এসো আনন্দে বাঁচি
আমি খাই পানি
তুমি খাও জল
আমি করি আল্লাহ আল্লাহ
তুমি হরিবল।
একই অঙ্গে কত রুপে খেলছেন মালিক সাঁই
তাঁর খেলারই পুতুল মোরা, তর্কের কিছু নাই।
কে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কেন ভাবছি মিছেমিছি
আমি না হয় খালা ডাকি, তুমি ডাকো মাসী!
কি নামে বা কি বলে ডাকবো তা তো বড় নয়!
ডাকটা যদি আসে শ্রদ্ধা থেকে, তাতেই হৃদয় জয়।
একই সৃষ্টির সৃষ্টি আমরা, এক জগতেই বাস
একই চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র, একই মোদের আকাশ।
ক্ষেতে ফসল ফলে তোমার আমার একই মেঘের বৃষ্টিতে
এসো না আনন্দে বাঁচি মোরা একই স্রষ্টার সৃষ্টিতে!
স্পর্শ
তোমার স্পর্শ আমায় সতেজ করে
তোমার স্পর্শ আমাকে করে সবল
তুমি ছুঁয়ে দিলে আমি তরুণ হই
তোমার স্পর্শহীনতা আমাকে মুহুর্তেই করে বৃদ্ধ, দুর্বল।
পঁচাশি বছর তোমার হাতে হাত রেখে চলেছি তারুণ্যে
বয়সটা আঠারোতেই ছিল থমকে
তুমি ছেড়ে গেলে যেদিন
মুহুর্তেই অচল বৃদ্ধ হলাম, চেয়ে দেখি চমকে।
যে তুমি এই বিশাল ফ্ল্যাটেও ঘুমাতে পারতে না আমাকে না ধরে
জানি, সেই তুমি ভালো নেই একা ঐ ছোট্ট ঘরে।
প্রিয় চিন্তা করো না তুমি
তোমার কাছে যেতে বার বার প্রশাসনের কাছে দরখাস্ত করছি আমি।
আশা করছি খুব দ্রুতই গ্রহণ হবে আমার আবেদন
কারণ জল ছাড়া মীন বাঁচেই বা কতক্ষণ!
আমাদের দুজনের মাঝে এখন স্পর্শহীনতার সময় ততক্ষণ,
জল ছাড়া মীন বাঁচে যতক্ষণ।
তারপরেই জল আর মীন এক হয়ে যাবে আবার
আনন্দে জলের বুকে মীন কাটবে সাঁতার।
স্ব প্রেম
সাজাও তুমি নিজের জগৎ নিজের মতো করে
তোমার বনে বেড়াও তুমি ইচ্ছে মতো উড়ে।
কাঁদো তুমি ইচ্ছে মতো
মন চাইলে হাসো
নিজেকেই যত্ন করে গভীর ভালোবাস।
তোমার মতো করে তোমায় কেউ বাসবে না ভালো
একবার দুচোখ বন্ধ করে দেখো জগতটা কত কালো!
সুদিনে বন্ধু পাবে তুমি হাজার হাজার জন
মরার আগে মরে দেখো,
তোমার জন্য কাঁদবে কয়জন!
বিপদের দিনে তোমার পাশে ছিলো যে জন,
সেই তোমার প্রকৃত আপন।
ওসব ব্যাপার না
সৎ পথে চলার স্বভাবে
যদি কষ্ট পাও অভাবে
তাতে কার কি যায় আসে!
কষ্ট পাচ্ছো তোমার চলার দোষে।
না হয় একটু অন্যায় করতে হজম!
বিনিময়ে পেতে বিলাসবহুল জীবন।
যেহেতু বেছে নিয়েছো সততা
কি আর করার! একাধিক বার সেলাই করো পায়ের জুতা!
সুযোগ পেয়েও দুপায়ে দিয়েছো ঠেলে
এখন সামান্য দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির টেনশনে পাক ধরাও চুলে
দোষ কারই নয়, কষ্ট পাচ্ছো তোমারই ভুলে।
এসব সামান্য বিষয়ে আমরা মাথা ঘামাইনা
আমাদের অঢেল সম্পদ আছে, ওসব ব্যাপার না।
আমার খারাপ নেই মন
কে বলেছে তোমার আমার দূরত্ব অনেক খানি!
এই তো একই ছাদের নিচে আছি তুমি আমি!
ঐ যে বিশাল আকাশের ছাদ!
আর ঘর এই জমিন!
সমস্ত ঘর জুড়ে শুধু আমরাই দুজন
আর কাউকেই দেখতে পায়না এই মন।
কে বলেছে তুমি ভালোবাসো না আমায়!
ভালো না বাসলে কেউ কি তার বুকে মাথা রেখে ঘুমাতে দেয়!
আমি তোমার বুকেই মাথা রেখে ঘুমাই!
এই যে শীতল পাটি মৃত্তিকা!
সে তো তুমিই!
তোমার বুকেই মাথা রেখে ঘুমাই আমি।
একই ছাদ, একই ঘর, একই বিছানা, একই হাওয়ায় দোলছি দুজন
আমার আর খারাপ নেই মন।
ভবের বাজার
অনেক আশা করে
গেলাম ভবের বাজারে
মনের দামে কিনলাম একটি মন
দুদিন পরেই দেখছি মনে ধরেছে ঘুণ।
তাই ভাবি বসে রাতদিন
মনের মধ্যেও ব্যবহার হয় ফরমালিন!!
সহজ সরল মনে বিশ্বাস করেছিলাম বিক্রেতারে l
বিক্রেতা এতো নিখুঁত ভাবে মনে করেছে রং
বুঝতেই পারিনি নকল মন!
ভবেরও বাজারে ঠকেছি আমিরে
চিনতে পারিনি আসল মন
এখন করি শুধু হায় হায়
ভাবি বসে নিরালায়
ভুল করেছি কেনার সময় যাচাই না করে l
আমার মতো কেউ করো না ভুল এমন
বুঝে শুনে যাচাই করেই কেনো মন
নইলে দুদিন পরেই ধরবে জং
উঠে যাবে মনের কৃত্রিম রং
থাকবে না কিছু আর করার তখন
কাঁদবে শুধু দু-চোখ ভরে l
কান্না
কান্না লুকানোর যদি জায়গা না পাও
তবে বৃষ্টির কাছে যাও
নিজেরে বৃষ্টির পানিতে ভেজাও
বৃষ্টির মাঝে দাঁড়িয়ে থেকে ইচ্ছে মতো কেঁদে নাও l
বৃষ্টির পানির মাঝে লুকিয়ে রবে তোমার চোখের পানি
তুমি কষ্টে আছো একথা হবেনা জানাজানি
কেউ করবে না কানাকানি।
সবাই জানবে তুমি সখে নিজেরে বৃষ্টিতে ভেজাও l
বুদ্ধিমান ঐ আকাশ
তার কান্নার কথা কোনদিন করেনি প্রকাশ
কেউ বুঝতে পারেনা
বৃষ্টি আকাশের কান্না।
তুমিও আকাশ হয়ে যাও
তোমার কান্নাকে বৃষ্টি নাম দিয়ে জমিনে ঝরাও l
পাহাড়ের বুকে ঝর্ণা বয়ে চলে
তা দেখে মুগ্ধ সকলে
এ কথা কেউ জানে না
পাহাড়ের কান্নার নাম ঝর্ণা।
তুমিও পাহাড় হয়ে যাও
তোমার কান্নাকে ঝর্ণা নাম দিয়ে নদী বানাও l
সুখ পাখি দিয়েছে ফাঁকি
সুখ সুখ করে খুঁজি সুখ পাখি
সুখ পাখি আমায় দিয়েছে ফাঁকি
আমার জীবনে সুখ রয়ে গেলো বাঁকি
তাই তো সারাক্ষণ কষ্টে থাকি l
সুখের সাথে এখনও হয়নি দেখা
কষ্টের সাথে বসবাস করি একা-একা
ফেরারি মন পাবে কি সুখের দেখা!
চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় থাকি l
সুখের আশায় মন হয়ে আছে অধির
সুখের খোঁজে তাই হয়েছি ঘরের বাহির
সুখ পাখিকে না দেখেও কল্পনায় ছবি আঁকি l
অতৃপ্ত
আমার অন্তরে নাইরে সুখ
দুঃখ কলিজায়
পঁচন ধরছে মনের ভেতর
বাঁচার উপায় নাই l
সুখ নামের ঐ সুখ পাখি
আমায় দিয়েছে ফাঁকি
ভালোবাসা সবই রয়ে গেলো বাঁকি
খুলে দেখি জীবন খাতায় l
সুখ পাখিটাকে ধরতে গিয়ে
পড়লাম আমি হোঁচট খেয়ে
আমি চাই সুখকে
সুখ তো চায় না আমায় l
রঙের দুনিয়া
রঙের এই দুনিয়া
খেলছে মানুষ রঙ নিয়া
কবে শেষ হবে এই রঙেরই খেলা!
দুনিয়াটা আজব ঘর
আজব ঐ কারিগর
বসাইছে যেনো সে আজবের মেলা l
কেন মানুষ দেখো না
বুঝেও কেন বোঝ না
যেদিন যায়, সেদিন তো আর ফিরে আসে না।
খারাপ কাজ ছেড়ে দাও
সৎ লোকের সঙ্গী হও
চেয়ে দেখো বয়ে যায় ঐ জীবনের বেলা l
মানব জীবন বড়ই দামী
বানাইছেন ঐ অন্তর্যামী
এ জীবনের মূল্য বোঝ, করো না হেলা।
পরিনা, জন্ম: ১০ এপ্রিল। পিতা: আব্দুল ওহাব, মা: শাহিদা বিবি। নওগাঁ জেলার, বদলগাছী উপজেলার নুনুজ গ্রামের খুব সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা। বর্তমানে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার আওলাই ইউনিয়ন এর শিরোট্টি গ্রামে স্থায়ী ভাবে বসবাস। কবি নুনুজ কলিমিয়া দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি পাশ করেন। জামালগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে আর্থিক সমস্যার কারনে মাঝখানে দীর্ঘ সময় পড়ালেখা বন্ধ থাকে। কবি ছিলেন নিঃসন্তান বাবা মায়ের পালিত একমাত্র সন্তান। তাই বৃদ্ধ বাবা মায়ের দায়িত্ব নিতে কবিকে খুঁজে নিতে হয়েছে কর্ম। পরবর্তীতে কর্মের পাশাপাশি নাটোর দ্বিঘাপতিয়া এম কে কলেজ থেকে এইচএসসি এবং রাজশাহী নওহাটা সরকারি ডিগ্রী কলেজ থেকে ডিগ্রী পাশ করেন। বর্তমানে উদ্যোক্তা হিসেবে অনলাইন ব্যবসায় জড়িত আছেন। ছোটবেলা থেকেই লেখালেখির প্রতি আগ্রহী। গান শুনতে, বই পড়তে ও ভ্রমণ করতে ভালো লাগে তাঁর। এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ৭ টি। প্রকাশিত গ্রন্থগুলো- তুমি আসবে বলে, মনের কোন বয়স নেই, মিসকল দিও, মনের কথা গানে গানে, কবে যেনো ভালো ছিলাম, সবকিছু ফিরিয়ে দেয়া যায় না এবং চমৎকার স্বার্থপর।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।