আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মঞ্চে যখন সমতা, অধিকার আর নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে, ঠিক তখনই কোথাও না কোথাও কোনো ইরা, কোনো আছিয়া নীরবে হারিয়ে যাচ্ছে নির্মম সহিংসতার অন্ধকারে। কিছুদিনের ক্ষোভ, কিছুদিনের শোরগোল তারপর সবকিছু আবার ঢেকে যায় শহুরে মানুষের গোল্ডফিশ স্মৃতিতে। প্রতিটি ঘটনা বারবার একই প্রশ্ন ছুড়ে দেয় এ সমাজে একজন নারী বা একটি শিশুর নিরাপত্তা আসলে কোথায়?
প্রতিবছর ৮ মার্চ এলে নারীর অধিকার, সমতা আর ক্ষমতায়নের গল্প বলেন সবাই। মঞ্চে আলো জ¦লে, বক্তৃতা হয়, প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি ঝরে। কিন্তু সেই আলোর আড়ালেই কোথাও পড়ে থাকে ইরাদের রক্তাক্ত শৈশব, আছিয়াদের নিভে যাওয়া জীবন। তবে আশার কথা হলো এসব অন্ধকার ভেদ করেই এগিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের নারীরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরুষের চেয়েও রয়েছে বেশি অবদান।
মাত্র চার দিন আগে, ৪ মার্চ, চট্টগ্রামের সীতাকু- ইকোপার্কে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে সাত বছরের শিশু ইরাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল মৃত্যুর দিকে। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করে শ্বাসনালি কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় শিশুটিকে।
অভিযুক্ত ৪৫ বছর বয়সী প্রতিবেশী বাবু শেখ। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে সে নিজের অপরাধ স্বীকারও করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো এতেই কি শেষ?
বিচারহীনতার অদ্ভুত সংস্কৃতির এই সমাজে এর আগেও এই বাবু শেখের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি, চুরি, ছিনতাইসহ অন্তত তিনটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। ২০১৮ সালে পাবনায় এক নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও পরে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২০১৯ সালে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়। এ ছাড়া গাইবান্ধায় তার নামে চুরি ও ছিনতাইয়ের দুটি মামলা রয়েছে। তবু সে ঘুরে বেড়িয়েছে সমাজের ভেতরেই, স্বাভাবিক জীবনের ছদ্মবেশে। আগের অপরাধ ও ইরা হত্যাকান্ড কে জানে হয়তো কিছুদিন পর আবার শিরোনাম হবে বাবু শেখের আরও কোনো কুকীর্তি।
এমন আরও অনেক নির্মম ঘটনা আছে যেগুলো বিচারহীনতার অন্ধকারে হারিয়ে গেছে। ক্ষমতা, প্রভাব আর টাকার কাছে হেরে গেছে ন্যায়বিচার।
গত বছর এই ৮ মার্চেই মাগুরায় আট বছর বয়সী শিশু আছিয়া বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বোনের স্বামীর সহায়তায় তার বাবা অর্থাৎ বোনের শ্বশুর শিশুটিকে ধর্ষণ করে। পরে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে ছোট্ট আছিয়া।
আরও পেছনে গেলে মনে পড়ে ২০১৭ সালের সেই আলোচিত রেইনট্রি হোটেল-কান্ড। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে। অভিযোগ ছিল, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বান্ধবীসহ তাকে রাতভর ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। মামলা হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলাও শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। ঘটনার সাড়ে ৪ বছর পর, ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭ অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে সব আসামিকে খালাস দেয়।
প্রশ্ন তাই থেকেই যায় এ সমাজে নারীর নিরাপত্তা কোথায়? একটি শিশুর জীবন, একটি নারীর সম্মান কত সহজে হারিয়ে যায় প্রভাব, ক্ষমতা আর বিচারহীনতার অন্ধকারে!
বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলী বলেন, ‘দেশে খুব ভালো ভালো আইন আছে। আইনে শক্তিশালী ধারাও রয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না করায় অবস্থার অবনতি হচ্ছে দিনকে দিন। নারীর ন্যায়বিচারে, নারীবন্ধব আইনি পরিবেশ, নারীকে কেন্দ্রে রেখে সুরক্ষা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যাদের কাছে বিচার চাইতে যাবে, অর্থাৎ থানায় শুরুতেই দৃষ্টিভঙ্গিতে নারীকে ভিকটিম ভাবার প্রবণতা রয়েছে। নারীকে সুরক্ষা-বলয়ের ভেতর রেখে আইনি সহায়তা দেওয়ার কথা আইনে বলা হয়েছে কিন্তু তা মানা হয় না। যখন থানায় নারী কমপ্লেইন করতে যান, তখনই তাকে ভিকটিম হিসেবে ট্রিট না করে তাকেই ভিলেন হিসেবে দেখা হয়। ভিকটিম নারী অভিযোগের সময়ই আস্থা হারায়। দীর্ঘসূত্রতায় আর আদালত বা থানামুখী হয়নি ভিকটিম। সেজন্য স্পিডি ট্রায়াল হতে হবে। মামলার সময়ই শক্তিশালী গ্রাউন্ড তৈরি করতে হবে। সাপোর্ট সার্ভিস সিস্টেম চালু করতে হবে। বাস্তবে আইনের ব্যবহার হচ্ছে না পুরুষতান্ত্রিক মনোভাবে কারণে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মৃত্যুদন্ডের যে বিধান রাখা হয়েছে, সে পর্যন্ত একজন অপরাধীকে নিয়ে যাওয়ার পথ নিশ্চিত করতে হবে অর্থাৎ আদালতে তার অপরাধ প্রমাণ করার জন্য যে পদক্ষেপগুলো রয়েছে, সেগুলো যথাযথ কি না, তা যাচাই করে দেখতে হবে। কেননা আইনের কিছু ধারা-উপধারার কারণে একজন অপরাধী খুব সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। আর তাই সর্বপ্রথম প্রয়োজন সেই ধারাগুলো পরিবর্তন করা।’
মানবাধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, যাদের ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, তারা কি বিচার পাবেন? বিভিন্ন সংস্থার পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশে গড়ে প্রতিদিন চারজন নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন। কিন্তু মামলা হচ্ছে কতগুলো? কেন হচ্ছে না? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকে হতাশ হচ্ছেন। বিচারব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আস্থা হারিয়ে ফেলছেন। আর এই ফাঁকে আস্থাহীনতার সুযোগ নিচ্ছে কিছু বিকৃত মানুষ। তাদের অপকর্মের তালিকা শুধু দীর্ঘই হচ্ছে।
মানবাধিকারকর্মী শিপা হাফিজা বলেছেন, ‘বাংলাদেশে সুষ্ঠু বিচারের অভাবে ধর্ষণের মাত্রা বাড়ছে। যারা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধচক্র আনছেন নানা মিথ্যা অভিযোগ। ভয় দেখানো হচ্ছে সেই পরিবারকে। শিপা হাফিজা জানাচ্ছিলেন, যতগুলো ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, এ পর্যন্ত অধিকাংশ ক্ষেত্রে থানা পর্যন্ত যেতে পারেননি নির্যাতিতা অথবা তার পরিবার। বরং হয়রানির শিকার হয়েছেন। থানা থেকে আদালত পর্যন্ত নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেননি অনেকে। কারণ তাদের সেই সক্ষমতা নেই।’
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস এমন একটি দিন, যা সমাজে, রাজনীতিতে আর অর্থনীতিতে নারীর অসম অবস্থানের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার আহ্বান করে আর নারীর সমতার দিকে এগিয়ে চলাকে উদযাপন করে। লিঙ্গসমতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে দেশের আইনকাঠামো আর বিচারব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক। আর এ কারণেই বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় নারীর অবস্থানকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। তারা বলছেন, প্রচলিত পারিবারিক আইনেও নারীকে বৈষম্যমূলক অবস্থানেই রাখা হয়েছে। পারিবারিক আইনের কাঠামোর মধ্য থেকেই যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব, সে বিষয়টি বিভিন্ন ফোরামে সুপারিশ করা হলেও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তার খুব একটা প্রতিফলন দেখা যায় না।
অন্যদিকে শ্রম আইন-সংক্রান্ত বিধানগুলোতেও কর্মক্ষেত্রে নারীর অবস্থানকে সার্বিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি (যে কারণে যৌন হয়রানি শব্দটির উপস্থিতিই নেই পুরো আইনে)। তার ওপর অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, যেখানে কি না অধিকাংশ নারীশ্রমিক কর্মরত আছেন, সেখানেও নারীকে অন্তত সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর আইনি পরিবর্তন আনা হয়নি।
২০১৮ সালে নতুন যৌতুক নিরোধ আইন পাস হলেও নতুন আইনপ্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা কেন হলো, সেই বিষয়টি যেমন স্পষ্ট নয়, আবার যৌতুকের মামলায় ভুক্তভোগীকে যে কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয়, অর্থাৎ ‘যৌতুক’-এর জটিল আইনি সংজ্ঞায় মামলা প্রমাণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে, সেই সংজ্ঞাতেই কোনো পরিবর্তন করা হয়নি এই নতুন আইনে। বরং যৌতুকের সংজ্ঞাটিকে ভুক্তভোগীর জন্য আরও বেশি সংকুচিত করা হয়েছে, যা কি না তা প্রমাণ করা কষ্টসাধ্য।
২০১০ সালে পারিবারিক সহিংসতা-সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে, কিন্তু আইনটিতে পারিবারিক সহিংসতাকে মোটাদাগে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনেও পারিবারিক সহিংসতাকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে নতুনভাবে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে আইন আনা হলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে বিদ্যমান আইনটিতে একাধিক অসংগতি রয়েছে। আইনটিতে বাল্যবিয়ের শিকার ভুক্তভোগী মেয়েশিশুর জন্য সুরক্ষামূলক বিধান স্পষ্ট করা হয়নি, বরং নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে ভুক্তভোগী শিশুর জন্যই শাস্তিমূলক বিধান। ধর্ষণ আর যৌতুক সহিংসতার মামলাগুলোর ক্ষেত্রে অনেক কম ভুক্তভোগী নারীই প্রাতিষ্ঠানিক বিচারব্যবস্থার আশ্রয় নেন। অনেক সময়ই এ ধরনের মারাত্মক অপরাধও গ্রাম্য সালিশে সমাধান করা হয়, যে সমাধানগুলো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারীর অনুকূলে থাকে না। আবার মামলা করা গেলেও ভুক্তভোগী এবং তার সাক্ষীদের সুরক্ষার কোনো বিধান না থাকায় অনেক সময়ই মামলা পরিচালনা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আর তার ফলে আসামি খালাস পেয়ে যায় মামলার দীর্ঘসূত্রতায়।
নারী ও শিশু অধিকারকর্মী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, ‘বিচার পেতে নারীরা এখনো নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও হয়রানির মুখোমুখি হন। সামাজিক লজ্জা ও কুসংস্কার, আর্থিক এবং পারিবারিক নির্ভরশীলতা, দীর্ঘ ও জটিল বিচারপ্রক্রিয়া, অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অসংবেদনশীল আচরণ এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের জটিলতা নারীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে কঠিন করে তোলে। ফলে অনেক নারী অভিযোগ করতেই সাহস পান না বা মাঝপথে পিছিয়ে যান।’ তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন আইনি সহায়তা সহজলভ্য করা, বিচারপ্রক্রিয়াকে দ্রুত ও ভুক্তভোগীবান্ধব করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জেন্ডার সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সচেতনতা গড়ে তোলা, যাতে নারীরা নির্ভয়ে ন্যায়বিচার চাইতে পারেন।’
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলো রয়েছে শুধু জেলাপর্যায়ে। একজন ভুক্তভোগী নারীর জন্য কোনো ধরনের পরিবহন বা সাময়িক আবাসনের ব্যবস্থা না থাকলে মামলা পরিচালনা তাই তার পক্ষে অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব হয়ে পড়ে। ধর্ষণ আর অন্যান্য সহিংসতামূলক অপরাধের শিকার নারী ও শিশুদের একই সঙ্গে চিকিৎসা, আইনি সহায়তা, মনোসামাজিক কাউন্সেলিংয়ের মতো বহুমাত্রিক সেবার প্রয়োজন হয়। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোয় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থাকলেও তা সংখ্যা অনুপাতে একেবারেই অপ্রতুল।
নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ব নারী দিবস ৮ মার্চ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা ও থানায় ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে করে দ্রুত নারী নির্যাতন বা নারীদের ওপর সহিংসতা অ্যাড্রেস করা সেবা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
মানবাধিকারকর্মীরা আরও বলেন, নারীদের অবৈতনিক শ্রমকে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিতে দেখা হয়। নারী সেই শ্রমগুলো টেকেন ফর গ্রান্টেড ধরা হয়। এতে নারীর সামাজিক মূল্য কমে। নারীর অবৈতনিক শ্রম, অর্থাৎ গৃহস্থালি ও যত্নমূলক কাজ, দেশের অর্থনীতিতে একটি অদৃশ্য কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই শ্রমের মধ্যে রয়েছে রান্নাবান্না, বাসা পরিচ্ছন্নতা, বস্ত্র-কাপড়ের যত্ন, পাশাপাশি শিশু, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের দেখাশোনা। নারীর এই অবৈতনিক শ্রমের মূল্য প্রায় ৬ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন টাকা (৬ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা), যা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ সমমূল্য। সরকার ২০২৫ ২৬ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষণা করেছে, ভবিষ্যতে এই অবৈতনিক শ্রমকে সরকারি এউচতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা নারীর অবদানকে দৃশ্যমান, স্বীকৃত এবং বৈধ করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এটি শুধু অর্থনৈতিক দিক নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও নারীর শ্রমকে মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা, যা আমাদের সমাজে নারীর ভূমিকা ও ক্ষমতাকে আরও সম্মানিত করবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।