বিন্দু থেকে বৃত্ত আঁকি
বিন্দু থেকে বৃত্ত আঁকি
বৃত্ত যেন এক গোলকধাঁধা
মিথ্যা স্বপন অলীক আশা
রঙিন জীবন শূন্যে বাঁধা ।
গোলকধাঁধায় বিন্দু খুঁজি
কষ্টনদী জীবন মরু,
কেউ কি আমায় বলতে পারে
কোন বিন্দু থেকে বৃত্ত শুরু!
হেমন্ত শেষে উত্তরের হাওয়ায়
মেঘের কোলে বৃষ্টি নামে,
কুয়াশাময় কষ্টগুলো
হয় না সুখ ধরাধামে ।
তাইতো খুঁজি স্বপ্ন বিন্দু
জীবনবৃত্ত নয় তো বিষাদসিন্ধু।
চোখের জলে প্রদীপ জ্বেলে
চুপিচুপি আমি এসেছিলাম
প্রেম নিতে প্রেম দিতে
তুমি মগ্ন তোমাতেই।
আমার উপস্হিতি একটুও
চঞ্চল করলো না
তুমি চোখ মেলে চাইলে না,
দেখলে না সকাতর দৃষ্টি
ছলছল চোখের নীরব আর্তনাদ ।
কত বাবুই পাখির ঘর
ঝড়ে ভেঙে গেল,
কত চঁড়ুই আশ্রয় হারাল
তুমি দেখলে না!
তুমি নিমগ্ন বাঁশির সুরে
ও বাঁশিওয়ালা থামাও বাঁশি ।
তাকাও চোখ মেলে
এই চোখের জলে প্রদীপ জ্বেলে ।
সময়ের শঙ্খ ধ্বনি
হে পথিক দাঁড়াও শঙ্খ বাঁজাও
মহাকালের পথ ধরে যাও এগিয়ে যাও,
যে সময় হারায় কালের গহ্বরে বিবর্তনে
তাকে ছেড়ে দাও নিয়মের আবর্তনে।
যে নদী হারায গতি মরু পথে পথে
যে ধারা শুকিয়ে যায় সৃষ্টির করুণ দ্বৈরথে,
যে ছবি মুছে যায় জরাজীর্ণ ক্যানভাসে
সেখানে নতুন প্রতিচ্ছবি আঁকো উচ্ছ্বাসে।
সময়ের চিৎকারে ধ্বনি প্রতিধ্বনির অনুভব
জরায়ুর রক্তাক্ত কষ্টের নতুন সময় প্রসব,
নতুন প্রহরে সময়ের সাম্যের গান বাঁধো
পুরাতন পিছে ফেলে মুক্তির সুর সাধো।
হে নতুন স্বপ্ন আঁকো বৃক্ষের সবুজ পাতা
বেঁচে থাক সময় মুছে যাক অবুঝ শোকগাথা।
ডানা ভাঙা প্রজাপতি
মেয়ে তোমার নাম দিই প্রজাপতি
প্রজাপতির মতোই পাখা মেলে ,
সুন্দর থেকে সুন্দরতর হতে চেয়েছ তুমি।
মাত্র শৈশব শুরু হয়েছে তোমার
এখনই ওই কাপুরুষ!
তোমাকে ধর্ষণের আনন্দে পুলকিত
ভেঙে দিতে চেয়েছে চরম নিষ্ঠুরতায়
পুরুষকে নিয়ে তোমার স্বপ্ন দেখা।
ডানা ভেঙ্গে যন্ত্রণায় তুমি ছটফট করছ
আর আমরা
অসংখ্য নারীরা বেগুনী রঙে
নিজেকে উজ্জ্বল থেক উজ্জ্বলতর ভাবছি ।
কি বোকা আমরা
যে দেশে যে সমাজে নির্মম শিশু নির্যাতন ধর্ষণ ,
সেই সমাজ কি মূল্য দেবে নারীর!
নারীর উন্মুক্ত দেহ পুরুষকে প্রলুব্ধ করে
তাই কতভাবে নিজেকে ঢেকে রাখা ,
অথচ এই প্রজাপতি ,ওতো ছিলো শুঁয়োপোকা
এখনো তো ওর বর্ণিল ডানা হয়নি,
তবে কীসের লালসায় পুরুষ!
শুধু সে মেয়ে শিশু বলে
প্রচন্ড কামজ্বরে আক্রান্ত হলো সে।
পুরুষ তুমি পুরুষ হয়ে ওঠো
না হলে একদিন দেখবে তুমি নপুংসক।
হাসে কাঁদে ধ্যান সলিল
কখনো সময় সময়কে কাঁদায়
জীবন যাঁতাকলে জীবনকে হারায়,
করবে কি তুমিই বলো
দুঃখগুলো না হয় সঙ্গী হলো ।
কে থাকে কে চলে যায়
ঝড়ে জলে বিদ্যুৎ চমকায়,
কে আগে আলো না শব্দ
আলোর গতিতে হয় শব্দ জব্দ।
মণিকর্ণিকার সিঁড়িতে জলন্ত চিতা
গঙ্গায় জলসমাধিতে আনন্দযাত্রা!
সন্ন্যাস জীবনের অবয়ব কি তা
জীবন পিছে ফেলে অসীমযাত্রা ।
পার্থিব জীবন নয় তো রংমিছিল
কেউ হাসে কেউ কাঁদে ধ্যান সলিল।
শেষ রোদে মিষ্টি হেসে
শরতের শেষ বিকেল
কেমন যেন মন খারাপ করে,
হু হু বাতাস বয়ে যায়
শীতল অনুভবে
চারপাশে কেবলই কাশফুল ওড়ে ।
মনে হয় তুমি হাতটি ধরো
উষ্ণতার পরশে,
কাশফুলগুলো উড়ে যাক
শেষ রোদে মিষ্টি হেসে ।
শরতের বিকেল ,কাশফুল দোলে
মন মনের ভেতর ,কথা বলে চলে ।
শিশিরে পা রাখছিনা আর
বেঁচে আছি সেই তো ঢের বেশী
গন্তব্য নেই কাছাকাছি,
নেই নদীজল সমুদ্র পাহাড়
ভোরের শিশিরে পা রাখছি না আর ।
শুনছি না কাকেদের কানাকানি
সকালের সোনা রোদের হাতছানি,
বলছে না কেউ উঠে বসো
চায়ের কাপে ঠোঁট রেখে হাসো ।
আসছে পৌষের হিমশীতল সকাল
সবুজ মাঠে হলুদ সরিষার দোল,
হয়তো দেখবো না চোখ মেলে
পাশে শুধু তুমি নেই বলে ।
একটা জীবন একাকী বেঁচে থাকা
নীল আকাশে সন্ধ্যার সূর্য আঁকা ।
সময়ের পথিক
পথ তুমি কার ! পথিকের
পথিকের কাজ পথচলা,
সে পথ কে তৈরি করে
জানে না তো পথিক ! ভেবেই মরে ।
পথ কখনো -কাঁটা বিছানো
রক্তাক্ত পদচিহ্ন ছড়ানো,
তবুও পথিক পথ চলে নির্ভয়ে
ধুলোর অতলে মুক্তোর প্রশ্রয়ে ।
কে তুমি সময়ের গহন -পথ
গহিন জীবন মুক্তির শপথ ;
কংক্রিট মন অতল জীবন
সাগরের জল নির্মল -অনুক্ষণ!
পথের পরে পথ হারায়
রুবাইয়াৎ ওমর খৈয়াম নিমগ্ন কবিতায় ।
মেঘহীন আকাশে বৃষ্টি নামাও
কাগজের নৌকা ভাসাও
জলের বুকে স্বপ্ন মেশাও,
কে তুমি বাঁশির সুরে
চলে যাও দূর বহুদূরে।
ডুবে যায় নৌকা তোমার
স্বপ্ন বেঁচে থাকে নদীজলে,
কে তুমি নবীন কিশোর
বৈঠা হাতে সদলবলে।
পদ্মা মেঘনা যমুনার জলে
মুক্তির আকাঙ্ক্ষায় অতলে,
কত প্রদীপ জলে ভাসে
চোখের ভেতর স্বপ্ন হাসে ।
নবীন কিশোর ঘুড়ি ওড়াও
মেঘহীন আকাশে বৃষ্টি নামাও ।
মুক্তির হাতছানি
কখনো ভাবিনি তুমি মুক্তির ডাক
শঙ্খ নদী আরাকান পাহাড়ের বাঁক,
যেখানে বঙ্গোপসাগর ডাকে আয় আয়
জীবনের কষ্টগুলো ঘূর্ণাবর্তে হারায় ।
ভাবিনি তুমি দূর নীলগিরির নীল আঁচল
ভেবেছি রাত্রি অমানিশায় অরুণাচল,
ভোরের শিশিরে রক্ত রবির আলো
তুমি ই স্বপ্ন তাই বেসেছি তোমায় ভালো ।
ভাবিনি কাপ্তাই লেকে সূর্যাস্তে অপরুপ
খুঁজেছি ঢেউয়ের বুকে উন্মাতাল অভিরূপ,
অসীমের বুকে গাঙচিলের মুক্ত ডানা
গহনের ডাক শব্দ ছন্দে ,কবিতায় জানা।
তুমিই সাইক্লোন সমুদ্র গভীরে, নাম প্রেম
জীবন পাথারে খুঁজে চলা নিকষিত হেম।

কবি শাহনাজ পারভীন মিতার জন্ম ও বেড়ে ওঠা রাজধানী ঢাকায়। তাঁর বাবা ছিলেন কবি। তবে বাবার মৃত্যুর অব্যবহিত আগে, মধ্যবয়সে এসে লেখালেখির জগতে যুক্ত হন মিতা। এরপর থেকে কবিতার সঙ্গে গড়ে ওঠে তাঁর নিবিড় পথচলা।
২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অমর একুশে বইমেলায় কবি শাহনাজ পারভীন মিতার ছয়টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি প্রকাশ করেছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেড এবং একটি প্রকাশ করেছে এবং মানুষ প্রকাশনী।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, কর্তৃপক্ষ এর দায়ভার নেবে না।