ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিপুল জনগণের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের গঠনের পথে এগিয়েছে। এতে করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে।
বেসরকারি ফল অনুযায়ী শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ঘোষিত ২৮৯ আসনের মধ্যে ২১০ আসনে জয় নিশ্চিত করেছে বিএনপি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৭২ আসনে জয়ী হয়েছে, অন্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭ আসনে জয়লাভ করেছেন। এখনও ফল জানা যায়নি বাকি ১০ আসনের।
ফল অনুযায়ী, বিএনপির নেতৃত্বেই আগামী সরকার গঠিত হবে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন।
এতে করে ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে পুনরায় একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী আসছেন।
সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন কাজি জাফর আহমেদ (১৯৮৮), যিনি ১৯৯০ সালে পদত্যাগের আগে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর থেকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।
উৎসবমুখর ভোটগ্রহণ ও ব্যাপক অংশগ্রহণ
দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের বাইরে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ভোটারদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ও বয়স্ক ভোটারদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কয়েকটি কেন্দ্র ব্যতীত গড়ে ৬০.৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে।
ভোটপ্রক্রিয়ার দিন বড় ধরনের সহিংসতা ছাড়াই দেশের ২৯৯টি আসনের ৪২,৬৫১টি কেন্দ্রে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। যদিও কোথাও কোথাও উত্তেজনার কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে।
নতুন নেতৃত্বে দেশের পরিবর্তনের আশা
বৃহৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনীতিতে নতুন নেতৃত্বের চাহিদা তৈরি হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশের রাজনীতিতে একটি ভিন্ন মাত্রা পায়।
দুই দশক পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তারেক রহমান, যার প্রতি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ভোটের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো।
তার পরিকল্পনার মূল ভিত্তি ছিল—‘সবার আগে বাংলাদেশ’, তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধি, নারীর উন্নয়ন এবং কৃষকের কল্যাণ।
দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, আর তথ্যপ্রযুক্তির যুগে তরুণ শিক্ষিত প্রজন্ম প্রতিনিয়ত শ্রমবাজারে যোগদান করছে। এই নতুন প্রজন্মের ওপরই নির্ভর করছে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন।
নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে বিএনপিকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এখন দেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন অধ্যায় তারেক রহমান কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, সেটিই বাংলাদেশের আগামী দিনের দিকনির্ধারণ করবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।