তাদের কেউ কেউ প্রথিতযশা লেখক, আবার কেউ মাত্রই লিখতে শুরু করেছেন। তাদের কেউ বাবা-মাকে নিয়ে লিখেছেন হৃদয়স্পর্শী গল্প। তাদের নাতিদীর্ঘ স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে দুর্বার তারুণ্য ও নিখাঁদ বন্ধুত্বের গল্প। শত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে যে নারী রোজ ছুটে জীবিকার তাগিদে, তিনিও কলম ধরেছেন; লিখেছেন নিজের কথা।
সেসব গল্প-কথা নিয়ে ‘সময় ৩৫ গ্রন্থমালা’র দ্বিতীয় পর্যায়ের ৫টি নতুন সংকলন প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সে বইগুলোর মোড়ক উন্মোচন হয়েছে।
তারুণ্যের গল্প সংকলন ‘তারুণ্য’ সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক ও দৈনিক খবরের কাগজের সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বন্ধুদের গল্প সংকলন ‘প্রিয় বন্ধু আমার’ সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক ইফতেখারুল ইসলাম। কর্মজীবী নারীর গল্প সংকলন ‘আমি নারী, আমি পেশাজীবী’ সম্পাদনা করেছেন কবি স্নিগ্ধা বাউল। ‘আমার মা, আমার বাবা’ সংকলনটি আনিসুল হক এবং ‘আমার সন্তান, আমার স্বপ্ন’ সম্পাদনা করেছেন মেরিনা ইয়াসমিন।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানে সেই ৫টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। মোস্তফা কামাল, কবি স্নিগ্ধা বাউল এই প্রকাশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ সত্য বলার সাহস, তারুণ্যের স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার দায় নিয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে প্রকৃত অর্থে স্বাধীন মানুষ খুবই বিরল। আমরা সবাই কোনো না কোনো শিকলে বাঁধা। চাকরি, সমাজ, ভয়–সব মিলিয়ে সত্য বলা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। শিশু শুধু হৃদয় থেকে যা অনুভব করে তাই বলে, সে কারণে তার সত্য উচ্চারণ সবচেয়ে খাঁটি। শিশুদের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা ও সত্যনিষ্ঠা দেখা যায়।’
সম্পাদক ও লেখকদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘নতুন কিছু করার চেষ্টা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রচেষ্টাই সমাজকে এগিয়ে নেয়।’
নিজের জীবন ও স্বপ্নের প্রসঙ্গ টেনে কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল বলেন, তিনি নিজেকে একজন স্বপ্নবাজ মানুষ হিসেবে দেখেন। তার লেখা ‘স্বপ্নবাজ’ বইয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বপ্ন দেখানো ও বড় স্বপ্নে বিশ্বাস করানোই আসল শক্তি। তিনি বলেন, ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়–এই কথাটি আমি নিজেও ধারণ করি।’
তরুণদের প্রসঙ্গে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি তরুণের মধ্যে হিমালয় জয়ের স্বপ্ন আছে। এই স্বপ্নগুলোকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, যদি তাদের একটু সহায়তা ও দিকনির্দেশনা দেওয়া যায়, তাহলে তরুণরাই নিজের পথ নিজে খুঁজে নেবে।’
বই পড়ার অভ্যাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অধিকাংশ বই তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন, অনেক বই একাধিকবার পড়তেও ভালো লাগে। কাজকে উপভোগ করার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কাজ আনন্দের সঙ্গে করা যায়, সেটাই দীর্ঘদিন ভালোভাবে করা সম্ভব–এই শিক্ষাটি তিনি পেয়েছেন তার শিক্ষকের কাছ থেকেই।
৫টি সংকলনে যাদের লেখা প্রকাশিত হয়েছে, তাদের অভিনন্দন জানিয়ে কথাসাহিত্যিক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সমাজে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং বই প্রকাশের আনন্দ অনুভব করা ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে।’
বই পড়া ও ঘরে বইয়ের উপস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরে ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, ‘বাড়িতে বই এলে পুরো পরিবেশ আলোকিত হয়ে ওঠে। আলোর কথা আমরা অনেকে বলি–কিন্তু সেই আলো যদি বই থেকে শুরু হয়, তাহলেই তা সর্বাঙ্গসুন্দর হয়।’
সংকলনটি প্রকাশের প্রস্তাব পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় কবি স্নিগ্ধা বাউল প্রশ্ন তুলেছিলেন–কেন আলাদা করে ‘নারী, আমি পেশাজীবী’? পরে নিজেই উপলব্ধি করেন, কর্মক্ষেত্রে নারীদের জন্য পরিস্থিতি এখনো সমান নয় বলেই এই দায় এড়িয়ে যাওয়া যায় না। কিছু লেখা পড়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ার কথাও জানান তিনি। স্নিগ্ধা বাউল বলেন, ‘অনেক সময় কেঁদেছি। মনে হয়েছে, এই ট্র্যাজেডি তো আমার জীবনে ঘটেনি, তবু এটা আমাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। বুঝেছি, এমন পরিস্থিতির ভেতর দিয়েও মেয়েরা যায়।’
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।