মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাংলাদেশের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত প্রশ্ন এনে দিয়েছে। গত ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান যে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তার মূল নীতি হলো—এক সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলাকে অন্য সদস্যদের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা। ৩১ আগস্ট ইস্তানবুলে চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠকে তিন দেশ সহযোগিতাকে আরো প্রাতিষ্ঠানিক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সৌদি আরবে একটি সচিবালয় স্থাপন, প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতা বাড়ানো এবং যৌথ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও উৎপাদনের বিষয়ও সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়; ধীরে ধীরে একটি কার্যকর নিরাপত্তা কাঠামোয় রূপ নেয়ার পথে এগোচ্ছে।
এ প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের সঙ্গে সঙ্গে সদস্যপদ বিস্তারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রথম থেকেই বলেছেন, উদ্যোগটি তিন দেশে সীমাবদ্ধ রাখার লক্ষ্য নেই। ৩১ আগস্ট ইস্তানবুল বৈঠকের পরও তিনি জানান, কাঠামোটি অঞ্চলের অন্য দেশের অংশীদারত্ব ও অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত। মিসরকে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে প্রকাশ্যে উল্লেখ করা হয়েছে; বাংলাদেশও আগ্রহের কথা জানিয়েছে, আর ঢাকায় ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেছেন, আমন্ত্রণ পেলে তেহরানও যোগদানের বিষয়টি গ্রহণ করবে। ১০ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে, তাৎক্ষণিক সম্প্রসারণ এখনো এজেন্ডায় নেই; আগে তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশ নিজেদের সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সুসংহত করতে চায়। অর্থাৎ মক্কা কাঠামোর দীর্ঘমেয়াদি অভিমুখ সম্প্রসারণমুখী, কিন্তু স্বল্পমেয়াদে সদস্য বাড়ানোর চেয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যকর করা অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
বাংলাদেশও বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। গত ২৭ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সংসদে বলেছেন, বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের প্রস্তাব পায়নি; তবে আমন্ত্রণ এলে তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও বলেছেন, বাংলাদেশ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে এবং যেকোনো সিদ্ধান্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এ অবস্থান বাস্তবসম্মত। কারণ সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শুধু আবেগ বা ঐতিহাসিক বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে অর্থনীতি, শ্রমবাজার, রেমিট্যান্স, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্কও জড়িত। এখন প্রশ্নটি শুধু তিন দেশের একটি চুক্তিতে যোগ দেয়ার নয়; সম্ভাব্যভাবে বিস্তৃত হতে থাকা একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় বাংলাদেশের অবস্থান কী হবে, সেটিও বিবেচ্য।
তাই প্রশ্নটি ‘যোগ দেব কি দেব না’—এতটা সরল নয়। আমার মতে, সুযোগ এলে বাংলাদেশের উচিত মক্কা কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়া, সহযোগিতা বাড়ানো এবং এর সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো; কিন্তু পূর্ণাঙ্গ যৌথ প্রতিরক্ষা সদস্যপদ গ্রহণে তাড়াহুড়ো না করা। এটি কোনো দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থান নয়, বরং জাতীয় স্বার্থ, কৌশলগত স্বাধীনতা এবং ভবিষ্যতের বিকল্পগুলো খোলা রাখার একটি সচেতন নীতি।
প্রথমে দেখা যাক, এ কাঠামোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পক্ষে যুক্তিগুলো কী। সৌদি আরব বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লাখ লাখ বাংলাদেশী সেখানে কাজ করেন; রেমিট্যান্স, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও দেশটির গুরুত্ব অনেক। তুরস্ক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা-শিল্পভিত্তিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ব্যবস্থা, সামরিক যান, নৌপ্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে তুরস্কের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য মূল্যবান হতে পারে। পাকিস্তানের সঙ্গেও সামরিক প্রশিক্ষণ, প্রতিরক্ষা শিক্ষা এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
বাংলাদেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের প্রয়োজনও অস্বীকার করা যায় না। সামুদ্রিক নজরদারি, সাইবার নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই, ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, দুর্যোগ মোকাবেলা, মানবিক সহায়তা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সমন্বয়—এসব ক্ষেত্রে মক্কা কাঠামোর সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত নিরাপত্তার সমীকরণ নতুনভাবে গড়ে উঠছে, তখন বাংলাদেশের একেবারে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকাও বিচক্ষণতা হবে না।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ একটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ এবং মুসলিম বিশ্বের বড় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক গভীরতা রয়েছে। মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে আত্মরক্ষামূলক সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত সমন্বয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশের আগ্রহ থাকা অস্বাভাবিক নয়, বরং সঠিক শর্তে এমন সহযোগিতা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিসর বাড়াতে পারে। তবে এখানেই ‘সহযোগিতা’ এবং ‘স্বয়ংক্রিয় সামরিক দায়বদ্ধতা’র মধ্যে পার্থক্যটি খুব স্পষ্ট রাখা দরকার।
পূর্ণ সদস্যপদ নিয়ে সতর্ক থাকার প্রথম কারণ হলো চুক্তির বাস্তব দায়বদ্ধতার অনেক দিক এখনো স্পষ্ট নয়। ‘এক সদস্যের ওপর হামলা মানে সবার ওপর হামলা’—নীতি রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী, কিন্তু এর প্রয়োগ কীভাবে হবে? কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য সদস্যকে কি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক বাহিনী পাঠাতে হবে? নাকি রাজনৈতিক সমর্থন, অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য, লজিস্টিক সহায়তা বা অর্থনৈতিক সহযোগিতাও যথেষ্ট হবে? সিদ্ধান্ত কি সর্বসম্মতিতে হবে, নাকি নির্দিষ্ট কোনো প্রক্রিয়া থাকবে? চুক্তির ভৌগোলিক পরিধিই বা কতদূর? সদস্য হওয়ার আগে এসব প্রশ্নের লিখিত ও নির্ভুল উত্তর বাংলাদেশের জানা প্রয়োজন।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এবং সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার সব সময় এক হবে না। মধ্যপ্রাচ্যের কোনো সংঘাত, তুরস্কের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট অথবা পাকিস্তানের দক্ষিণ এশিয়াকেন্দ্রিক বিরোধ—প্রতিটি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের নিজস্ব জাতীয় স্বার্থ আলাদা হতে পারে। বন্ধুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা এক বিষয়; তাদের প্রতিটি সামরিক সংকটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা আরেক বিষয়।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমুখী বৈদেশিক সম্পর্কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, ভারত, উপসাগরীয় দেশগুলো এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সম্পর্ক গভীর। ইরানের সঙ্গেও বাংলাদেশের সম্পর্ক রয়েছে। কাজেই কোনো নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যোগদানের আগে দেখতে হবে, সেটি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করে কিনা। বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত অবশ্যই কোনো তৃতীয় দেশের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে না; কিন্তু অন্যদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসাব করা কূটনীতিরই অংশ।
ভারতের প্রশ্নটিও এ বাস্তবতার মধ্যেই বিবেচনা করতে হবে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারতের কোনো ভেটো থাকা উচিত নয়। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশই নেবে। একই সঙ্গে ভূগোল বদলানো যায় না। পাকিস্তান এ চুক্তির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হওয়ায় নয়াদিল্লি বিষয়টিকে নিজস্ব নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখবে—এটিও অনুমেয়। বাংলাদেশের কাজ হবে ভারতের উদ্বেগকে নিজের নীতির নিয়ামক না বানিয়ে, একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দেয়া যে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ব্যবস্থার অংশ হবে না।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা দরকার। মক্কা কাঠামোর সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আত্মরক্ষামূলক ও সক্ষমতা-বর্ধক হতে পারে; কিন্তু বাংলাদেশের ভূখণ্ড কোনো প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে সামরিক কার্যক্রমের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশের গোয়েন্দা তথ্যও তৃতীয় কোনো দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা উচিত নয়। ভারত-পাকিস্তান বা অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় সংঘাতে বাংলাদেশের স্বয়ংক্রিয় সামরিক সম্পৃক্ততার প্রশ্নও আগেই পরিষ্কার করা প্রয়োজন। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে এবং মক্কা কাঠামোর সঙ্গে সহযোগিতাও এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে।
তাহলে বাংলাদেশের জন্য বাস্তবসম্মত পথ কী? প্রথম ধাপে পূর্ণ সদস্যপদের পরিবর্তে পর্যবেক্ষক, সংলাপ-সহযোগী বা সহযোগী অংশীদারের মতো কোনো ব্যবস্থা চাওয়া যেতে পারে। এমন আনুষ্ঠানিক মর্যাদা এখন না থাকলেও তিন প্রতিষ্ঠাতা দেশের সঙ্গে কাঠামোগত দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব। নতুন সচিবালয়ের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ শুরু করা যেতে পারে। বাংলাদেশ নির্বাচিত ক্ষেত্রে অংশ নিতে পারে—যেমন সামরিক প্রশিক্ষণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবেলা, শান্তিরক্ষা, প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং যৌথ উৎপাদন।
এ মধ্যপন্থার বড় সুবিধা হলো, বাংলাদেশ একই সঙ্গে দুই কাজ করতে পারবে: সহযোগিতার সুফল গ্রহণ এবং নিজের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা সংরক্ষণ। এতে মক্কা চুক্তি বাস্তবে কীভাবে কাজ করছে তা দেখার সময়ও পাওয়া যাবে। সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ হলে কী হয়, যৌথ প্রতিরক্ষার বিধান কীভাবে কার্যকর হয়, আর্থিক ব্যয় কত, সচিবালয়ের ক্ষমতা কতটুকু, সম্প্রসারণের নীতি কী এবং নতুন সদস্যদের জন্য কী ধরনের শর্ত থাকে—এসব বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা পাওয়া যাবে। প্রতিষ্ঠাতা দেশগুলোও আপাতত আগে নিজেদের কাঠামো সুসংহত করার কথা বলছে। এরপর সদস্যপদের প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নেয়া অনেক বেশি তথ্যভিত্তিক হবে।
ভবিষ্যতে যদি মক্কা কাঠামো একটি বিশ্বাসযোগ্য, নিয়মভিত্তিক ও মূলত আত্মরক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিণত হয়; যদি এর দায়বদ্ধতাগুলো বাংলাদেশের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং যদি সদস্যপদ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও কূটনৈতিক অবস্থান বাস্তবভাবে শক্তিশালী করে—তাহলে পূর্ণ সদস্যপদ বিবেচনা করা যেতে পারে। সদস্য সংখ্যা বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, হুমকি-ধারণা, ব্যয় ভাগাভাগি এবং যৌথ প্রতিক্রিয়ার প্রশ্ন আরো জটিল হতে পারে; ফলে সদস্যপদের শর্ত ও দায়বদ্ধতা আগেভাগে পরিষ্কার হওয়া আরো জরুরি। আবার যদি দেখা যায় কাঠামোটি এমন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, যার সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তার প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই, তাহলে পূর্ণ সদস্য না থেকে বাংলাদেশ সহজেই নিজের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ করতে পারবে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির শক্তি ঐতিহাসিকভাবে তার কৌশলগত নমনীয়তায়। ‘সবার প্রতি বন্ধুত্ব, কারো প্রতি বিদ্বেষ নয়’—এ নীতির অর্থ নিষ্ক্রিয় থাকা নয়; বরং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে বহু দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। একইভাবে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের অর্থও প্রতিটি নতুন নিরাপত্তা উদ্যোগ থেকে দূরে থাকা নয়। প্রয়োজন হলো কোথায় সহযোগিতা করতে হবে এবং কোথায় নিজের সিদ্ধান্তের স্বাধীনতা সংরক্ষণ করতে হবে—এ দুইয়ের ভারসাম্য।
রিয়াদ, আঙ্কারা ও ইসলামাবাদের প্রতি ঢাকার বার্তা তাই ইতিবাচক হওয়া উচিত: বাংলাদেশ গভীরতর প্রতিরক্ষা, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা চায়; মক্কা কাঠামোর সঙ্গেও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে আগ্রহী। তবে পূর্ণাঙ্গ যৌথ প্রতিরক্ষা সদস্যপদের আগে দায়বদ্ধতা, ব্যয়, সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক পরিণতি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের উচিত বন্ধুত্বের পরিধি বাড়ানো, কিন্তু নিজের কৌশলগত বিকল্প সংকুচিত না করা। মক্কা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হওয়া, শেখা এবং সহযোগিতার সুফল নেয়া—সবই সম্ভব। কিন্তু এ মুহূর্তে পূর্ণ সদস্য হওয়ার প্রয়োজন নেই।
এম কবির হাসান: অধ্যাপক ও লেখক
প্রিন্ট/ডাউনলোডঃ ,
© স্বত্ব দৈনিক সমধারা ২০২৫
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি