রোমন্থন
ডোরবেল বাজিয়ে
কখনও ঘরে ঢুকিনি,
দরজা খুলেই —
ঢুকেছি আঁধারের কূপে।
শুধু জেনেছি—আলো নিভে গেলে
ছায়াও সরে যায়!
মরা-পাতার নিচে
বিষাদের দীর্ঘশ্বাস,
ধুলোর আস্তর জমে আছে
অতীতের কার্নিশে।
আজও, বুকের জমিন খুঁড়ে দেখি—
মায়াবী সিন্দুকে
রংচটা তোমার মুখ
আশঙ্কা
কতোবার বলেছি:
কাঁচের জিনিস সাবধানে নড়াচড়া করো
একবার হাত ফসকে গেলেই—সর্বনাশ!
ভাঙ্গা কাচ কী-করে জুড়ে দিবে তুমি ?
মন আর মানচিত্র নাকি কাঁচের মতন !
চারপাশে ভাঙ্গা-মনের বিলাপ শুনি।
প্রহসন
প্রহসন শব্দের অর্থটা
আমার জানা-ছিলো-না,
অভিধানের পাতায়
গন্ধ শুঁকে পাই-নি তার মাজেজা !
জোনসের দাঁড়কাকেরা বলে-গেল
সেদিন যা-ঘটেছিল
সেটা রক্তের-ধারা নয়,
আকাশ ফেটে ঝরে-পড়া
লালগোলাপের পাপড়ি !
প্রহসনের শর এসে বিঁধে
বুকের জমিনে;
ভর দুপুরে কোত্থেকে নেমে এল
আঁধারের প্লাবন!
সফেদ কাফনে-মোড়া লাশগুলো
কবর থেকে ওঠে এসে বলল—
“বৃক্ষকে কেটে ফালাফালা করলেও
বৃক্ষ মুখ বুজে সয়,
পদাঘাতে তৃণ মাড়িয়ে গেলেও
তৃণ মাথা নুয়ে রয়”।
তাই, গ্রহণকালে—আমি শুধু
ওদের জীবন পাঠ করি
জন্মান্তর
তোমাকে বারবার বলেছি—
‘মৃত্যু’ কোনো বাক্যের শেষে দাঁড়ি নয়,
বরং, যতিচিহ্নহীন এক বাক্য,
অবিশ্রান্ত নদীর পথচলা,
শুধুই ‘জীবন’ নামক প্রাচীর ডিঙানো
গৃহপ্রবেশের মহড়া।
অথচ, তুমি পথ আগলে বসে আছ,
তারচেয়ে বরং—
মৃত্যুকে পুঁটলি বেঁধে
জীবনের পথে হাঁটি।
মৃত্যু—অনিত্যের আধার।
এসো, মৃত্যুবন্দনায়
নির্বাণ খুঁজি।
মিলনের সুর না-হয়,
বাজুক আরেক জন্মে !
দেশভাগ
যে-দিন আমার হৃৎপিণ্ডে
রেডক্লিফ ছুরি চালালো
সে-দিন শুধু রক্তক্ষরণ হয়নি
আকাশ ভেঙে পড়েছিল মাথায় !
ঘুম থেকে জেগে দেখি
পাশের বড়ির লোকজন অচেনা হয়ে গেছে,
হাসিমাখা মুখগুলো বিষাদের মেঘে ঢাকা।
চোখের কোটরে বাসা বেঁধেছে
উৎকণ্ঠার হাহুতাশ পাখি;
হৃদয় থেকে খারিজ হয়ে গেল আপনজন
বোল-পালটে কোকিলেরা গান-গায়
ওপারের ঝোপঝাড়ে।
সেদিন কেঁদে উঠেছিল
বরাক-উপত্যকা, যশোর রোডের বৃক্ষরাজি,
পদ্মার পানি—গঙ্গার জল।
বেকুব রেডক্লিফ
সর্বনাশের রেখা টেনেছিল
হৃদয়ের মাঝ-বরাবর !
কবি সুমন বনিক। সিলেট শহরের মহাজনপট্টিতে ৩১ আগস্ট ১৯৬৭খ্রিস্টাব্দে জন্ম। কবিতার সঙ্গে পথচলা তিন দশকের। স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করেন।দেশের বাইরে বিভিন্ন ওয়েবম্যাগ, কাগজে নিয়মিত লিখছেন। কবিতার পাশাপাশি অসংখ্য ছড়া, কিশোর কবিতা, ছোটদের গল্প লিখেছেন । ১৯৮৭ সাল থেকে সম্পাদনা করছেন সাহিত্যের ছোটোকাগজ অগ্নিশিখা। ইতোমধ্যেই লিটল ম্যাগাজিন অগ্নিশিখা’ দেশ-বিদেশে পাঠক সমাদৃত হয়েছে। প্রকাশিত কবিতা বই–জ্বলছি জলের তলে, প্রেমযোগ, অবেলায় ডোরবেল, প্রণয় সোহাগ, কিশোর কবিতা বই’ রাতের গায়ে জোনাক জ্বলে’, যৌথ ছড়ার বই ‘ছড়ায় ছন্দে আড্ডাঘর’। দীর্ঘদিন যাবৎ সম্পাদনা করছেন শারদ সংখ্যা “অরুণ আলোর অঞ্জলি” সংকলন। তিনি বাংলাদেশ রাইটার্স ক্লাবের সদস্য। সিলেট রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির জীবনসদস্য ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান সিলেট ডায়বেটিক হাসপাতালের যুগ্ম কোষাধক্ষ্য ও জীবনসদস্য। তিনি মানব সেবায় নিবেদিত সংগঠন সিলেট বিবেকের কার্যকরী কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক । সমাজের সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কাজ করছেন দীর্ঘকাল । প্রবর্তন করেছেন “সুরেশ চন্দ্র বণিক শিক্ষাবৃত্তি”। সাহিত্য সংস্কৃতিতে অবদান রাখায় বগুড়া লেখক চক্র পুরস্কার ২০২৩, কাব্যকথা সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শেষ করে কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে পেশাজীবন শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।