সমধারা

অক্টোবর ৯, ২০২৬ , ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

রানারের দৌড় থামেনি, বদলায়নি ডাককর্মীদের দুর্দশা

সমধারা রিপোর্ট

সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার রানার রাতের অন্ধকারে পিঠে চিঠির বোঝা নিয়ে ছুটতেন মানুষের খবর পৌঁছে দিতে। সময় বদলেছে, বদলেছে যোগাযোগের মাধ্যম। চিঠির জায়গা নিয়েছে মুঠোফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। কিন্তু ডাকসেবার সঙ্গে যুক্ত অনেক কর্মীর জীবনে বদল আসেনি। মাসে চার হাজার টাকার সামান্য বেশি সম্মানীতে সংসার চালাতে হচ্ছে তাদের। কোথাও ডাকঘরের নিজস্ব ভবন নেই, কোথাও কম্পিউটার থাকলেও নেই ব্যবহারের উপযুক্ত পরিবেশ। আবার আধুনিকায়নের প্রকল্প শতভাগ বাস্তবায়িত দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে চালু হয়নি সব সেবা।

শুক্রবার ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডাক দিবস। ডাক বিভাগ যখন আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা ও নতুন পরিষেবা সম্প্রসারণের কথা বলছে, তখন বরিশাল বিভাগের প্রত্যন্ত ডাকঘরগুলোর বাস্তবতা তুলে ধরছে অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও জনবলসংকটের চিত্র। অথচ সরকারি নথি, সঞ্চয়, পার্সেল পরিবহনসহ নানা কাজে এখনো ডাক বিভাগের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের প্রয়োজন রয়েছে।

যে ডাকঘরের নিজেরই ঠিকানা নেই

বরিশালের বাকেরগঞ্জের চরামদ্দি ও দুধল, মেহেন্দিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা, হিজলতলা, সাহেবের হাট, নৈমিত্র ও চাঁদপুরার মতো এলাকায় ডাকসেবা চালু রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্মীরা। নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় কোথাও স্কুলে, কোথাও কলেজে, কোথাও ইউনিয়ন পরিষদের কক্ষে বসে চলে ডাকঘরের কাজ। কোনো কোনো পোস্টমাস্টারের নিজের বাড়িই ডাকঘর।

চাঁদপুরার তালুকদারহাট শাখা ডাকঘরের নিজস্ব ভবন থাকলেও সেটির অবস্থাও ভালো নয়। ২০০৬ সালে নির্মিত ভবনটির দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে। স্থানীয় শিক্ষক নেতা ফরিদুল আলম জাহাঙ্গীর তালুকদার জানান, ভবনটি আর সংস্কার করা হয়নি। অথচ জায়গা রয়েছে, উদ্যোগ নিলে সেখানে ই-সেন্টার চালুর উপযোগী অবকাঠামোও গড়ে তোলা সম্ভব।

বরিশাল বিভাগে প্রধান ডাকঘর, উপজেলা ডাকঘর, সাব পোস্ট অফিস ও শাখা ডাকঘর মিলিয়ে রয়েছে ৮৮০টির বেশি কেন্দ্র। এত বড় নেটওয়ার্ক থাকা সত্ত্বেও বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক কার্যালয় নেই। অর্থাৎ, ডাক বিভাগের সংকট শুধু নতুন প্রযুক্তির নয় পুরোনো অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণেও রয়েছে ঘাটতি।

চার হাজার টাকায় রাষ্ট্রের কাজ

চাঁদপুরার তালুকদারহাট শাখা ডাকঘরের কর্মী মোকলেছুর রহমান বাবুল পেশায় মসজিদের ইমাম। ডাকঘরের কাজের পাশাপাশি ছেলেকে কম্পিউটার শেখিয়ে ই-সেন্টার চালু রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। নিজের পরিস্থিতি বোঝাতে বাবুল বলেন, ‘আল্লাহর দয়া আর এলাকার মানুষের ভালোবাসায় বেঁচে আছি।’

সারা দেশে শাখা ডাকঘরের প্রায় ২৩ হাজার কর্মী মাসে ৪ হাজার ৩৪০ টাকা সম্মানী পান। ডাকপিয়ন ও সহকারী পোস্টমাস্টারদের সম্মানীও একই। সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কাজের কথা থাকলেও দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। ডাকঘর সচল রাখা, নথি সামলানো, মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নতুন পরিষেবা চালুর চেষ্টা—সবই তাঁদের কাজের অংশ।

মেহেন্দিগঞ্জের দড়িচর ডাকঘরের কর্মী অহিদুল ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে নিজের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তার ভাষ্য, বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের একজন পিয়ন মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বেতন পান।

ডাককর্মীদের এই পরিস্থিতিকে অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) বরিশাল শাখার সদস্য কবি হেনরী স্বপন। তার মতে, কর্মীরা কীভাবে সংসার চালান, তা সরকারের বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও নতুন পরিষেবা যুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু যাঁরা এসব সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন, তাঁদের ন্যূনতম আর্থিক নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে সেই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

প্রকল্পের অগ্রগতি শতভাগ, চালু হয়নি সব সেবা

ডাক বিভাগকে আধুনিক পরিষেবার আওতায় আনতে নেওয়া হয়েছিল ‘পোস্ট ই-সেন্টার’ প্রকল্প। ২০১২ সালের ২৪ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। মেয়াদ ছিল ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। ডাক বিভাগের দাবি, প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যাচ্ছে, সরঞ্জাম থাকলেও অনেক জায়গায় সেবা চালু করা যায়নি।

কোথাও কম্পিউটার পৌঁছায়নি, কোথাও সরঞ্জাম থাকলেও ব্যবহার করার মতো ঘর নেই। আবার কোথাও যন্ত্রপাতি পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। বরিশালের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ডাকঘর না থাকায় সরঞ্জাম কাজে লাগানো যাচ্ছে না। ঘর ভাড়া নিয়ে কেন্দ্র চালানোর আর্থিক সামর্থ্যও নেই অনেক উদ্যোক্তার।

একটি জেলায় নয়টি ডাকঘরে ই-সেন্টার চালু করা যায়নি। কোনো কোনো জায়গায় সরঞ্জাম রাখা হয়েছে পোস্টমাস্টারের বাড়িতে। গৌরীপুর উপজেলা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আবদুল মজিদ জানান, চুরির আশঙ্কায় অনেকে মালপত্র বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

বরিশাল প্রধান ডাকঘরেও জনবল ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ জানান, ২৫টি কম্পিউটারের মধ্যে সচল ১৪টি, অকেজো ১১টি। ১৩২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ৮৭ জন; শূন্য রয়েছে ৪৫টি পদ।

এ অবস্থায় ডাক অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ৪২টি স্মার্টফোন দিয়ে চলছে ডাকদ্রব্য ইস্যু ও বিলির কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, অকেজো কম্পিউটার সংস্কার করে সচল রাখার চেষ্টা চলছে। তবে মাঝেমধ্যে সেগুলো অচল হয়ে পড়ায় ভোগান্তিতে পড়েন সেবাগ্রহীতারা।

প্রকল্পের অগ্রগতি শতভাগ দেখানো হলেও কতটি কেন্দ্রে নিয়মিত সেবা চালু আছে, কতটি সরঞ্জাম সচল এবং গ্রাহকেরা কতটা সুবিধা পাচ্ছেন—এসব তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সরঞ্জাম পৌঁছানো আর প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়।

সঞ্চয়ে আস্থা, সেবায় প্রতিযোগিতা

ডাকঘরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শুধু চিঠি আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ নয়। সঞ্চয়, অর্থ লেনদেন ও বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়ার মাধ্যম হিসেবেও ডাকঘরের ওপর নির্ভর করেন অনেকে। ফলে আর্থিক সেবায় গ্রাহকের আস্থা বজায় রাখা ডাক বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কলসকাঠীর ব্যবসায়ী শাহীন হাওলাদার সম্প্রতি স্থানীয় সাব পোস্ট অফিসে সাত লাখ টাকা জমা রেখেছেন। তার হিসাবে, পোস্ট অফিসের সঞ্চয় প্রকল্পে মুনাফার হার বেশি হওয়ায় সেখানে টাকা রাখা লাভজনক। তিনি বলেন, পোস্ট অফিসে জমা রাখা টাকার বিপরীতে ১৩ শতাংশ হারে মুনাফা পাওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কাছের জনতা ব্যাংক তাকে আট শতাংশ মুনাফা দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সব দিক বিবেচনায় তিনি ব্যাংকের পরিবর্তে পোস্ট অফিসে টাকা জমা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

অন্যদিকে, পার্সেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের সামনে রয়েছে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। মুঠোফোনের যুগে ব্যক্তিগত চিঠির ব্যবহার কমলেও সরকারি নথি, আদালতের চিঠি, পার্সেল ও সঞ্চয়সংক্রান্ত পরিষেবায় ডাক বিভাগের নেটওয়ার্কের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায়নি।

লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক আনিসুর রহমান স্বপনের সংগ্রহে রয়েছে প্রায় ২০ হাজার বই। নব্বইয়ের দশকে সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে হোম ডেলিভারিতে তিনি প্রায় দুই হাজার বই পেয়েছিলেন। বাকি বইয়ের বড় অংশ সংগ্রহ করেছেন বেসরকারি কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে।

আনিসুর রহমান স্বপন বলেন, বেসরকারি কুরিয়ারের তুলনায় সরকারি ডাক বিভাগের মাধ্যমে বই পরিবহনে খরচ অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কম। কিন্তু নির্দিষ্ট ওজনের বেশি হলে ডাক বিভাগের মাধ্যমে বই বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার সুবিধা সীমিত। অন্যদিকে, বেসরকারি কুরিয়ারে ছোট-বড় সব ধরনের বই হোম ডেলিভারিতে পাওয়া যায়। ফলে বাড়তি খরচ হলেও মানুষ কুরিয়ারমুখী হচ্ছেন। তার অভিজ্ঞতায়, প্রতি মাসে গড়ে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকার বই কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাড়িতে আনান তিনি।

একইভাবে, জীবনানন্দ গবেষক ও কবি হেনরী স্বপনের সম্পাদনায় প্রকাশিত ছোট কাগজ ‘জীবনানন্দ কবিতাপত্র’ একসময় সরকারি ডাক বিভাগের বুক পোস্টের মাধ্যমে মাত্র আড়াই টাকায় ভারতে পাঠানো যেত। ভারত থেকেও স্বল্প খরচে বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন আসত। এতে দুই দেশের লেখক ও কবিদের মধ্যে সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার আদান-প্রদান সহজ হয়েছিল।

হেনরী স্বপনের ভাষ্য, ২০০৪ সালের দিকে ৫০ গ্রাম ওজনের লিটল ম্যাগাজিন পাঠানোর বুক পোস্টের খরচ আড়াই টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হয়। তার অভিযোগ, তৎকালীন সরকার বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ডাক মাশুল বাড়ানোর পর দুই দেশের মধ্যে ছোট কাগজের আদান-প্রদান কমে যায় বলে তিনি মনে করেন।

এসব অভিজ্ঞতা দেখায়, কম খরচে সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে ডাক বিভাগের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত পরিবহন, বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দেওয়া এবং নির্ভরযোগ্য সেবা নিশ্চিত করতে না পারলে সেই সুবিধা কাজে লাগানো কঠিন।

দায়িত্ব বাড়ছে, সম্মানী বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কোথায়

শাখা ডাকঘরের কর্মীদের সম্মানী প্রসঙ্গে বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সদ্য বদলি হওয়া প্রধান পোস্টমাস্টার আব্দুর রশিদ বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের। অবিভাগীয় কর্মচারীদের নিয়োগের শর্তে বিকল্প আয়ের উৎস থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। বর্তমান বাজারদরে শুধু এই সম্মানী দিয়ে সংসার চালানো কঠিন—এ বিষয়টি কর্তৃপক্ষও জানে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আব্দুর রশিদের ভাষ্য, বরিশাল বিভাগের অনেক শাখা ডাকঘর অবিভাগীয় কাঠামোয় পরিচালিত হয়। তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে চিঠিপত্রের ব্যবহার কমায় অনেক ডাকঘরের কাজও কমেছে। ফলে কোনো কোনো কার্যালয় কার্যত মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। তার মতে, এগুলো সংস্কার করে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় আনা প্রয়োজন।

‘পোস্ট ই-সেন্টার’ প্রকল্পটি তাঁদের দায়িত্ব গ্রহণের আগের হওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান আব্দুর রশিদ। তবে তার দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বরিশাল প্রধান ডাকঘরে ডাক বুকিং ও বিলি—দুই ক্ষেত্রেই কার্যক্রম চলছে।

২০২৪ সালে সেখানে ডাক বুকিং হয়েছে ২ লাখ ৪০ হাজার ৭৭টি, বিলি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫টি। ২০২৫ সালে বুকিং বেড়ে দাঁড়ায় ২ লাখ ৭১ হাজার ১৩০টিতে, বিলি হয় ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪টি। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বুকিং হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭৫৮টি এবং বিলি হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৩৯৩টি।

বৈদেশিক পার্সেল বুকিংয়ের সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৪ সালে ১৯২টি ও ২০২৫ সালে ৩৬৪টি পার্সেল বুকিং হয়। ২০২৬ সালে এ পর্যন্ত বুকিং হয়েছে ৪১৮টি। আব্দুর রশিদ বলেন, এগুলো প্রধান ডাকঘরের নথিভুক্ত কাজের পরিসংখ্যান। এর বাইরে ডাক বিভাগের আরও অনেক ধরনের সেবা ও কার্যক্রম রয়েছে।

এই পরিসংখ্যান বলছে, চিঠির প্রচলিত ব্যবহার কমলেও ডাক বিভাগের কাজ থেমে নেই। বরং পার্সেল পরিবহন ও নতুন পরিষেবার ক্ষেত্রে সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে অবকাঠামো, প্রযুক্তি, জনবল, জবাবদিহি ও কর্মীদের ন্যায্য প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সুকান্তের রানার একদিন রাতের অন্ধকারে ছুটতেন মানুষের খবর পৌঁছে দিতে। আজ তার উত্তরসূরিরা হয়তো আর সেইভাবে ছুটছেন না। কিন্তু তাঁদের হাত দিয়েই এখনো মানুষের কাছে পৌঁছায় রাষ্ট্রের বার্তা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সঞ্চয়ের খবর কিংবা দূরের আপনজনের পাঠানো পার্সেল।

বদলে গেছে পৃথিবী, বদলে গেছে খবর পৌঁছানোর গতি। কিন্তু যাঁরা সেই খবর পৌঁছে দেন, তাদের অনেকের জীবনে আধুনিকতার আলো এখনো পৌঁছায়নি। বিশ্ব ডাক দিবসে তাই ডাক বিভাগের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সামনে আসে আরও একটি প্রশ্ন—যাঁদের শ্রমে টিকে আছে এই বিস্তৃত নেটওয়ার্ক, তাঁদের জীবন ও মর্যাদা নিশ্চিত করার উদ্যোগ কোথায়?

প্রিন্ট/ডাউনলোডঃ ,

© স্বত্ব দৈনিক সমধারা ২০২৫

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি

প্রিন্ট করুন

সেভ করুন