ক্ষুধার আয়ু
পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেছিল যে ক্ষুধা, তার নাভিমূলে লেখা হয়েছিল হিজল ফুলের আয়ু।
তোমার দেওয়া বৃষ্টির শাড়ি গভীরে যেতে যেতেও গেল না। দরজা-সমান ক্ষুধা তারে গ্রহীতা রঙে ওড়ালো। বাক্স থেকে বেরিয়ে এসে গুচ্ছ গুচ্ছ কথা বেজন্মা হয়ে গেল— তুমি তারে ভেড়াতে পারলে না! সাড়ে তিন প্যাঁচ খুলে,তিন মিনিট ঠোঁটের অভিযানে রক্ষিতা হলো আঠারো সংখ্যা! অথচ আঙুলের জলবায়ুতে নিষিদ্ধ ছিলো নেশা; খাঁ খাঁ শব্দের কোলাহলে ঘেমে যাওয়ার ছিলো আপেল।
যে তুমি ক্ষুধা চোখে মেলে রাখতে পেখম,সে তুমিও হলে ঘুমের জিম্মাদার!
বেসামরিক রাতে জবাই হলো এক জ্যান্ত উড়াল…
পরম্পরা
মুদ্রাদোষে নদীও ডাস্টবিন
অর্থ ও হুংকার নিয়ন্ত্রণ করে
নদীজন্মের সর্বকৌশল!
যেহেতু প্রেম,স্বর্গ এবং প্রকৃতি এক সমচক্রে
তাই নিয়ন্ত্রণের দাঁড়িপাল্লা বাটখারাশূন্য
প্রদানের কলকাঠি নড়ে আদানমনন্ত্রে
উত্থানের সম্প্রসারণে অনিবার্য হয় পতন।
ভেঙে যাওয়া ধরে অশুভ পরম্পরা
শুভ শুধু ধু ধু কবরের মোজেজা…
নাতিদীর্ঘ চমক
ভালো আছি বলতেই ভাবনারা খুলে যায়
বউ বউ দোলনে বিবাহিত স্পর্শ
শীৎকার ভুলে অস্বীকার করে শুচিবাই সম্পর্ক
যেহেতু নাতিদীর্ঘ কুমারের ছলাৎ ছলাৎ
মোমের চমকে তাহার চোখে মালতী হওয়া হলো না
আমরা খামিরেই উঠানামা করি
টুপটাপ লালায় নকশি করে কাঁথা
শুক্রাণুর নজরে গর্ভবতী আমলকী সিঁদুর
না পড়লেও পিতা হয় থরথর প্রতিশ্রুতি
তোমার আইবুড়ো শহরে জ্বলে যায় শীত
বিরহী উল তবুও খোলা রাখে বোতামের কারুকাজ
ভাসিয়ে না রেখও ভেসে থাকে ঝিরঝির তলসমুদ্রে
অশ্লীল দুয়ারের যায় কলমের কদম
তাহাদের চোখে করধার্য করে পানিউন্নয়ন বোর্ড
স্বপ্নের দোষেও তারা বৃষ্টি হয়না
জিয়েল মাছগুলো ডিপ ফ্রিজে বলেই
আয়নামতির শহর
প্রশ্নপত্রের বাঁপাশে লোভনীয় ফল!
জিহ্বা শুকিয়ে আসছে
তবু বাঁধের শৃঙ্খলে
এক ছটাক আলোর ভরসায়
শহর খুলেছিলো আয়না মতি—
ঠাকুরবর্জিত পুজো
বেগানা সুরমা
অপোষ্য ধাঁধা
নিদ্রিত সৌরভ
লুপ্ত প্রাথনা
নারিকেলের শিখা
বাঁশির শোক—
এমন শরবি আবহে
ঢেউ ঢং বদলানোর আগেই শহর ডুবি!
একঝাঁক জলের ভিড়ে
আয়নামতি নিজেই এখন জল—
গড়াতে গড়াতে ঢুকে পড়লো উত্তরপত্রে!
এনকাউন্টার
: এই যে আড়াই প্যাঁচের ঘোর দৌড়ে বর্ষা ভিজলো না—তার বেলায়?
: স্বপ্নই সহজলভ্য—স্বপ্নের দোষে চিবুকে চাবুক বুলায় পাশবালিশের খুশবো।
: তবে কি স্ব মৈথুনে চাদর উলঙ্গ করে সার্কাস? ডুবুডুবু হয় শুক্রাণু?
: সার্কাস! সে তো দণ্ডের ভাঁজে ভাঁজে টিকিট কাউন্টার!
: কাউন্টারে-কাউন্টারে এনকাউন্টার। সুরে-সুরে সুড়ঙ্গ যেমন!
: এ তো চক্রব্যূহ! ‘অঙ্গ যায় জ্বলিয়া… ভ্রমর কয় না গিয়া’
: কৃষ্ণ বিচ্ছেদে কদম্ব জাগে কামিনীরূপে। শরম কাটে না…
: বিচ্ছেদেই তীব্র হয় কাম; শরমে সমাপ্ত হয় বর্ষা।
ছল
কথা ছিল ঢাকনা বন্ধ করেই রান্না হবে চাঁদ
বিক্রি হবে সোনাপুকুর
কেউ কথা রাখেনি। সবাই মেনেই নিলো,
মৃতদের পকেটে পোস্টকার্ড থাকতে নেই
সাদা মোমের ঝলকানি আঙুল এড়িয়ে যায়
কথার ভ্রমণ পেরিয়ে নড়বড়ে বেহেশত!
প্রমাণিত সত্য থেকে চুইয়ে পড়ে নিমনির্যাস
আড় নদীতে তলিয়ে যায় মতলব
ঔষধি বার্তায় শুকায় না শোক—
মোমের জীবনে আগুনই একমাত্র সত্য
এমন ভবিতব্যে, ফুটতে থাকে চাঁদ
সোনা পুকুরের পাড় ভাঙে—দীর্ঘ হয় জোছনা
আয়ত্তে আসে ছল ও জলরঙের গালিচা!
ক্ষুধার আয়ু
পৃথিবীকে তিনবার প্রদক্ষিণ করেছিল যে ক্ষুধা,তার নাভিমূলে লেখা হয়েছিল হিজলফুলের আয়ু।
তোমার দেওয়া বৃষ্টির শাড়ি গভীরে যেতে যেতেও গেল না। দরজা-সমান ক্ষুধা তারে গ্রহীতা রঙে ওড়ালো। বাক্স থেকে বেরিয়ে এসে গুচ্ছ গুচ্ছ কথা বেজন্মা হয়ে গেল— তুমি তারে ভেড়াতে পারলে না! সাড়ে তিন প্যাঁচ খুলে,তিন মিনিট ঠোঁটের অভিযানে রক্ষিতা হলো আঠারো সংখ্যা! অথচ আঙুলের জলবায়ুতে নিষিদ্ধ ছিলো নেশা; খাঁ খাঁ শব্দের কোলাহলে ঘেমে যাওয়ার ছিলো আপেল।
যে তুমি ক্ষুধা চোখে মেলে রাখতে পেখম,সে তুমিও হলে ঘুমের জিম্মাদার!
বেসামরিক রাতে জবাই হলো এক জ্যান্ত উড়াল…
পরম্পরা
মুদ্রাদোষে নদীও ডাস্টবিন
অর্থ ও হুংকার নিয়ন্ত্রণ করে
নদীজন্মের সর্বকৌশল!
যেহেতু প্রেম,স্বর্গ এবং প্রকৃতি এক সমচক্রে
তাই নিয়ন্ত্রণের দাঁড়িপাল্লা বাটখারাশূন্য
প্রদানের কলকাঠি নড়ে আদানমনন্ত্রে
উত্থানের সম্প্রসারণে অনিবার্য হয় পতন।
ভেঙে যাওয়া ধরে অশুভ পরম্পরা
শুভ শুধু ধু ধু কবরের মোজেজা…
মায়া
পুড়ে যাওয়ার জন্য যতটা আগুন প্রয়োজন
ততটা আগুন ছিলো না আমাদের চোখে—
তবুও অবোধ চোখাচোখিতে ঝলসে গেলো হৃৎপিণ্ড।
সব ভালো বাসি হলেও,ভালো বাসাবাসি হয় না
কিছু ভোগে পুষ্টিহীনতায়,কিছু হীনস্বার্থে—
ভালোলাগায়ও ভেঙে যায় কোনো কোনো উঠোন
ভালোবেসে নদীও ডুবিয়ে দেয় নৌকা ও মাঝি!
আমরা হাতপাখা ঘোরাই– ড্রয়িংরুমে সবুজ বাতাস
ভাঙ চুড়ি পরে একা একা হেঁটে যায় করিডোর…
বিজোড় কোলাহল
তোমার ছুটি শেষ হয়ে এসেছিলো—
স্নানের ঝুমুর ঝুমুর আর টিউবওয়েলের কলরব
ভাসিয়ে দিয়েছিল চৌচালা ছাউনি ও
কদমতলার যত আয়োজন।
খিড়কিতে জন্ম নেওয়া হাতছানিকে
ফিরিয়ে দিতে পারেনি প্রজাতি।
পূর্ব নারীর নিয়ন্ত্রিত নূপুর এড়িয়ে
হয়নি কাটা ইশারা দিঘি—
লোকাল বাসের শেষ জানালায়
বাঁধা ছিল তোমার ছুটি
অথচ হাতঘড়িটা উড়েই গেল!
কোলাহলে যুবতী বিকেল মেলতে দেয়নি দরজা
বৃহস্পতিকে তারা ভেবেই কলম উগরে দিলো বীর্য—
সমূহ চমৎকারের পাশে রোপণ করলে
চুম্বনের আদি কাহিনি ও কলাকৌশল।
অথচ ছুটিতে, তোমার চাঁদ হওয়ার কথা ছিল!
বাঁকের স্পর্শে তুমি একটা কাঁক হলে
আমার পৃথিবী থেকে কেটে দিলে প্রজাপতি —
কবি তানিয়া হাসান। জন্ম : ফরিদপুর, ভাঙ্গা। প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ২টি। জোনাকি বৃষ্টি সুখ (২০১৯) ও বিস্ফোরিত চমৎকার (২০২২)। কবির শৈশব থেকেই নিয়মিত ডায়েরি লেখার অভ্যাস। কবি বলেন-আশপাশের নিয়ম-অনিয়ম, কঠোরতা, শৃঙ্খলা মনের ভেতর স্পর্শ করতো, ভাবিয়ে তুলতো। আমার মনে হয় স্পর্শকাতর মানুষ ব্যতীত লেখা হয় না। যখন নবম শ্রেণিতে পড়ি তখনি ‘গ্রামে ফিরে এসো’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয় স্থানীয় পত্রিকায়। রবীন্দ্রনাথে বুঁদ থাকায় তাকেই বেশি পড়া হয়েছে। ‘জোনাকি বৃষ্টির সুখ’ প্রথম কবিতার বই- সেখানে তার প্রভাব স্পষ্ট। তারপর ভাবনার মোড় ঘুরে যায়। তথাকথিত ভাষা, বলা, বিষয় কেমন জানি আনাড়ি লাগতে থাকে। ভিন্নধর্মী লেখায় আগ্রহ বাড়ে। যেভাবে আগে অনেক শক্তিমান কবি লিখেছেন। সেই ভাবে কেন আমি লিখবো! আমার চিন্তা, দর্শন, ভাবনা আমার মত স্বকীয়, স্বাতন্ত্র্য হোক তা সচেতনভাবেই ভিন্ন, সংখ্যালঘু করতে চেয়েছি। সাধারণ বাক্য বিনিময়ের মত কবিতা কেন হবে! কবিতার একটি লাইনে হলেও পাঠকে থামতে হবে, ভাবতে হবে। বিষয়বস্তু আড়াল রেখে উপস্থাপন করতে চেয়েছি। অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়েছে। এভাবেই জন্ম হয়েছে বিস্ফোরিত চমৎকার। কবি বলেন-এখনও বলতে পারবো না কেন লিখি। ভেতর হতে কেউ চিৎকার করে, প্রেম-অপ্রেম, মান-অভিমান, প্রতিবাদ। মাথার মধ্যে তোলপাড় হয়, হয়তো সেজন্যই লিখি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।