১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণ। ইতিহাসের বাঁক পরিবর্তনে দিনটির ভূমিকা যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় দর্শন ও জনমানসের আত্মপরিচয় নির্ধারণেও এটি এক অনন্য মাইলফলক। ৭ নভেম্বর কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা সিপাহী-জনতার বিপ্লবের দিন নয়; এই দিনটিকে ইতিহাসের আয়নায় মূল্যায়ন করতে হয় বাংলাদেশের মানুষের রাজনৈতিক আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি—‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর উন্মেষ ও বীজ বপনের লগ্ন হিসেবে। ১৯৭৫ সালের এই দিনটি না এলে এবং ঐতিহাসিক ঘটনার পরম্পরায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দায়িত্বে না আসলে, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটত কি না, তা নিয়ে আজও রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক মহলে গভীর সংশয়ের অবকাশ থেকে যায়।
বাঙালি ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ: ধারণার শেকড় ও স্বাতন্ত্র্য
একটি জাতির আত্মপরিচয় কেবল আবেগ বা ইতিহাসের রোমন্থন দিয়ে তৈরি হয় না; এর পেছনে কাজ করে দীর্ঘ সামাজিক বিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং রাষ্ট্রদর্শনের দর্শনগত তাত্ত্বিক ভিত্তি। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির অনেক আগে থেকেই অবিভক্ত বাংলায় বসবাসকারী মানুষ প্রধানত ‘বাঙালি’ জাতি হিসেবে পরিচিত ছিল। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর অধিকার আদায়ের সংগ্রাম সেই বাঙালি পরিচয়কে আরও পাকাপোক্ত ও শাণিত করেছিল। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসররা ব্যঙ্গ করে এই অঞ্চলের মানুষকে ‘বাঙাল’ বলে গালি দিতো। কিন্তু বাঙালি তার মেধা, কৃষ্টি ও ভাষা আন্দোলনের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই গালিকেই গৌরবের ভূষণে ভূষিত করেছিল।
১৯৭১ সালে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হওয়ার পরও এ দেশের মানুষের বাঙালি পরিচয় বহাল ছিল। সদ্য স্বাধীন দেশের তৎকালীন সরকার ও শাসক দল আওয়ামী লীগ নিজেদের বাঙালি পরিচয় নিয়ে যেমন গর্ববোধ করত, তেমনি আজও তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদেই পূর্ণ আস্থাশীল। তাদের এই বিশ্বাসের মূলে রয়েছে ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং হাজার বছরের জাতিগত ও ভৌগোলিক ঐক্য। তাদের মতে, বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতিই মানুষের প্রধান এবং একমাত্র পরিচয়। ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়গত পার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে বাংলাভাষী সকল জনগোষ্ঠীকে একসূত্রে বাঁধার ওপরই তারা সর্বাধিক জোর দিয়ে থাকে।
তবে এই বাঙালি জাতীয়তাবাদের ধারণার একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক পরিধি রয়েছে, যার ব্যাপ্তি কেবল স্বাধীন বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসীরা ভৌগোলিক রাষ্ট্রসীমার গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের পরিচয়কে বৃহত্তর পরিসরে দেখতে ভালোবাসেন। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি, ত্রিপুরার বাঙালি কিংবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী মানুষকে তারা বাঙালি জাতীয়তাবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।
অন্যদিকে, ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-এর ভিত্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন ও সুনির্দিষ্ট। এই ধারণার মূল কথাই হলো ভৌগোলিক রাষ্ট্রসীমা এবং নাগরিকত্ব। একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ভূগোলের ভেতরে বসবাসকারী ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, পাহাড়ি বা সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তা নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম্মিলিত সত্তাই হলো ‘বাংলাদেশী’। এখানে ভাষার মিল বা অমিলের চেয়েও বড় হয়ে ওঠে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, অধিকার ও কর্তব্যের বন্ধন। বাঙালি ছাড়াও চাকমা, মারমা, গারো, সাঁওতালসহ দেশের সকল ক্ষুদ্র জাতিসত্তার মানুষের পরিচয় এক ও অভিন্ন ছাতার নিচে এসে মিলিত হয়—তা হলো ‘বাংলাদেশী’।
জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের উন্মেষ
এই বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের মূল প্রবক্তা ও রূপকার হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে তিনি যখন দেশের এক চরম ক্রান্তিলগ্নে রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুদায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন, তখন বাংলাদেশ এক গভীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। ৭ নভেম্বর যদি না আসত, যদি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে না আসতেন, তবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের এই অনন্য রূপরেখা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হতে পারত কিংবা এর উন্মেষের পথ রুদ্ধ হয়ে যেত।
এ কারণে জিয়াউর রহমানকে কেবল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ‘প্রবক্তা’ বললে কম বলা হয়; প্রকৃত অর্থে তিনিই হলেন বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের জনক। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ক্ষমতার দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরপরই তিনি দেশের মানুষকে একটি সার্বভৌম ভৌগোলিক পরিচয়ে উজ্জীবিত করার কাজ শুরু করেন। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে তিনি অনুধাবন করেছিলেন যে, কেবল ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদ দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বহুমুখী জাতিসত্তার একটি স্বাধীন দেশকে দীর্ঘমেয়াদে ঐক্যবদ্ধ রাখা কঠিন। কারণ দেশের অভ্যন্তরে বাঙালি ছাড়াও বহু ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও ধর্মীয় সম্প্রদায় বাস করে, যাদের নিজস্ব স্বকীয়তা ও স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। জিয়াউর রহমান সকলের জন্য একটি অভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন এবং ৭ নভেম্বরের পটভূমিতে সেই পরিচয়ের বীজ বপন করেন।
সাংবিধানিক রূপরেখা ও ইতিহাসের টানাপোড়েন
বাংলাদেশের সংবিধানের সূচনা এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক বিবর্তনের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ—উভয় ধারণাই এ দেশের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি এবং সাংবিধানিক রূপরেখাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ইতিহাসের পালাবদল ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে সাথে সংবিধানের এই মৌলিক দর্শনগুলোতেও নানা সময় পরিবর্তন ও পরিবর্ধন এসেছে।
১৯৭২ সালের মূল সংবিধানের প্রস্তাবনা ও দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল: জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। বিশেষ করে, বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রসঙ্গে সংবিধানের নবম অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, “ভাষা ও সংস্কৃতিগত দিক হইতে অভিন্ন বাঙালি জাতি যে ঐক্যবদ্ধ ও সংকল্পবদ্ধ সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্জন করিয়াছে, সেই বাঙালি জাতির ঐক্য ও সংহতি হইবে বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি।”
কিন্তু বাংলাদেশের রাষ্ট্রদর্শন এবং সাংবিধানিক ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ও সুদূরপ্রসারী পরিবর্তন আসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। তিনি ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’-কে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। ১৯৭৯ সালে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং মূলনীতিগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়।
এই পরিবর্তনের ফলে সংবিধানে বেশ কিছু মৌলিক সংযোজন ঘটে । সংবিধানের শুরুতে এবং মূলনীতিতে প্রস্তাবনার শুরুতে “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” এবং সংবিধানে “সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস” সংযোজন করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার প্রথাগত সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনে সব ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্ম পালনের সমান অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়।সংবিধানের নবম অনুচ্ছেদে সংকীর্ণ অর্থে ব্যবহৃত “বাঙালি জাতীয়তাবাদ”-এর পরিবর্তে দেশের ভৌগোলিক সীমানার ভেতর বসবাসকারী সকল নাগরিকের সমন্বয়ে “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ”-এর ধারণাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বাঙালি ছাড়াও দেশের অন্যান্য জাতিসত্তা ও জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন ও সর্বাঙ্গীন রাজনৈতিক পরিচয়ের আওতায় নিয়ে আসা হয়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এই সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক দর্শন দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণের জন্ম দেয়। পাহাড়ি ও সমতলের জনগোষ্ঠীর মাঝে নাগরিক অধিকারের সুরক্ষা এবং দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি আনুগত্যের এক নতুন মেলবন্ধন তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিতর্ক এবং সাংবিধানিক বিবর্তন
রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের এই দ্বৈত ধারা—বাঙালি জাতীয়তাবাদ বনাম বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ—পরবর্তী দশকগুলোতেও বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংবিধানের মূলনীতি ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নটি বারবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এক পক্ষ ১৯৭১ সালের চেতনার আলোকে বাঙালি জাতীয়তাবাদকে মূল ভিত্তি হিসেবে টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট, অন্য পক্ষ জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের সমন্বিত ধারাকে এগিয়ে নিতে চায়।
এই রাজনৈতিক ও তাত্ত্বিক দ্বৈরথের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে ২০১১ সালে। পঞ্চদশ সংশোধনী এবং পরবর্তীতে আদালত ও তৎকালীন সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানের মূল চেতনা অনেকাংশে পুনর্বহাল করা হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতীয়তাবাদকে পুনরায় জোরালোভাবে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে একই সাথে ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার খাতিরে এবং দেশের বহুত্ববাদী সমাজের কথা মাথায় রেখে সংবিধানে “আল্লাহর ওপর আস্থা” এবং বাঙালি সংস্কৃতির পাশাপাশি নাগরিক ঐক্যের বিষয়টি রেখে দেওয়া হয়। ফলে আজকের দিনেও এই দুটি দর্শন কেবল সংবিধানের পাতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এ দেশের মানুষের মনস্তত্ত্ব ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে রয়েছে।
উপসংহার: ইতিহাসের পথপরিক্রমায় ৭ নভেম্বর একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দিন হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে একটি স্বাধীন জাতির আত্মপরিচয় খোঁজার দীর্ঘ আকাক্ষা। ১৯৭৫ সালের এই দিনটি না এলে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ রোপণ না করলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রের পরিচয় হয়তো কেবল ভাষার গণ্ডিতেই আবদ্ধ থাকত।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বলা যায়, বাঙালি জাতীয়তাবাদ আমাদের ভাষার গৌরব ও সংস্কৃতির শেকড়কে শক্তিশালী করেছে, আর বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ আমাদের ভৌগোলিক রাষ্ট্রসীমার ভেতর বসবাসকারী সকল জাতি ও সম্প্রদায়কে এক সুতোয় বেঁধে একটি সার্বভৌম জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর শক্তি জুগিয়েছে। এই দুই ধারার সমন্বয় ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই রচিত হয়েছে আজকের আত্মনির্ভরশীল ও বহুমাত্রিক বাংলাদেশ। তাই ৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের বীজ বপনের দিন হিসেবে স্মরণ করা কেবল একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন নয়, বরং এটি আত্মপরিচয়ের এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি।
লেখক: খোন্দকার কাওছার হোসেন, সম্পাদক, দৈনিক ভোরের আকাশ।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।