সকল মেনু

ফরিদা ফারহানা’র ১০ কবিতা

তুমি একজন

তুমি যে আগুন জ্বেলে গেলে
আমার মনের ঘরে
আমি কেমন পুড়ে যাচ্ছি
শামুকের জীবন যাপন আমার যেনো
মুহূর্তে ই অদলবদল করে
ফেলি নিজেকে আজকাল,
শেষমেশ বলে কিছু নাই
জীবনে তোমাকে পেতে
ঘড়ির কাঁটার ছুঁয়েছি,
সেই আদিকাল থেকে
নিস্তব্ধতা আমাকে খুব টানে
যেখানে তোমাকে আমার করে ভাবতে লাগেনা
কোন আলাদা কোন ভাবনা!!

ছুঁয়ে দাও

হীম ধরা ঠোঁটে একটু
আলতো ছুঁয়ে দিবে
কিছুটা উত্তাপ কিংবা মিষ্টি হাসি হয়েও থাকতে পারো
আমি কিছু মনে করবো না,
জীবনের এই নামহীন স্বপ্নে কেমন তুমি এসে যাও
বলে যাও আমাকে
তৃষ্ণা কাকে বলে,
আমি সলতে হতে চাই
অন্ধকার রাত্রিতে
আর তোমার বাড়ির উঠানে হতে চাই ঝরা শিউলি
তুমি কি আমাকে শীতের রাত করে নিবে আগামী দিন গুলো তে!!

 

আমার সময়

ফেলে আসা প্রতিটি দুপুর কিংবা সন্ধ্যার নরম আলোয়
তোমায় ভেবে কেমন আমি
ভোর হয়ে ফিরে আসি
দিনের প্রাপ্তিতে,
আসলে তুমি অনেকটা
নিজস্ব ছায়া হয়ে আমাকে
স্নিগ্ধতার এক পরশ দিলে,
আর আমি হাসি মুখে বিজয়ের উল্লাসে অজস্র
আনন্দে বিমোহিত এক নারী
আমি শান্ত হতে হতে
নিয়মিত একটা জোছনা ধোয়া তুলসীতলায়
হতে চাই ঠাকুরের ধুপশিখা
আর তোমার একান্ত ব্যাক্তিগত সময়!!

 

প্রেমিক

আমার যাবতীয় প্রেমিক রা কেমন পালিয়ে গেলো
তুমি যখন এলে
আমার মনের মাঝে,
হাজার তারার মাঝে তুমি
কেমন উজ্জ্বল এক নীল আকাশ হয়ে আমাকে নিরব প্রশান্তি দাও রাতদিন
তুমি সুন্দর,অনন্য নিদর্শন আমার জীবনের এক অংশ
এই বুঝি ক্লান্তির পথ ফুরিয়ে গেলো জীবনের
কি এক স্বর্গীয় সুখ
এনেছো মনের আঙিনায়
আমি ভেসে ভেসে যাই
তোমার প্রেমের বর্ষায়!!

 

বনভুমি

তোমাকে প্রবল ভাবে চাই
যেমন করে ঝড়ের শেষে মানুষ বাঁচার আকুতি করে,
দিন রাত্রির আলাদা কোন
হিসেব করতে চাইনা সময় কে
মনের অতল গহ্বরে
তোমার বসবাস আমাকে
শুধু ই এনে দেয়
অনন্ত এক ভালবাসা
আমিও হয়ে উঠি শান্ত এক অবুঝ কিশোরী
সবুজে ঘেরা এক বনভূমিতে!!

 

 অবুঝ মন

আমাদের এই ভালবাসাবাসি
কিংবা অপেক্ষায় বসে
তোমার স্মৃতি চারণ
তোমার ভালো থাকার
প্রার্থনায় আমি এখনো
আক্ষরিক অর্থে অনেকটা কুসুমিত স্বজ্ঞার মুহূর্তগুলো ক্ষণিকের অনুভূতিটাই আসল
বাস্তবতার এই কঠিন সময়ে
তুমি অনেকটা শান্ত নদীর তীরের বাতাস
আর আমি তোমার বুকের টলমল জল হতে চাই!!

 

ব্যস্ততম সময়

আজ এই শীতের উষ্ণতম দিনে তোমাকে কেমন
শহরের ব্যাস্ততম রাস্তায় পাশে বসিয়ে গল্প করতে ইচ্ছে করছে আর গুনতে ইচ্ছে করছে ছুটে চলা সব যানবাহন আর মানুষের চোখ, মনের ঘরে খুব সহজেই আশ্রয় নিলে তুমি
আর আমি যেনো হাজার বছর অপেক্ষা করেছিলাম..
আমি বরাবর একটু উদাসীন
তোমাকে ধারণ করেছি
সেই বিংশশতাব্দীর শেষে,
আমি অনেকটা তৃষ্ণার্ত আর বিষাদের সমতুল্য হয়ে জেগে থাকি কোন অমাবস্যার রাতে
আর তুমি শুধু ই একটা কৌতুহলী চিন্তাশক্তি!!

 

বিষন্ন বিকাল

একটা বিষন্ন বিকাল আমার দিকে আসছে
আমি কেমন ছন্ন হারা জীবনের সাথে জড়িয়ে গেলাম আর তোমার প্রতি আমার সব খুচরা কথা গুলো জমিয়ে রাখি অগোচরে,
আমি অনেকটা অতিথি পাখির মতো তোমার জীবনে ছিলাম যেনো..
হিসেবের বনিবনা জানি কোনদিন ঘুচবে না
তবুও মিলিয়ে চলি তোমার জীবনের সাথে আমার একলা মনের কথা
আর ভালবাসি তোমার সমস্ত সত্যগুলো মিথ্যে ভাবে!!

 

সন্ধ্যার দিন

আমি তোমার জন্য একটা বৃষ্টি মুখর সন্ধ্যার আয়োজন করেছি সাথে মিহি কিছু স্বপ্ন রেখেছি তোমার প্রতি
তুমি আমাকে গ্রহণ করো
ব্যস্ততার এই নগরে
আমি অগোছালো এক যাযাবর জীবন যাপন থেকে মুক্তি চাই তোমার হাত ধরে,
তুমি শুভ্রতায় ঘেরা একটা সোনালী সকাল জীবনে
আর নিরবচ্ছিন্ন সংসারজীবনে তুমি একটা পুরনো দিনের গানের মতো
ঘিরে থাকো পুরো টা সময়
আর আমি মুখিয়ে থাকি তোমার অভিমুখে!!

 

ক্লান্তি

আবার কেমন করে আমার ক্লান্তির দিন চলে এসেছে
আর তুমি এক পা দু পা করে মিলিয়ে গেলে যান্ত্রিক আওয়াজে
আর আমি নিজেকে নিত্যনতুন সাজসজ্জায় সাজিয়ে তুলছি নাম্বার ওয়ান
এক প্রতিযোগিতায় অংশ করতে….
কথারা কেমন করে সুর পাল্টে
ভীন্ন সুরে গাইছে অজানা সংগীত আজ-কাল,
তুমি তুমি করে সময় কাটানো
সময় গুলো খুব পোড়াচ্ছে
তবুও জীবন চলছে
মিছে মায়ায় কাটানো
দিনের হাত ধরে!!

ফরিদা ফারহানা একজন সংবেদনশীল কবি ও জনপ্রিয় গীতিকার। জন্ম টাংগাইল জেলার মধুপুর উপজেলার অরণখোলা গ্রামে। তাঁর বেড়ে ওঠা প্রকৃতি, মানুষ ও জীবনের নানামাত্রিক অনুভবের মধ্য দিয়ে, যা তাঁর লেখনীতে গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়। বাবা মো. ফরহাদ হোসেন এবং মা সুফিয়া বেগমের স্নেহ ও অনুপ্রেরণায় তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিবেদন করেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ (MPH) ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পেশাগতভাবে একজন নার্স হিসেবে কর্মরত। মানবসেবার এই অভিজ্ঞতা তাঁর লেখায় যুক্ত করেছে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও জীবনের গভীর দর্শন।

কবিতা ও গীতির জগতে ফরিদা ফারহানার পথচলা সুদীর্ঘ। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দশটি। উল্লেখযোগ্য কবিতার বইগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বপ্ন অথবা ভালোবাসা, আকাশী রঙের মন, এ্যালকেমি, সিক্ত রসায়নে দ্রোহ, হৃদয়ে সেতু বন্ধন এবং বিচ্যুত রসায়নে সুরভী। তাঁর লেখায় প্রেম, দ্রোহ, আত্মঅনুসন্ধান ও মানবিক বোধ সুস্পষ্টভাবে উপস্থিত।

তিনি এ পর্যন্ত ২৫০টিরও বেশি গান রচনা করেছেন, যা দেশের জনপ্রিয় ও খ্যাতনামা শিল্পীদের কণ্ঠে শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। আসিফ আকবর, মনির খান,আগুন,আঁখি আলমগীর,আলম আরা মিনু,রোমানা ইসলাম, সাব্বির জামান, অবন্তী সিথী, লিজা, লুইপা,স্মরণ সহ বহু প্রতিষ্ঠিত শিল্পী তাঁর গানে কণ্ঠ দিয়েছেন।

সাহিত্য ও সংগীতের দুই ধারাতেই সক্রিয় ফরিদা ফারহানা একজন নিরলস স্রষ্টা। তাঁর লেখনী পাঠক ও শ্রোতার হৃদয়ে অনুভূতির সেতু গড়ে তোলে—যেখানে ভালোবাসা, জীবন ও মানুষ একসূত্রে বাঁধা পড়ে

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।

TOP