রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকাই যে নেতৃত্বের একমাত্র মানদণ্ড—এ ধারণাকে বারবার ভুল প্রমাণ করেছেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান। প্রচারের ঝলকানি নয়, কাজের ধারাবাহিকতা, সততা ও দায়িত্ববোধের মধ্য দিয়েই তিনি লক্ষ্মীপুর–৪ (রামগতি ও কমলনগর) আসনের মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।
দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, বরং একজন অভিভাবকের মতো এলাকার মানুষকে আগলে রেখেছেন। এ কারণেই এলাকাবাসীর মুখে মুখে তিনি পরিচিত—“নীরব কিন্তু দৃঢ় নেতৃত্বের মানুষ” হিসেবে।
সংক্ষিপ্ত পরিচয়
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান লক্ষ্মীপুর–৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। বর্তমানে তিনি দলের সহ-শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সততার রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত
২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর রাজনীতিতে সততা ও নৈতিকতার যে নজির তিনি স্থাপন করেছেন, তা আজও বিরল। সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় তিনি ঘুষকে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। সরকারি খরচে পাঁচবার বিদেশ সফরের সুযোগ থাকলেও একবারও সে সুযোগ গ্রহণ করেননি। এমনকি এমপি হিসেবে ফ্ল্যাগ, প্রটোকল কিংবা দেহরক্ষী গ্রহণ না করে সাধারণ মানুষের মতোই চলাফেরা করেছেন।
এই নিরহংকার ও স্বচ্ছ জীবনযাপনের কারণেই এলাকাবাসীর কাছে তিনি পরিচিত হয়ে ওঠেন “নিরহংকারী এমপি” নামে।
লক্ষ্মীপুর–৪ : উন্নয়ন ও আস্থার গল্প
রামগতি ও কমলনগরের উন্নয়নে তাঁর অবদান আজও দৃশ্যমান। কমলনগর উপজেলা গঠনে তাঁর অগ্রণী ভূমিকা এলাকাবাসীর কাছে ইতিহাস হয়ে আছে। মেঘনা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ, সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং স্বাস্থ্যসেবা বিস্তারে তাঁর ভূমিকা এলাকাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।
রাজনৈতিক দুঃসময়ে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—তিনি কেবল ভোটের সময়ের নেতা নন, বরং বিপদের সময়েরও আশ্রয়।
নিজান ভাইয়ের অঙ্গীকারনামা: মানুষের সঙ্গে নতুন চুক্তি
লক্ষ্মীপুর–৪ এর মানুষের কাছে আবারও তিনি হাজির হয়েছেন একটি সুস্পষ্ট অঙ্গীকারনামা নিয়ে। এই অঙ্গীকার শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে গড়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।
তার অঙ্গীকারের মধ্যে রয়েছে—
মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা ও টেকসই নদীবাঁধ নির্মাণ, ভূমিহীন ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা, যুবকদের কর্মসংস্থান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, কৃষি ও মৎস্য খাতের আধুনিকায়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালীকরণ, নারী ক্ষমতায়ন ও নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া উন্নয়ন, প্রবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার—সংসদে রামগতি ও কমলনগরের ন্যায্য দাবি আপসহীনভাবে উপস্থাপন করা।
কেন আবারও নিজান?
লক্ষ্মীপুর–৪ এর মানুষ জানেন—
উন্নয়ন চাইলে অভিজ্ঞতা লাগে,
সুশাসন চাইলে সততা লাগে,
আর আস্থা চাইলে পরীক্ষিত নেতৃত্ব লাগে।
এই তিনটির সমন্বয় ঘটিয়েছেন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
একটি ভোট, একটি বার্তা
এই নির্বাচন কেবল একজন প্রার্থী বাছাই নয়; এটি সততা বনাম অনিশ্চয়তার, অভিজ্ঞতা বনাম অজানার এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
রামগতি ও কমলনগরের মানুষ তাই বলছেন—
উন্নয়ন, সততা ও নির্ভরতার পক্ষে
ভোট দিন ধানের শীষে
ভোট দিন এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজানকে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।