চাঁদের কান্না
কুয়াশায় আচ্ছাদিত হয়ে আছে চারিদিক,
কালো মেঘেরা জমাট বেঁধেছে আড়াল করেছে চাঁদকে।
চাঁদের কাজলকালো নয়নের জ্যোতি আজ নিষ্প্রভ,
জোছনার পরশ দিতে আকাশে আর কখনো উঠবে না চাঁদ,
চারদিকে শুধু অন্ধকার আর গাঁ শিহরে ওঠা হরেক রকম শব্দ
তবুও কবি আধাঁরে মোমবাতি জ্বেলে চাঁদ খুঁজছে!
চাঁদকে করতে চেয়েছিলো নিশিরাতের কবিতা,
তোমার সম্বল বলতে ছিলো শুধু অনুভূতির আলোটুকু।
অমাবস্যার আঁধার গায়ে ঝিম ধরানো ভয় ছড়িয়ে রাত আসে,
জ্যোৎস্নার অনুপস্থিতিতে আতঙ্কিত তুমি,
প্রথম প্রহরের পরেই রাতের অন্ধকার জনপদে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে,
অভিমান আর অপ্রাপ্তির পাহাড়সম গল্প যে চাঁদেরও আছে,
তাকে দেখে মুগ্ধ প্রেমি কি বুঝতে পারে চাঁদের কান্না বৃষ্টি হয়ে ঝরছে।
আর শীতল শিহরণে ভরিয়ে তুলছে ধরণির শুষ্ক ভূমি,
আবার পরক্ষণেই কান্না মুছে জোছনা হয়ে মুচকি হাঁসছে,
তখনই যেন অগ্নিকে সাক্ষী রেখে পরম শান্তিতে রাত ঘুমিয়ে পরে।
রক্তাক্ত জখম হওয়া অন্তরের মানুষগুলো জীবনে হতাশ অবসাদগ্রস্থ হয়ে ওঠে,
জীবনের প্রতি তীব্র অভিযোগ, জীবনকে আরও ভারি করে তোলে,
তখনই চাঁদ জোসনা হয়ে কবিতা বুনে ধরণির আনাচে কানাচে।
কিন্তু আজ চাঁদ কালো মেঘের আড়ালে মৃত একটি গ্রহ।
শুকনো পাতার মতো শুকিয়ে গিয়েছে চাঁদের দেহ,মন
সেই শুকনো চাঁদ পুড়ে একরাশ ছাই ভস্ম বিপন্ন বাতাসে মিশে
ভেসে ভেসে বলে গেল আর হবে না দেখা,
অন্ধকার রাতে কণ্টকার্কীণ পথে জোছনার স্মৃতিগুলো বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকো একা।
হয়ত নবরূপে চাঁদের জ্যোতির মাদকতায় আসবে নতুন জ্যোৎস্না স্নাত রাত।
পোলার বাপ
আমার পোলার বাপ
তার নায়ক-নায়ক ভাব
গায়ের রং খুবই কালো
তাতে কিইবা এমন হলো?
সামনের দাঁত দুইটা উচা
নাকটাও একটু বোঁচা ।
ছোটোখাটো দেহের গড়ন
এটাই তাদের বংশের ধরণ
মাথায় একখানও নেই চুল
উঠতে বসতে করে ভুল।
আগেআগে চলে ভুঁড়ি
বয়স হবে এই তিন কুড়ি
বিবাহ করেছে আরো চারখান
কোনো ঘরেই নেই পোলাপান।
চরিত্র বলতে নেই কিছু
ঘুরে শুধু মেয়েদের পিছু
আয়-ইনকাম নেই যে তার
তবুও গলায় পরে সোনার হার।
বাপের সম্পদ বসে বসে খায়
জোয়ার টেবিলে টাকা উড়ায়
কথায়- কথায় তোলে গায়ে হাত
সকাল বিকাল কিংবা রাত ।
লোকে তাকে বলে নেশাখোর
সারাদিন থাকে নেশার ঘোর
যত যাই হোক আমার পোলার বাপ
এই কারণে তার সব অপরাধই মাফ
আমার পোলার বাপ।
প্রস্থান
মানবশিশু হয়ে যেদিন এসেছিলে এই পৃথিবীতে
বলতে পারতে না কথা, তবুও দিয়েছিলে জানান –
আমি , আমি এসেছি ক্ষণিকের তরে।
তোমার কান্নায় সেদিন হেসেছিল জগৎ
বস্ত্রহীন তোমাকে জড়িয়েছিল কোমল কাপড়ে
সেদিন তুমি যে ছিলে বড় অসহায়
প্রয়োজন ছিল যত, হোক তা শত শত
সম্মুখে পেয়েছ সবি কত সহজে ।
ধীরেধীরে সেই তুমি সারাবিশ্ব দাপিয়ে আজ
গড়েছ নিজের কত বাড়ি-গাড়ি, মস্ত পরিচয়!
এ বিশ্বজগতে আগমনের হেতু বেমালুম ভুলে গিয়ে
শরীরের শক্তিকে স্থায়ী ভেবে কাপিয়েছ দুর্বলের অন্তর
রাজার বেশে করেছ শাসন, কথায়-কথায় মিথ্যা ভাষণ।
হিসেব রাখোনি, আরাম আয়েশে থেকেছ ডুবে
কিন্তু এ কী মানব! যাবার সময় না দিলে জানান
না নিলে সাথে প্রাচুর্যের পাহাড়, তোমার মস্ত পরিচয়,
তিলতিল করে জীবনের মূল্যবান সময় করে পার
গড়লে যে বালুর প্রাসাদ,সিন্দুক ভরলে শত রুবি-পান্নায়
একটি ঢেউ এসে সব ধুয়ে করল যে নিঃস্ব তোমায়!
কী নিঃশব্দে আসলো মৃত্যু!
চুপি চুপি অন্তরাত্মা নিয়ে পালালো কোথায়?
রয়ে গেল শুধু নিথর দেহখানি, আহা কী যে অসহায়!
প্রাসাদ প্রাঙ্গণে আর হলো না যে ঠাঁই
শেষ গোসলও দিলো কোনো প্রসাধনী ছাড়া
সব জেনেবুঝে তবুও আমরা অবুঝ সর্বহারা
পরনে জড়িয়ে এক টুকরো সাদা থান
দুনিয়া ছেড়ে করতে হলো প্রস্থান।
ভালোবাসার রুপান্তর
আমার প্রিয়ের সব ভালোলাগা, ভালোবাসা কম্পিউটারের স্ক্রিনে
বুঝো কি মনের গহিনে কষ্টের ঢেউ শুধু তুমি বিনে?
সেখানেই তার যত বিনোদন যত হাসাহাসি
সারাক্ষণই দেখি প্রেমের মাখামাখি।
অজস্র কথার ঝড়ছে যেন রাশি,
চোখের ভাষায় বারে বারে যাকে বলছো ভালোবাসি।
না আছে কোন ক্লান্তি
সেথায় বসে পাও যেন স্বর্গীয় কোনো শান্তি,
গভীর রাতে একা একা বসে আমি ভাবি –
মানব জন্ম আমার হলো বুঝি বৃথা
জীবনটাও আজকাল লাগছে বড় তিতা,
মনটা আজ চাইছে ভারী
তোমার সাথে নিতে আড়ি।
না থাক, তারচেয়ে বরং সবকিছু ফেলে
কল্পলোকে করি ইচ্ছা পূরণ মনের ডানা মেলে,
নিজের এই খোলস ফেলে ঢুকবো আমি সেখানে
সারাটাদিন তোমার দুটি নয়ন আটকে থাকে যেখানে।
বলত? তখন কেমন মজা হবে ?
যখনই রাখবে তুমি মাউসে হাত
হয়ে যাবে একেবারে কাত।
একি বিস্ময় !
কম্পিউটারের হালকা আলোর আভায়,
বলব কথা প্রগামিং এর ভাষা জাভায়।
রাখতে পারো নতুন কোন নাম মোর
হোক না তা old বা new version,
নাম নিয়ে মনে আমার নেই যে কোন দ্বন্দ্ব
বলতে গেলে সারাদিনই পাবো তোমার গন্ধ।
হঠাৎ করে মাথায় একটি টোকা
হায়রে পাগল! আমি কি ভীষণ বোকা !
পৃথিবীর বুকে যে মায়াটি আমায় কাছে টানে
ভালোবাসায় জড়িয়ে নিতে সেই যে শুধু জানে।
তবুও কেন উদাস আজ ভালোবাসার মন?
একলা একা নির্বাসনে পুড়ছে মনের বন।
নিঃশব্দে অভিমানে একা একা ভাবি বসে
কোন একদিন বহুদূরে হারিয়ে যাবো, পাবে না অবশেষে।
বিষধর সাপ
সব পুরুষ একই রকম যদি স্বার্থে লাগে ঘা
রণমূর্তি ধরবে তখন লাগবে অচেনা!
ভালোলাগা ভালোবাসা সবই হবে মলিন,
যতই করো নিজের জীবন তাদের তরে বিলীন।
দূর থেকে নারী তুমি থাকো দেবীর আসনে বসি,
কাছে এলে সেই দেবী হয় শুধু সেবাদাসী।
রাজ্যের জ্ঞান শুধুই তাদের,
সকল ক্ষমতা হাতে যাঁদের,
আর নারীরা সব গাধার জাঁত
জন্ম তোদের এই গর্ভেই ভুলে কেন যাস!
পুরুষতান্ত্রিক সভ্যতায় নারী তুমি শুধুই দাসী,
ভোগের পরে ঝরে পরা ফুলের মতই বাসী।
পুরুষ সে তো বংশের প্রদীপে আগুন হয়ে জ্বলে,
আর নারী অবলা সারা জীবন মোমবাতি হয়ে গলে।
আত্ম- অহমিকায় পুরুষ তুমি হয়েছো যে অন্ধ ,
মনুষ্যত্বকে বিসর্জন দিয়ে নারীকে করেছো ঘরে বন্ধ।
দৃষ্টিতে তোমাদের তীব্র বিষ যেন বিষধর সাপ,
কণ্যা শিশুও নিরাপদ নহে তা হক না তার বাপ।
তাদের কাছে মনুষ্যত্ব যেন হাওয়াভরা ফানুস
সুযোগ পেলে করে প্রদর্শন তাঁরাও কিন্তু মানুষ!
বিয়ের নামে শক্ত বেড়ি বাঁধে নারীর পাঁয়ে,
কর্তা সেজে কর্তৃত্ব ফলায় হাতও তোলে গাঁয়ে
পুরুষ যদি হত মানবিক সুন্দর চেতনাধারী,
তবে সেবাদাসী ভোগের সামগ্রী হত না আর নারী
অসীম অনন্তে লুকানো ক্ষোভ
এক গ্লাস বিশুদ্ধ জলে এক ফোঁটা বিষ তুমি,
তোমার নিঃশ্বাস শত শত বছরের আদিম বিষ।
বহুদিন ঢাকা পরে থাকা মৃত আগ্নেগিরির মত,
বেপরোয়া ভাবে আছড়ে পরবে সমস্ত ক্ষোভ নিয়ে
যে কোন সময়ই তার লাভা দিয়ে পুড়াতে পারে
সবুজ মনের সবুজ ফসলের খেতগুলো।
তোমার গতি পথে যতই ঢালি বালু পাথর
ততই শক্তিশালি হয়ে ওঠে তোমার উত্তাপ।
আর আমি তখন দিকভ্রান্ত নাবিকের মত!
অসীম অনন্তে হাতড়ে মরি খুঁজতে ভালোবাসা।
আমার কষ্টকে পদানত করেছি বারে বারে তবুও..
তোমার বিষে ভালোবাসার রক্ত আজ নীল।
তোমাকে ছুলে আমার হৃদয় শূন্য হয়,
তোমাকে ছুলে বিষাক্ত হয়ে ওঠে আমার সারা শরীর।
হিমালয়ের তুষার ঢাকা পাহাড়ের চূড়ায় সমাধি রত দেহ,
বিষাক্ত ছোবলে উদ্বেলিত হৃদপিন্ডে জমাট রক্তের মাঝেও
খুঁজে ফিরেছো নিজের আদিম সুখকে, আর আমি
তোমার জন্য লড়েছি গোটা পৃথিবীর সাথে।
স্রোতস্বিনী নদীর মতো বহমান তোমার ভালোবাসাকে,
বাঁধতে পারিনি ইট, বালু, শুরকি দিয়ে তৈরী দূর্গ।
সমগ্র ব্রহ্মান্ড আমার ভিতরে ধারণ করেও
আজ আমি একা বড় একা
মনের শক্তি
মন খারপ! তাতে কী হয়েছে?
থাকুকনা মন – মনের ঘরে
সময় হলে দেখবো পরে
দু’চোখে ঝরছে অশ্রু তাতে কী?
অশ্রুটাকে মুছে ফেলে
স্বপ্ন মেখে চোখের পাতা রাখবো মেলে
বুকের মাঝে ঝরছে রক্ত ?
সেখানেও আমি কঠিন-শক্ত
কষ্টটাকে লুকিয়ে রেখে নিজের বুকে
ঝাপিয়ে পড়বো অন্যের দুখে।
চলার পথে যুদ্ধ শুধু ?
যেদিক তাকাই মরুর ধূ-ধূ
লড়বো তাহলে করবো জয়
যুদ্ধে আমার নেইতো ভয়।
করবো নাতো সময় নষ্ট
হোক তা আমার যতই কষ্ট
হেরেছি জীবন যুদ্ধে তাতে কী হয়েছে?
অনেক শক্ত মনোবল যে আমার রয়েছে
তাতে কী হলো? আমায় ভালোবাসে না কেউ !
এর জন্য বুকসাগরে উঠে না কোন ঢেউ
কেউ আমাকে দেয় না দাম
এসব ভেবে কী বা কাম?
বলছে সবাই বাজে কথা,
সেসব শুনে সময় করি না নষ্ট অযথা।
অসুখ-বিসুখ নিত্যসঙ্গী ছাড়ছে না পিছু
ধৈর্য আর ঈমান ব্যতীত কাজে লাগে না অন্য কিছু
ভাগ্য শুধু দিচ্ছে কষ্ট ..
তাতে কী? জীবনটাকে করবো না নষ্ট।
ছোট্ট জীবন কী এসে যায়
এথায় যদি শান্তি না পাই,
অনন্ত সুখের সন্ধান যে পেয়েছে এ হৃদয়।
জীবনে জয়- পরাজয় রইবে পাশাপাশি
তারই মাঝে মুখে যেন রাখতে পারি হাসি।
ক্ষমা প্রার্থনা
কোন একদিন আমিও চলে যাওয়ার গল্প হবো,
ফেসবুকের পাতায় অল্প সময়ের শোকবার্তা হয়ে রবো
হাজারও রঙিন ছবি ,নতুন বার্তার ভিড়ে আবার হারিয়েও যাবো।
শুধু রয়ে যাবে ভালো কিছু কথা আর কাজ
জীবন চলবে জীবনের গতিতে
যেভাবে চলেছে অতীতে
না মেঘ না তারা না চাঁদ হয়ে রবো গল্পের মত
সব কিছু পরে রবে স্মৃতি হয়ে কত।
সেই স্মৃতি হাতরে যাবে মায়াময় কিছু মুখ,
এই ভেবে পাই কিছু সুখ।
আর কে বা রাখিবে খোঁজ রাখিবে কে বা মনে
কখনও জমবে না অশ্রু আমায় ভেবে কারোর চোখের কোণে।
যদি ক্ষমা চাওয়ার আর সময় না পাই,
আজ সকলের কাছে ক্ষমা যে চাই
কথা কাজে কভু যদি হয় কোন ভুলে,
নিজ গুনে ক্ষমা করো ভুলকে ভেবে ফুল।
কারো মনে যদি দিই কষ্ট
বা করি যদি কারো হক নষ্ট,
করজোড়ে চাই ক্ষমা পেও না কেউ কষ্ট।
ক্ষমাই যে মহৎ গুণ তা মুমিনের পরিচয়,
এপার- ওপার দুইপারেই মুমিনের হয় জয়
ক্ষুদ্র এ জীবন সবারই হবে একদিন ক্ষয়
জানিনা কবে কখন মৃত্যুদূত নাড়া দিবে কড়া
সব ফেলে পরতে হবে তার হাতে ধরা,
সে কারনেই অন্যকে ক্ষমা করে নিজে ক্ষমা পাও।
এ কেমন মায়া?
মানুষ, তুই মনুষ্যত্ব পাবি কবে?
কথায় জ্ঞ্যানে আচরণে মহান হবি তবে।
জ্ঞানের আলোর ছোঁয়া যদি না-লাগে তোর অন্তরে
নিজেকে যতই সাঁজাস, সব দেখাবে বাহিরে।
আলোর পথে চলতে গেলে, রাস্তা হবে জ্ঞ্যান
সেই জ্ঞানের ভাণ্ডার কুরআনেতে – নেই আমাদের ধ্যান।
তখন কোরআন-কিতাব সবকিছু হয় গাধার পিঠে বোঝা
প্রভুর প্রেমবিহনে মুসলমানের ব্যর্থ নামাজ রোজা
অন্তরে যার জ্বলেনি কখনও হেদায়েতের বাতি
কী হবে তার কুরআন পড়ে মিথ্যা দিবারাতি ?
দ্বীনের আলো জ্বালিয়ে রাখলে বুকে
অন্তর দেখো ভরবে তখন অলৌকিক এক সুখে
এসো, নেক আমল দিয়ে সাজাই বাহিরটাকে
আর নামাজ রোজা পাক করবে অন্তর আত্মাটাকে
ভুলে তোমায় প্রভু আমরা কোন পথে আজ চলছি!
আরাম-আয়েশে ডুবে থেকে মুখে ধর্মকথা বলছি।
নৈতিকতা দিয়ে বিসর্জন পশু হয়েছে মানুষ
সারাবিশ্বের আকাশে উড়ছে শুধু বিষাক্ত কিছু ফানুস।
ছিঃ! মানুষ তুই মানুষ হবি কবে?
একপলকের ক্ষুদ্রজীবনে মায়ায় বাঁধি ঘর
যাবার সময় এলে দেখবো এই মায়াই হবে পর
একা এসেছি একাই যাবো মাঝখানে শুধু মায়া
চলে গেলে পরে রবে স্মৃতির কিছু ছায়া!
অপ্রত্যাবর্তী
জন্ম নিলেই মরতে হবে একথা জানে সবে
তবুও আমরা মৃত্যু ভুলে দুনিয়াকে নিয়েছি বুকে তুলে
কে কবে পালিয়ে বেঁচেছে বলো? করেনি গ্রহণ মৃত্যুর স্বাদ।
কোথায় যে কার মৃত্যু হবে কেউ জানেনা,কেউ জানেনা
মৃত্যুর পর নিথর দেহো ধুসর বেগুনি বর্ণ
ধরবে পচন মাটির দেহে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে
ছয় দিনে পরবে খসে হাত পায়ের সব নখ
নয় দিনে ঝরবে যে বহু যত্নে রাখা বাহারি সব কেশ
সতের দিনে পেট ফেটে বেরিয়ে আসবে সব
প্রাণহীন দেহ তখন হবে পোকার খাবার।
ষাট দিনে মৃতদেহের সব মাংস পোকারা করবে সাবার।
প্রাণহীন মানবদেহ ক্রমে মাংস-চামড়ার খোলস ত্যাগ করে পরিণত হবে হাড় সর্বস্ব কঙ্কাল।
নব্বই দিনে দেহের হাড়গুলো হবে যে পৃথক
আর এক বছর পর মিশবে মাটিতে থাকবে না কোন চিহ্ন
এভাবেই মাটির দেহ মিশবে মাটিতে মুছবে সমস্ত অস্তিত্ব।
তবুও মানুষের কেন এতো অহংকার,আত্মগরিমা, হিংসা,
এতো বিদ্বেষ, এতো লালসা, এতো নাম ডাক।
কেন এতো শক্তি,সামর্থ্য, এতো ধনদৌলত, এতো ক্ষমতার লড়াই?
পাওয়ার নেশায় মাতাল মানুষ হয়েছে আজ পশু,
নিজেকে ভাবে সে অমর,সে কারনেই করছে যা খুশি তায়
পৃথিবীর বুকে চলো না কভু উদ্ধত ভঙ্গিতে।
মেনে সব নিয়ম কানুন দুই জগতের কল্যাণে
মানুষ যে সৃষ্টির সেরা আবারও করো প্রমাণ হে।
নাম না জানা তুমি
আজ হঠাৎ করেই অলস বিষন্ন এ বিকেলে তোমায় খুব পড়ছে মনে ,
কী যেন ছিল নামটা সেটাও স্পস্ট নেই মনে।
কতবার চেয়েছিলে আমি যেন তোমায় নিয়ে ভাবি..
এক ছন্নছাড়া প্রেমিক হয়ে ঘুরতে পিছে পিছে
বৃষ্টিতে ভিজে রোদে পুড়ে এক পলক দেখার জন্য
কাটতো তোমার দিন।
দূরথেকে একটু দেখে কী যে সুখ পেতে তা এখনও রহস্যাধীন।
ওভাবেই কেটেছিল দুটি বছর ..
একদিন সহসা কিছু গোলাপ হাতে এসে
ভীরুস্বরে বলেছিলে, “ভালোবাসি তোমাকে”
ভীষণ রাগ হয়েছিল সেদিন, বলেছিলাম নও তুমি সে।
যাকে খুঁজে সহসা মন, কল্পলোকের মনি কোঠায় রয়েছে যার আসন।
এভাবে আমায় করবে না আর বিব্রত, করে যাও এই ব্রত।
সেই যে ছিলো শেষদেখা আর পড়েনি মনে
সময়ে জীবনটা বদলে দিয়েছে বাড়িয়েছে বয়সের ভার, টুকরো টুকরো এলোমেলো ঘটনা গুলো পরছে খুব মনে,
আজ সেই তোমাকেই পড়লো মনে !
কোথায় আছো? সেই শহরেই? আগে যেথায় ছিলে?
তোমার শহরে এখন বোধহয় আঁধার কাটো কাটো,
আড়মোড়া দিয়ে সূর্য কেবল সরাচ্ছে মেঘের পর্দা,
সকালের হিমেল বাতাসে তোমার ঘরের পর্দাটি মাঝে মাঝে উড়ছে।
আর সেই সাথে মিষ্টি কোন পাখির গান তোমার ভোরের স্বপ্নকে হয়ত আরো মধুর করে তুলছে,
হয়তোবা কোন মধুময় প্রেম তোমার মনে সারাক্ষণ দুলছে।
নিশ্চয় মনের মত কোনো সঙ্গি পেয়েছো খুঁজে।
আর আমি.. কখনও কি পরে মনে?
এখনও কি রেখেছো আমায় তোমার মনি কোঠায়?
আমার শহরে সূর্য ভীষণ অলস, ঘুমিয়ে কাটায় দিন
ইচ্ছা হলে কখনো কখনো উঁকি দেয় ক্ষণিকের তরে
পাতাহীন বৃক্ষগুলোকে জড়িয়ে আছে তুষারকন্যা,
প্রকৃতিতে কোন প্রাণ নেই, বলতে পারো নিস্তব্ধ শহর,
এই মৃত শহরে কোন এক বিষন্ন বিকালে হঠাতই পড়লো তোমায় মনে।
সেদিনের পর সামনে আসোনি আর কখনও
তবে মাঝে মাঝে বন্ধুদের বলতে শুনতাম
আহারে বেচারা লুকিয়ে লুকিয়ে তোকে এখনও দেখে,
আমায় কি আছে তোমার এখনও মনে?
এখন জানতে ইচ্ছে হয় না আমি কেমন আছি?
আর একটি বারও এলে না যে প্রেমের দাবী নিয়ে!
সেই দুরন্ত কৈশরের দিনগুলো ছিলো কতই না মধুর
স্বপ্নগুলো রঙিন হত ডানা মেলে উড়ত যেন প্রজাপতির মত।
ফিরে পেতে চাই আমার সেই ফেলে আসা দিনপঞ্জির এক একটি দিন।
আজ বন্ধ জানালার গ্লাস দিয়ে কুয়াশাআবৃত্ত পথে
এক দৃষ্টিতে চেয়ে আছি ,
ধবধবে সাদার মাঝে একগুচ্ছ লাল গোলাপ হাতে সেই তুমি!
কত মধুর স্মৃতির জোয়ার ক্ষণে ক্ষণে স্মৃতিপটে ওঠে শুধু ভেসে,
কিছু তার স্পষ্ট ,কিছু কুয়াশা, আর কিছু যেন মরিচীকা।
একটু আলো চাই
তোমার সাথে দেখা আর হলো না
ট্রেন আসার সময় হয়ে গেল,
স্টেশনমাষ্টার ঢং-ঢং ঘণ্টা বাজিয়ে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে-যেতে হবে , সময় যে আর নেই;
গন্তব্য অজানা, স্টেশনও নতুন
খুব ভয় হচ্ছে, উপায় নেই ফিরে দেখার
ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে একটি লাইট শুধু জ্বলছে-
ট্রেনের হেডলাইট, যা দ্বারা শুধু ট্রেনলাইনই দৃষ্টিগোচর হচ্ছে।
চারপাশে কোলাহলমুক্ত নীরবতার মধ্যে
শুধু কানে আসছে কিছু পদধ্বনি …
তাও যেন অস্পস্ট হতে লাগলো
ট্রেনও চলতে শুরু করেছে, যাত্রী আমি একা!
ঘুটঘুটে অন্ধকারের মাঝে শুভ্র-সাদা আমি
হঠাৎই যেন পদদ্বয় কেঁপে উঠলো ভয়ে!
এ কোন গন্তব্যে পা বাড়িয়েছি-
সাথে নেই আমার প্রিয় ব্যাগটাও
একেবারে শুণ্যহাতে এ কেমন যাত্রা?
ট্রেন চলছে তো চলছেই
অন্ধকার থেকে আরো অন্ধকারের দিকে
এখন আর নিজেকেও দেখতে পাচ্ছি না,
শুধু উপলব্ধি করতে পারছি ভিতরাত্নাকে
বারবার মন চাইছে তোমার হাতটি শক্তকরে ধরতে
কিন্তু কোথায় তুমি?
কেনই বা এ অন্ধকারে আমায় একা ছেড়ে দিলে?
কথা দিয়েও এলে না সাথে!
সারাক্ষণ ছায়া হয়ে ছিলে পাশে
অন্ধকার ঘনিয়ে আসতেই কোথায় হারালে তুমি?
হঠাৎ উপলব্ধি করলাম
কারা যেন দাঁড়িয়ে আছে পাশে,
ভয়ে গা শিহরে উঠলো
অন্ধকার যেন আমাকে গিলে খেতে চাইছে
আচ্ছা, যদি ওরা আমার ট্রেনের টিকিট দেখতে চায়
আমার হাতে যে কিছুই নেই
পুরো শুণ্যহাতে দাঁড়িয়ে আছি।
দু-চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পরছে অনর্গল
নিজেকে এত অসহায় এর আগে কখনও লাগেনি
একটু আলো চাই, একটু আলো দাওনা আমায়, একটু আলো!
নারী পা ফেলো সাবধানে
এক নারীতে বসে না যেসব পুরুষের মন,
তারা হলো সমাজের জঞ্জাল ,
তাদের কথা বলছি নারী শোন।
তারা কখনও বাসতে জানে না ভালো,
অভিনয়ে পটু যেন বিশ্বপ্রেমের ভাণ্ডার,
অন্তর তাদের সর্বদা থাকে যে কালো।
সুযোগ পেলেই করে সে প্রেমের খেলা,
মুখে থাকে কথার যাদু নষ্টামি অন্তরে
বেচা কেনা চলতে থাকে যেন প্রেমের মেলা।
চোখের মধ্যে চিল আর শকুনের বাস,
অন্তরে কাম পিপাসা গড়েছে আবাস।
সুযোগ দিলে খেয়ে মধু,
পরক্ষণেই সাবজে সাধু।
আমি নারী আমিই দিয়েছি সুযোগ তোদের,
মমতাময়ী কোমল হৃদয় এই অপরাধ মোদের!
চিনতে শিখো,জানতে শিখো,বিবেচনার সাথে ভাবতে শিখো,
ভুল পথে পা না রেখে নিজের ভাগ্য নিজেই লিখো।
এসব পুরুষ থেকে থেকো সাবধানে,
নাহলে মরবে নারী জানে আর মানে।
ভাবনার বসতবাড়ী
ইচ্ছা করে পালিয়ে যাই
হারাই তোমার আগে,
যেখান থেকে ডাকলে আমায়
সারা নাহি পাবে।
জাগতিক সকল কাজ সকল ভালোবাসা,
নিমিষেই পিছে ফেলে চলবো একা একা
আত্না যেদিন মুক্তি পাবে মিটবে সকল আশা।
তোমায় হারাবার ভয়ে ভয়ে মরছি বারে বারে।
প্রতিক্ষণেই আতঙ্করা পিছু নাহি ছারে,
ভাবনাগুলো ছায়া হয়ে মস্তিস্কে গড়েছে বসতবাড়ী,
সেই কারণে সুখ শান্তি নিয়েছে কবেই আড়ি।
এমন করে বাঁচলে কষ্ট সাথী হয়েই রবে ।
জীবন থাকতে দেখতে চাই না তুমিহীন পৃথিবী,
সেই শূন্য বিবর্ণ মরুভূমিতে যুদ্ধে আমার বড়ই ভয়,
একাকিত্ব সে যেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় অভিশাপ
তুমি হীনা ধুসর পৃথিবী যেন অশ্রুভেজা স্বপ্নের সমাধি ।কাব্যহীন ছন্দহীন কবিতারা সব হবে সেদিন প্রাণহীন
তুমিহীন আমি হবো স্থবির,শান্ত, শব্দবিহীন অশ্রুজল।
ক্ষত-বিক্ষত হবো প্রতিনিয়ত পৃথিবী জুড়ে ছরিয়ে থাকা সুক্ষ কাঁচে,
তুমি না থাকলে পাশে যে ঘরকে ভাবি আপন তাও হবে অন্ধকার,
একাকীত্বের জ্বলন্ত আগুনে পুড়তে থাকবে বিবর্ণ মনের মহল।
যা তুষ হয়েও রবে না পরে উড়বে না বাতাসের সাথে,
হৃদয়হীন জীবন্ত লাস হয়ে পৃথিবীর বুকে রবো ধুকে ধুকে।
তার থেকে এই তো ভালো প্রিয়..
প্রার্থণাতে বলি সারাক্ষণ ওগো আমার প্রভু
আমার আগে আমার প্রিয়র মৃত্যু দিও না কভু।
কবি রোকসানা মর্তুজা ১১ই ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার কোর্টপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাল্যকাল থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছেন। তাঁর পিতা এন.এম দারাইন যশোর শিক্ষাবোর্ডের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান মূল্যায়ণ অফিসার, যিনি প্রবন্ধ ও কবিতা নিয়মিত লেখেন। তাঁর মাতা ফারিজা বানু যশোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষিকা। তাঁর দাদা মরহুম মুহাম্মদ আবু-বকর তৎকালীন পাকিস্তান আমলে প্রবন্ধ ও কবিতা লেখে সুনাম ও খ্যাতি অর্জন করেন। পারিবারিক বলয়ে তিনি লেখালিখির প্রতি ভক্ত। তাঁর বড়বোন ফারজানা দারাইনও কবি। তিনি তাঁর অনুপ্রেরণা।
তিনি যশোরে উচ্চ-মাধ্যমিক শেষ করে স্বামীর সাথে ঢাকায় বসবাস শুরু করে সেখান থেকেই অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে নিয়মিত লেখালেখি শুরু করেন। বর্তমানে তিনি স্বামী ও দুই ছেলেসহ কানাডার টরেন্টোতে বসবাস করছেন। তাঁর স্বামী একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সিনিয়র ডাইরেক্টার হিসেবে কর্মরত আছেন এবং তিঁনি স্বামীর সাথে নিজস্ব একটা সফটওয়্যার কোম্পানির পরিচালক হিসেবে আছেন।
কবিতা লেখার পাশাপাশি তিঁনি আবৃত্তিও করেন। অবসরে গানশোনা, গার্ডেনিং করা খুব উপভোগ করেন। সুদূর কানাডায় থেকেও কাজের ফাঁকে-ফাঁকে গল্প-প্রবন্ধ-কবিতা ও সাহিত্য চর্চা করেন এবং সেখানকার বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকা ও বাংলাপত্রিকায় লেখালেখি করে বেশ প্রশংসিত হয়েছেন।
“জল ও পাথরের কাব্য” কবির প্রথম একক কাব্যগ্রন্থ। তাছাড়া বিভিন্ন সম্মিলিত কাব্যগ্রন্থে কবির অনেক কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।
প্রিন্ট/ডাউনলোডঃ ,
© স্বত্ব দৈনিক সমধারা ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি