জ্যোৎস্না প্রদীপ
নিশিন্দার বুক চাপা যত কান্নার আওয়াজ,
জীবন গহনে যত বিষাদের ভাঁজ-
সবই দুমড়ে মুচড়ে যায় ভেঙে,
স্বপ্নরা তব ছন্দ রাঙে,
বিষন্নতারা দেয় হাতছানি,
আদো আদো আলোয় শুকায় নয়নজোড়া পানি।
বাগিচা ভরা ফুলের সুবাস,
মনে জাগায় প্রেমের আভাস,
এক নিমিষে ফুলের পরাগে জমে দুঃখের আঁশ,
অকূল দরিয়ায় ভাসে বিচ্ছেদের গল্প একরাশ,
কখনো সবিতা আবেগ করেনি প্রকাশ,
আপন জগতে ফেলে দীর্ঘশ্বাস।
জ্যোৎস্না আলোর খামে-
চোখ ভেজা জল,
বিষাদের হাতে জমে,
কাব্যমাধুরীর বোল।
পথের বেঞ্চিতেও জমে ছন্দ খেলা,
রিক্ততার মাঝে তব রয় হাসির মেলা,
হৃদয়টা কখনো হয়নি খোলা!
ভিতরটা তাহার শুধু বেদনার জ্বালা,
বাহিরে কবি ভীষণ মনভোলা।
রাতের পর রাত জমে কত ছন্দ,
তৈরি হয় নতুন কত শত কবিতা,
লেখিকার বুক হয় দমবন্ধ,
বিষন্নতার গল্প লেখে সবিতা।
মনের কথা মনে রয়,
হৃদিতের গল্পরা হয় ক্ষয়।
ঝড়ের রাতে বাধা রয় জীবনের কালো,
চন্দ্রিমার রাত্রিতে জমে মন বিহঙ্গের আলো।
মনেতে জমে নতুন এক দীপ,
এ যেন “জ্যোৎস্না প্রদীপ। ”
জীবন গহন
দুষ্ট-মিষ্টি কথার জালে,
আবেগ যায় বাড়িয়া,
হঠাৎ আধার বুকের অতলে,
আদর-স্নেহ যায় হারাইয়া!
এ কেমন হাসির মেলা,
এ নিমিষে হয় যে কালা!
টিস্যু আর তন্ত্রে,অক্সিজেনের কোলে,
যখন থাকিতে হয় বাঁচিয়া,
বৃক্ষ ছায়া সরলে গো মরণকে হয় ছোঁয়া,
স্নায়ুর আজব প্রতিক্রিয়ার অকারণের ভুলে,
নরম বক্ষ ভিজে অশ্রু গড়ায়ে,
আরে কি গেছে গো হারায়ে,
তুমি আছ এখনো বাঁচিয়ে!
তব চক্ষুর মায়াবিক জালে,
নিদ্রাহীন রজনী স্বপন যাহি মরিয়া,
সমবেগের গতি হয়ত যাহি মন্দনে,
তবু আশার আলো থাকে চন্দনে,
ছাড়িতে কি চাহে কেহ এই আবেগী ভবনে!
নিত্য নতুন জ্বালা সইয়ে রহে বাঁচিয়া।
প্রাসের প্রভাবে হয়ত জীবন নদী,
যাবে সুখ শহরে;
নয়ত আয়ুর নিষ্ঠুর জেদি,
আত্মা উড়াবে কোনো এক ভোরে!
হাজার ভুলে গড়া জীবনে,
পায় না-কি শেষ সুযোগ?
হাজার কালো মেঘের গড়ানে,
করো না-কি রোদরে ভোগ!
শেষ আয়ু অব্দি তব মনে জাগে শত আশা,
কাল শোক কি এতই সহজ ভালোবাসা,
মরা নদীর জেগে উঠে যদি-
জলপ্রবাহের তাড়নায়,
ভাঙা আয়না তব হতে পারে –
হীরকে জমা সোনায়!
শেষ ভরসা বড্ড দামি,
হারালে তব জীবন আত্মায় সুনামি!
নারী
বিশ্বজুড়ে জ্বলে আজ নব আলোর দিন,
নারীর শক্তিতে বাজে প্রলয়ময়ী বীণ!
প্রেমে-জ্ঞানে গড়ে ওঠে সভ্যতার মান,
নারীর ছন্দে জমে পৃথিবীর গান!
সংগ্রামের পথে এসেছিল এক শুভ প্রভাত,
অধিকারের দাবিতে জিতে যায় নারী জাত!
শ্রমজীবী নারীর কণ্ঠে জেগেছিল নজরুলের বিদ্রোহী সুর,
তাই-তো আজ গড়েছে কবির স্বপ্নের ভোর!
মা হয়ে সে বিলায় নারী স্নেহ-মমতার আলো,
বোন হয়ে সাহস জোগায় সে ভালো!
নারী মুছে দেয় ধরিত্রীর সব কালো!
স্ত্রী হয়ে গড়ে তোলে স্বপ্নেভরা সোনার ঘর,
নারীর ছোঁয়ায় হাসে সুখের ছন্দ-সুর!
যুদ্ধের নারী সর্বকালে জুগিয়েছে প্রাণ,
পিছন হতে দিয়েছে সাহসেরই দান,
বুকে বেঁধেছে কঠিন শান!
সেবা আর ত্যাগ দিয়ে গড়েছে স্বাধীন দেশ,
তাদের ত্যাগে লেখা স্বাধীনতার রেশ!
নারীর সিঁদুরে লেখা মুক্তির ইতিহাস,
তাদের ত্যাগে উজ্জ্বল তাই স্বাধীনতার শ্বাস!
অন্ধকারে বন্দী নারী পেয়েছে আজ নতুন পথ,
কর্মে জুগিয়েছে সে মুক্ত হওয়ার রথ!
নারী আজ তাই উড়ে জ্ঞানের ডানায়,
সমতার স্বপ্ন বোনে রঙিন জানালায়!
তবু পথে পথে আজও আছে অন্যায়-নির্যাতন,
ধর্ষিত হয় নিষ্পাপ শিশু-মা-বোন!
এ যেন জাহেলি যুগের বইছে ক্ষণ,
তবু প্রতিদিন মরেও বেঁচে যায় বোন!
তবু নারী থামে না,শক্ত তার প্রাণ,
ধর্মজ্ঞানে চিরশ্রেষ্ঠ তার মান!
ভালোবাসা-সাহস- ত্যাগে সে মহান,
নারী ছাড়া অসম্পূর্ণ সভ্যতার বান!
ভয়ংকর সাধ
কালো আকাশ চিরে আজ রক্ত ঝরে বৃষ্টি হয়ে,
নদী লাল,কার কান্নাতে ঢেউ ওঠে বয়ে বয়ে?
দেশ স্বাধীন!শ্লোগান শুধু পতাকার রঙে,
নারী এখনো বন্দি কেন নীরব অশ্রুর ঢঙে?
বটগাছ সাক্ষী থাকে শত লাঞ্ছনার দাগে,
আইন ঘুমায়, বিচার থামে ক্ষমতারই ফাঁদে।
পুলিশের চোখ বাঁধা, সমাজ নীরব পাষাণ!
ধর্ষকেরা বুক চিতিয়ে গায় দিবালোকের গান।
ধানক্ষেতে আগুন জ্বলে-লজ্জার কালো ছায়া!
মায়ের চোখে ভয়ের অশ্রু;ধর্ষিত কত শত জায়া!
আন্দোলনের ঢেউ ওঠে,স্লোগানে ভাঙে রাত,
তবু কেন আসে না ন্যায়বিচারের প্রভাত?
তিলোত্তমার চোখে আজ রক্তিম স্রোত!
চাঁদ ডুবে যায় লজ্জায়-সূর্য হারায় রথ,
শিশুর দেহে ধর্ষক খুঁজে কোন আনন্দের পথ;
হবে না কি কভু পিশাচেরা বধ?
নিষ্পাপ দেহ বাঁচে না, মৃত্যুর সাথে করে বাস,
কারো শরীর শুধু বাচে, আত্মা হয় নাশ!
কেন না ঝোলে ধর্ষক জন জনতারই মাঝে?
ভয় ছড়াক প্রতিটি মনে,চরম সাজা হোক রাজ্যে!
যেন কাঁপে এই সমাজ, থামে লালসার হাত,
যেন তিলোত্তমারা পায় নিরাপদ রাত।
ঝড় বলে,“আর নয়”, বজ্র নামে চিৎকারে,
নদী গর্জে উঠে আজ অন্যায়ের অন্ধকারে।
দেশ মা চায় মুক্তি, ভেঙে যাক কলঙ্কের বাঁধ,
নারী নির্ভয়ে হাসুক বিশ্বে, এই হোক শেষ সাধ।
বৃষ্টির অপমান
শহরের আকাশে আজ
নামে ঝড়ো বৃষ্টি ধারা,
কাচের জানালায় জ্বলে ওঠে
স্বপ্নের সোনালী তারা।
কফির কাপে ভাসে প্রেম;
নরম আলোয় গল্প বোনা,
নিয়ন শহর ভীষণ রকম ভিজা-
ব্যস্ত পথে জমে প্রেমিকের আনাগোনা!
আর হাওরের বুকজুড়ে
নেমে আসে নীরব হাহাকার,
মাটির গন্ধে মিশে থাকে
অভাব-জীর্ণ সংসার।
ধানের শীষে ভেঙে পড়ে-
আকাশের ভারী কান্না,
কৃষকের ঘামে লেখা
শুধু বেঁচে থাকা মানা!
থামে না তাদের পা-
কাদামাটি ছোঁয়ে ক্লান্ত হয় না তারা!
ঋণের বোঝা বুকের ভেতর-
তবু স্বপ্ন দেখে সারা!
স্ত্রীর চোখের নিচে কালি-
জমে থাকে অনাহারের দীর্ঘ রাত,
সন্তানের মুখে হাসি খুঁজে-
সহে তব প্রতিদিনের ঘাত।
একই বৃষ্টি-
শহরে প্রেম, গ্রামে ভাঙনের গান,
একই আকাশ-
তবু কেন দুই রঙের অপমান?
প্রকৃতির এই নীরব নাট্যে-
মানুষই আজ ভাগ হয়ে যায়,
শহর হাসে, গ্রাম কাঁদে;
বৃষ্টি শুধু সাক্ষী হয়ে রয়,
কৃষকের বুক চাপা কষ্ট ;
জীবিকা নির্বাহে শুধু জমে ভয়!
তাসনিম রহমান তিনা । জন্ম : ২৬ মে, ২০০৯ জামালপুরে। বর্তমানে একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেন। বই পড়তে পছন্দ করেন। অবসরে গল্প-কবিতা লিখেন।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।