোমাকে ক্লান্তিহীন ডাকি
তোমাকে ডেকেই যাবো বিজ্ঞাপনের সুরে
যদি মন ভেজে
চলে এসো।
তুমি আসবে
আমার বিশ্বাস তুমি আসবেই–
কলি ও অলি পাশাপাশি চিরকাল।
ঢেউ
নদীর ঢেউ দেখি–
আগেও দেখেছি স্রোতের মুদ্রা গুনে,
অথচ আজ ব্যথায় নত চোখ!
মনে আছে,
একদিন এই ঢেউ ছিল সুনির্মল চাঞ্চল্যের সর্বনাম–
অনুভবে সুখ,
কোষে-কোষে উচ্ছ্বাস …
আজ ভাবি একা,
ঢেউগুলো তোমার অবিকল প্রতিচ্ছবি–
ধীরে হেঁটে কেবলই হারায় দূর।
ধ্রুবতারা
কত ফুল হাসলো!
কত পাখি সুর তুলে গেয়ে গেল গান!
উষ্ণ হাসিতে মানুষ বাড়ালো হাত
চাঁদের চোখে নৈকট্যের আবহ ইঙ্গিত।
তবুও হৃদয়ে
তোমার জন্য ঊর্ধ্বমুখী হাহাকার–
ব্যাকুল তৃষ্ণায় ছটফট মন…
নির্মোহ সত্যধারা–
তুমিই জীবনে জ্যোতির্ময় ধ্রুবতারা।
ছায়া
পাহাড় আঁকি–
বুক থেকে ঝরনা নেমে হয়ে যায় নদী,
বিস্ময়ে পলকহীন চোখ;
দৃষ্টির কক্ষপথে নক্ষত্রের মতো একটি কারুজ ছায়া
বাতাসের তারে তোমার ছন্দবদ্ধ হাসি।
কবিতা লিখি–
সবুজের মোহনায় বিমূর্ত ছন্দের প্রশান্ত ঢেউ ,
জ্যোৎস্না ও মেঘে মুখস্থ সুবাস ,
অনুভবের মাঠে তোমার পায়ের ছাপ।
গান গাই
অবিরল খুশি মেখে ফুলদল পদ্মিনী
উদাস ভোমর,
বাউলের আখড়ায় পাখি,
সঞ্চারির গভীরে তোমার দরদমাখা সুরেলা স্বর।
তরুর ছায়ায় তুমি,
জোনাকির জলসায় তুমি,
তোমার সরব উপস্থিতি
চায়ের ধোঁয়ায়,
গল্পের আসরে,
একান্ত পাঠে…,
অভিমান পড়ি,
অনুরাগ পড়ি,
অতঃপর ডুবে যায় ভালোবাসার সরল নামতায়;
হৃৎপিণ্ড ফুড়ে উঠে আস তুমি আশ্চর্য মৌনতায়।
উপস্থিতি
রোজ ফুলের কাছে যাই
পাপড়ির হৃৎপিণ্ড থেকে বের হয় তোমার সুবাস
হৃদয় দোলায়।
আমি যাই পাখির কাছে
তোমার কণ্ঠ শুনি–
উচ্ছ্বাসের ইমনে গেয়ে ওঠে মন
চোখে অরূপ আলোর শৈল্পিক নাচন।
জোনাকির মাঝে তুমি
তোমার রূপ মেখে সাগর-নদী কিশোরী, যৌবতী…
আকাশের প্রচ্ছদে তোমার ছায়া
ঝরনার বুকের ভেতর তোমার চঞ্চলতা …
পাহাড় ছুঁই
বাতাসে জেগে ওঠে তোমার অভিমান।
অনুভবে ছলছল
সীমাহীন ব্যাকুলতা,
আর আশ্চর্য মায়া।
বিজন ঘরে একা
চারপাশে বহুবর্ণিল শব্দের ভিড়
অতঃপর দৃষ্টির ক্যানভাসে
তোমার শান্ত মুখ মোরগ-ভোরের শুকতারা।
হাইকু
জবার হাসি
রোদ মাখা পুলকে
সুনীলে ভাসি।
দখিনা গায়
নীরবে অকারণে
মন হারায়।
কিশোরী জবা
বাতাস সুখে হাঁকে
খুঁজছি তাঁকে।
যুবতী গাঁদা
বখাটে অলি-পাখি
রঙিন আঁখি।
কোকিল গায়
বাতাসে ওড়ে চুল
হৃদয়-ফুল।
একটি কথা
একটি কথা–
যেভাবে যতটা চায়
মনকে দিয়ে দাও স্বাধীনতা।
কাছে থাকতে হবে এমন কোন কথা নেই,
আকাশ ছেড়ে মাটিতে নামে না চাঁদ
তবুও জ্যোৎস্নায় উন্মাদ হয়ে ওঠে নদী
কলরোলে শিহরিত বায়ু;
রুক্ষ যদি ঠোঁট
বাণিজ্যিক হাসি দিয়ে কী হবে!
তৃষ্ণায় প্রাণ কখনোই চাই না বিষ
ভ্রমের পরিণতি পতঙ্গ জানে!
তোমার চোখ
অমার স্বপ্নের অবারিত উদ্যান,
হাসি খুঁজে মন
সদ্য যৌবনা পাখি।
যদি বোঝ দৃষ্টির ভাষা,
বুকের সমুদ্রে হয়ে যাও সোনালি মাছ
আর তর্জমা করো হৃৎপিণ্ডের ওম।
ভালোবাসার বনে
চাঁদ জেগেছিল
অথচ আমি দেখেছিলাম তোমাকে
সেই আরক্তিম প্রশান্ত মুখ।
তোমার হাসি ধরলাম,
তার উপর বসিয়ে দিলাম শিশুতোষ অভিমান–
উঁকি দিল কবিতা।
উপমার মাঠে ছন্দ চাষ–
আনমনে বুনে গেলাম কুড়িয়ে পাওয়া শব্দ,
অঙ্কুরিত চারার মতো মাথা তুললো
তোমার চোখ
তোমার সুবাস
তোমার ছায়া…
চাঁদ জাগলেই তোমার মুখ
বুকের গাঙে টলমল কাব্যিক সুখ
মন হারায় প্রেমমুখর
ভালোবাসার বনে।
হাইকু
ফুলেল শাখা
পাখির ছায়া মনে,
হবে কি পাখা?
কমল দোলে
কোমল রাঙা ঠোঁট
মাথাটি তোলে।
সবুজ মাঠ
রোদের পিছে ছায়া
সবাক মায়া।
ধুসর ঘাস
বিরহ, দাবানল
হারাই ভাষ।
জোনাকি জ্বলে
ব্যথা-সুখ উরগ
বুকের তলে।
অনুনয়
ভূমিকম্প হেরে গেলেও
জলের আঘাতে হেরে যায় দুর্বিণীত পাহাড়
বাতাসেও ঝরে পড়ে ডানার পালক!
ফুল না থাক
আগুন জ্বেলো না ঠোঁটে
রূঢ় কথার কাছে নিতান্তই শিশু
তীক্ষ্ণ ছুরি
অথবা উদ্ধত বুলেট।
বিদ্রুপ করো না,
ব্যথার দহনে নিভৃতে পোড়ে মন।
অলেখা নাম
ধরো,
আমাকে খুঁজছো মন খুলে
অথচ সাড়া নেই!
অশ্রু সস্তা নয়
শক্ত মনে জমা রেখো কোন এক নক্ষত্রের জন্য
তারপর
একমনে ফুল মেখে
সানন্দে শুনো নদী আর পাখি,
একদিন ঠিক
অলেখা নাম বিস্মৃত হবে মন।
প্রতিশ্রুতি
ভোরের কোমল ডাকে,
অযাচিত দুঃখ যদি অনুভবের বাঁকে–
আঁধার ঘিরে ধরে,
খবর দিও, পাতবো আসন
এই হৃদয়ের ঘরে।
কিংবা দুপুর বেলা,
ডানে-বায়ে শূন্যতারা করলো যদি খেলা–
ভীষণ একা লাগে,
ডাক পাঠিও, গান শোনাবো
শুদ্ধ প্রেমের রাগে।
বিকেল যখন আসে,
অস্থিরতা বাচাল হয়ে উচ্চে যদি হাসে–
জীবন নিরেট মিছে,
স্মরণ করো, হেঁটে যাবো
তোমার পিছে-পিছে।
যখন সাঁঝের মায়া,
দৃষ্টিরেখায় দুললো যদি নিঃসঙ্গতার ছায়া–
আগুন হৃদয়-বনে
হাত বাড়িও, ওম ছড়াবো
একা সংগোপনে।
হঠাৎ কোন রাতে
মনটা যদি দুমড়ে আসে ব্যথার ঘাতে-ঘাতে–
দুচোখ ভাসে জলে,
চলে এসো দ্বিধা ভুলে
রাখবো বুকের তলে।
কাব্য পাঠের কালে
অনুভূতি আটকা যদি পড়লো স্মৃতির জালে–
রক্ত নীলাভ শেষে,
তাকিয়ে দেখো কবি পাশে
চাঁদ- জোনাকির বেশে।
শামরুজ জবা। গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সুন্দরগঞ্জ গ্রামে ১৯৮৭ সালের ৪ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মোঃ শফিউল ইসলাম এবং মাতার নাম মোছাঃ জিন্নাতুল ফেরদৌসী। তিনি ২০০২ সালে সুন্দরগঞ্জ আমিনা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে প্রথম শ্রেণি পেয়ে উত্তীর্ণ হন এবং সুন্দরগঞ্জ ডিগ্রি মহিলা মহাবিদ্যালয় থেকে এইচ এস সি পরীক্ষা ও একই কলেজ থেকে ২০০৮ সালে বি. এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি ছোটবেলা থেকে আবৃত্তি করেন এবং কলেজে উঠার পর থেকে লেখালেখি শুরু করেন। এপার ওপার বাংলা মিলে সে ৩০ টির মতো যৌথকাব্য গ্রন্থে তার লেখা কবিতা প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার কবিতা প্রকাশিত হয়। পেশাগত জীবনে একটি মেডিসিন কোম্পানিতে কর্মরত আছেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।