সমাজ বদলের অঙ্গীকার আর মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগের স্বপ্ন নিয়ে যে কজন তরুণ আজ চট্টগ্রাম নগরীতে নিজেদের অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম মোহাম্মদ জিয়াউল হক সোহেল। আইন পেশার প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা, সফল ব্যবসায়িক পরিচিতি এবং দেশি-আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে মানবসেবার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন এ তরুণ সমাজসেবী।
কোতোয়ালী থানাধীন এনায়েত বাজারের জুবিলী রোডের স্থায়ী বাসিন্দা সিরাজুল হক ও আনোয়ারা বেগম দম্পতির সন্তান মোহাম্মদ জিয়াউল হক সোহেল। পারিবারিক পরিমণ্ডল থেকেই তিনি পেয়েছিলেন নীতি-নৈতিকতা ও জনসেবার শিক্ষা। শিক্ষা জীবনের প্রতিটি ধাপেই তিনি তাঁর মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক ও ব্যচেলর অফ বিজনেস স্টাডিস (বি.বি.এস) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। পরবর্তীতে আইন পেশার প্রতি গভীর অনুরাগ থেকে বঙ্গবন্ধু ল টেম্পল থেকে ব্যাচেলর অফ ল (এল.এল.বি) সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে চট্টগ্রাম আদালতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে নিজের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি ব্যবসার জগতেও তিনি তৈরি করেছেন স্বকীয় অবস্থান। ‘আব্দুল্লাহ সেনিটারী এস টি কর্পোরেশন’-এর স্বত্বাধিকারী হিসেবে তিনি জুবিলী রোডের ব্যবসায়ী সমাজে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। তাঁর এই সুসংগঠিত নেতৃত্বের প্রতিফলন ঘটেছে ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোতেও। তিনি জুবিলী রোড মার্চেন্টস্ এসোসিয়েশনের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক (২০২৫) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মর্যাদাপূর্ণ চিটাগাং চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির একজন অর্ডিনারী মেম্বার হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
তবে জিয়াউল হক সোহেলকে সাধারণের চেয়ে আলাদা করেছে তাঁর নিঃস্বার্থ নেতৃত্ব ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড। আন্তর্জাতিক সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে তিনি মানবসেবার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। লায়ন্স ক্লাব অফ চিটাগাং ব্লমিং স্টার-এর সভাপতি (২০২৩-২০২৪), লিও ক্লাব অফ চিটাগাং ইম্পেরিয়াল সিটির সভাপতি (২০১৩-২০১৪), এপেক্স ক্লাব অফ কর্ণফুলীর সাধারণ সম্পাদক (২০১৯-২০২০) এবং মাল্টিপল লিও জেলা ৩১৫-এর সাধারণ সম্পাদক (২০১৮-২০১৯) হিসেবে তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রোটারেক্ট ক্লাব অফ চিটাগাং পতেঙ্গার সাধারণ সম্পাদক এবং লিও জেলা ৩১৫-বি৪ বাংলাদেশের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তরুণ সমাজকে সুসংগঠিত করতে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। মানবাধিকারে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে তিনি যুক্ত রয়েছেন বিখ্যাত মানবাধিকার সংস্থা ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর সাথে।
রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের সাথে তাঁর আত্মিক টান দীর্ঘদিনের। পাহাড়তলী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ রেড ক্রিসেন্টের প্রতিষ্ঠাতা ইয়ুথ চীফ (২০১৪-২০১৫) থেকে শুরু করে তিনি চট্টগ্রাম সিটি রেড ক্রিসেন্টের অ্যাডহক কমিটির সদস্য (২০২৪) এবং বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট চট্টগ্রাম সিটি ইউনিটের লাইফ মেম্বার হিসেবে জরুরি মানবিক সহায়তায় সর্বদা সামনের সারিতে থেকেছেন। একই সাথে তিনি সিটি কর্পোরেশন রেড ক্রিসেন্ট ফিজিওথেরাপি অর্থোপেডিক পুর্নবাসন কেন্দ্রের অবৈতনিক পরিচালক হিসেবে পঙ্গু ও আর্তপীড়িত মানুষের সেবায় নিয়োজিত আছেন।
দেশীয় যুব নেতৃত্ব ও সমাজ উন্নয়নে তাঁর অবদান অপরিসীম। ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর চট্টগ্রাম জেলা সভাপতি (২০১৯) এবং পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগের সাধারণ সম্পাদক (২০২০) হিসেবে তিনি হাজার হাজার তরুণকে স্বেচ্ছাসেবী কাজে উদ্বুদ্ধ করেছেন। এছাড়া ‘আমার দেশ পাঠকমেলা’ চট্টগ্রাম নগরের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সামাজিক সংগঠন ‘নেচার ফর লাইফ’-এর যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে শিক্ষা, পরিবেশ ও সাহিত্য সংস্কৃতির প্রসারেও কাজ করেছেন।
ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠানেও ছড়িয়ে আছে তাঁর অবদানের স্বাক্ষর। এনায়েত বাজার শাহী জামে মসজিদ বায়তুল ফোরকান এতিমখানার জয়েন্ট সেক্রেটারি, লায়ন্স আই হসপিটালের জেনারেল বোর্ড মেম্বার এবং চিটাগাং লায়ন্স ফাউন্ডেশন ও কিডনি ফাউন্ডেশনের লাইফ মেম্বার হিসেবে তিনি সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবা ও সামাজিক সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন।
প্রজ্ঞা, সততা, মেধা আর তারুণ্যের উদ্দীপনা নিয়ে মোহাম্মদ জিয়াউল হক সোহেল আজ চট্টগ্রামের সামাজিক, আইনি ও ব্যবসায়িক অঙ্গনে এক উজ্জ্বল নাম। মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান এই তরুণ ব্যক্তিত্ব আগামী দিনে সুস্থ সমাজ ও উন্নত চট্টগ্রাম নির্মাণে আরও বড় অবদান রাখবেন এমনটাই প্রত্যাশা চট্টগ্রামবাসীর।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।